সিলেটের তামা‌বিল স্থলবন্দরে ২৫ দিন পর পণ্য আমদা‌নি শুরু

টানা ২৫ দিন তামা‌বিল স্থল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদা‌নি বন্ধ রাখার পর মঙ্গলবার থেকে চালু করা হয়েছে।
ছ‌বি: প্রথম আলো

স্বয়ংক্রিয় এসএমএস সফটওয়্যার পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে ২৫ দিন পণ্য আমদানি বন্ধ রাখার পর আবার চালু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সফটওয়্যারভিত্তিক এই কার্যক্রমেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে আমদানি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্থলবন্দরে ভারত থেকে ২৩৪টি পাথরবোঝাই ট্রাক প্রবেশ করে। তবে ভারত সীমান্তে বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রাক থাকলেও আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বন্দরে সেগুলো প্রবেশ করে‌নি।

এর আগে গত ৭ জানুয়া‌রি থেকে বন্দরে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস পদ্ধ‌তির সফটওয়্যার ব‌সানোর প্রতিবাদে আমদা‌নি বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। এতে বেকার হয়ে পড়েছিলেন বন্দরসংশ্লিষ্ট প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক। একই সঙ্গে সরকারও প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ পদ্ধ‌তিতে আমদানি করা হলে স্থলবন্দরে পৌঁছার পরপরই খুদে বার্তার মাধ্যমে পণ্যবাহী গাড়িসংক্রান্ত তথ্য আমদানিকারকের কাছে চলে যায়। আগে সীমান্তের দুই পাশেই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পণ্যবাহী যানবাহনের মাপজোখ করা হতো। পরে তামাবিল স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পর ওজন মাপার স্কেল স্থাপন করা হয়।

তামাবিল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী নেতারা জানান, গত সোমবার বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক হয় তাঁদের। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় এসএমএস বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে আমদানি–রপ্তানি চালু করতে সম্মত হন তাঁরা, যার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতিতে মঙ্গলবার থেকে ব্যবসায়ীরা আমাদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছেন।

গতকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তামাবিল স্থলবন্দরে অবস্থান করেছে।

এ ব্যাপারে তামাবিল স্থলবন্দরের পাথর, চুনাপাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম চালু করা হলেও এই পদ্ধতিতে ধীরগতি ও ডাউকির সঙ্গে পণ্য পরিমাপের ক্ষেত্রে ওজনে তারতম্যের কারণে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই ডিজিটালাইজেশন হোক। তবে ডাউকি স্থলবন্দরের কাজ শেষ হওয়ার পর একসঙ্গে দুই দেশে তা চালু হলে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না আর সরকারও সঠিক রাজস্ব পাবে।’

তামাবিল স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, আমদানি বন্ধ থাকায় শুধু বন্দর ট্যারিফ বাবদ প্রতিদিন সরকারের ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ও রাজস্ব বাবদ আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে করে গত ২৪ দিন আমদানি–রপ্তানি বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ১০-১২ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

তামাবিল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বন্দর সচল থাকলেও ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা আমদানি–রপ্তানি বন্ধ রেখেছিলেন। বন্দরে আমদানি–রপ্তানি সকাল ৯টা থেকে শুরু হলেও মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ভারত থেকে পাথরবোঝাই ট্রাক প্রবেশ করে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ২৩৪টি ট্রাকে পাথর আমদানি করা হয়।