ঈদযাত্রার শেষ সময়ে সায়েদাবাদে যাত্রীর চাপ কম, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ

ঈদের আগের দিন আজ রোববার ঢাকার সায়েদাবাদে বাসে যাত্রীর তেমন চাপ ছিল না। অনেকটা ফাঁকা ঢাকার সড়কে যানজটও ছিল না। অনেকটা স্বস্তিতে বাড়ির পথে যাত্রা করেছেন ঈদে ঘরমুখী মানুষছবি: প্রদীপ সরকার

রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ কম। যানজট না থাকায় বাস যথাসময়ে ছাড়ছে। অবশ্য কেউ কেউ কিছুটা বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন। আজ রোববার বিকেলে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেলে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ কম। বাসে আসন না পাওয়ার কারণে কাউকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে না। যদিও কোনো কোনো জনপ্রিয় পরিবহনের বাসের সব আসন আগে থেকেই বিক্রি হয়ে আছে। কম জনপ্রিয় পরিবহনের বাসের সিট সহজলভ্য আছে। অবশ্য কম জনপ্রিয় পরিবহনের অনেক বাস যাত্রীতে আসন পূর্ণ করে ছাড়তে পারছে না।

সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লাগামী জোনাকী পরিবহনের একটি বাসের সুপারভাইজার নুরুল আমিন বলেন, যাত্রীর চাপ কম। এক ঘণ্টার মতো সময় লেগেছে তাঁদের ২৫ জন যাত্রী পেতে।

শ্যামলী এনআর ট্রাভেলস কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. ইমরান আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বরিশালগামী তাঁদের সব বাসের আসন আগামীকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত বিক্রি আছে। তবে কেউ এলে অন্য বাসে সিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।

মো. ইমরান নামের একজন যাত্রী বলেন, তাঁরা দুজন চুয়াডাঙ্গা যাবেন। এসেই তাঁরা গোল্ডেন লাইনে দুটি আসন পেয়েছেন।

যানজট নেই

সরেজমিন দেখা যায়, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে কিছু কিছু কাউন্টারের সামনে বাস অপেক্ষা করছে। তবে এর কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে না। বাস স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে।

গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, আজকে তাদের কোনো বাস যানজটের কারণে দেরিতে ছাড়েনি। অবশ্য তাদের কোনো কোনো বাস ৫-১০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে, সেটাকে স্বাভাবিক বলছে তারা।

শ্যামলী এনআর ট্রাভেলস কাউন্টার থেকেও জানানো হয়, তাদের কোনো বাস যানজটের কারণে দেরিতে ছাড়েনি।

সায়েদাবাদে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, তিনি বেলা আড়াইটা থেকে দায়িত্বে আছেন। তখন থেকে দেখছেন, যাত্রীর চাপ নেই। যানজটও নেই। অধিকাংশ মানুষ আগেই চলে যাওয়ায় এখন চাপ কম।

ঈদের আগের দিন বাসের টিকিট পাওয়া গেলেও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। আজ রোববার ঢাকার সায়েদাবাদে
ছবি: প্রদীপ সরকার

বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

বেশির ভাগ পরিবহনের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। মো. অনিম নামের এক যাত্রী যাবেন কুমিল্লা। তাঁর অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে কুমিল্লার ভাড়া ৩০০ টাকা। তবে ঈদে ৫০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কাছে ৫০০ টাকা ভাড়া চেয়েছে জোনাকী পরিবহন। সেই বাসের সুপারভাইজার নুরুল আমিন বলেন, অন্যান্য সময় কম ভাড়া নেন। ৪৫০ টাকার বেশি ভাড়া হলেও নেন ৩০০ টাকা; তবে ঈদে ৫০০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন। কারণ, ঢাকায় ফেরার সময় গাড়ি সম্পূর্ণ খালি আসে।

মো. ইমরান ও তাঁর একজন আত্মীয় চুয়াডাঙ্গায় যাওয়ার জন্য ৮০০ করে ১৬০০ টাকায় দুটি টিকিট কেটেছেন। ইমরান বলেন, স্বাভাবিক সময়ে গোল্ডেন লাইন চুয়াডাঙ্গায় ৬৫০ টাকা ভাড়া রাখে, আজকে ৮০০ টাকা রাখল।

এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, সেই যাত্রীর অভিযোগ সঠিক নয়। অন্যান্য সময় ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা ৭৫০ টাকা ভাড়া রাখেন। তবে ঈদ উপলক্ষে ৮০০ টাকা করে ভাড়া রাখা হচ্ছে। আসার সময় একদম ফাঁকা আসায় ৫০ টাকা বাড়তি রাখা হচ্ছে।