অর্থ পাচার মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডিসহ ৮ জনের ১২ বছর করে কারাদণ্ড
অর্থ পাচারের আরেকটি মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরীন হাবিবসহ আটজনকে ১২ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডিত অন্য আসামিরা হলেন খাজা সোলেমানের বাবা বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আজিজ মুতাক্কি, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী, ব্যবস্থাপক রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন ও যমুনা ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোজাম্মেল হোসেন।
আসামিরা পলাতক। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পাশাপাশি তাঁদের নামে থাকা সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া রপ্তানি করে ১০৫ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালে সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী নওরীন হাবিবসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
এর আগে ২০১৮ সালে অর্থ পাচারের আরেকটি মামলায় খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীসহ ৯ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে মোট ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় ২০১৩ সালে ১২টি মামলায় ৫৪ জনকে আসামি করা হয়। এর সব কটিতেই বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক খাজা সোলেমান চৌধুরী আসামি।