চার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার বিবৃতি
ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি
নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চারটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।
আজ মঙ্গলবার এক যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে এ দাবি জানায় অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে সরকারের নেওয়া ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ধর্ষণের ঘটনায় ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং ৯০ দিনের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি প্রশংসনীয়। আমরা এই নীতির জরুরি কার্যকারিতা ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন আশা করি। ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।’
মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধর্ষণ আইনের সংস্কার এবং ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তারা মনে করে, এতে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথ সহজ হবে।
নারী–শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সমাজকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতিবাদের সঙ্গে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নারী, কিশোরী ও শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা হয়রানি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নারী ও মেয়েশিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
একটি বিস্তৃত শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ চলাচল, নাগরিক স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে আনতে হবে আইনি সংস্কারও।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্থাগুলো বিশ্বাস করে, নারীর প্রতি সহিংসতা কঠোরভাবে দমন হলে, দেশে ন্যায্যতা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।