খাদ্যসংকটে বরমীর বানরেরা
শীতলক্ষ্যার পারে নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে রাজধানীর পাশের জেলা গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী বাজার প্রসিদ্ধ ছিল। এ বাজারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বানরের অবাধ বিচরণের বিষয়টিও। কিন্তু নগরায়ণ ও খাদ্যসংকটে এদের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, একসময় বাজারের চারপাশে গভীর জঙ্গল থাকায় বানর বসবাসের পরিবেশ ছিল অনুকূলে। সময়ের বিবর্তনে জনবসতি গড়ে উঠলেও এখানকার বানর স্থান পরিবর্তন করেনি। বরমী বাজারের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, তিনি ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে এ বাজারে ব্যবসা করছেন। শুরু থেকেই এ বাজারে বানরের অবাধ বিচরণ দেখছেন তিনি। বাজারের আরেক বাসিন্দা গোসাই নন্দী দেবনাথ বলেন, খাবারের অভাবে পড়লে বানর বাজারের বিভিন্ন বাড়ি থেকে কাপড় ও হালকা জিনিসপত্র নিয়ে যায়। আবার খাবার দিলে তারা সেগুলো ফেরত দিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ক্ষুধায় ভুগলে জনবহুল এলাকায় ও ফসলি জমিতে ঢুকে বানরেরা ফসলের ক্ষতি করে। ব্যবসায়ী অমল দেবনাথ বলেন, মানুষ যা খায়,, বানরেরাও সেগুলো খায়। আবার স্থানীয়ভাবে কিছু লতা বা গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ আছে, যা বানরের খাদ্য হিসেবেই এলাকার মানুষজন চেনেন। তবে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় বানরের সংখ্যা কমছে এবং এদের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ নিয়মিত বানরের খোঁজখবর নিলে প্রাণীগুলোর দুর্ভোগ অনেকটা কমে যেত।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদল সরকার বলেন, বরমী বাজারের বানরগুলো সংঘবদ্ধ। বাজারটি বড় হওয়ায় এখানে এরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে ঘোরাফেরা করে। নিজেদের মধ্যে কোনো বিবাদ হলে বাজারের এক অংশের বানর অন্য অংশে যায় না। আবার দলের কোনো বানর মানুষের হামলার শিকার হলে বাজারের সব বানর জোট বেঁধে প্রতিহত করার চেষ্টা করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে বরমী এলাকার বানরের সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি বরমী বাজারের বাসিন্দারা। তবে পাঁচ বছর আগেও এই বাজারে কয়েক হাজার বানর ছিল বলে তাঁরা জানান। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যের অভাবে বানরগুলো অপুষ্টির শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে। দিন দিন বানরের সংখ্যা কমছে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে বানরের জন্য খাদ্য জোগানের ব্যবস্থা হয়নি। স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি, বরমীর ঐতিহ্য রক্ষার্থে সরকারিভাবে খাদ্যের জোগানের ব্যবস্থা করা জরুরি।
ঢাকা বন বিভাগের শ্রীপুর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘যশোরের কেশবপুর, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারিভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বানরের জন্য খাদ্য বরাদ্দ থাকলেও এই এলাকায় তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো ব্যক্তি খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নিলে অর্থ জোগানের জন্য বন্য প্রাণী বিভাগে যোগাযোগ করব।’