রাজশাহীতে ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ পেল দুদকের দল

রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে গতকাল বুধবার অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে খাদ্য পরিবহনে ঠিকাদার নিয়োগ নিয়ে ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, এই ঠিকাদার নিয়োগে ১ কোটি
২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার ঘুষ–বাণিজ্যের সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি ঠিকাদার চুক্তিবদ্ধকরণ শেষ হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার দপ্তরে ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রমে ঘুষ লেনদেন ও দুর্নীতি হচ্ছে বলে একজন ঠিকাদার দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন ১০৬) অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল বেলা ১১টায় অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে দুদক দলটি দেখতে পায়, ঠিকাদার নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন দাখিল করতে গেলে প্রত্যেককে পরিবহন ঠিকাদার সমিতির কার্যালয় থেকে স্লিপ সংগ্রহ করে জমা করতে বলা হচ্ছে। এই স্লিপ ছাড়া তাঁদের কাগজপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে না। পরিবহন ঠিকাদার সমিতি প্রত্যেক ঠিকাদারের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁদের নাম ও ক্রমিক নম্বর লিখে স্লিপে সিল দিয়ে দেন। ওই স্লিপ পাওয়ার পর ঠিকাদারেরা তা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জমা দেন। যাঁরা এই স্লিপসহ কাগজপত্র জমা দেন, শুধু তাঁরাই খাদ্য পরিবহনের চুক্তি করতে পারেন।

অভিযান চলাকালে দুদক কর্মকর্তারা এমন ১৭ জন ঠিকাদারের নামসংবলিত তিনটি হলুদ স্লিপ উদ্ধার করেন। ফরম জমা দিতে আসা একাধিক ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা প্রত্যেকের কাছে ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়ার সত্যতা পান।
অভিযান চলাকালে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনিরুজ্জামান বগুড়ায় একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য ছুটিতে আছেন বলে জানানো হয়। এ ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন না। শুধু কর্মচারীদের পাওয়া যায়। দুদক ঘটনাস্থল থেকে তিনটি স্লিপসহ চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদারদের তালিকা সংগ্রহ করে।

দুদকের রাজশাহীর উপপরিচালক বেনজীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে ৪১৬ জন ঠিকাদারের সঙ্গে খাদ্য পরিবহনের চুক্তি করা হবে। প্রত্যেক ঠিকাদারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায় করা হবে। ইতিমধ্যে ২৬৫ জন ঠিকাদার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এ হিসাবে ৪১৬ জন ঠিকাদারের কাছ থেকে ৩০ হাজার করে টাকা নিলে ১ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার ঘুষ–বাণিজ্য হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তাঁরা বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে চলে আসেন।

এ অভিযান প্রসঙ্গে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘শিগগিরই অনুসন্ধান করে এ দুর্নীতির উৎস বের করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি পবা ও মোহনপুরে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ জন্য তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা নিতান্তই ঠিকাদার সমিতির ব্যাপার।
এখানে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ওরা একটি হেল্প ডেস্ক খুলেছে। সেখান থেকে স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। সেখানে টাকার লেনদেন আছে কি না, তা আমাদের জানা নেই।’