হামলায় আহতদের বেশির ভাগ হাসপাতাল ছেড়েছে
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গতকাল শনিবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় আহত অন্তত ৮৫ জন ধানমন্ডির পপুলার ও জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
গতকাল দুপুরের ঘটনায় পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার সকালে হাসপাতালের সমন্বয়ক আনহারুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল জিগাতলায় সংঘর্ষের পর প্রায় ৪০ জন আমাদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। তাদের কেউই গুরুতর আহত ছিল না। এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গতকালই তারা ফিরে গেছে।’ তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা যতটা না আহত ছিল, তার চেয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত ছিল। তাদের সাধ্যমতো কাউন্সেলিং করে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ (জেবিএফ) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। আওয়ামী লীগ জানিয়েছে তাদের ১৭ জন কর্মী আহত হয়ে জেবিএফ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চিকিৎসক সামিউল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল তাঁরা ৪৫ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আসিফ, আবু হানিফ, সোহাগ, মুনিম হাওলাদার, আবদুর রাজ্জাক ও ফারুক নামের ছয়জন এখনো ভর্তি আছেন। তাঁদের অবস্থা গুরুতর নয়। আজ চিকিৎসার পর হয়তো তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তাঁদের হাসপাতালে ইউনিফর্ম পরা কেউ চিকিৎসা নেননি।
চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়া বাপ্পী নামের একজনকে জেবিএফ হাসপাতাল থেকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। ইনস্টিটিউটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘গতকালই বাপ্পীর চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর অবস্থা উন্নতির দিকে।’
আওয়ামী লীগের আহত আরও তিনজনকে ইবনে সিনা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আজ রোববার দুপুরে জিগাতলা ও ধানমন্ডিতে আবারও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে। মাথায় হেলমেট, মুখে কাপড়, হাতে রড, রাম দা ও লাঠিসোঁটাসহ একদল যুবক পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। আজও সাংবাদিকসহ অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।