পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত ২ আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির জয়

পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে বিজয়ী বিজেপি–দলীয় প্রার্থী নন্দীগ্রামের হাসি রানী রথ এবং রেজিনগরের শাখারভ সরকারছবি: ভাস্কর মুখার্জি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার দুটি আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিজেপির দুই প্রার্থী। নন্দীগ্রামে হাসি রানী রথ এবং রেজিনগরে শাখারভ সরকার জয়ী হয়েছেন। তবে এই ফলাফল ঘিরে ভোট লুটের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের আশঙ্কা ছিল, বিজেপি ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হবে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন মানুষ।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুটি আসনেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম ভোটার রয়েছেন। রেজিনগরে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে প্রায় ৩০ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির জয় নিয়ে দলটির নেতারা মুসলিম ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশ।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে জয়ী হয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। পরে দুটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আজ শুক্রবার এই দুই আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। উভয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিজেপির প্রার্থীরা।

নন্দীগ্রামে বিজেপির হাসি রানী রথ ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে সর্বশেষ খবরে জানানো হয়েছে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের মিলন প্রধান। এ আসনে দ্বিতীয় হয়েছে কংগ্রেস, তৃতীয় বামফ্রন্ট এবং চতুর্থ ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০১ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র কর পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৬ ভোট। শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হয়েছিলেন ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে। উপনির্বাচনে বিজেপির জয় সেই ফলাফলের তুলনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে রেজিনগরে বিজেপির শাখারভ সরকার পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৯১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ। এ আসনে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি দ্বিতীয়, কংগ্রেস তৃতীয়, মমতার তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থ, বামফ্রন্ট পঞ্চম এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ষষ্ঠ হয়েছে।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে হুমায়ুন কবীর পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। অর্থাৎ তখন বিজেপি প্রার্থী ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন। উপনির্বাচনে সেই আসনেই বিজেপির জয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আইএসএফ, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ও বামপন্থী দলগুলো আগেই ভোট লুটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দুটি আসনেই বিজেপির জয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রেজিনগরে আগের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও বিজেপির জয় এবং নন্দীগ্রামে ভোটের ব্যবধান বেড়ে যাওয়া—দুই ঘটনাই ভোটারদের সমর্থনের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।