চীনে এআই প্রযুক্তির গোপন তথ্য পাচার, গুগলের সাবেক প্রকৌশলীর কারাদণ্ড
গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির গোপন তথ্য চুরি করে চীনের বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানোর কারণে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রকৌশলী লিনওয়েই ডিংকে প্রায় এক বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর একটি আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ ৮৯ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ এবং ২৫ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে লিনওয়েই ডিংকে। শুধু তা–ই নয়, কারাদণ্ড শেষে দুই বছর নজরদারির মধ্যেও থাকতে হবে তাঁকে।
ডিংয়ের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরির পাশাপাশি অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও আনা হয়েছিল। ১১ দিন ধরে চলা বিচার শেষে সান ফ্রান্সিসকোর আদালত তাঁকে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরির সাতটি অভিযোগ এবং অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির সাতটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে পরে অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগগুলো থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ডিং গুগল থেকে যেসব গোপন নথি চুরি করেছেন, সেগুলোয় এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের বিস্তারিত তথ্য ছিল। এসব নথির মধ্যে গুগলের নিজস্ব এআই চিপ টেনসর প্রসেসিং ইউনিট (টিপিইউ) এবং গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) প্রযুক্তির তথ্যও ছিল। এ ছাড়া হাজার হাজার চিপকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সুপারকম্পিউটারের মতো কাজ করানোর জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারের তথ্যও চুরি করেছিলেন তিনি।
গুগলের তৈরি স্মার্টনিক প্রযুক্তির তথ্যও ছিল চুরি করা নথির মধ্যে। গুগলের এআই সুপারকম্পিউটার ও ক্লাউড ব্যবস্থায় নেটওয়ার্ক যোগাযোগের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। গুগলের এআই অবকাঠামোর এসব তথ্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কারণ, নিজস্ব টিপিইউ ব্যবহার করে বড় এআই মডেল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গুগল এনভিডিয়ার মতো বাইরের চিপ নির্মাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। এসব প্রযুক্তির নকশা ও কার্যপ্রণালির তথ্য হাতে পেলে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের প্রযুক্তি তৈরির দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল গবেষণার একটি বড় অংশ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে।
চীনের নাগরিক লিনওয়েই ডিং ‘লিওন ডিং’ নামেও পরিচিত। ২০১০ সালে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। সিলিকন ভ্যালির কয়েকটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর ২০১৯ সালে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে গুগলে যোগ দেন। ২০২১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। গুগলে কাজ করার সময় এআই সুপারকম্পিউটিং ডেটা সেন্টারের গোপন ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ ছিল ডিংয়ের।
সূত্র: নিউজ১৮ ডটকম