রাফিনিয়া ‘বিড়ালছানা’, ভিনি ‘ট্রায়াথলেট’ ও রদ্রিগো ‘ভিটামিন সি খেলোয়াড়’
বুয়েনস এইরেসে ব্রাজিল গতকাল যে বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে, তাতে তুমুল সমালোচনাই স্বাভাবিক। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে স্বাগতিক আর্জেন্টিনার কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় ব্রাজিল। এর পর থেকেই সমালোচনা ও রসিকতার শিকার হচ্ছেন ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সাংবাদিক ব্রুনো হেদেরের সমালোচনা একটু অন্য রকম। রাফিনিয়া-ভিনিসিয়ুসদের তা মোটেই ভালো লাগার কথা নয়।
টিওয়াইসি স্পোর্টসের অনুষ্ঠান ‘প্রেসিও আলতা’য় কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন হেদের। রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস ও রদ্রিগোর সমালোচনা করে হেদের তাঁদের এমন কিছু নাম দিয়েছেন, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। ব্রাজিলিয়ান এই সাংবাদিক রাফিনিয়াকে বলেন ‘বিড়ালছানা’ (কিটেন), ভিনিসিয়ুসকে বলেছেন ‘ট্রায়াথলেট’ এবং রদ্রিগো তাঁর চোখে ‘ভিটামিন সি খেলোয়াড়’।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার এ ম্যাচের আগে আগুন উসকে দিয়েছিলেন বার্সেলোনা তারকা রাফিনিয়া। রোমারিওর সঙ্গে ‘রোমারিও টিভি’ পডকাস্টে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা ওদের গুঁড়িয়ে দেব। কোনো সন্দেহ নেই। একদম গুঁড়িয়ে দেব মাঠের ভেতরে, দরকার পড়লে মাঠের বাইরেও।’ তাঁর এ মন্তব্য নিয়ে তখন বেশ আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে উল্টো ব্রাজিলই গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর টিওয়াইসির অনুষ্ঠানে রাফিনিয়াকে খোঁচা মেরে হেদের বলেন, ‘রাফিনিয়ার কথা সিংহের মতো, কিন্তু খেলায় বিড়ালছানা।’
মাঠে ভিনির উত্তেজক আচরণকে ব্যঙ্গ করে হেদের তাঁকে ‘ট্রায়ালথেট’ বলেন। তাঁর পুরো কথাটা এমন, ‘ভিনি জুনিয়র হলেন ট্রায়াথলেট। কেন জানেন? কারণ, সে দৌড়ায়, সাইকেল ও সাঁতরায়।’ আর রদ্রিগোকে নিয়ে হেদের বলেছেন, ‘রদ্রিগো হচ্ছে ভিটামিন সি খেলোয়াড়। কারণ, তিনি কাউকে আঘাত করেন না।’
ভিনিকে ট্রায়াথলেট বলার কী কারণ, সেটা অবশ্য পরিষ্কার নয়। সম্ভবত রিয়াল মাদ্রিদ তারকার মাঠে অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়াকে ইঙ্গিত করে হেদের বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি শুধু ফুটবলই খেলেন না। রদ্রিগোর সঙ্গে ‘ভিটামিন সি’ জুড়ে দেওয়ার কারণও ঠিক পরিষ্কার নয়। তবে এটা সত্য, রদ্রিগোকে পারতপক্ষে মাঠে কাউকে আঘাত করে খেলতে দেখা যায় না। হাড়ের ঠিকমতো বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন সি দরকার হয়। হেদের সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন, রদ্রিগো শক্তপোক্ত হলে একটু চড়াও হয়ে খেলতে পারতেন।