মোরছালিন-আনিসুর নেই, এশিয়াডের জোড়াতালির দলে জামাল ভূঁইয়া
দেশের শীর্ষ দুই ক্লাবের আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় এশিয়ান গেমসের জন্য সেরা অনূর্ধ্ব-২৩ দল গড়া গেল না। বসুন্ধরা কিংসের শেখ মোরছালিন, আনিসুর রহমান, তারিক কাজীকে পাচ্ছেন না কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। আবাহনীর মোহাম্মদ হৃদয় নেই আজ ঘোষিত ২২ জনের চূড়ান্ত তালিকায়। এই চারজনই সম্প্রতি বেঙ্গালুরু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দলের জার্সিতে চোখ কেড়েছেন আলাদাভাবে।
আবাহনী থেকে শুধু ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে কোচ রেখেছেন গেমসের ২২ জনের দলে। সেটা অবশ্য ঝুঁকি নিয়ে। আবাহনী এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে উঠে গেলে হয়তো ফাহিমকেও পাওয়া যাবে না। না উঠলে অন্তত ফাহিমকে যাতে পাওয়া যায় তাই তাঁকে রেখেছেন কোচ। তবে কিংসের কোনো খেলোয়াড়কেই পাওয়া যাচ্ছে না এশিয়ান গেমসের দলে। কিংস খেলোয়াড় ছাড়বে না বলে দিয়েছে বাফুফেকে।
অগত্যা জোড়াতালি দিয়ে অপেক্ষাকৃত অনেক কম পরিচিত খেলোয়াড় খেলোয়াড় নিয়ে দল গড়তে বাধ্য হয়েছেন কোচ। ১৫ জুলাই তালিকাটা পাঠানো হয়েছে গেমস আয়োজকদের কাছে। নিয়ম অনুযায়ী ২২ জনের মধ্যে তিন জন সিনিয়র খেলোয়াড় আছেন। কাবরেরার দলে সেই তিন সিনিয়রের অন্যতম ৪ বছর আগে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জেতানো অধিনায়ক জামাল ভূইয়া। জামালের নেতৃত্বে প্রথমবার এশিয়াড ফুটবলের দ্বিতীয় পর্বে ওঠে বাংলাদেশ।
তবে আগস্টে শুরু হতে যাওয়া ঘরোয়া লিগের দলবদলে জামাল কিংস বা আবাহনীতে নাম লেখালে তাঁরও এশিয়ান গেমসে খেলা শঙ্কার মধ্যে পড়বে। বাকি দুই সিনিয়র হলেন শেখ রাসেলের ইব্রাহিম ও মোহামেডানে ডিফেন্ডার মুরাদ হাসান।
২৩ সেপ্টেম্বর-৮ অক্টোবর চীনের হাংঝুতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের কাছাকাছি সময়ে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং এএফসি কাপ চলবে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও রানার্সআপ আবাহনীর খেলা আছে সামনে। যে কারণে কোচ পড়েছেন বিপাকে।
এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল পর্বে উঠতে ১৫ ও ২২ আগস্ট দুটি ম্যাচ খেলবে কিংস। হারলে এএফসি কাপে খেলবে তারা। এএফসি কাপের চূড়ান্ত পর্ব অক্টোবরে। ফলে এশিয়ান গেমসের সময় কিংস ব্যস্ত থাকবে খেলা নিয়ে। অন্যদিকে এএফসি কাপের মূল পর্বে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে ঢাকা আবাহনীরও। আগস্টের ১৫ ও ২২ তারিখ আবাহনী এএফসি কাপের প্লে অফ খেলবে। তারা চূড়ান্ত পর্বে উঠলে আবাহনীর কোনো খেলোয়াড়ও পাওয়া যাবে না।
এর আগে গেমসের প্রাথমিক তালিকায় ৫৮ জন খেলোয়াড় রেখেছিল বাফুফে। শেখ মোরছালিন, আনিসুর, হৃদয়, তারিকসহ সবাই ছিলেন তাতে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেরা ফুটবলারদের কোচ পাচ্ছেন না এশিয়াডে।
২২ দলের দল
গোলকিপার
মিতুল মারমা ( ফর্টিস), মেহদী হাসান শ্রাবণ ( মুক্তিযোদ্ধা), পাপ্পু হোসেন ( চট্টগ্রাম আবাহনী)
রক্ষণ
ইসা ফয়সাল ( পুলিশ), তানভীর হোসেন ( রহমতগঞ্জ), শাকিল হোসেন ( শেখ জামাল), মুরাদ হোসেন ( মোহামেডান) আতিকুজ্জামান ( মুক্তিযোদ্ধা), রাজীব হোসেন ( মোহামেডান), শাহীন আহমেদ ( ফর্টিস)
মাঝমাঠ
আবু সাঈদ ( শেখ জামাল), তাজ উদ্দিন ( মুক্তিযোদ্ধা), শহিদুল ইসলাম ( ফর্টিস), জায়েদ আহমেদ ( আজমপুর) , জামাল ভূঁইয়া ( শেখ রাসেল))
আক্রমণ
রবিউল হাসান ( পুলিশ), মোহাম্মদ ইব্রাহিম ( শেখ রাসেল), ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ( আবাহনী), রফিকুল ইসলাম ( ফর্টিস), আহমেদ পিয়ুস নোভা ( শেখ জামাল), সরোয়ার জামান নিপু ( শেখ জামাল) ও জাফর ইকবাল (মোহামেডান।