ইউনাইটেড ভুগছে গোলখরায়, ধারে গিয়ে আন্তনি যেন গোলমেশিন

প্রিমিয়ার লিগে আবার হেরেছে রুবেন আমোরিমের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (বাঁয়ে), ধারে রিয়াল বেতিসে গিয়ে গোল করেই চলেছেন আন্তনিরয়টার্স, ইনস্টাগ্রাম

কখনো কখনো ঠিকানা বদলে ফেললে নাকি ভাগ্য বদলে যায়। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার আন্তনি এমন সুখকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

২০২২ সালে অনেক আশা নিয়ে আন্তনিকে কিনেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নেদারল্যান্ডসের সফলতম ক্লাব আয়াক্সের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে ইউনাইটেডকে খরচ করতে হয় ৮ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড (বর্তমানে ১ হাজার ২৫০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা)। কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে যাওয়ার পর থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে থাকেন আন্তনি। একপর্যায়ে হয়ে ওঠেন দলের বোঝা।

শেষ পর্যন্ত এবারের শীতকালীন দলবদলে আন্তনিকে ধারে রিয়াল বেতিসে পাঠায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। স্পেনের ক্লাবটিতে গিয়ে ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড শুধু ছন্দই ফিরে পাননি, রীতিমতো গোলমেশিন হয়ে উঠেছেন। ওদিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গোলখরায় ভুগছে ইউনাইটেড।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আন্তনির পারফরম্যান্স ছিল ছন্নছাড়া
রয়টার্স

গত রাতে প্রিমিয়ার লিগে টটেনহামের বিপক্ষে ১–০ ব্যবধানে হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এ হারে পয়েন্ট তালিকার ১৫ নম্বরে নেমে গেছে রুবেন আমোরিমের দল। মানে, অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র তিন ধাপ ওপরে।

একই রাতে লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল বেতিস। ৫১ মিনিটে বেতিসের প্রথম গোলটা আন্তনিই করেছেন। দারুণ এ জয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৫ নম্বর থেকে একলাফে আটে উঠে এসেছে মানুয়েল পেলেগ্রিনির দল। এ যেন আন্তনির পৌষ মাস, আর তাঁর মূল ক্লাব ইউনাইটেডের সর্বনাশ!

প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেড এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচ হারল। এর চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস ও টটেনহামের বিপক্ষে আলেহান্দ্রো গারনাচো, রাসমুস হইলুন্দ, ইয়োশুয়া জির্কজিদের গোল না পাওয়া। লিগে সর্বশেষ তিন ম্যাচে রেড ডেভিলদের গোল মাত্র একটি, সেটাও আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সৌজন্যে।

গত রাতে টটেনহামের কাছে হারের পর হতাশ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়েরা
রয়টার্স

যাঁর কাছ থেকে নিয়মিত গোল আসছিল, সেই আমাদ দিয়ালোও সম্প্রতি গোড়ালিতে চোট পেয়েছেন। সেই চোট এতটাই গুরুতর যে এই মৌসুমে আর খেলতে পারবেন না। এমন বিপদের সময়ে আন্তনিকেও পাচ্ছে না ইউনাইটেড। কারণ, তাঁকে এ বছরের জুন পর্যন্ত বেতিসের কাছে ধার দিয়েছে তারা। আরেক ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ডকে ধারে অ্যাস্টন ভিলায় পাঠানো হয়েছে।

রিয়াল বেতিসের জার্সিতে আন্তনি চার ম্যাচেই করেছেন ৩ গোল, সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন ১টি, পেনাল্টি আদায়ও করে দিয়েছেন ১টি। ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনবার। প্রিমিয়ার লিগে যেখানে ৬২ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৫ গোল, সেখানে লা লিগায় ৩ ম্যাচেই ২টি।

আরও পড়ুন

অথচ এই আন্তনিই ২০২৪–২৫ মৌসুমে ইউনাইটেডের হয়ে ১৪ ম্যাচে করতে পেরেছেন মাত্র ১ গোল। সেটাও ইংল্যান্ডের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা লিগ কাপে (কারাবাও কাপ নামে পরিচিত)। প্রিমিয়ার লিগে আট ম্যাচ খেলে শুরুর একাদশে ছিলেন মাত্র একটিতে। কয়েকটি ম্যাচে কোচ আমোরিম তাঁকে স্কোয়াডেই রাখেননি।

তবে ইউনাইটেডে উপেক্ষিত আন্তনিতেই আস্থা রেখেছেন পেলেগ্রিনি। ২০১৩–১৪ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটিকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতানো এই কোচ বেতিসের সর্বশেষ চার ম্যাচেই আন্তনিকে শুরু থেকে খেলিয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারও নতুন ঠিকানায় গিয়ে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন।

অনেক ফুটবলারই বড় ক্লাবের সংস্কৃতি, খেলার ধরন ও কোচের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন না। তার মানে এই নয় যে সেই ফুটবলার ফুরিয়ে গেছেন। আন্তনি যেন এই কথাগুলোরই সর্বশেষ উদাহরণ।

আন্তনির সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। ধারে বেতিসে খেলতে গিয়ে তিনি যেভাবে গোল করে চলেছেন, তাতে আগামী মৌসুমেই হয়তো তাঁকে ফিরিয়ে আনবে ইংলিশ ক্লাবটি।