লীলাদেবী আর সূর্যকান্ত শিল্ডের গল্প

লীলাদেবী শিল্ড, সূর্যকান্ত শিল্ড, তাজমহল শিল্ড
লীলাদেবী শিল্ড, সূর্যকান্ত শিল্ড, তাজমহল শিল্ড

১৯১৪ সালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্যের স্ত্রী শ্রীমতী লীলাদেবীর নামে চালু করা হয় এই টুর্নামেন্ট। উপমহাদেশে এখনো চালু কলকাতার বিখ্যাত আইএফএ শিল্ড। ১২৩ বছরের পুরোনো টুর্নামেন্ট এখনো কলকাতায় সাড়া ফেলে। ব্রিটিশদের ১৪৫ বছরের পুরোনো টুর্নামেন্ট এফএ কাপও প্রতিবছর মাঠে গড়াচ্ছে। কিন্তু উদ্যোগের অভাবে ময়মনসিংহের এই ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধ রয়েছে গত নয় বছর! সর্বশেষ হয়েছিল ২০০৭ সালে।

ময়মনসিংহে আরও একটা শতবর্ষী টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। স্ত্রীর পাশাপাশি জমিদার নিজের নামেও ১৯১৪ সালে চালু করেন সূর্যকান্ত শিল্ড। সর্বশেষ আশির দশকে বন্ধ হয়ে গেছে এটি। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গেছে তাজমহল শিল্ড, সুরেন্দ্র সরোজিনী শিল্ড ও থম্পসন কাপ।   

লীলাদেবী শিল্ড মূলত স্কুলভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। এশিয়াটিক ইউনাইটেড এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে প্রথমবার মুক্তাগাছায়। আর সূর্যকান্ত শিল্ডে খেলতেন বড়রা। সূর্যকান্ত শিল্ড তৈরি করে আনা হতো ইংল্যান্ড থেকে। পুরোটা রুপার তৈরি শিল্ডের প্রথমটি চুরি হয়ে গেছে। পরে ইংল্যান্ড থেকেই একই আদলে তৈরি করে আনা হয় আরেকটি। যদিও চ্যাম্পিয়ন দলকে কখনো মূল ট্রফি দেওয়া হতো না। শুধু রেপ্লিকা পেত। শিশু-কিশোরদের শতবর্ষী পুরোনো লীলাদেবী শিল্ড বন্ধ হওয়ার পেছনের কারণটা বললেন ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের সাবেক ক্রীড়াশিক্ষক আবুল কাশেম, ‘প্রয়োজনীয় তহবিল না থাকায় এবং উদ্যোগের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এমন ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট।’

লীলাদেবী ও সূর্যকান্ত শিল্ড ঘিরে শহরে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি থাকত না। সেই স্মৃতি হাতড়ে বললেন স্থানীয় ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার গোলাম হায়দার বাদল, ‘এই টুর্নামেন্টগুলো ঘিরে তখন শহরে মেলা বসত। লীলাদেবী শিল্ডের খেলা হতো জিলা স্কুলমাঠে। আর সূর্যকান্ত শিল্ড হতো সার্কিট হাউস মাঠে। টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে খেলা হতো। এর এমনই আকর্ষণ ছিল যে লিগের খেলা না দেখলেও এটি নিয়মিত দেখতাম।’

দেশভাগের আগে সূর্যকান্ত শিল্ডে অংশ নিত পাকিস্তানের করাচি জিমখানা, পশ্চিমবঙ্গের মোহনবাগান, ইস্ট বেঙ্গল ও কলকাতা মোহামেডানের মতো দলগুলো। খেলেছে ঢাকার ইপিজি প্রেস (বর্তমানে দ্বিতীয় বিভাগের বিজি প্রেস)। 

১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন ময়মনসিংহ স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজন করত লীলাদেবী শিল্ডের। কিন্তু ১৯১৮ সাল থেকে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল এটির নিয়মিত আয়োজন করে আসছিল।

টুর্নামেন্টগুলো বন্ধ হওয়ায় আক্ষেপ ঝরল বাদলের কণ্ঠে, ‘লীলাদেবী শিল্ড, সূর্যকান্ত শিল্ডসহ অন্য সব টুর্নামেন্ট আয়োজনের ধারাটা শেষ হওয়ার পর থেকেই ময়মনসিংহের ফুটবল অস্তাচলে যাওয়া শুরু করেছে।’

নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরিতে এই টুর্নামেন্টগুলো চালুর উদ্যোগ কি নেওয়া যায় না?