গ্যাস–সংকটের প্রতিবাদে তিতাস ভবনের সামনে এনপিএর বিক্ষোভ

গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বিতরণ সংস্থাগুলোর ‘মনগড়া ভৌতিক বিলের’ প্রতিবাদে তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। কারওয়ান বাজার, ঢাকা; ৪ আগস্ট ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাস) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বিতরণ সংস্থাগুলোর ‘মনগড়া ভৌতিক বিলের’ প্রতিবাদে ঢাকায় তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত বিল আদায় করা ‘রাষ্ট্রীয় চাঁদাবাজি’। অবিলম্বে গ্রাহক ক্ষতিপূরণ নীতি চালু ও সব আবাসিক সংযোগে স্মার্ট মিটার বসাতে হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে এনপিএর এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সমাবেশ থেকে জ্বালানি খাতের ‘সীমাহীন নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনা নিরসনে’ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বরাবর এসব দাবিসংবলিত স্মারকলিপি পাঠিয়েছে তারা।

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও জ্বালানি খাতের অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে তিতাস ভবনের সামনে এনপিএর বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানিব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিলেও সাধারণ মানুষ আজ চরম সংকটের শিকার হচ্ছেন। বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত বিল আদায় করা হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রীয় চাঁদাবাজি।

বক্তারা বলেন, অবিলম্বে গ্রাহক ক্ষতিপূরণ নীতি চালু এবং সব আবাসিক সংযোগে স্মার্ট মিটার বসাতে হবে। ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দাম বাড়ানো যাবে না।

এনপিএর ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গ্যাস-বিদ্যুৎ বঞ্চনার জন্য ‘গ্রাহক ক্ষতিপূরণ নীতি’ চালু, আবাসিক গ্যাস ব্যবহারের জন্য সব গ্রাহককে অবিলম্বে স্মার্ট মিটারের আওতায় আনা, ভৌতিক বিল বাতিল ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ, এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা, ইলেকট্রিক কুকিং ও বিকল্প জ্বালানির প্রসারে প্রণোদনা দেওয়া এবং ক্যাপাসিটি চার্জের লুটপাট বন্ধ করে শ্বেতপত্র প্রকাশ।

অন্য দাবিগুলো হলো দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে গতিশীল–শক্তিশালী করা ও আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাসের মজুদের পরিপূর্ণ অনুসন্ধান, এলএনজি টার্মিনাল বৃদ্ধি ও গ্যাসের জোগান বহুমুখীকরণ, গ্যাসের এক বছরের আগাম সরবরাহ, মজুদ ও আমদানি পরিকল্পনা নিশ্চিত করা, দীর্ঘ মেয়াদের জন্য তিতাসের সঞ্চালন লাইন আধুনিকায়ন এবং গ্যাসসংক্রান্ত তথ্য (কোথায় গ্যাস থাকবে বা থাকবে না) আগাম প্রাপ্তির নিশ্চয়তা।

এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য কৌশিক আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য অনিক রায়, সেতু আরিফ ও মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত বক্তব্য দেন।