যে পদ্ধতিতে বাজার করলে আপনার টাকা বাঁচবে
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত দুটো বিষয়—স্বাস্থ্য এবং অর্থ। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার মানে কিন্তু ব্যয়বহুল খাবার নয়। সাশ্রয়ী খাদ্যদ্রব্যেও পেতে পারেন সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যকর পুষ্টি উপাদান। এর জন্য মোটাদাগে দুটি পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি—খাদ্য পরিকল্পনা ও কেনাকাটার পরিকল্পনা।
পরিকল্পনা দুটির সুষম সমন্বয় ঘটাতে পারলে বাঁচবে অর্থ, শরীর পাবে সুষম পুষ্টি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে ‘৫-৪-৩-২-১ মেথড’ নামে একটি পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই পদ্ধতি খাটিয়ে যেমন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা সম্ভব, তেমনই অর্থ অপচয়ের হাত থেকে মুক্তিও মিলতে পারে।
৫-৪-৩-২-১ পদ্ধতি কী?
কাঁচাবাজারে গেলে আজকাল বাজারের ব্যাগ আর মানিব্যাগ—এই দুইয়ের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে যায়। সঙ্গে আমাদের পরিকল্পনাহীন কেনাকাটার মানসিকতা তো আছেই। চোখের দেখায় ভালো লেগে গেল, আদতে হয়তো প্রয়োজনই নেই কিংবা এ সপ্তাহে না কিনলেও চলত, এমন কত জিনিস কিনে বাজারের ব্যাগ ভরে ফেলি। পরে নষ্ট হয়। ফেলে দিই। খাবার এবং অর্থ, একই সঙ্গে দুটির অপচয়। এই অপচয় রোধের দুর্দান্ত কৌশল হতে পারে ৫-৪-৩-২-১ পদ্ধতি। এর প্রবক্তা মার্কিন নাগরিক উইল কোলম্যান। তাঁর প্রস্তাবিত পদ্ধতি মূলত খাদ্যপণ্য কেনাকাটায় সাশ্রয়ী ধারণা। মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করেই ধারণাটি বিকশিত হয়েছে।
জানা যাক বিস্তারিত
না, তেমন জটিল কিছু নয়। একদমই সহজ। সাপ্তাহিক খাদ্যপণ্য কেনাকাটায় ৫-৪-৩-২-১ পদ্ধতি মেনে তৈরি করতে হবে বাজারের ফর্দ। সে অনুযায়ী বাজার করে সাজিয়ে নিতে হবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা। ৫-৪-৩-২-১ মানে হলো—
পাঁচ ধরনের সবজি: ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, শিম, ঢ্যাঁড়স, লাউ, বেগুন, পটোল, ক্যাপসিকাম, ব্রুকলি প্রভৃতি সহজলভ্য সবজির মধ্য থেকে যেকোনো পাঁচটি সবজি বেছে নিন।
চার ধরনের ফল: মৌসুম অনুযায়ী তালিকায় রাখুন চারটি আলাদা ধরনের ফল। কলা, আপেল, কমলা, আঙুর, পেয়ারা, বরই, আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, সফেদা, তরমুজ, আমড়া—এসব ফলের মধ্য থেকে সাপ্তাহিক কেনাকাটায় নিশ্চিত করুন যেকোনো চারটি ভিন্ন রকমের ফল।
তিন ধরনের আমিষ: ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখী বীজ বা ডালজাতীয় আমিষ থেকে তিনটি আলাদা আমিষজাতীয় খাবার রাখুন।
দুই ধরনের সস, দুধজাতীয় খাবার বা স্ন্যাকস: বিভিন্ন সস, চাটনি, পিনাট বাটার, টক দই, মাখন, বাদাম ইত্যাদি থেকে যেকোনো দুটি বেছে নিন।
এক ধরনের শস্যজাতীয় খাবার: চাল, আটা, পাস্তা, ওটস ইত্যাদির মধ্য থেকে যেকোনো একটি যুক্ত করুন সাপ্তাহিক বাজার ও খাদ্যতালিকায়।