বাঙালি কন্যা সোনালী কি বিদেশি মেম হয়ে উঠেছিলেন, শেষ জীবনটা কেমন ছিল

১৯৫৭ সালে স্বামী, সন্তান, দেশ ছেড়ে গোপনে ফ্রান্সে পালিয়ে যান সোনালী দাশগুপ্ত, পদবি পাল্টে হয়ে যান সোনালী রসেলিনি। কিসের টানে সব ছেড়ে ছিলেন এই বাঙালি নারী? ৬৮ বছর আগে হলিউড, বলিউড তোলপাড় করা সেই প্রেমকাহিনিই ভালোবাসা দিবস সামনে রেখে পাঠকদের শোনাচ্ছেন হাসান ইমাম

তিন পর্বের এই লেখার আজ পড়ুন শেষ পর্ব

প্যারিসে বসে নিজের জীবনের ছোট ছোট ঘটনা নিয়ে একটা বই লিখেছিলেন সোনালী। একাধিক ভাষায় প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদে লেখক নাম সোনালী দাশগুপ্ত
ছবি: সংগৃহীত

সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছাড়লেন সোনালী

সাদা চামড়ার কাউকে বিয়ে করে বিদেশে বসত গাড়ার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। তবে সোনালীর সেই ইচ্ছে কোনোকালেই ছিল না। নিজের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে চেয়েছিলেন তিনি। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই মানুষটাই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন। দেশ ছাড়ার আগে মুম্বাইতে শেষ কিছুদিন খুবই সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতেন সোনালী।

গাড়িঘোড়া বাদ দিয়ে পায়ে হেঁটেই দরকারি কাজ সারতেন। দেশ ছাড়ার দিনক্ষণ পাকা হয়ে যাওয়ার পরও দ্বিধায় ছিলেন সোনালী। ‘দেশ ছাড়ার কথা ভাবলেই হাত–পা ঠান্ডা হয়ে যেত,পরে লিখেছিলেন সোনালী।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে ষাটের দশকে শাড়িতে মুগ্ধতা ছড়ান সোনালী রসেলিনি। সঙ্গে ছিলেন স্বামী রবের্তো রসেলিনি
ছবি: ‘সোনালী মায়ায় ভারতে রবের্তো রসেলিনি’ বই থেকে নেওয়া

যা–ই হোক, পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতা কেটে যাওয়ার পর সোনালীকে দেশের বাইরে পাঠাতে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন রসেলিনি। এ বিষয়ে পরামর্শ করতে মুম্বাইতে কাছের বন্ধু এরমা দম্পতি ও প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনকে ডাকলেন। গোপন সেই বৈঠকেই ঠিক হলো—ছোট ছেলে অর্জুনকে নিয়ে গোপনে আগে প্যারিস চলে যাবেন সোনালী। এরপর যত দ্রুত সম্ভব নিজের কাজ শেষ করে ভারত ছাড়বেন রসেলিনি। মুম্বাই থেকে দিল্লি পর্যন্ত সোনালীকে নিয়ে যাবেন হুসেন। সেখান থেকে সোনালীর সঙ্গে বিমানে উঠবেন জঁ এরমার স্ত্রী লীলা।

পরিচিতদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ১৯৫৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে হুসেনের সঙ্গে মিসেস হুসেন পরিচয়ে দিল্লির ট্রেনে চাপলেন সোনালী। ট্রেনে উঠেই দেখেন পাশের কামরায় ‘ব্লিৎস’ ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক। সেই সময় দেশের যে কয়টা ম্যাগাজিন সোনালীকে নিয়ে রসালো মনগড়া নানা কেচ্ছাকাহিনি ছাপত, ‘ব্লিৎস’ তাদের মধ্যে অন্যতম। কৌশলে তাই ‘ব্লিৎসের’ সাংবাদিকের চোখ এড়িয়ে অন্য কামরায় চলে গেলেন হুসেন ও সোনালী। সাংবাদিকদের চোখ ফাঁকি দিতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে সেদিন দিল্লি স্টেশনে না নেমে তার আগের স্টেশন নিজামুদ্দিনে নামলেন তাঁরা। সেখান থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সোজা বিমানবন্দর। লীলার সঙ্গে সোনালী আর অর্জুনকে প্যারিসের বিমানে তুলে দিয়ে ফিরলেন হুসেন।

রবের্তোর সব পক্ষের সন্তানদেরই আদর–স্নেহ দিয়েছেন সোনালী। ছবিতে ইনগ্রিড বার্গম্যানের সঙ্গে তাঁর তিন সন্তান
ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

৬ অক্টোবর প্যারিসে পৌঁছান সোনালী। লীলার পরিবারের লোকজন বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানাতে এসেছিলেন। সেখানেই লীলার মা প্রথম জানতে পারেন সোনালী অন্তঃসত্ত্বা। প্যারিসে গিয়ে সোনালী ও অর্জুন প্রথমে কিছুদিন লীলাদের বাড়িতে, তারপর মার্কিন শিল্পী উইলিয়ামের ভিলায় এবং শেষে আলোকচিত্রী অঁরি–কার্তিয়ে ব্রেসোঁর বাসায় ওঠেন। এখানেই ১৯৫৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত একপ্রকার অজ্ঞাতবাস করেন সোনালী ও অর্জুন। এর মধ্যে ১৯৫৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর সোনালীর কোলজুড়ে আসে এক কন্যাসন্তান।

সোনালী ভারত ছাড়ার ২২ দিন পরে নিজের সব কাজ গুছিয়ে প্যারিস আসেন রবের্তো রসেলিনি। এয়ারপোর্টে তাঁকে স্বাগত জানান ইনগ্রিড বার্গম্যান। তাঁদের চুম্বনের ছবি প্যারিস, ওয়াশিংটন, লন্ডন, রোমের পত্রিকাগুলোয় ছাপা হয় পরদিন। অথচ আগের সন্ধ্যাতেই বিচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বার্গম্যান ও রসেলিনি। ৭ নভেম্বর বিচারপতির সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের প্রথম ধাপের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন রবের্তো রসেলিনি ও ইনগ্রিড বার্গম্যান। রবের্তো প্যারিসে ফেরার আগে সোনালীর সঙ্গে ইনগ্রিডের দেখাও হয়, রসেলিনির পাঠানো চিঠি হস্তান্তরের অজুহাতে।

দুই সন্তান নিয়ে প্যারিসে অজ্ঞাতবাসে সোনালী। দিন কাটে উল বুনে, ছবি এঁকে আর স্প্যাগেটি রান্না করে। সংবাদপত্রের চোখ এড়িয়ে গোপনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন রবের্তো রসেলিনি। ইনগ্রিডের সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর চাউর হতেই সোনালীকে নিয়ে সংবাদপত্রের কৌতূহল বাড়ল। অনেক ভুল ভারতীয় নারীর ছবিও সংবাদপত্রে তখন সোনালীর নাম করে ছাপা হয়েছিল। এর মধ্যে অর্জুনকে দত্তক নিলেন রসেলিনি, তার নতুন নাম হলো জিল রসেলিনি।

পরবর্তী জীবনে প্রযোজক, পরিচালক হিসেবে পরিচিতি পান। আর মেয়ে রাফায়েলা পাওলা মেরিকে (নুর রসেলিনি নামে পরিচিত) নিজের মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। নুর রসেলিনি এখন অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত। যদিও সোনালী সব সময় বলে গেছেন এই মেয়েটিও হরিসাধনেরই ঔরসজাত, প্রিম্যাচিউর হিসেবে ওর জন্ম হয়েছিল।

সোনালীর হাত ধরে ইউরোপের অভিজাত নারীদের কাছে পৌঁছে যায় ভারতের তাঁতশিল্প
ছবি: বিরসা দাশগুপ্তের ইনস্টাগ্রাম থেকে

বাঙালি কন্যায় মুগ্ধ কান

ইনগ্রিড–পর্ব চুকিয়ে ছবি সম্পাদনার কাজে মন দিলেন রসেলিনি। ‘ইন্ডিয়া মাতৃভূমি’ নামের পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিটি কানে প্রদর্শিত হয় ১৯৫৯ সালের ৯ মে। সেদিনই প্রথম রসেলিনির সঙ্গে প্রকাশ্যে আসেন শাড়ি পরা বঙ্গতনয়া সোনালী রসেলিনি। ছবিটি নিয়ে দেশে দেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ ভালো বলেন, কেউ বলেন কাজটা ঠিক হয়নি। তবে এসবের মধ্যেও বিশেষভাবে কানে নজর কাড়ে শাড়ি পরা ছিপছিপে শ্যামা সুন্দরী সোনালী। তাঁর সাজগোজের প্রশংসা করে ছবি ছাপে একাধিক ফ্যাশন পত্রিকা। রোমে ফিরেও সোনালী ঠিক রোমান হয়ে উঠতে পারলেন না। থেকে গেলেন ভারতীয় বাঙালি নারী।

সিনেমা নিয়ে সমালোচনা, বারবার প্রেমে পড়া নিয়ে নানা আলোচনা–সমালোচনা থাকলেও বাবা হিসেবে রবের্তো অসাধারণ। সেটা তাঁর সব সন্তানই স্বীকার করেন। নিজের সব পক্ষের সন্তানদের সযত্নে আগলে রাখতেন রবের্তো রসেলিনি। ইনগ্রিডের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তো সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়ে এক দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছিল। এরপর ১৯৬১ সালের এক গ্রীষ্মের ছুটিতে রোমের ভিয়া নোমেন্তানার বাড়িতে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন রবের্তো। যেখানে সোনালীর সন্তানেরা ছাড়াও ইনগ্রিড ও রবের্তোর প্রথম স্ত্রী মার্চেল্লা দি মার্চি তাঁদের সন্তানদের নিয়ে একত্র হন। এরপর থেকে সব পক্ষের সন্তানেরাই সোনালীকে পেয়েছেন মমতাময়ী মা হিসেবেই। মা হিসেবে সোনালী সবাইকেই দিয়েছেন আদর, স্নেহ, ভালোবাসা। বিভিন্ন সময়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে রবের্তোর সব পক্ষের সন্তানেরা সেটা স্বীকারও করেছেন।

রোমে সোনালীর বুটিকের সামনে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী
ছবি: বিরসা দাশগুপ্তের ইনস্টাগ্রাম থেকে

সোনালী কি বিদেশি মেম হয়ে উঠেছিলেন

মেম হতে সোনালী বিদেশে যাননি, সেটা সবাই মানবেন। বিদেশি আঁটসাঁট পোশাককে তাঁর মনে হতো ‘রণসজ্জা’। আজীবন তাই শাড়ি আর বাঙালি সাজেই কাটিয়ে গেছেন শান্তিনিকেতনের এই প্রাক্তনী। শুধু তা–ই না, সেই ষাটের দশকে রোমের মতো অভিজাত শহরে বাঙালি শাড়ির বুটিক চালু করেন সোনালী রসেলিনি। ভারতীয় নারীর এই কারুপণ্যের প্রেমে মজেছিলেন বিদেশিরাও। ভারতীয় কাপড় দিয়ে মেমদের পোশাক বানিয়ে দিতেন সোনালী। বাহারি সব দেশি ফুল করবী, জুঁই, নীলপদ্ম, পীত বাবলার নামে রাখতেন সেসবের নাম।

ইন্দিরা গান্ধীও রোমে গিয়ে সোনালীর বুটিকে ঢুঁ মারতে ভোলেননি। ভারত ছাড়ার পরও ইন্দিরার সঙ্গে আজীবন বন্ধুত্ব রেখে গেছেন সোনালী। ইন্দিরাও নিয়মিত চিঠি লিখতেন, গরমের সময় সোনালী-রবের্তোকে পাঠাতেন আম। রবের্তো রসেলিনির সব ধরনের পার্টিতে শাড়ি পরে ভারতীয় সাজেই হাজির হতেন সোনালী। ১৯৬১ সালে প্যারিস থেকে সোনালীর একটি বই প্রকাশিত হয় ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ (অন্য জগৎ)। যেখানে লেখকের নাম ছিল সোনালী দাশগুপ্ত। যদিও তত দিনে তিনি রসেলিনি হয়ে গেছেন! আসলে এ সময়ে হরিসাধনের সঙ্গে সোনালীর বিচ্ছেদ ও রসেলিনির সঙ্গে ইনগ্রিডের আইনি লড়াই চলায় অফিশিয়ালি নিজের পুরোনো পদবিই রেখেছিলেন সোনালী।

রোমের বাড়িতে পোষ্যদের সঙ্গে সোনালী দাশগুপ্ত
ছবি: বিরসা দাশগুপ্তের ইনস্টাগ্রাম থেকে

দীর্ঘদিন দাম্পত্যে থাকলেও সোনালী–রবের্তো আনুষ্ঠানিক বিয়ে করেননি। কেন বিয়ে করছেন না, এমন প্রশ্নে এক সাংবাদিককে সোনালী বলেছিলেন, ‘আমরা দুজনের কেউই আর ছোটটি নেই। তাই দুজনেই এই পদক্ষেপটি নিতে অনিচ্ছুক। দুজনের জন্যই ও রকম কোনো অনুষ্ঠান করা এখন লজ্জার হবে।’

রোমে পরিচালনা নিয়ে আবার ব্যস্ত হয়ে উঠলেন রসেলিনি। নিজের বুটিক আর বিশাল পরিবার সামলাতে লাগলেন সোনালী। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে সোনালী জানতে পারেন সিলভিয়া ড্যামিকো নামের এক অভিজাত নারীর সঙ্গে আবার প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন রবের্তো রসেলিনি। এরই মধ্যে তারা নিউইয়র্ক, প্যারিস ও রোমে (সোনালীর বাড়িতে) একসঙ্গে থেকেছেন। গোপনে দুজন বিয়েও করেছেন। ১৯৫৭ সালে যে প্রেম মুম্বাইতে শুরু হয়েছিল, নতুন নারীর আগমনে ১৯৭৪ সালের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর তা শেষ হয়ে যায়। সিলভিয়া ড্যামিকোর সঙ্গে রসেলিনির বিয়েটি টিকেছিল ১৯৭৬ সালের মে পর্যন্ত। ১৯৭৭ সালের ৩ জুন যেদিন রবের্তো রসেলিনি মারা যান, সেদিন প্রথম স্ত্রী মার্চেল্লা ডি মার্চিসের কোলেই ছিল তাঁর মাথা।

বিয়ের আসরে হরিসাধন–সোনালীর ছেলে রাজা দাশগুপ্ত ও তাঁর স্ত্রী চৈতালী দাশগুপ্ত
ছবি: বিরসা দাশগুপ্তের ইনস্টাগ্রাম থেকে

বড় ছেলের কী হলো

সোনালীর দেশ ছাড়ার পর মুম্বাই–পর্ব চুকিয়ে ছেলে রাজাকে নিয়ে কলকাতা ফিরে আসেন হরিসাধন। মা কোথায়, জানতে চাইলে তাকে বলা হতো, মারা গেছে। প্যারিসে গিয়েও বন্ধুদের মাধ্যমে রাজার খোঁজ নিতেন সোনালী। তবে কথা বলতেন না, রাজা দ্রুত যাতে মায়ের বিচ্ছেদ কাটিয়ে উঠতে পারে, তার জন্যই ব্যবস্থা। প্যারিস চলে যাওয়ার পর মা–ছেলের প্রথমবার দেখা হয় কলকাতায় রাজা দাশগুপ্তের স্কুল গেটে। রাজা তখন ক্লাস নাইনে ক্যালকাটা বয়েজ স্কুলের ছাত্র। তত দিনে বছরে দুবার করে ভারতে আসতেন সোনালী। এরপর রাজার মাধ্যমিকের ছুটিতে বাবা হরিসাধনই ছেলের হাতে রোমের বিমান টিকিট ধরিয়ে দিয়ে মায়ের কাছে বেড়াতে পাঠিয়েছিলেন। দুই মাস রোমে থেকে সেবার রবের্তো রসেলিনিসহ তাঁর সব পক্ষের ভাইবোনের সঙ্গে রাজার দারুণ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বাবা–মা মারা গেলেও বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা রাজার সৎ ভাইবোনদের সঙ্গে এখনো দারুণ যোগাযোগ আছে বলেই জানা যায়।

সোনালী দেশ ছাড়ার পর থেকে হরিসাধন মদের নেশায় ডুবে যান। ১৯৯৬ সালে হরিসাধন মারা যান। বাবা হরিসাধনের মতো রাজা দাশগুপ্তও সিনেমা পরিচালক। রাজার স্ত্রী কলকাতা দূরদর্শনের প্রথম সংবাদপাঠিকা চৈতালী দাশগুপ্ত। রাজা দাশগুপ্তের দুই ছেলেও এখন সিনেমা পরিচালনা করছেন। কলকাতায় বিরসা দাশগুপ্ত আর মুম্বাইতে ঋভু দাশগুপ্ত।

২০১২ সালে রোমে বেড়াতে গিয়ে সোনালীর সঙ্গে ছবিটি তুলেছিলেন রাজা ও চৈতালী
ছবি: রাজা দাশগুপ্তের পারিবারিক অ্যালবাম থেকে (আনন্দবাজার)

রসেলিনির মৃত্যুর পর সবার সঙ্গেই যোগাযোগ কমিয়ে দেন সোনালী। নিজের কাজ আর সংসার নিয়েই দিন কেটে যায়। শেষ দিকে বিশেষ করে ২০০৮ সালে ছেলে জিল রসেলিনি মারা যাওয়ার পর থেকে একা হয়ে পড়েন সোনালী। এরপর রাজা দাশগুপ্তের সঙ্গেও খুব একটা কথা বলতে চাইতেন না। ২০১৪ সালের ৭ জুন ৮৬ বছর বয়সে রোমে মারা যান সোনালী রসেলিনি। মৃত্যুর দুই বছর আগে মায়ের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন রাজা দাশগুপ্ত, সেবার তাঁর সঙ্গে ছিলেন চৈতালী। এক টকশোতে চৈতালী জানান, দেখা হওয়ার পর ছেলের বউকে সেবার গয়না উপহার দিয়েছিলেন সোনালী।

সোনালীর তৃতীয় প্রজন্ম বিরসা ও ঋভু দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর বাবা–মা রাজা–চৈতালী দম্পতি
ছবি: বিরসা দাশগুপ্তের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে

সোনালীর যে বর্ণময় জীবন, তা নিয়ে নিজেই বিশদে লিখতে চেয়েছিলেন। তাঁর ঘটনাবহুল জীবন নিয়ে সিনেমা করতে চেয়েছিলেন পরিচালক অনুরাগ কশ্যপ। সোনালী মনে করতেন, রবের্তো রসেলিনিকে ভালোবেসে দেশ ছাড়াই তাঁর জীবনের একমাত্র ঘটনা না।

ভারতীয় যে সংস্কৃতিকে তিনি লালন করতেন, দেশের মানুষ তাঁকে চরিত্রহীন আখ্যা দিলেও আজীবন সেই সংস্কৃতির জন্যই কাজ করেছেন তিনি। রুপালি পর্দার নায়িকা হতে না পারলেও সোনালী আলোয় রোমে জ্বালিয়ে গেছেন ভারতীয় কারুপণ্যের সলতে।

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব