খাবারে অরুচির কোনো ওষুধ কি আছে

কখনো কখনো কিছু রোগ বা শারীরিক সমস্যার কারণে হুট করেই রুচি কমে যেতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকের কাছে রোগীরা হামেশাই তাঁদের রুচি কমে যাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেন। জানতে চান কীভাবে, কী খেলে রুচি ফিরবে, খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বাড়বে। এ জন্য কোনো ওষুধ আছে কি না, এটাও প্রায় সবাই জানতে চান।

আসলে খাবার বা ঘুম, যে অভ্যাসের কথাই ধরি না কেন, প্রত্যেক মানুষই কিন্তু আলাদা। কারও রুচি জন্মগতভাবেই বেশি, আবার কেউ প্রকৃতিগতভাবেই স্বল্পাহারী। এখানে জোরজবরদস্তি বা ওষুধের স্থান তেমন নেই। তবে কখনো কখনো কিছু রোগ বা শারীরিক সমস্যার কারণে হুট করেই রুচি কমে যেতে পারে।

হালের ডেঙ্গু বা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে শুরু করে ক্যানসার, যক্ষ্মাসহ যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগে কমতে পারে রুচি। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও অনেক সময় রুচি কমে যায়। মানসিক সমস্যায় রুচি–স্বল্পতা হতে পারে।

রুচি কমলে খাওয়ার পরিমাণ কমে, ওজন কমে, সঙ্গে পুষ্টিহীনতার কারণে অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে বেশির ভাগ সময়ই মানুষ তড়িঘড়ি ওষুধপত্র যা পারে, খেয়ে রুচিমন্দা সারাতে চায়।

কিন্তু পেছনের সমস্যাটির সমাধান না করলে কোনো ওষুধেই আসলে কাজ হবে না। কেউ কেউ আছেন, রুচি বাড়ানোর জন্য হারবাল বা ভেষজ ওষুধের সাহায্য নেন। আদতে এসব ওষুধের ভেতরে কী আছে, জানা কঠিন। তাই অনেক ক্ষেত্রেই এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক হতে পারে।

রুচি বৃদ্ধির জন্য কখনো কখনো ভিটামিনজাতীয় ওষুধ দেন চিকিৎসক। সব সময় কার্যকর না হলেও এসবের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকে।

কখনো আবার আলসারের ওষুধ বা অন্ত্রে খাবারের চলাচল ত্বরান্বিত করার ওষুধেও উপকার হতে পারে।

মোদ্দাকথা, রুচি বাড়ানো বা কমানোর খুব বেশি কোনো ওষুধ কিন্তু নেই। আর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রুচিবর্ধক কোনো ওষুধ খাওয়াও উচিত নয়। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো রুচিমন্দার পেছনের কারণ খুঁজে বের করে চিকিৎসা নেওয়া। চিকিৎসকের পরামর্শে কোনো ওষুধ প্রয়োজন হলে সেবন করা।

ডা. শাহনূর শারমিন, সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ