গ্যাস–সংকটে কীভাবে দ্রুত রান্না করবেন, জেনে নিন ৪টি টিপস

চলমান গ্যাস–সংকটে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করলে অল্প সময়েই তৈরি করে ফেলা সম্ভব পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আনিকা জামান ও রন্ধনশিল্পী সিতারা ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন মুশফিকা হাসান।

গ্যাস আসার আগেই সবজি কাটা, ধোয়া ও খোসা ছাড়ানোর কাজগুলো সেরে রাখুন
ছবি: পেক্সেলস

ইদানীং রান্নাঘরে ঢুকলেই একধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়! গ্যাস যতক্ষণ আছে, তার মধ্যেই শেষ করতে হবে সারা দিনের রান্না। কিন্তু এই তাড়াহুড়ায় রান্না করতে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায় কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। যদি গ্যাস আসার আগেই রান্নার কাজগুলো গুছিয়ে রাখা যায় তাহলে কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

আগেই ঠিক করে রাখুন কী রান্না করবেন

চুলায় গ্যাসের দেখা মিললেই ‘কোনটা রেখে কোনটা রাঁধব’—এই নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। প্রথম ধাপে যা না হলেই নয়, যেমন ভাত বা রুটির পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের প্রয়োজনীয় খাবারগুলো সবার আগে তৈরি করে নিন।

দ্রুত তৈরি হয় এমন পদ যেমন ডিম ভাজি বা পোচ, ঝটপট সবজি ভাজি বা মাছ ভাজা—এগুলো মূল রান্নার ফাঁকে ফাঁকে সেরে নিন। এতে অল্প সময়েই অন্তত দুই থেকে তিনটি পদ প্রস্তুত হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

কীভাবে সময় বাঁচাবেন

গ্যাস আসার পর তাড়াহুড়া না করে আগে থেকে কিছুটা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি রাখলে রান্নার সময় ও গ্যাস দুটোর ব্যবহারই অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব। গ্যাস আসার আগেই সবজি কাটা, ধোয়া ও খোসা ছাড়ানোর কাজগুলো সেরে রাখুন। মাছ বা মাংস রান্না করার থাকলে ফ্রিজ থেকে আগেই বের করে ‘ডিফ্রস্ট’ করে নিন। মাংস আগে থেকে ম্যারিনেট করা থাকলে দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং ভেতরের নরম তুলতুলে ভাব বজায় থাকে, সুস্বাদুও হয়। মাছ-মাংস ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে বাড়তি পানি মুছে পাত্রে গুছিয়ে রাখুন।

আদা-রসুন বাটার পাশাপাশি গুঁড়া মসলা পানিতে গুলে পেস্ট তৈরি করে রাখুন। ভাত রান্না করার জন্য চাল অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে ভিজিয়ে রাখুন। এতে ভাত দ্রুত ফুটবে এবং ঝরঝরে হবে। ভাত ফোটানোর সময় চালের সঙ্গেই ডিম বা আলু সেদ্ধ দিয়ে দিতে পারেন। এতে করে অল্প সময়েই এক বা দুটি পদ তৈরি হয়ে যাবে। দুটো বার্নারেই গ্যাস থাকলে কেটলিতে একপাশের চুলায় পানি গরম করে নিন। তরকারি, ঝোল বা ডালে ঠান্ডা পানি না দিয়ে ফুটন্ত গরম পানি দিন। এতে ঝোল দ্রুত ফুটতে শুরু করবে এবং রান্নার সময় অনেকটাই কমে আসবে।

রান্নার আগে সিঙ্ক ও কাউন্টার টপ থেকে অনাবশ্যক থালাবাসন সরিয়ে চুলার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন। পরিচ্ছন্ন কর্মক্ষেত্র কাজের গতি বাড়ায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়।

আরও পড়ুন

একবারে কয়েক বেলার রান্না

চলমান গ্যাস–সংকটে দ্রুত তৈরি হয় এমন পদ রান্না করুন
ছবি: প্রথম আলো

বারবার গ্যাসের জন্য বসে না থেকে একবারেই দুই থেকে তিন বেলার প্রধান রান্নাগুলো শেষ করে ফেলাই বুদ্ধিমত্তার কাজ। পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও অন্যান্য বেসিক গুঁড়া মসলাগুলো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে একটা অল-ইন-ওয়ান ঝোলের মসলা বেশি করে বানিয়ে রাখুন। এতে গ্যাস এলেই চটজলদি যেকোনো তরকারি ফুটিয়ে নেওয়া যাবে। ওয়ান-পট মিল বা এক পাত্রের খাবার—যেমন ভুনা খিচুড়ি, ফ্রায়েড রাইস বা বিরিয়ানি রান্না করুন।

এতে মূল খাবার ও প্রোটিন একসঙ্গেই তৈরি হয়ে যায়, ঝক্কিও কমে। এ ছাড়া ডাল রান্না করলে একবারে দুই-তিন বেলার মতো রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিন। খাওয়ার আগে শুধু ফোড়ন দিয়ে নিলেই একদম টাটকা স্বাদ পাওয়া যাবে। কম গ্যাসে মাংস সিদ্ধ করা খুব কঠিন আর সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তাই আগে থেকেই মাংসের কিমা করে রাখতে পারেন, এতে সময়ও কম লাগবে আর অল্প গ্যাসেই মাংসের পদ তৈরি হয়ে যাবে।

কম গ্যাসে মাংস সিদ্ধ করা কঠিন তাই আগে থেকেই মাংসের কিমা করে রাখতে পারেন
ছবি: প্রথম আলো

রান্না ও খাবার সংরক্ষণে যেসব বিষয়ে নজর রাখা জরুরি

গ্যাসের চাপ কম থাকলে রান্না হতে দীর্ঘ সময় নেয়, যা খাবারের পুষ্টিমান কমিয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সময় ও পুষ্টি বাঁচাতে প্রেশার কুকার ব্যবহার করতে পারেন কিংবা পাত্রে ঢাকনা দিয়ে রান্না শেষ করুন। দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা খাবার বারবার গরম করে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, এতে ফুড পয়জনিংয়ের আশঙ্কাও থাকে। সাধারণ রেফ্রিজারেটরে (নরমাল ফ্রিজ) রান্না করা খাবার তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত রাখা নিরাপদ। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণের জন্য ডিপ ফ্রিজে ‘এয়ার টাইট’ বক্সে খাবার রাখা ভালো।

গ্যাস আসার পর দ্রুত রান্নার কাজ সেরে নেওয়ার তাগিদ থাকাটা একদমই স্বাভাবিক। তবে মনে রাখবেন, তাড়াহুড়া করতে গিয়ে নিজের বা পরিবারের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা কোনো সমাধান নয়, তাই একটু পরিকল্পনা করে কাজ ভাগ করে নিলে এই চলমান সংকটেও নিরাপদ ও পুষ্টিমান বজায় রেখে দ্রুত রান্না করতে পারবেন।

আরও পড়ুন