

অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী। হাসিখুশি প্রাণোচ্ছল সব সময়। পুরোনো দিনের গান শোনেন, মাঝেমধ্যে নিজেও গান করেন। আজ থাকছে তাঁর স্টাইল।
কিছুদিনের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন চঞ্চল চৌধুরী। গোছগাছের একটা ব্যাপার তো আছেই, আছে পরিবারের সবাইকে রেখে যাওয়ার খারাপ লাগাটাও। মুঠোফোনে জানালেন এমনটাই। তবে এর ফাঁকে ঠিকই সময় বের করলেন। ৯ আগস্ট বাইরে যাওয়ার আগের দিন বিকেলে যেতে হবে তাঁর বাসায়।
ঢাকার সিদ্ধেশরী কালীমন্দিরের কাছে চঞ্চলের বাসায় পা রেখেই বোঝা গেল, অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। বলে রাখি, সিডনি ও ক্যানবেরাতে দুটি অনুষ্ঠান করতেই চঞ্চলের এই সফর। এসব জেনে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা শুরু করি ছবি তোলা। হাতে সময় কম, ঝটপট পোশাক পরে বাধ্য-ছেলের মতোই ছাদের কোনায় দাঁড়িয়ে যান চঞ্চল চোধুরী। সঙ্গে ছেলে শৈশব রোদ্দুর।
তবে পুরো সময়ে চঞ্চলের মুখে ছিল সহজ-সরল অমলিন হাসিই। ছবি তোলার পর বসলেন আলাপে। শুরুতেই শুধরে দিলেন, ‘আমি তো অভিনয়শিল্পী।

তাই নিজের স্টাইলের চেয়ে নাটক-সিনেমার চরিত্রের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। নিজের স্টাইল বলতে আসলে তেমন কিছু নেই! তবে জীবনযাপনে বৈচিত্র্য আছে।’
চঞ্চল চৌধুরী বলে চলেন নিত্যদিনের গল্প। তাঁর জীবন দুই রকমভাবে চলে। শুটিংয়ের দিন এবং শুটিং ছাড়া দিন। দুই দিনের রুটিনও দুই রকম।শুটিংয়ের দিনগুলো শুরু হয় সকাল সাতটায়। ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে সোজা শুটিং স্পটে। সারা দিন শুটিং করে ফেরেন রাত ৯-১০টার দিকে। মাঝেমধ্যে একটু আগে কাজ শেষ হলে আড্ডা মারতে ভোলেন না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মেরে বাসায় ফেরেন রাত ১১-১২টার মধ্যে। ফেরার সময় যা-ই হোক, ঘুমাতে যান রাত একটায়। এর মধ্যে পরের দিনের পরিকল্পনা করেন।

তবে শুটিং না থাকলে রুটিনটা একটু এদিক-সেদিক হয় বটে! ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে সবকিছুই একটু দেরিতে শুরু হয়। বেলা করে ঘুম থেকে ওঠেন। ঘরের কাজ, ব্যাংকের কাজ এবং ছেলেকে নিয়ে বাইরে বেড়ানোর কাজটাও সেরে নেন ছুটির দিনগুলোয়।
বাইরে যাওয়ার সময় বেশির ভাগ সময় পরেন ফতুয়া, টি-শার্ট, খাটো পাঞ্জাবি, জিনস ও গ্যাবার্ডিনের প্যান্ট। সুতি কাপড় বেছে নেন। বাটিকের পোশাকও পছন্দ চঞ্চলের। সাধারণত যাত্রা, কে ক্রাফট, আড়ং, দর্জিবাড়ি, দেশাল, ইয়োলো, ট্রেনজ থেকেই পোশাক কেনেন। ফরমাল পোশাক কম পরেন তিনি। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে স্যান্ডেল বা জুতা পরেন। রে-ব্যানের চশমা এবং ব্রুট ও কেলভিন ব্র্যান্ডের সুগন্ধি ব্যবহার করেন নিয়মিত।

চঞ্চল বলেন, ‘পুরোনো দিনের গানই আমার বেশি পছন্দ। গান শোনা হয় প্রায় পুরোনো হয়ে যাওয়া ক্যাসেট প্লেয়ারে। অডিও ক্যাসেট আছে সংগ্রহে। তবে যানজটে থাকলে গাড়িতে বসেই গান শুনি। একটা সময় ছিল আমি ঘুমাতে যেতাম গান শুনে, ঘুম থেকে উঠতামও গান শুনে।’
এ কারণেই সম্ভবত সব গান তাঁর গলায় মানিয়ে যায় সহজে। চঞ্চলের পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে কাঠ খোদাই করে বানানো পাখি ও মুখোশ—এসব শিল্পকর্ম আছে তাঁর বাড়িতে, বসার ঘরের দেয়ালে। এই শিল্পকর্মগুলোর মতোই তিনিও মানুষের মনে গেঁথে থাকতে চান।