<rss version="2.0" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"><channel><title>প্রথম আলো</title><link>https://www.prothomalo.com</link><description>প্রথম আলো</description><atom:link href="https://www.prothomalo.com/stories.rss" rel="self" type="application/rss+xml"></atom:link><language>bn</language><lastBuildDate>Sat, 06 Jun 2026 04:10:41 +0000</lastBuildDate><sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod><sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency><item><title>আলাস্কার স্বচ্ছ নদীগুলোয় হঠাৎ কেন উজ্জ্বল কমলা রং দেখা যাচ্ছে</title><link>https://www.kishoralo.com/feature/4rinupmtki</link><comments>https://www.kishoralo.com/feature/4rinupmtki#comments</comments><guid isPermaLink="false">6de330ee-e322-4eda-bd17-a1f835ebadef</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 04:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T04:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>আসহাবিল ইয়ামিন</atom:name><atom:uri>/api/author/1914971</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করছিলেন, উত্তর আলাস্কার দুর্গম ব্রুকস পর্বতমালাই এই দূষণের উৎস। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেখানকার যুগ যুগ ধরে জমে থাকা বরফাবৃত মাটি গলতে শুরু করেছে এবং এ থেকেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে]]></description><media:keywords>পরিবেশ কিআ,মাথায় কত প্রশ্ন আসে কিআ,আরও কিআ,জানা অজানা কিআ</media:keywords><media:content height="864" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/u1xfboxd/orange-river.png" width="1536"><media:title type="html"><![CDATA[ বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করছিলেন, উত্তর আলাস্কার দুর্গম ব্রুকস পর্বতমালাই এই দূষণের উৎস]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/u1xfboxd/orange-river.png?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>feature</category><content:encoded><![CDATA[ <p>আলাস্কার আর্কটিক অঞ্চলের নদীগুলো এখন একটি অদ্ভুত ও বড় সমস্যায় পড়েছে। সেখানকার এক সময়কার কাচের মতো স্বচ্ছ পানি লোহার কণার কারণে ঘোলাটে কমলা রঙে বদলে যাচ্ছে। বিষয়টি শুধু দেখতেই খারাপ নয়, এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও অনেক বেশি। পানিতে মিশে থাকা এই লোহার কণাগুলো জলজ মাছের মৃত্যুর কারণ। এ ছাড়া নদীর ছোট ছোট পোকামাকড়দের মেরে ফেলছে। ফলে নদীর পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে।</p><p>বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করছিলেন, উত্তর আলাস্কার দুর্গম ব্রুকস পর্বতমালাই এই দূষণের উৎস। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেখানকার যুগ যুগ ধরে জমে থাকা বরফাবৃত মাটি গলতে শুরু করেছে এবং এ থেকেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি ‘কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা এ ধারণাকে সত্যি বলে প্রমাণ করেছে। এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দুটি নির্দিষ্ট উপায় খুঁজে পেয়েছেন।</p><p>মূলত মাটির ভেতরের বরফ যখন গলে যায়, তখন ভেতরের লোহা বাইরে বেরিয়ে আসে। এরপর বৃষ্টির পানি বা ধসে যাওয়া কাদার সঙ্গে সেই লোহা ধুয়ে গিয়ে সোজা নদীর পানিতে মেশে। বাতাসে থাকা অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসামাত্রই লোহার কণাগুলোয় জং বা মরিচা ধরে যায়। ঠিক যেমন খোলা জায়গায় লোহা ফেলে রাখলে মরিচা ধরে। আর এই মরিচার কারণেই নদীর পানি টকটকে কমলা রঙের হয়ে যায়।</p><aside><a href="https://www.kishoralo.com/feature/hrs8cr1uov">পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো নদী কোনটি</a></aside><p>বিজ্ঞানীদের এই নতুন আবিষ্কারের ফলে এখন একটা দারুণ সুবিধা হয়েছে। তাঁরা মাটির তাপমাত্রা মেপেই আগে থেকে টের পেয়ে যাবেন, পরবর্তী সময় আর কোন কোন এলাকার বরফ গলতে পারে এবং কোন কোন নদীর পানি এমন কমলা বা দূষিত হয়ে যেতে পারে। ফলে সেই নদীগুলোকে বাঁচানোর জন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/32cgs41w/river_water_sampling.png" /><figcaption>এই রহস্য উদ্‌ঘাটনে বিজ্ঞানীরা ব্রুকস পর্বতমালার প্রায় ৬০০ মাইল এলাকা ওপর থেকে ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ করেছেন</figcaption></figure><p>মাটির এই গলে যাওয়া নরম কাদা ঘরবাড়ি, রাস্তা ও পাইপলাইনের জন্য যেমন ঝুঁকি তৈরি করছে, তেমনি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ট্রেসি আর্ম ফিয়র্ডের পরিবেশকেও হুমকির মুখে ফেলছে। পানিতে মিশে যাওয়া এই সূক্ষ্ম লোহার কণা বা মরিচা প্রায় ৬০ মাইল দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো পানির নিচের শৈবাল বা শেওলাকে ঢেকে মেরে ফেলছে। পোকামাকড়ের ক্ষতি করছে এবং মাছের ফুলকায় আটকে এদের শ্বাসরোধ করছে। এর ফলে ডিম পাড়ার জন্য নদীর তলদেশের নুড়িপাথর ও খাবারের জন্য শৈবালের ওপর নির্ভরশীল স্যামন মাছের জীবন এখন বিপন্ন।</p><p>এই রহস্য উদ্‌ঘাটনে বিজ্ঞানীরা ব্রুকস পর্বতমালার প্রায় ৬০০ মাইল এলাকা ওপর থেকে ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ করেছেন। গবেষণার অন্যতম লেখক রোমান ডায়াল জানান, মাঝারি উচ্চতার জঙ্গল এলাকায় তেমন পরিবর্তন না হলেও পাহাড়ের একদম উঁচুতে ও নিচের উপত্যকায় সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি কারণে এই দূষণ ঘটছে।</p><aside><a href="https://www.kishoralo.com/feature/35pwvhjcf1">নদী কেন সোজা পথে না গিয়ে এঁকেবেঁকে চলে</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/2dv26lcx/brooks_range_rivers.png" /><figcaption>প্রাকৃতিক নিয়মে শুরু হওয়া এই দূষণ সম্পূর্ণ থামানো মানুষের পক্ষে অসম্ভব</figcaption></figure><p>পাহাড়ের উঁচুতে এই সমস্যার প্রধান কারণ পাইরাইট নামের একধরনের খনিজ, যা দেখতে অনেকটা সোনার মতো বলে একে বোকার সোনা বলা হয়। পাহাড়ের মাটি এত বছর ধরে বরফ হয়ে জমে থাকায় পানি বা বাতাস এই পাইরাইট খনিজের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বরফ গলে মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সেখানে শুরু হয়েছে অ্যাসিড রক ড্রেনেজ নামের একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রক্রিয়া। যুগের পর যুগ ধরে লুকিয়ে থাকা খনিজ ও পাথরগুলো হঠাৎ বাতাস ও পানির সংস্পর্শে এসে নদীর পানির মান পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে।</p><p>প্রাকৃতিক নিয়মে শুরু হওয়া এই দূষণ সম্পূর্ণ থামানো মানুষের পক্ষে অসম্ভব। তবে কোন নদীটি পরবর্তী সময় কমলা রঙে রূপ নিতে পারে, তা যদি আগে থেকে অনুমান করা যায়, তবে মাছ ও জলজ প্রাণীদের নিরাপদ জায়গাগুলো রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই পূর্বাভাস স্থানীয় সাধারণ মানুষের জন্য খুবই জরুরি, যারা খাবারের জন্য এই নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এর মাধ্যমে নদীর অববাহিকায় থাকা মানুষদের যেমন আগে থেকে সতর্ক করা যাবে, তেমনি এখনো সুরক্ষিত থাকা নদীগুলোকে বাঁচাতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।</p><h5>সূত্র: পপুলার সায়েন্স</h5><aside><a href="https://www.kishoralo.com/feature/lezeqyaj3l">সমুদ্র নীল, নদী নীল নয় কেন </a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>প্রযুক্তির জগৎ ছেড়ে আনার চাষ, বদলে গেল শিবলীর জীবন </title><link>https://www.prothomalo.com/video/bangladesh/koyg2k8ua1</link><comments>https://www.prothomalo.com/video/bangladesh/koyg2k8ua1#comments</comments><guid isPermaLink="false">f8ca7bbc-b2d6-4cc8-a6c3-f44d702a84d1</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 04:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T04:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>ভিডিও ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1427886</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের হলিদাগাছি গ্রামের একটি বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে সারি সারি আনারগাছ।]]></description><media:keywords>রাজশাহী,প্রযুক্তি</media:keywords><media:content height="941" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/e6xwzqgc/web.png" width="1672"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/e6xwzqgc/web.png?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>bangladesh</category><content:encoded><![CDATA[ <p>রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের হলিদাগাছি গ্রামের একটি বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে সারি সারি আনারগাছ। এ ফলবাগানের কারিগর মো. শিবলী সাদিক (শুভ)। এই বাগান দিয়ে কয়েক বছরে বাজিমাত করেছেন তিনি । বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure class="op-interactive"><iframe allowfullscreen="allowfullscreen" frameborder="0" src="https://www.youtube.com/embed/lx8N88riv38"></iframe></figure>]]></content:encoded></item><item><title>অ্যান্ড্রোপজ—পুরুষের যে হরমোনগত পরিবর্তন নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়</title><link>https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/pj7689xldv</link><comments>https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/pj7689xldv#comments</comments><guid isPermaLink="false">5d67c3e9-f989-4714-b9f6-ff020f8f812d</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 04:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T04:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>ডা. সাইফ হোসেন খান</atom:name><atom:uri>/api/author/1828840</atom:uri></atom:author><description></description><media:keywords>মানসিক স্বাস্থ্য,ভালো থাকুন,সুস্বাস্থ্য</media:keywords><media:content height="3800" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/9mx8ldfa/Andropause.jpg" width="5700"><media:title type="html"><![CDATA[ অ্যান্ড্রোপজের সাধারণ লক্ষণগুলো দেখা দিলে জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন]]></media:title><media:description type="html"><![CDATA[ অ্যান্ড্রোপজ]]></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/9mx8ldfa/Andropause.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category> সুস্থতা</category><content:encoded><![CDATA[ <p>‘মেনোপজ’ শব্দটি শুনলেই সাধারণত নারীদের কথা মনে আসে। তবে অনেকেই জানেন না যে পুরুষদের শরীরেও বয়সের সঙ্গে একধরনের হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, যাকে বলা হয় অ্যান্ড্রোপজ। এটি কোনো হঠাৎ ঘটা ঘটনা নয়; বরং পুরুষের সেক্স হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার ফলে শরীর ও মনের ওপর বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়ে।</p><p>বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর থেকে প্রতিবছর এই হরমোনের পরিমাণ সামান্য করে হ্রাস পায়। কারও ক্ষেত্রে এর প্রভাব খুব কম দেখা যায়, আবার কারও জীবনে পরিবর্তনগুলো বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।</p><p>অ্যান্ড্রোপজের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হলো ক্লান্তি এবং কর্মশক্তি ও উদ্যম কমে যাওয়া। আগে যে কাজ সহজ মনে হতো, তা করতে আগ্রহ বা সক্ষমতা কমে যেতে পারে। অনেকের ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে এবং আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে। যৌন আগ্রহ ও সক্ষমতা হ্রাস পাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এ ছাড়া ওজন বৃদ্ধি, বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমা, পেশিশক্তি কমে যাওয়া এবং হাড় দুর্বল হয়ে পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।<br> শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও এ পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পুরুষ অকারণ বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে পারেন। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে পুরুষেরা সাধারণত এসব অনুভূতি সহজে প্রকাশ করেন না। ফলে অনেকেই নীরবে কষ্ট সহ্য করেন।</p><figure><img alt="অ্যান্ড্রোপজ " src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/2gje9la8/pexels_atahandemir_12810083.jpg" /><figcaption>অ্যান্ড্রোপজ কোনো রোগ নয়, এটি বয়সজনিত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন</figcaption></figure><p>একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি; অ্যান্ড্রোপজ কোনো রোগ নয়। এটি বয়সজনিত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। তবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপ এ সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।</p><p>এ অবস্থায় জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরে টেস্টোস্টেরনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাসও উপকারী। বিশেষ করে হাঁটা, সাঁতার কাটা কিংবা হালকা ব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।</p><p>অনেকেই মনে করেন যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের উদ্যম হারিয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। সঠিক যত্ন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সচেতনতার মাধ্যমে একজন পুরুষ মধ্যবয়সেও সুস্থ, কর্মক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারেন। প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপি দেওয়া হয়, তবে তা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গ্রহণ করা উচিত।</p><p>আমাদের সমাজে পুরুষের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা খুব কম হয়। ফলে অ্যান্ড্রোপজ সম্পর্কে অনেকেরই পর্যাপ্ত ধারণা নেই। অথচ এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। কারণ, সঠিক বোঝাপড়া, পারিবারিক সহমর্মিতা ও সময়মতো চিকিৎসা মানুষের জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/o0p78zyk7n">তিসি-তিল-কুমড়ার মতো বীজজাতীয় খাবার কারা খাবেন, কারা খাবেন না</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>খুনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্র অভিযুক্ত করার পর প্রথম জনসমক্ষে রাউল কাস্ত্রো</title><link>https://www.prothomalo.com/world/south-america/ifli81fwdk</link><comments>https://www.prothomalo.com/world/south-america/ifli81fwdk#comments</comments><guid isPermaLink="false">723cd175-56ec-4139-9996-53f9a0696eed</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:55:55 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:55:55.858Z</atom:updated><atom:author><atom:name>রয়টার্স </atom:name><atom:uri>/api/author/1427841</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে খুনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। এরপর তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না।]]></description><media:keywords>মামলা,কিউবা,যুক্তরাষ্ট্র</media:keywords><media:content height="398" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-15/cdk3nr33/Raul-Castro.jpg" width="562"><media:title type="html"><![CDATA[ কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো  ]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-15/cdk3nr33/Raul-Castro.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>লাতিন আমেরিকা</category><content:encoded><![CDATA[ <p>যুক্তরাষ্ট্রে খুনের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম জনসমক্ষে এলেন কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিপ্লবী নেতা রাউল কাস্ত্রো।</p><p>গতকাল শুক্রবার কিউবার রাজধানী হাভানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অনুষ্ঠানে রাউল কাস্ত্রোকে অংশ নিতে দেখা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়।</p><p>গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে খুনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। এরপর তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না। গত বুধবার ৯৫ বছরে পা দেওয়া এ বর্ষীয়ান নেতাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল গত মাসে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের এক র‍্যালিতে।</p><p>ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে কিউবার নির্বাসিত নাগরিকদের একটি সংগঠনের পরিচালিত যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ গুলি করে ভূপাতিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাউল কাস্ত্রো। ওই ঘটনায় চার মার্কিন নাগরিক নিহত হন।</p><blockquote>রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও হাভানার কমিউনিস্ট সরকারের বৈরী সম্পর্ককে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।</blockquote><p>দীর্ঘ তিন দশক পর ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও হাভানার কমিউনিস্ট সরকারের বৈরী সম্পর্ককে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।</p><p>যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ তোলার আগে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রাউল কাস্ত্রোকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। তখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দী করার অভিযানে নিহত ৩২ জন কিউবান সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাভানার একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/south-america/8vdsr2iz2m">কী ঘটেছিল ৩০ বছর আগে, যে জন্য রাউল কাস্ত্রোর বিচার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র</a></aside><p>কিউবা সরকার রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ওই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/b97mox8095">রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে খুনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>সৃজনশীল অর্থনীতিতে জোর, বরাদ্দ হবে ৩০০ কোটি টাকা </title><link>https://www.prothomalo.com/business/economics/l6rq6lbl2c</link><comments>https://www.prothomalo.com/business/economics/l6rq6lbl2c#comments</comments><guid isPermaLink="false">f205e590-4c32-4744-9de5-3ec795cefab2</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:49:35 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:49:35.282Z</atom:updated><atom:author><atom:name>ফখরুল ইসলাম</atom:name><atom:uri>/api/author/1258753</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ মাদক ও উগ্রবাদ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাঁদের যুক্ত করতে চায় সরকার। ]]></description><media:keywords>বিশেষ সংবাদ,বাজেট,অর্থনীতি</media:keywords><media:content height="759" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/x569hmol/C2.jpg" width="1139"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/x569hmol/C2.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>অর্থনীতি</category><content:encoded><![CDATA[ <p>দেশের তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখতে সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনা এবং এর রূপরেখাও তুলে ধরবেন।</p><p>সাধারণভাবে সৃজনশীল অর্থনীতি বলতে চলচ্চিত্র, নাচ, গান, নাটক, প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, কারুশিল্প, নকশা, সফটওয়্যার, ভিডিও গেমস ইত্যাদিকে বোঝানো হয়। </p><p>জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমি আউটলুক-২০২৪ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৃজনশীল অর্থনীতি বলতে এমন পণ্য ও সেবা তৈরি, উৎপাদন এবং বিপণনকে বোঝায়, যেখানে প্রধান উপাদান হিসেবে সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদকে ব্যবহার করা হয়।</p><p>সরকার সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতার পরিকল্পনা করছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি সৃজনশীলতার মাধ্যমে উচ্চমূল্য তৈরি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি সরকারের উদ্দেশ্য। সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং দেশের ব্র্যান্ডিং করাও রয়েছে উদ্দেশ্যের মধ্যে। </p><p>কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও ভালো অবদান রাখছে সৃজনশীল (ক্রিয়েটিভ) অর্থনীতি। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে।</p><p>অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ২১ মে প্রথম আলো আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সৃজনশীল অর্থনীতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সফট পাওয়ার নেই। অথচ পাশের দেশের চলচ্চিত্র, সংগীত ইত্যাদি বিশ্বের অন্য দেশে যাচ্ছে।’</p><p>সৃজনশীল অর্থনীতি কেন সরকারের অগ্রাধিকারে এল, তা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী নানা ধরনের সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকুক। এখানে দুটি দিক আছে।</p><p>প্রথমটি হলো শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে তরুণদের দূরে রাখা। এ জন্য উত্তম উপায় হচ্ছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ সব ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের যুক্ত করা। দ্বিতীয়টি হলো সৃজনশীল কাজকে আবার কেউ পেশা হিসেবেও বেছে নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এত দিন কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না।</p><p>জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সবারই পরিকল্পনা হচ্ছে দেশে সৃজনশীল অর্থনীতি উদ্দীপ্ত হোক। এ জন্য প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হবে। আর এর মাধ্যমে বহুমাত্রিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ।</p><p><strong>ইশতেহারে সৃজনশীল অর্থনীতি</strong></p><p>বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ নিয়ে কর্মপরিকল্পনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এতে বলা হয়েছে, জিডিপিতে সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের অবদান হবে কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং কর্মসংস্থান হবে ৫ লাখ মানুষের।</p><p>সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের কৌশলগত নেতৃত্ব দিতে ‘বাংলাদেশ ক্রিয়েটিভ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠন এবং আন্তর্জাতিক উৎসব ও বাজারে সৃজনশীল সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে জাতীয় ব্র্যান্ড চালু করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।</p><p>প্রতিশ্রুতি পূরণে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সচিবালয়ে অংশীজনদের নিয়ে দুই দফা বৈঠক করেছেন। প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ১১ মে। এতে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি ও বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান খালেদ ফয়সাল। তিনি জিডিপি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান সম্পর্কে দেশে কোনো তথ্য নেই জানিয়ে বলেন, এ খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত কার্যক্রম হাতে নেওয়া দরকার।</p><p>দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ২৩ মে। এতে সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে কোন মন্ত্রণালয় বা দপ্তর কী বাস্তবায়ন করবে, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়। আর নীতি পরামর্শ দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে জাতীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। আরও সিদ্ধান্ত হয়, সৃজনশীল অর্থনীতিবিষয়ক সব কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য থাকবে অর্থ বিভাগের একটি কমিটি।</p><p>অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু বলেন, ঢাকার পূর্বাচলে হতে পারে ১০০ একর জায়গার ওপর সৃজনশীল বিনোদনকেন্দ্র। পাশাপাশি সব উপজেলায় ৫৫০টি সৃজনশীল কেন্দ্র হোক। এগুলোতে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, বইয়ের দোকান, সিনেপ্লেক্স, ছোট আকারের ক্যাফেটেরিয়া থাকতে পারে।</p><p>চলচ্চিত্র, কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের পরামর্শ দেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। তিনি চলচ্চিত্রশিল্পকে চাঙা করতে ভর্তুকি এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পরামর্শ দেন।</p><p>সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব কানিজ মওলা হারিয়ে যেতে বসা যাত্রা ও সার্কাসের উন্নতির জন্য উদ্যোগ চান। জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাহিদ মঞ্জুরা আফরোজ সহজ শর্তে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং ষড়্ঋতুভিত্তিক মেলা আয়োজন চান।</p><p><strong>সরকার যা করতে চায়</strong></p><p>দুই দফা বৈঠক শেষে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বেসরকারি খাতের দায়িত্ব ভাগও করে দেওয়া হয়েছে।</p><p>সিদ্ধান্তের একটি হলো ঢাকার পূর্বাচলে ১০০ একর জায়গার ওপর একটি সৃজনশীল কেন্দ্র (ক্রিয়েটিভ হাব) করা। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উপস্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে।</p><p>আরেকটি সিদ্ধান্ত হলো, দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে হবে সৃজনশীল কেন্দ্র। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ব্র্যাক যৌথভাবে এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে।</p><p>পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোতে উদ্ভাবন (ইনোভেশন) কেন্দ্র করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ।</p><p>খালি ও অব্যবহৃত প্লট চিহ্নিত করে এগুলোকে সৃজনশীল কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং হস্তশিল্পের জন্য সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে বিসিক।</p><p>‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সৃজনশীল অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য অর্থাৎ মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না, টেরাকোটা ইত্যাদি পণ্য চিহ্নিত করার কাজও করবে বিসিক। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের প্রতিযোগিতা–সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে করা হবে একটি জাতীয় পুল, যে ব্যাপারে সরকারকে প্রস্তাব দেবে জয়িতা ফাউন্ডেশন। ঢাকায় বহুতল ভবন ও ছয় বিভাগীয় শহরে জয়িতা ফাউন্ডেশনের জায়গা রয়েছে, যেসব জায়গায় হবে সৃজনশীল কেন্দ্র।</p><p>পর্যটন খাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা, বৈচিত্র্য ও ধারণা নিয়ে একটি পর্যটন মহাপরিকল্পনা হাতে নেবে সরকার। ট্যুরিজম বোর্ড এটা চূড়ান্ত করবে। পর্যটন খাতের বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কক্সবাজারে করা হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যা বাস্তবায়ন করবে পর্যটন করপোরেশন।</p><p>ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্যটনের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি একটি ‘জাতীয় উৎসব ক্যালেন্ডার’ করবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।</p><p><strong>সম্ভাব্য খাত</strong></p><p>অর্থ বিভাগ কিছু খাতকে চিহ্নিত করেছে। লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এর মধ্যে অন্যতম। লোকসংস্কৃতির মধ্যে রয়েছে লোকসংগীত, লোকনৃত্য, পালাগান, জারিগান ইত্যাদি। এ ছাড়া আছে হস্তশিল্প। হস্তশিল্পের মধ্যে রয়েছে শীতলপাটি, মাটির কাজ, বাঁশ ও বেতশিল্প। আর ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মধ্যে রয়েছে বাংলা নববর্ষ, গ্রামীণ মেলা ইত্যাদি।</p><p>আরও কয়েকটি খাতও চিহ্নিত করা হয়। বলা হয়েছে, শিল্পকলা ও পারফর্মিং আর্টসের মধ্যে রয়েছে থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, নাটক, নৃত্য, চিত্রকলা ও ভাস্কর্য। মিডিয়া ও বিনোদনশিল্পের মধ্যে রয়েছে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার, কনটেন্ট তৈরি, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদি।</p><p>প্রকাশনা ও সাহিত্যের মধ্যে বই, পত্রিকা, জার্নাল, অনলাইন ব্লগ ও ডিজিটাল প্রকাশনা, অনুবাদ ও সাহিত্যকর্ম ইত্যাদি। ডিজাইন ও ক্রিয়েটিভ সেবার মধ্যে রয়েছে গ্রাফিক ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল ক্রিয়েটিভিটির মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যার ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদি।</p><p>পর্যটন ও সাংস্কৃতিক শিল্পের মধ্যে ইকোট্যুরিজম ও সাংস্কৃতিক পর্যটন,ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন পণ্য ও সেবা, উৎসবভিত্তিক পর্যটন, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন।</p><p>ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল শিল্পের মধ্যে নকশা ও বুটিক, জুয়েলারি, ফ্যাশন ডিজাইন, লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ও হাতে তৈরি পণ্য, মেকআপ ইত্যাদি। এ ছাড়া করপোরেট ও ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ক্রিয়েটিভ মিডিয়া সেবাদাতা সফটওয়্যার কোম্পানি, ইনফ্লুয়েন্সিং, বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি।</p><p><strong>দেশে দেশে সৃজনশীল অর্থনীতি</strong></p><p>অর্থ বিভাগ যে ধারণাপত্র তৈরি করেছে, তাতে সৃজনশীল অর্থনীতির বৈশ্বিক চিত্র উঠে এসেছে। এতে আঙ্কটাডের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সৃজনশীল অর্থনীতি থেকে বছরে আয় হয় ২ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ ২ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। আর কর্মসংস্থান হয় ৫ কোটি মানুষের।</p><p>২০২২ সালে বিশ্বে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সৃজনশীল সেবা রপ্তানি হয়েছে, যা ৫ বছর আগের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। সেবা রপ্তানির মধ্যে সফটওয়্যার সেবার অবদানই ৪১ শতাংশ। একই বছরে রপ্তানি হয়েছে ৭১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের সৃজনশীল পণ্য।</p><p>আঙ্কটাডের বরাত দিয়ে অর্থ বিভাগের উপস্থাপনায় আরও বলা হয়, জিডিপির অনুপাতে সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান সবচেয়ে বেশি ইন্দোনেশিয়ায়—৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ হার ফিলিপাইনের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ভারতের ২ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম নেই। তবে বাংলাদেশ সরকার এ অবদান জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চায়।</p><p><strong>চ্যালেঞ্জ ও করণীয় কী</strong></p><p>অর্থ বিভাগ বলছে, সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে দেশে মেধাস্বত্ব সুরক্ষার প্রায়োগিক দুর্বলতা রয়েছে। পরিসংখ্যান নেই, নীতিমালা নেই এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই। আছে অর্থায়ন ও বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সহজে ঋণ পান না। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও সৃজনশীল তহবিল খুবই সীমিত।</p><p>এ ছাড়া আছে দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি। মানসম্পন্ন স্টুডিও নেই, ল্যাব নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মনিটাইজেশন কাঠামো দুর্বল। এ খাতে বাংলাদেশি ব্র্যান্ড যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত নয়। বিপণন, কপিরাইট বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইন দুর্বল।</p><p>অর্থ বিভাগের মতে, এ খাত এগিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ স্টার্টআপ (নতুন উদ্যোগ) তহবিলও গঠন করা যায়। তবে বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। সরকার থাকতে সহযোগিতাকারীর (ফ্যাসিলিটেটর) ভূমিকায়। ১০ বছরের একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কৌশলপত্র ও নীতিকাঠামো তৈরি করতে পারে সরকার।</p><p>ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ গতকাল শুক্রবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সৃজনশীল অর্থনীতি নিয়ে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। জঙ্গিপ্রবণতাসহ সমাজে নানা ধরনের অপশক্তি আছে। এগুলোর প্রভাব দূর করতে সৃজনশীলতায় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।’</p><p>আসিফ সালেহ বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসারে চলচ্চিত্র, কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক পর্যটন—এ তিন প্রধান মাধ্যমে জোর দিতে হবে।</p>]]></content:encoded></item><item><title>বিশ্বকাপে খেলতে ইরানের ফুটবলারদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র</title><link>https://www.prothomalo.com/sports/football/adf08t7v5w</link><comments>https://www.prothomalo.com/sports/football/adf08t7v5w#comments</comments><guid isPermaLink="false">81d01362-bfeb-4e92-ac3d-0342c8877737</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:43:47 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:43:47.688Z</atom:updated><atom:author><atom:name>এএফপি </atom:name><atom:uri>/api/author/1427842</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। এবার উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। ইরান ‘জি’ গ্রুপ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।]]></description><media:keywords>ইরান ইসরায়েল সংঘাত,ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬,যুক্তরাষ্ট্র,ইরান ফুটবল দল</media:keywords><media:content height="810" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/m76ly7yg/team.webp" width="1080"><media:title type="html"><![CDATA[ ইরান ফুটবল দল]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/m76ly7yg/team.webp?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>ফুটবল</category><content:encoded><![CDATA[ <p>বিশ্বকাপে খেলতে ইরান ফুটবল দলকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক গতকাল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।</p><p>পরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাও আলাদা এক বিবৃতিতে ভিসা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।</p><p>মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এখনো থামেনি। তবে বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মধ্যেই খেলোয়াড়েরা ভিসা পাওয়ায় বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়া নিয়ে শঙ্কা কেটে গেল।</p><p>ইরানের ফুটবলারদের ভিসা পাওয়ার খবরের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ইরান জাতীয় ফুটবল দলের ভিসাপ্রক্রিয়ার কাজটি চমৎকারভাবে সম্পন্ন করায় আঙ্কারায় মার্কিন দূতাবাসের পুরো টিমকে নিয়ে আমি গর্বিত।’ ব্যারাক যোগ করেন, ‘খেলাধুলা সব সীমানা ছাড়িয়ে যায়। আমরা বিশ্বজুড়ে সব প্রতিযোগী ও সমর্থকদের স্বাগত জানাতে মুখিয়ে আছি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/iaxf19jj/358905.jpg" /><figcaption>তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক</figcaption></figure><p>নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ইরান ফুটবল দলের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, ‘ইরান দল যাতে এ ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ছদ্মবেশে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সন্ত্রাসী পাঠাতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা কঠোর নজর রাখব।’</p><p>ইরান ফুটবল দল আজ শনিবার তুরস্ক থেকে স্পেনের উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখান থেকে আগামীকাল রোববার তারা মেক্সিকোতে নিজেদের বেজক্যাম্পে পৌঁছাবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/7y97j9vuph">যুদ্ধের খবর চোখে রেখে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি, কীভাবে তৈরি হচ্ছেন ইরানি ফুটবলাররা</a></aside><p>এবার উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ইরানের মূল বেজক্যাম্প মেক্সিকোতে হলেও গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই তারা খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার কারণেই তারা বেজক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়।</p><figure><blockquote class="twitter-tweet"><p lang="en" dir="ltr">BREAKING: Iran&#39;s World Cup players have been granted visas to enter the United States, a White House official says, clearing the way for the team to play its group-stage matches in Los Angeles and Seattle.<br><br> More on <a href="https://t.co/hGzrK2NGMa">https://t.co/hGzrK2NGMa</a> <a href="https://t.co/0HVqFOVLtT">pic.twitter.com/0HVqFOVLtT</a></p>&mdash; Al Jazeera Breaking News (@AJENews) <a href="https://x.com/AJENews/status/2062953174139613436?ref_src=twsrc%5Etfw">June 5, 2026</a></blockquote> <script async src="https://platform.x.com/widgets.js" charset="utf-8"></script></figure><p>১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘জি’ গ্রুপ থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান। গ্রুপ পর্বেই লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে তারা। ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/9uw945ykkb">ইরান নিয়ে এবার অন্য জটিলতায় ফিফা</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>ঈদের ছুটি শেষে গাজীপুরে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকেরা</title><link>https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/jw2dhms1rd</link><comments>https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/jw2dhms1rd#comments</comments><guid isPermaLink="false">50624c9a-fb30-48c2-8d24-f44f7319732c</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:42:48 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:42:48.114Z</atom:updated><atom:author><atom:name>প্রতিনিধি</atom:name><atom:uri>/api/author/1427590</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ কারখানার প্রবেশপথে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎপাদন লাইনে কাজ শুরু হয়েছে পুরোদমে।]]></description><media:keywords>শ্রমিক,পোশাকশিল্প,তৈরি পোশাকশিল্প,গাজীপুর</media:keywords><media:content height="648" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/40gowywl/gazipurdh061520260606img-20260606-wa0014.jpg" width="1152"><media:title type="html"><![CDATA[ গাজীপুরের মৌচাক এলাকায় আজ শনিবার ঈদের ছুটি শেষে কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকেরা]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/40gowywl/gazipurdh061520260606img-20260606-wa0014.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>জেলা</category><content:encoded><![CDATA[ <p>পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে। আজ শনিবার সকালে জেলার অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদ্‌যাপন শেষে শ্রমিকেরা কর্মস্থলে ফিরে কাজে যোগ দিয়েছেন।</p><p>শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাজীপুরে মোট ২ হাজার ৭৫৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ১০০টি তৈরি পোশাক কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ শ্রমিক নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে গেলেও ছুটি শেষে তাঁরা নির্ধারিত সময়েই কর্মস্থলে ফিরেছেন।</p><p>আজ সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কারখানার প্রবেশপথে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎপাদন লাইনে কাজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। কোথাও উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।</p><p>কয়েকজন শ্রমিক বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনের পর কর্মস্থলে ফিরে তাঁরা সন্তুষ্ট।</p><p>কারখানার মালিক ও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং কারখানাগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ায় গাজীপুরের শিল্প উৎপাদন দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এতে দেশের রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।</p><p>চন্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছিল ১০ দিন। সেই ছুটি কাটিয়ে আজ থেকে তাঁরা কাজে ফিরেছেন। কারখানার উৎপাদন শুরু হয়েছে।</p><p>গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের উপপরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, আজ থেকে গাজীপুরের অধিকাংশ কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে শ্রমিকেরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন।</p>]]></content:encoded></item><item><title>ইরানের কাছে এখনো ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আছে, দাবি করলেন ট্রাম্প</title><link>https://www.prothomalo.com/world/usa/129f4sc57u</link><comments>https://www.prothomalo.com/world/usa/129f4sc57u#comments</comments><guid isPermaLink="false">3cde38cf-3de6-4522-a093-33c3178d7448</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:40:04 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:40:04.789Z</atom:updated><atom:author><atom:name>এএফপি </atom:name><atom:uri>/api/author/1427842</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ ইরানের সামরিক বাহিনী গতকাল শুক্রবার বলেছে, তারা ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ‘সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়েছে।]]></description><media:keywords>ইরান,যুক্তরাষ্ট্র,ইরান ইসরায়েল সংঘাত,কুয়েত,ডোনাল্ড ট্রাম্প</media:keywords><media:content height="418" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-03-27/gxqhspzz/Trump.jpg" width="631"><media:title type="html"><![CDATA[ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-03-27/gxqhspzz/Trump.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>যুক্তরাষ্ট্র</category><category>মধ্যপ্রাচ্য</category><content:encoded><![CDATA[ <p>চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে দেশটির মিত্র আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের কাছে এখনো তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের ‘২১ থেকে ২২ শতাংশ’ অবশিষ্ট রয়েছে।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের (ইরান) এখনো সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছে। আমি বলব, শতকরা হিসাবে তাদের কাছে হয়তো ২১ বা ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র বাকি আছে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/trzf11ubxq">ইরানের রাডার স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের</a></aside><p>ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া এ হিসাব গত মাসের চেয়ে বেশি। মে মাসে তিনি এ হার ১৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও ট্রাম্প প্রায়ই দাবি করে থাকেন যে তিনি ইরানের যুদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন।</p><blockquote>আজ শনিবার ভোরের দিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের ওপর আসা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।</blockquote><p>এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী গতকাল শুক্রবার বলেছে, তারা ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ‘সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের এ দাবি অস্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।</p><p><strong>হামলা ‘প্রতিহত’ করছে কুয়েত</strong></p><p>আজ শনিবার ভোরের দিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের ওপর আসা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/u9l7p3qtgm">যুদ্ধ নাকি শান্তিচুক্তি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে হাঁটছে</a></aside><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কুয়েতের সামরিক বাহিনী বলেছে, ‘কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।’ তবে এ হামলা কোথা থেকে চালানো হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।</p><p>কুয়েতের সেনাবাহিনী আরও বলেছে, ‘কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ নিশ্চিত করছে যে এখন যে ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা শত্রুভাবাপন্ন হামলা প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত আমাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থারই ফলাফল।’</p><p>এর দুই দিন আগে কুয়েত জানিয়েছিল, তারা ইরানের ‘জঘন্য আগ্রাসনের’ অংশ হিসেবে ছোড়া ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/cb1ire8gvu">ইরানের হামলায় কুয়েত বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত, উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>প্রান্তিক গ্রাহকের স্বস্তি মিললেও সংস্কার জরুরি</title><link>https://www.prothomalo.com/opinion/editorial/tlu3r76vei</link><comments>https://www.prothomalo.com/opinion/editorial/tlu3r76vei#comments</comments><guid isPermaLink="false">db0ca578-dd12-4050-b2ac-740f64f23a8b</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:15:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:15:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>সম্পাদকীয়</atom:name><atom:uri>/api/author/1428031</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ এটা সত্যি যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অভাবনীয় বৈশ্বিক জ্বালানিবাজার ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি করেছে]]></description><media:keywords>সংস্কার,মূল্যবৃদ্ধি</media:keywords><media:content height="1067" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2020-10/1029114c-37fd-4c36-a816-595983984828/editorial_5.png" width="1600"><media:title type="html"><![CDATA[ সম্পাদকীয় ]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2020-10/1029114c-37fd-4c36-a816-595983984828/editorial_5.png?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>সম্পাদকীয়</category><content:encoded><![CDATA[ <p>জ্বালানি তেলের মূল্য দুই দফা বাড়ানোর পর বিদ্যুতের দামও এক দফায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানো হলো। সরকারের এই সিদ্ধান্তে নিশ্চিত করেই মূল্যস্ফীতি আরও এক দফা উসকে দেবে, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা টানা মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে রীতিমতো গলদঘর্ম মানুষের ওপর এই সিদ্ধান্ত আরও চাপ তৈরি করবে। তবে ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে, সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য দাম বাড়ানোর এক দিনের মাথায় নতুন দাম সংশোধন করে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বিল আগের দামেই রাখা হয়েছে।</p><p>গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার হঠাৎ বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত মার্চ মাসের শুরুতেও বলা হয়েছিল, আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু এপ্রিল মাসেই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল, বাড়ানো হয়েছে ২০ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি।</p><p>এটা সত্যি যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অভাবনীয় বৈশ্বিক জ্বালানিবাজার ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাতে করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। তবে এক ধাপে ২০ শতাংশ দাম বাড়ানোর কারণে ধাক্কাটাও বেশি পড়বে। সরকারকে অবশ্যই কৌশলগত পণ্য জ্বালানির পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে যে অভিঘাত তৈরি হবে, তা থেকে দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা ও পরিধি বাড়াতে হবে।</p><p>আবাসিকে সাত শ্রেণির গ্রাহকের মধ্যে লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত প্রথম দুটি শ্রেণির গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আবাসিকে মোট বিদ্যুতের গ্রাহকের ৬৫ শতাংশই প্রান্তিক এ দুটি শ্রেণির। আশা করা যায়, এতে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে। তবে মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর বিপুল অংশের জীবনযাত্রার ওপর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে। আমরা মনে করি, কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রেও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।</p><p>বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির পরও সরকারকে ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। এই চিত্রই বলে দেয়, আমাদের বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত অব্যবস্থাপনার শিকড় কতটা গভীরে পৌঁছেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে দেশি–বিদেশি কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থে সামষ্টিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট; বছরের অধিকাংশ সময় অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা কাজেই লাগে না। অথচ ক্যাপাসিটি চার্জ ঠিকই পরিশোধ করতে হয়।</p><p>বাস্তবে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির বড় অংশই চলে যায় ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে। অথচ নিম্ন আয়ের মানুষ, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা—যাঁদের জন্য এই ভর্তুকি সবচেয়ে বেশি জরুরি, তাঁরাই বঞ্চিত হন। বিদ্যুৎ খাতকে এই বৈষম্যমূলক ও লুণ্ঠনমূলক কাঠামো থেকে মুক্তি না দিতে পারলে ফি বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই দুষ্টচক্র থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি কমানোর একই যুক্তিতে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল।</p><p>আমরা মনে করি, বিদ্যুৎ খাতের অপচয়, দুর্নীতি, অযৌক্তিক ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ না করে জনগণের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দেওয়ার সহজ আমলাতান্ত্রিক সমাধানের পথ থেকে বের হয়ে আসা জরুরি কর্তব্য। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কারে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পথরেখা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।</p>]]></content:encoded></item><item><title>চমেকে অনিয়ম এখনই থামান</title><link>https://www.prothomalo.com/opinion/editorial/1tdrx49cem</link><comments>https://www.prothomalo.com/opinion/editorial/1tdrx49cem#comments</comments><guid isPermaLink="false">9409047b-4547-4b52-9535-8a9fe921c7a5</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:00:45 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:00:45.750Z</atom:updated><atom:author><atom:name>সম্পাদকীয়</atom:name><atom:uri>/api/author/1428031</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ অভিযোগ আরও গুরুতর রূপ নেয় ভাড়ার ক্ষেত্রে। নির্ধারিত সরকারি ভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।]]></description><media:keywords>চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ,হাসপাতাল,অ্যাম্বুলেন্স</media:keywords><media:content height="1067" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2020-10/1d63e6da-a8a2-4b30-a01c-0443c6229cd7/editorial_3.png" width="1600"><media:title type="html"><![CDATA[ সম্পাদকীয়]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2020-10/1d63e6da-a8a2-4b30-a01c-0443c6229cd7/editorial_3.png?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>সম্পাদকীয়</category><content:encoded><![CDATA[ <p>চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সগুলোর দৃশ্য বাইরে থেকে দেখলে সেটিকে একটি স্বাভাবিক হাসপাতাল পরিবহনব্যবস্থা বলে মনে হবে। কিন্তু বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কাগজপত্রের স্তরে গিয়ে এই ব্যবস্থার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একের পর এক গুরুতর অনিয়ম।</p><p>হাসপাতালে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত বহু গাড়ি রয়েছে, যেগুলোর নথিতে অ্যাম্বুলেন্স নয়, বরং সাধারণ মাইক্রোবাস হিসেবে নিবন্ধন রয়েছে। অর্থাৎ যে যানবাহনগুলোকে জরুরি চিকিৎসাসেবার বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় রেকর্ডে সেগুলো সেই স্বীকৃতিই পায়নি। এর ওপর রয়েছে ফিটনেস সনদের অনুপস্থিতি। এগুলো শুধু আইনগত লঙ্ঘন নয়, সরাসরি জীবনঝুঁকির প্রশ্ন।</p><p>এই অনিয়মের পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেট–বাণিজ্য। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স–সেবার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে একটি সমবায় সমিতি। এ সমিতির নিয়ন্ত্রণে থাকা গাড়িগুলোর মাধ্যমে রোগী ও মরদেহ পরিবহন নির্দিষ্ট নিয়মে করা হয় না, বরং ‘সিরিয়াল’ ও ‘দখল’ ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হয়। বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে বাধার মুখে পড়তে হয়—এমন অভিযোগ একাধিক ভুক্তভোগীর। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীর পরিবার এই নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।</p><p>অভিযোগ আরও গুরুতর রূপ নেয় ভাড়ার ক্ষেত্রে। নির্ধারিত সরকারি ভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। শুধু তা–ই নয়, এই বাড়তি ভাড়া আদায়ের পেছনে একটি ভাগ–বণ্টনের ব্যবস্থাও কাজ করে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট লোকজন। অর্থাৎ রোগীদের অসহায়ত্বকে কেন্দ্র করে একটি লাভের চক্র তৈরি হয়েছে, যার ভেতরে পরিবহনসেবা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।</p><p>এই পুরো কাঠামোর সবচেয়ে অস্বস্তিকর দিক হলো এর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছায়া। সমিতির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের সঙ্গে স্থানীয় ক্ষমতার সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি হাসপাতালের ভেতরের কিছু কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার কথাও সামনে এসেছে, যা এই অনিয়মকে আরও গভীর করে তোলে। ফলে প্রশ্নটি আর কেবল পরিবহনব্যবস্থার সীমায় থাকে না—এটি হাসপাতাল প্রশাসন ও স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।</p><p>রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে বিআরটিএর ভূমিকা এখানে সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। যেসব যানবাহন কাগজে মাইক্রোবাস, বাস্তবে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চলাচল করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া কেবল নজরদারির ঘাটতি নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী অবহেলার ইঙ্গিত। হাসপাতাল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও একই প্রশ্ন ওঠে। একটি সরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে রোগী পরিবহনের মতো সংবেদনশীল খাত যদি এমন অনিয়মের মধ্যে থাকে, তবে সেখানে কর্তৃপক্ষের নীরবতা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।</p><p>এই সংকট থেকে উত্তরণে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহৃত প্রতিটি যানবাহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস তাৎক্ষণিকভাবে পুনর্যাচাই করতে হবে। হাসপাতালভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স–সেবা একটি একক প্রশাসনিক ও ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণকাঠামোর অধীনে আনতে হবে।</p>]]></content:encoded></item><item><title>‘অনুবাদ সাহিত্য পৃথিবী দেখার আরেক জোড়া চোখ’</title><link>https://www.prothomalo.com/onnoalo/interview/ckh44pof66</link><comments>https://www.prothomalo.com/onnoalo/interview/ckh44pof66#comments</comments><guid isPermaLink="false">5d3dc840-bb14-438c-9681-24811d63bb7f</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>লেখা: </atom:name><atom:uri>/api/author/1431141</atom:uri></atom:author><description></description><media:keywords>শিল্প ও সাহিত্য,সাহিত্য,সাক্ষাৎকার,অনুবাদ</media:keywords><media:content height="1067" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/h9350lgt/WhatsApp-Image-2026-06-04-at-2.56.32-PM.jpeg" width="1600"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/h9350lgt/WhatsApp-Image-2026-06-04-at-2.56.32-PM.jpeg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>interview</category><content:encoded><![CDATA[ <p>প্রথমবার আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জিতেছে চীনের মান্দারিন ভাষার উপন্যাস&nbsp;<em>তাইওয়ান ট্রাভেলগ</em>। উপন্যাসটি লিখেছেন তাইওয়ানের লেখক <strong>ইয়াং শুয়াং-জি</strong> এবং ইংরেজি অনুবাদ করেছেন <strong>লিন কিং</strong>। বইটির জন্মকথা, তাইওয়ানের জটিল ঔপনিবেশিক ইতিহাস, অনুবাদ সাহিত্যের গুরুত্ব ও লেখক হয়ে ওঠার গল্প শুনিয়েছেন ইয়াং শুয়াং-জি। বুকারের ওয়েবসাইট থেকে সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন <strong>রবিউল কমল</strong></p><p><strong>প্রশ্ন:</strong><em>&nbsp;</em>তাইওয়ান ট্রাভেলগ<em>&nbsp;লেখার পেছনে কী অনুপ্রেরণা কাজ করেছে?</em></p><p><strong>ইয়াং শুয়াং-জি:</strong> কোরিয়া ও তাইওয়ান, দুটো দেশই একসময় জাপানি সাম্রাজ্যের উপনিবেশ ছিল। কিন্তু ইতিহাসের সেই সময় নিয়ে কোরিয়ানদের মধ্যে সাধারণত তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। অন্যদিকে তাইওয়ানের মানুষদের অনুভূতি জটিল। সেখানে বিরক্তি যেমন আছে, তেমনি কিছুটা নস্টালজিয়াও আছে। আমি চেয়েছিলাম সমকালীন তাইওয়ানি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেই অতীতকে নতুনভাবে বুঝতে। জানতে চেয়েছিলাম সেই সময়ের মানুষেরা কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। একই সঙ্গে আমি ভাবতে চেয়েছি ভবিষ্যতে আমাদের কেমন সমাজ গড়ে তোলা উচিত।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> <em>উপন্যাসটি কীভাবে লিখলেন?</em></p><p><strong>ইয়াং শুয়াং-জি:</strong> ২০১৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আমি প্রথম গল্পের খসড়া ও প্রথম অধ্যায়ের লেখা শুরু করি। তবে এ নিয়ে নিয়মিত কাজ শুরু করি ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। একই বছরের ২০ আগস্ট প্রথম খসড়া শেষ হয়। এই উপন্যাসে ভ্রমণ ও খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। সেগুলো নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আমার জীবনে দুটি পরিবর্তন এসেছে। প্রথমত আমার সঞ্চয় কমে গেছে, দ্বিতীয়ত ওজন বেড়ে গেছে!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/3spag4ty/image__33_.png" /><figcaption>‘তাইওয়ান ট্রাভেলগ’ উপন্যাসের প্রচ্ছদ</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/bflriuvm/a6696ca5-c876-4462-8e4a-df905054b97d.jpg" /><figcaption>ইয়াং শুয়াং-জি</figcaption></figure><p><strong>প্রশ্ন:</strong> <em>এ বছরের বুকার প্রচারণার মূল বিষয় ‘সীমানের বাইরের কল্পকাহিনি’। অনুবাদ সাহিত্য কীভাবে পাঠকদের ভৌগোলিক সীমার বাইরে দেখতে সাহায্য করে?</em></p><p><strong>ইয়াং শুয়াং-জি:</strong> আমি কেবল একটি ভাষায় পড়তে পারি। তাই অনুবাদ না থাকলে পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিসীমা অনেক ছোট হয়ে যেত। তাই আমার কাছে অনুবাদ সাহিত্য পৃথিবী দেখার আরেক জোড়া চোখ। তবে শুধু তা-ই নয়। অনুবাদকেরা আমার কাছে পথপ্রদর্শক, যাঁরা আমাকে অচেনা দেশ ও সংস্কৃতির কাছে নিয়ে যান।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> <em>গত এক দশকে এই পুরস্কার অনুবাদ সাহিত্য সম্পর্কে মানুষের ধারণা কতটা বদলাতে পেরেছে?</em></p><p><strong>ইয়াং শুয়াং-জি:</strong> গত ১০ বছরে এই পুরস্কার লেখক ও অনুবাদক দুজনকেই সমান স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সমতার ওপর জোর দেওয়ার ফলে মানুষ অনুবাদ সাহিত্যকে নতুনভাবে বুঝতে শিখেছে। এখন পাঠকেরা আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন, সাহিত্য অনুবাদ আসলে দুজন সৃষ্টিশীল মানুষের যৌথ প্রচেষ্টার ফল।</p><blockquote>নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাইওয়ানে রোমান্টিক উপন্যাসের জনপ্রিয়তা খুব বেড়ে যায়। তখন আমার স্কুলের কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি লেখালেখির দল গড়েছিলাম। আমরা ছিলাম পাঁচজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমিই লেখালেখি চালিয়ে গেছি।</blockquote><p><strong>প্রশ্ন:</strong> <em>ছোটবেলায় কোন বই আপনাকে পড়ার প্রেমে ফেলেছিল?</em></p><p><strong>ইয়াং শুয়াং-জি:</strong> আকিরা তোরিয়ামার ড্রাগন বল। এর ধারাবাহিক প্রকাশ শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে, যে বছর আমার জন্ম। আর শেষ হয়েছিল যখন আমার বয়স ১১ বছর। মোট ৪২টি খণ্ড ছিল। এই সিরিজই আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে পড়তে হয় এবং কীভাবে গল্প তৈরি করতে হয়। সৃজনশীল মানুষ হওয়ার যে সংকল্প আমার মধ্যে জন্মেছিল, তার শুরু এখান থেকেই।</p><p><strong>প্রশ্ন: </strong><em>কোন বই আপনাকে লেখক হতে অনুপ্রাণিত করেছিল?</em></p><p><strong>ইয়াং শুয়াং-জি:</strong> আসলে এমন কোনো একক বইয়ের নাম বলতে পারব না। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাইওয়ানে রোমান্টিক উপন্যাসের জনপ্রিয়তা খুব বেড়ে যায়। তখন আমার স্কুলের কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি লেখালেখির দল গড়েছিলাম। আমরা ছিলাম পাঁচজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমিই লেখালেখি চালিয়ে গেছি।</p><blockquote>কোনো বই সবার জন্য আবশ্যিক নয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি দ্য স্টোলেন বাইসাইকেল উপন্যাসটিকে অসাধারণ মনে করি। এটি লিখেছেন উ মিং-ই এবং অনুবাদ করেছেন ডেরিল স্টার্ক। বইটি ২০১৮ সালের ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় ছিল।</blockquote><p><strong>প্রশ্ন:</strong> <em>এমন কোনো বই কি আছে, যা পৃথিবী সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে?</em></p><p><strong>ইয়াং শুয়াং-জি:</strong> হ্যাঁ, অ্যানালেক্টস। এটি কনফুসীয় দর্শনের মূল গ্রন্থ, প্রায় দুই হাজার বছর আগে লেখা। কিশোর বয়সে বইটি পড়ার পর কনফুসীয় চিন্তাধারাভিত্তিক চীনা সংস্কৃতির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা জন্মায়। সেই প্রভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি চীনা সাহিত্য নিয়ে পড়ালেখা করি। কিন্তু বড় হওয়ার পর একই বই আমাকে ভাবতে বাধ্য করে, ইতিহাসে বিভিন্ন শোষণমূলক শাসনব্যবস্থা কীভাবে এই দর্শনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তখন আমি নিজের জন্য নতুন চিন্তার ভিত্তি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিই।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> <em>মান্দারিন ভাষায় লেখা কোন বই সবার পড়া উচিত বলে মনে করেন?</em></p><p><strong>ইয়াং শুয়াং-জি:</strong> আমি বিশ্বাস করি না যে কোনো বই সবার জন্য বাধ্যতামূলক। তবে যাঁরা চীনা অক্ষর ব্যবহারকারী সংস্কৃতিগুলোর চিন্তাধারা ও বিশ্বদৃষ্টি বুঝতে চান, তাঁদের জন্য অ্যানালেক্টস একটি গুরুত্বপূর্ণ বই। তবে আমি বলব, বইটি অবশ্যই সমালোচনার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পড়া উচিত।</p><p><strong>প্রশ্ন: </strong><em>ইন্টারন্যাশনাল বুকার মনোনীত কোনো বই আপনি সুপারিশ করবেন?</em></p><p><strong>ইয়াং শুয়াং-জি:</strong> আমি আগের উত্তরের মতোই বলব, কোনো বই সবার জন্য আবশ্যিক নয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি<em>&nbsp;দ্য স্টোলেন বাইসাইকেল</em>&nbsp;উপন্যাসটিকে অসাধারণ মনে করি। এটি লিখেছেন উ মিং-ই এবং অনুবাদ করেছেন ডেরিল স্টার্ক। বইটি ২০১৮ সালের ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় ছিল।</p>]]></content:encoded></item><item><title>বিশ্বকাপে ভেঙে যেতে পারে যে ৫টি রেকর্ড</title><link>https://www.prothomalo.com/sports/cricket/ncms2cn1uo</link><comments>https://www.prothomalo.com/sports/cricket/ncms2cn1uo#comments</comments><guid isPermaLink="false">d9f8282d-530d-42d0-9410-58fc26a5e496</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>খেলা ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1427550</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ এবারই প্রথম ৩২ দলের বদলে খেলবে ৪৮টি দল। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১০৪। ম্যাচ বাড়ায় খেলোয়াড় ও কোচদের সামনে রেকর্ড গড়ার সুযোগও বাড়ছে।]]></description><media:keywords>মেসি,কিলিয়ান এমবাপ্পে,ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬</media:keywords><media:content height="1242" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/shnlzxg7/1%20(2).jpg" width="1474"><media:title type="html"><![CDATA[ মেসি–এমবাপ্পের সামনে রেকর্ড ভাঙার সুযোগ]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/shnlzxg7/1%20(2).jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>ক্রিকেট</category><content:encoded><![CDATA[ <p>ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র ৬ দিন। এবারই প্রথম ৩২ দলের বদলে খেলবে ৪৮টি দল। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১০৪। যুক্ত হচ্ছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা ৩২ দলের নকআউট পর্ব। </p><p>ম্যাচ বাড়ায় খেলোয়াড় ও কোচদের সামনে রেকর্ড গড়ার সুযোগও বাড়ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের অনেক পুরোনো রেকর্ড এবার নতুন করে লেখা হতে পারে। এর মধ্যে যে পাঁচটি রেকর্ড হুমকির মুখে, সেসবই দেখে নেওয়া যেতে পারে আগেভাগে।</p><h3>১. সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ী কোচ</h3><p>বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬টি ম্যাচ জেতার রেকর্ড জার্মানির হেলমুট শনের। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে টানা ৪টি বিশ্বকাপে ২৫টি ম্যাচের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। শনের অধীনে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি একবার চ্যাম্পিয়ন, একবার রানার্সআপ ও একবার তৃতীয় হয়। সব মিলিয়ে জেতেন ১৬টি ম্যাচ। </p><p>এবার শনের বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। ফরাসিদের হয়ে ১৯ ম্যাচে তাঁর জয় ১৪টি। এবারের আসরে ফ্রান্সের গ্রুপে আছে নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাক। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে ফ্রান্সের অন্তত দুটি ম্যাচ জেতারই কথা, সে ক্ষেত্রে গ্রুপ পর্বেই শনকে ছুঁয়ে ফেলবেন দেশম। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-01/a319a2f5-3355-4912-b217-6d7a6df3d741/876325_01_02.jpg" /><figcaption>ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম</figcaption></figure><p>আর বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবে শেষ বত্রিশে ফ্রান্সের জয় তো দেশমের আশা করারই কথা। আর তা হলে ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক ফুটবলারই হয়ে যাবেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ম্যাচজয়ী কোচ।</p><h3>২. এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল</h3><p>কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে গোল হয়েছিল রেকর্ড ১৭২টি। ম্যাচপ্রতি গড় গোল ছিল ২.৬৯। এবার ম্যাচের সংখ্যা ১০৪টি। তাই মোট গোলের রেকর্ড ভাঙা বলা যায় সময়ের ব্যাপার। </p><p>যদি ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের মতো অতি রক্ষণাত্মক এবং ইতিহাসের সবচেয়ে কম গোল হওয়া আসরের গড়ও (ম্যাচপ্রতি ২.২১ গোল) এবার বজায় থাকে, তাহলেও মোট গোল হওয়ার কথা ২৩০টি। সুতরাং এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডে ২০২৬–এর নাম উৎসাহীরা এখনই লিখে নিতে পারেন।</p><h3>৩. চল্লিশোর্ধ্ব ফুটবলারদের রেকর্ড</h3><p>বিশ্বকাপ হয়েছে এখন পর্যন্ত ২২ বার, তাতে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড় দেখা গেছে মাত্র ৭ জন। এবার এক আসরেই চল্লিশ পার করা খেলোয়াড় দেখা যাবে ৮ জন! তালিকায় আছেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১), জার্মানির মানুয়েল নয়ার (৪০), বসনিয়ার এদিন জেকো (৪০), স্কটল্যান্ডের ক্রেইগ গর্ডন (৪৩), ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ (৪০), উরুগুয়ের ফার্নান্দো মুসলেরা (৪০) ও মেক্সিকোর গুইলের্মো ওচোয়া (৪০)। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-12-24/q33wd986/After-sauna-♂️.jpg" /><figcaption>রোনালদোর বয়স ৪১</figcaption></figure><p>তাঁদের মধ্যে মাত্র দুজন খেলোয়াড়ও যদি এক মিনিটের জন্য মাঠে নামেন, তবেই এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ‘চল্লিশোর্ধ্ব’ খেলোয়াড় খেলার নতুন রেকর্ড তৈরি হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/ujvcuz6ktc">বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় সিটির, ‘বুড়ো’দের দল পানামা </a></aside><h3>৪. সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানি, ১৬ গোল)</h3><p>জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটিও হুমকির মুখে। এই রেকর্ড ভাঙার মূল দাবিদার লিওনেল মেসি (১৩ গোল) ও কিলিয়ান এমবাপ্পে (১২ গোল)। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৮), হ্যারি কেইন (৮) ও নেইমারের (৮) সম্ভাবনা থাকলেও তাঁদের সঙ্গে ক্লোসার গোলের ব্যবধান অনেক বেশি।</p><p>মেসি বিশ্বকাপ চলাকালীন ৩৯ বছরে পা দেবেন। অন্যদিকে এমবাপ্পের বয়স মাত্র ২৮। ফলে মেসি যদি এবার রেকর্ড ভেঙেও ফেলেন তবু এমবাপ্পের সামনে পরেও রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ফরাসি ফরোয়ার্ড রেকর্ডটা করে ফেলতে পারেন এবারও! গত বিশ্বকাপে এমবাপ্পে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৮টি গোল করেছিলেন। সেবার মেসি করেছেন ৭টি। দুজনের একজনও যদি গতবারের অর্ধেক গোল করতে পারেন, ক্লোসার রেকর্ডটি এবারই ভেঙে যাবে।</p><h3>৫. সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বুট বিজয়ী: টমাস মুলার (জার্মানি, ২০১০ বিশ্বকাপ—বয়স ২০ বছর)</h3><p>২০১০ বিশ্বকাপে মাত্র ২০ বছর বয়সে ৫ গোল করে জার্মানির টমাস মুলার জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। এবার এই রেকর্ড কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে কয়েকজনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার স্পেনের ২০২৪ ইউরো জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-25/bijnpjs9/2025-06-05t210614z-1778186028-up1el651k7oas-rtrmadp-3-soccer-uefanations-esp-fra-report.webp" /><figcaption>লামিনে ইয়ামাল </figcaption></figure><p>ইয়ামাল ছাড়াও জার্মানির ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার লেনার্ট কার্ল এবং ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী এনদ্রিকের সামনেও সুযোগ রয়েছে মুলারের ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙার। গোলের পাশাপাশি তাদের সামনে সবচেয়ে কম বয়সে গোল্ডেন বল জেতার সুযোগও থাকছে। </p><p>১৯৯৮ বিশ্বকাপে ২১ বছর বয়সে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি জিতেছিলেন ব্রাজিলের রোনালদো। তাঁর রেকর্ডটিও ভেঙে দিতে পারেন ইয়ামাল বা তাঁর মতো কেউ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/c2auj0cqa6">সাইকেলে ১৭ হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তাঁরা পৌঁছালেন মেসিদের কাছে</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>কবি</title><link>https://www.bondhushava.com/writings/wo33lq1q1c</link><comments>https://www.bondhushava.com/writings/wo33lq1q1c#comments</comments><guid isPermaLink="false">ea70e264-6c07-434e-932b-c5be7dc5de86</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>লেখা: </atom:name><atom:uri>/api/author/1431141</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ সে ছোট্ট লক্ষ্মী মেয়েদের মতো নিজের কাছে বায়না করে,
চাঁদ যেন তার চোখে ঘুম এনে দেয়।
অতঃপর তাঁর মধ্য থেকে হঠাৎ এক করুণ চিৎকার শুরু হবার পর,
মেয়েটির চোখে চিরকালের গভীর ঘুম ফিরে এল।
তাঁর দুচোখ বন্ধ, অথচ দুঃখগুলো নির্ঘুম।
যে মেয়েটির নির্ঘুম দুঃখ দেখেছে, সে ছিল কবি। ]]></description><media:keywords>বন্ধুসভা কবিতা/ছড়া,কবিতা</media:keywords><media:content height="296" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2019/11/20/9088878111ae89cf7909ac077626328c-5dd56d70ca040.jpg" width="396"><media:title type="html"><![CDATA[ অলংকরণ: তুলি]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2019/11/20/9088878111ae89cf7909ac077626328c-5dd56d70ca040.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>writings</category><content:encoded><![CDATA[ <p>যে মেয়েটি সারা দিন বিষণ্নতা নিয়ে ভুগছিল<br>সে ভেবেছে, তার আজ দুঃখের মাথাব্যথা হয়েছে,<br>চোখ দুটো ডেকেছে হরতাল-অবরোধ।<br>কেউ এসে তার চোখে ঘুম এনে দেবে<br>সে ছোট্ট লক্ষ্মী মেয়েদের মতো নিজের কাছে বায়না করে,<br>চাঁদ যেন তার চোখে ঘুম এনে দেয়।<br>অতঃপর তাঁর মধ্য থেকে হঠাৎ এক করুণ চিৎকার শুরু হবার পর,<br>মেয়েটির চোখে চিরকালের গভীর ঘুম ফিরে এল।<br>তাঁর দুচোখ বন্ধ, অথচ দুঃখগুলো নির্ঘুম।<br>যে মেয়েটির নির্ঘুম দুঃখ দেখেছে, সে ছিল কবি। </p>]]></content:encoded></item><item><title>দেশি মাটিতে বিদেশি আঙুর, পীরগঞ্জের তরুণের ব্যতিক্রমী সাফল্য</title><link>https://www.prothomalo.com/video/bangladesh/d9f4wd9oc7</link><comments>https://www.prothomalo.com/video/bangladesh/d9f4wd9oc7#comments</comments><guid isPermaLink="false">100bbb04-9140-4e79-b407-61c65bf8e984</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>ভিডিও ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1427886</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ রংপুরের পীরগঞ্জে ২৪ শতক জমিতে বিদেশি জাতের আঙুর চাষ করে সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা তাওহিদ মিয়া।]]></description><media:keywords>উদ্যোক্তা,আঙুর ফল,পীরগঞ্জ,রংপুর</media:keywords><media:content height="534" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/ktd000l5/WEB.jpg" width="800"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/ktd000l5/WEB.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>bangladesh</category><content:encoded><![CDATA[ <p>রংপুরের পীরগঞ্জে ২৪ শতক জমিতে বিদেশি জাতের আঙুর চাষ করে সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা তাওহিদ মিয়া। তাঁর বাগানে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কৃষি বিভাগও দেখছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে-</p><figure class="op-interactive"><iframe allowfullscreen="allowfullscreen" frameborder="0" src="https://www.youtube.com/embed/-o1-uOF3Hng"></iframe></figure>]]></content:encoded></item><item><title>ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা, এক সড়কে ৪ শতাধিক ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা</title><link>https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/rezk1k7fdn</link><comments>https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/rezk1k7fdn#comments</comments><guid isPermaLink="false">40857651-0646-48be-b8f4-c4f263cb9b1c</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 03:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T03:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>লেখা: </atom:name><atom:uri>/api/author/1431141</atom:uri></atom:author><description></description><media:keywords>বিশ্বকাপ ফুটবল,লোহাগাড়া,বিশ্বকাপ,চট্টগ্রাম,চট্টগ্রাম বিভাগ,বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬,ফুটবল,রাঙামাটি</media:keywords><media:content height="960" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/t0565uqj/WhatsApp-Image-2026-06-05-at-9.18.05-PM.jpeg" width="1280"><media:title type="html"><![CDATA[ একটি সড়কেই লাগানো হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার চার শ পতাকা। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/t0565uqj/WhatsApp-Image-2026-06-05-at-9.18.05-PM.jpeg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>জেলা</category><content:encoded><![CDATA[ <p>আঁকাবাঁকা একটি গ্রামীণ সড়ক। বড় যানবাহনের তেমন চলাচল না থাকলেও মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচলে ব্যস্ত থাকে সড়কটি। সড়ক দিয়ে যেতেই পথচারী ও চালকদের চোখ আটকে যায় এক জায়গায়। সড়কের ৫০০ মিটার দীর্ঘ ওই অংশে শোভা পাচ্ছে একটি-দুটি নয়, একসঙ্গে ৪ শতাধিক পতাকা।</p><p> চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অবস্থিত ওই গ্রামীণ সড়কটির নাম লোহাগাড়া সড়ক। এটি বড় হাতিয়া ইউনিয়নকে উপজেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সড়কটি দিয়ে ঢুকতেই বোঝা গেল, গ্রাম পর্যায়ে শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। সামনে যেতেই কিছুদূর পরপর চোখে পড়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা ও সমর্থকদের ব্যানার। গাছে, বাড়ির ছাদে, বাঁশের খুঁটিতে, পুকুর ও কৃষিজমির মাঝখানে এসব পতাকা ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে।</p><p>সড়কের মাঝামাঝিতে এসে উত্তর আধুনগর ব্যাপারীপাড়া এলাকা। এলাকাটি শেষ হয়েছে বড় হাতিয়া ইউনিয়নে। এলাকাটির ৫০০ মিটার অংশের সড়কে বাঁশের খুঁটিতে লাগানো হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ৪ শতাধিক পতাকা। ৩ থেকে ৪ ফুট পরপর সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা লাগানো হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো পতাকা দেখে পথচারীদের চোখ আটকে যায়। কেউ কেউ গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলেন, ভিডিও ধারণ করেন।</p><p>কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৫ দিন আগে পতাকা লাগানোর এই উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় তরুণেরা। তাঁদের উৎসাহ দিতে এলাকার প্রবাসীরা এতে অর্থায়ন করেছেন। ৪ শতাধিক পতাকা লাগাতে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এলাকায় ব্রাজিল–সমর্থক বেশি। তাই দুই-তৃতীয়াংশ পতাকা ব্রাজিলের। কয়েকটি পতাকা চুরি হয়ে গেছে। তাই জনসমাগম কম, এমন এলাকায় পতাকা চুরি ঠেকাতে ইতিমধ্যে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।</p><blockquote>১৫ দিন আগে পতাকা লাগানোর এই উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় তরুণেরা। তাঁদের উৎসাহ দিতে এলাকার প্রবাসীরা এতে অর্থায়ন করেছেন। ৪ শতাধিক পতাকা লাগাতে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এলাকায় ব্রাজিল সমর্থক বেশি। তাই দুই-তৃতীয়াংশ পতাকা ব্রাজিলের। কয়েকটি পতাকা চুরি হয়ে গেছে। তাই জনসমাগম কম এমন এলাকায় পতাকা চুরি ঠেকাতে ইতিমধ্যে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।</blockquote><p>স্থানীয় দোকানি মো. আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। প্রিয় দল নিয়ে রীতিমতো পাগলামি শুরু হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের এই পাগলামি সবাই পছন্দ করে। মাঠের বৈরিতা ভুলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ৪০০ পতাকা টাঙিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকার অলিতে-গলিতে।’</p><p>সাহাব উদ্দিন নামের এক আর্জেন্টিনা–সমর্থক বলেন, ‘দল যার যার, আনন্দ সবার। আমরা আর্জেন্টিনার সমর্থক হতে পারি, তবে ফুটবল তো আনন্দের মাধ্যম। এলাকার তরুণদের এই খুশিতে শরিক হতে পেরে আমাদেরও ভালো লাগছে। আমরা চাই হাঙ্গামামুক্ত সুন্দর একটি বিশ্বকাপ উপভোগ করতে। ’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/j4vhbrhr/WhatsApp-Image-2026-06-05-at-9.16.20-PM.jpeg" /><figcaption>ব্রাজিলের প্রতি সমর্থন জানাতে শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে শোভাযাত্রায় এসেছেন এক ব্যক্তি। গতকাল বিকেলে রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকায়</figcaption></figure><p>কথা হয় সাইফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্রাজিল–সমর্থকের সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে তরুণদের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এ আয়োজন গ্রামের মধ্যে একটা উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।’</p><p>বড় হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কায়সার হাসান বাপ্পি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত দুই বিশ্বকাপেও ঐক্যবদ্ধভাবে এমন আয়োজন করেছেন ব্যাপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। তবে এবারের আয়োজন গতবারের চেয়ে বড়। পতাকাও লাগানো হয়েছে বেশি। এই গ্রামে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উভয় দলের সমর্থকেরা একসঙ্গে পর্দায় খেলা দেখেন, খাবারের আয়োজন করেন, আনন্দ করেন, যুক্তিতর্ক করেন। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়ান না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরাও তাদের আনন্দে শরিক হই। তাদের উৎসাহ দিই।’</p><blockquote>রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের ওপর পাশাপাশি দাঁড়ানো দুটি সেতুই হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপ ফুটবল উৎসবের প্রতীক। একটির নাম ‘ব্রাজিল সেতু’, অন্যটি ‘আর্জেন্টিনা সেতু’। এক সেতুজুড়ে হলুদ-সবুজের আধিপত্য, অন্যটিতে আকাশি-সাদা। বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই দুই সেতুতে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। পতাকা টাঙানো, রং করা, ব্যানার ঝোলানো—উৎসবের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।</blockquote><p><strong>রাঙামাটিতে ব্রাজিল–সমর্থকদের শোভাযাত্রা</strong></p><p>ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ লেগেছে রাঙামাটিতেও। গতকাল বেলা তিনটায় শহরের রিজার্ভ বাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রা বের করেন ব্রাজিল–সমর্থকেরা। গন্তব্য আসামবস্তি কাপ্তাই সংযোগ সেতু, যা স্থানীয়দের কাছে ‘ব্রাজিল ব্রিজ’ নামে পরিচিত। শোভাযাত্রায় পরিবার-বন্ধু-প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে দুই শতাধিক বাইকে চার শতাধিক সমর্থক অংশ নেন। সবার পরনে হলুদ জার্সি, হাতে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের পতাকা।</p><p>‘ব্রাজিল ব্রিজে’ আধঘণ্টা অবস্থানের পর শোভাযাত্রাটি আসামবস্তি থেকে ভেদভেদী, কলেজ গেট, টিটিসি, কল্যাণপুর, কে কে রায় সড়ক ও বনরুপা প্রদক্ষিণ করে রিজার্ভ বাজার চৌমুহনীতে গিয়ে শেষ হয়। সেতুটি ব্রাজিলের পতাকার আদলে রাঙানো হয়েছে। শোয়াযাত্রায় আসা সমর্থক জুয়েল দত্ত বলেন, ‘ইতিহাস বলে, যারা বিশ্বকাপ নেয়, পরেরবার প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়ে। জার্মানি-স্পেনের পর এবার আর্জেন্টিনাও প্রথম রাউন্ডের আগেই বিদায় নেবে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/m8nft6v4/WhatsApp-Image-2026-06-05-at-9.11.57-PM.jpeg" /><figcaption>রাঙামাটির আসামবস্তিতে ‘ব্রাজিল ব্রিজ’ নামে পরিচিত সেতুতে ব্রাজিল সমর্থকদের শোভাযাত্রা। গতকাল বিকেলে</figcaption></figure><p>প্রিয় দল ব্রাজিলের জন্য শুভকামনা জানাতে এসেছেন জানিয়ে দেবু চক্রবর্তী বলেন, ‘ব্রাজিল সব সময় এগিয়ে থাকে। এবারও তারা ফেবারিট।’</p><p>রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের ওপর পাশাপাশি দাঁড়ানো দুটি সেতুই হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপ ফুটবল উৎসবের প্রতীক। একটির নাম ‘ব্রাজিল সেতু’, অন্যটি ‘আর্জেন্টিনা সেতু’। এক সেতুজুড়ে হলুদ-সবুজের আধিপত্য, অন্যটিতে আকাশি-সাদা। বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই দুই সেতুতে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। পতাকা টাঙানো, রং করা, ব্যানার ঝোলানো—উৎসবের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।</p>]]></content:encoded></item><item><title>ট্রাইবাল লুকে আবেদনময়ী মেঘনা, স্নিগ্ধা চার্ম ছড়াচ্ছেন স্ট্রিট স্টাইলে </title><link>https://www.haal.fashion/celeb/look/trjndudedn</link><comments>https://www.haal.fashion/celeb/look/trjndudedn#comments</comments><guid isPermaLink="false">af9c3710-e65e-4098-ae58-a9ae0c0aeaec</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:52:40 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:52:40.255Z</atom:updated><atom:author><atom:name>হাল ফ্যাশন ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1645869</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা দেখা দিয়েছেন ট্রাইবাল লুকে আর স্নিগ্ধা চৌধুরীকে দেখা যাচ্ছে স্ট্রিট স্টাইলে। ]]></description><media:keywords>তারকা,ফ্যাশন,তারকা সাজ</media:keywords><media:content height="1100" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/7ophnd6z/meghlarr.jpg" width="780"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/7ophnd6z/meghlarr.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>লুক</category><content:encoded><![CDATA[ <p>এই সময়ের দুই আবেদনময়ী অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা ও স্নিগ্ধা চৌধুরী। একজন দেখা দিয়েছেন ট্রাইবাল লুকে, আরেকজনকে দেখা যাচ্ছে স্ট্রিট স্টাইলে। </p><p>এই সময়ের দুই আবেদনময় অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা ও স্নিগ্ধা চৌধুরী। দুইজনই নানা লুকে নজর কাড়েন সামাজিক মাধ্যমে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/5bp5h9n3/meghla.mukta178067735839129270614677369145893787572.jpg" /><figcaption>মেঘলা মুক্তার ট্রাইবাল আমেজের লুক </figcaption></figure><p>শাড়ি বা দেশি সাজপোশাকে যেমন তাঁরা আকর্ষণীয়, তেমন দুজনকেই খুব মানিয়ে যায় ওয়েস্টার্ন বা ফিউশন লুকে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/7xywxeit/rafclick178042173339107801783519577724540328058.jpg" /><figcaption>স্নিগ্ধা চৌধুরী দেখা দিয়েছেন স্ট্রিট স্টাইলে </figcaption></figure><p>সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা দেখা দিয়েছেন ট্রাইবাল লুকে আর স্নিগ্ধা চৌধুরীকে দেখা যাচ্ছে স্ট্রিট স্টাইলে। </p><p>মেঘলার শেওলা-সবুজ কাঁচুলি বডিসের কাট-আউট ড্রেসে হলটারনেক ডিজাইন। সামনে ফুলেল ডিটেইলিং। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/fhc7z5uo/meghla.mukta178067735839129270629106721465893787572.jpg" /></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/lj9pkz24/meghla.mukta178067735839129270623738586335893787572.jpg" /></figure><p>ম্যাট ওয়াইন লিপকালার, গাঢ় কাজল-আইলাইনার দেখা যাচ্ছে। হাতে আছে বেশ কয়টি ব্রেসলেট। চুলের দুই দিকে চূড়া খোঁপা আর বাকি চুল ছেড়ে রাখা। পুরো চুলে বিডস ছড়ানো ছিটানো। </p><p>বেবি পিংক নেটের করসেট টপের সঙ্গে স্নিগ্ধা পরেছেন সাদা ফ্লেয়ার ট্রাউজার্স আর কালো ক্রপড পুলওভার। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/h03nibtx/rafclick178042173339107801855242503434540328058.jpg" /><figcaption>ছবি: রফিকুল ইসলাম </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/rkzu30nd/rafclick178042173339107801704246778324540328058s.jpg" /><figcaption>ছবি: রফিকুল ইসলাম </figcaption></figure><p>বড় হুপ দুল, খোলা চুল আর ন্যুড গোলাপি লিপসে চার্ম ছড়াচ্ছেন এই সুন্দরী অভিনেত্রী। </p><p><strong>ছবি:</strong> ইন্সটাগ্রাম </p>]]></content:encoded></item><item><title>সান মারিনোর বিপক্ষে কেমন খেলে জিতল বাংলাদেশ</title><link>https://www.prothomalo.com/sports/football/r8fexclke2</link><comments>https://www.prothomalo.com/sports/football/r8fexclke2#comments</comments><guid isPermaLink="false">3159163e-0f09-42c8-b516-ba8978ac1c22</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:47:24 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:47:24.228Z</atom:updated><atom:author><atom:name>ক্রীড়া প্রতিবেদক</atom:name><atom:uri>/api/author/1428388</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ কোচ ডুলির একাদশ দেখেই বোঝা গিয়েছিল, রক্ষণভাগ সামলে সমতা খোঁজার চিরাচরিত এশিয়ান মানসিকতা নিয়ে তিনি দল মাঠে নামাননি।]]></description><media:keywords>তপু বর্মন,বাংলাদেশ ফুটবল দল,টমাস ডুলি</media:keywords><media:content height="876" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/fanc48wo/7162908751552747169547181821011489819674395n.jpg" width="1169"><media:title type="html"><![CDATA[ সান মারিনোকে হারানোর পর ড্রেসিংরুমে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপন]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/fanc48wo/7162908751552747169547181821011489819674395n.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>ফুটবল</category><content:encoded><![CDATA[ <p>‎‎সেরাভালের সান মারিনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন ইউরোপীয় বসন্তের হাওয়া, আর মাঠে যে ৯০ মিনিটের লড়াই চলল, তার প্রতিটি সেকেন্ড ছিল বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর। </p><p>ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে <a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/v5ueo22fqw">প্রথম জয় (২–১)</a>, সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে কোচ টমাস ডুলির প্রথমবার ডাগআউটে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে সান মারিনোর বিপক্ষে গত রাতের প্রীতি ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল চেনা ছক ভেঙে এক অচেনা সাহসের গল্প লেখার মঞ্চ।</p><p>কোচ ডুলির একাদশ দেখেই বোঝা গিয়েছিল, রক্ষণভাগ সামলে সমতা খোঁজার চিরাচরিত এশিয়ান মানসিকতা নিয়ে তিনি দল মাঠে নামাননি। গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পোস্টের নিচে রেখে দলকে দাঁড় করিয়েছিলেন ৪-৩-৩ ফরমেশনে, যার মূল লক্ষ্যই আক্রমণ। </p><p>মাঝমাঠের খেলায় তিনি ভরসা রেখেছিলেন অভিজ্ঞ জামাল ভূঁইয়ার ওপর। জামালের উপস্থিতি দলকে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে যেমন সাহায্য করেছে, তেমনি আক্রমণভাগে থাকা রফিকুল, মোরছালিন ও ফাহিম প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে রেখেছেন ব্যতিব্যস্ত।</p><p>বাংলাদেশও স্রেফ কোনো আকস্মিক প্রতি–আক্রমণের ওপর ভিত্তি করে ম্যাচ জেতেনি; বরং বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়েই রেখেছে। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখা এবং ২৪৪টি সফল পাস খেলা সেই দক্ষতারই প্রমাণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/mmfgygwu/WhatsApp-Image-2026-06-06-at-12.17.34-AM.jpeg" /><figcaption>ভালো খেলেছেন মোরছালিনরা</figcaption></figure><p>ফুটবলে একটা কথা প্রচলিত আছে—ইউরোপীয় দলগুলোর সঙ্গে এশিয়ার দলগুলো ফিজিক্যালিটি বা শারীরিক শক্তিতে পেরে ওঠে না। বিশেষ করে সেট-পিস কিংবা শূন্যে ভেসে আসা বলের লড়াইয়ে তারা সব সময়ই লম্বা গড়ন আর শারীরিক শক্তির কারণে এগিয়ে থাকে। </p><p>কিন্তু কাল সান মারিনোকে তাদের নিজেদের এ সেরা অস্ত্রেই কুপোকাত করেছে বাংলাদেশ। যেখানে নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ম্যাচের ১৯ মিনিটে যখন বাংলাদেশ প্রথম লিড নেয়, সেটি ছিল সেট-পিসের এক দারুণ ফসল। ডুলির দল পুরো ম্যাচে কর্নার পেয়েছিল মাত্র দুটি, কিন্তু সেই সীমিত সুযোগেরই সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন তপু।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/yiwwadrc5a">‘সুন্দর ফুটবল নয়, আসল লক্ষ্য জয়’—সাফ ফাইনালের আগে বাংলাদেশ কোচ</a></aside><p>৮৬ মিনিটে ম্যাচ ১-১ গোলে সমতা, ড্রয়ের দিকে যাচ্ছিল ম্যাচ, তখনই আবার ত্রাতা বনে যান তপু, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে তপুর নেওয়া নিখুঁত হেডটি খুঁজে নেয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। সব মিলিয়ে বলা যায়, বাতাসে ভেসে আসা বলে ইউরোপীয় ডিফেন্ডারদের দারুণভাবে পরাস্ত করেছে বাংলাদেশ।</p><p>‎অবশ্য প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে জিয়াকোপেত্তির গোলে সান মারিনো যখন সমতায় ফেরে, তখন বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে ভর করেছিল দুশ্চিন্তা। বিরতির পর কোচ ডুলির পরিকল্পনায় সেই দুশ্চিন্তা আর থাকেনি। দ্বিতীয়ার্ধে একাদশে তিনি ৬টি পরিবর্তন আনেন। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/1vdqz6k7/WhatsApp-Image-2026-06-06-at-12.17.32-AM.jpeg" /><figcaption>বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলি</figcaption></figure><p>ফুটবলীয় পরিভাষায় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও ডুলির এই কুশলী নীতি বাংলাদেশের আক্রমণকে করেছে আরও গতিশীল। বদলি নামা খেলোয়াড়েরা মাঠে হাই প্রেসিং ফুটবলটা সচল রাখেন, যার ফলে সান মারিনোর ক্লান্ত রক্ষণভাগ ক্রমাগত ভুল করতে বাধ্য হয়। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/thilvr8r4q">মেসিরা বিশ্বকাপ জেতার পর গত চার বছরে ফুটবল দুনিয়ায় কী পরিবর্তন ঘটেছে</a></aside><p>বাংলাদেশ রক্ষণভাগও এই সময় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল—৩৪ বার বলের পুনর্দখল নেওয়া, ১২টি সফল ট্যাকল ও ২০টি ‘ক্লিয়ারেন্স’ প্রমাণ করে যে লিড ধরে রাখতে কতটা মরিয়া ছিলেন হামজারা।</p><p>শেষ বাঁশি বাজার পর তাই খেলোয়াড়দের উল্লাসটা শুধু একটি জয়ের ছিল না, সেটি ডুলির আধুনিক ফুটবল–দর্শনের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলারদের নিখুঁত মেলবন্ধনের এক সার্থক উদ্‌যাপনও।</p>]]></content:encoded></item><item><title>রাজনৈতিক ছায়ায় খুলনায় দখল ও চাঁদাবাজি</title><link>https://www.prothomalo.com/politics/cak7gjd9a8</link><comments>https://www.prothomalo.com/politics/cak7gjd9a8#comments</comments><guid isPermaLink="false">b3568ab3-a064-4375-a211-0541cda552ff</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:32:56 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:32:56.039Z</atom:updated><atom:author><atom:name>মাহমুদুল হাসান</atom:name><atom:uri>/api/author/2351578</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ রেলের জমি, ঘাট ও উন্নয়নকাজ ঘিরে দখল-চাঁদাবাজি; রাজনৈতিক নেতা, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও প্রশাসনের অসাধু অংশের যোগসাজশের অভিযোগ।]]></description><media:keywords>খুলনা বিভাগ,বিশেষ সংবাদ,খুলনা,সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি,অপরাধ</media:keywords><media:content height="1200" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/kve8plgx/C02.jpg" width="1600"><media:title type="html"><![CDATA[ খুলনা জংশন রেলওয়ে স্টেশনের ভবনের দক্ষিণ পাশে রেলওয়ে কোয়ার্টার–সংলগ্ন জমিতে গড়ে উঠেছে মিষ্টান্ন তৈরির কারখানা ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এভাবে স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/kve8plgx/C02.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>রাজনীতি</category><category>জেলা</category><content:encoded><![CDATA[ <ul><li><p>দখল হয়েছে রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবন ‘ডাক্তারবাড়ি’।</p></li><li><p>উন্নয়নকাজেও ভাগ বসাচ্ছে চাঁদাবাজেরা। চাঁদা না দিলে বন্ধ করে দেওয়া হয় কাজ।</p></li><li><p>সন্ত্রাসীরা আসে মোটরসাইকেলে শোডাউন দিয়ে, তুলে নিয়ে যায় ঠিকাদারকে।</p></li><li><p>শহরে পুলিশের তালিকাতেই ৬৯ চাঁদাবাজ ও ১৮১সন্ত্রাসীর নাম।</p></li></ul><p>খুলনায় রেলের জমি, নদীর ঘাট, বাজারসংলগ্ন খোলা জায়গা ও সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজ ঘিরে নতুন করে দখল ও চাঁদাবাজি চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রেলের জমিতে নতুন স্থাপনা উঠেছে, কোথাও দোকানঘর করা হয়েছে, কোথাও ঠিকাদারি কাজ বন্ধ করে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং প্রশাসনের অসাধু অংশের যোগসাজশের অভিযোগ এসেছে।</p><p>রূপসা নদীর তীরবর্তী ঘাট এলাকা একসময় আলোচিত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের অপরাধজগতের কেন্দ্র ছিল। তাঁর ফাঁসির পর বড় বাজার ও ঘাট এলাকায় তুলনামূলক স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেখানে আবার দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনা সামনে এসেছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কারও কারও সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।</p><p>সম্প্রতি সরেজমিনে ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি জমির কিছু জায়গায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নতুন স্থাপনা উঠেছে। কোথাও অস্থায়ী স্থাপনা করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুলনায় বর্তমানে রেলওয়ের ৭৬ একরের বেশি জমি অবৈধ দখলে রয়েছে।</p><blockquote>আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের কিছু সদস্য রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে ঢুকে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। খুলনা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একজন প্রথম আলোকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সদস্যদের অনেকে জায়গা করে নিয়েছে।</blockquote><p>কেবল ঘাট এলাকা নয়, শহরজুড়েই দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রেলের জমিতে থাকা স্কুলের সীমানাপ্রাচীর এবং রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বাসভবন ভেঙে সেটি দখলে নেওয়া হয়েছে। দখলের জন্য অনেকের নামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন ঘটনায় মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। উন্নয়নকাজেও ভাগ বসাচ্ছে চাঁদাবাজেরা। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের তালিকাতেই শুধু খুলনা শহরে ৬৯ জন চাঁদাবাজ ও ১৮১ জন সন্ত্রাসীর নাম আছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/r05o94iqu2">তারা প্রকাশ্যে খুন করে, প্রচারণা চালায়, দোয়া চায় ফেসবুকে</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/ns6azx66/Untitled-1.jpg১.jpg" /><figcaption>খুলনায় সক্রিয় সন্ত্রাসী নয়টি গ্রুপ</figcaption></figure><p>আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের কিছু সদস্য রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে ঢুকে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। খুলনা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একজন প্রথম আলোকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সদস্যদের অনেকে জায়গা করে নিয়েছে।</p><p>সন্ত্রাসীদের সঙ্গে একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতার যোগসাজশের কারণে দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ। পুলিশসহ প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিও এই প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছর বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশও (ডিটেনশন) দেওয়া হয়েছিল। যদিও তাঁদের কাউকেই তখন পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি।</p><aside><cite>কুদরত-ই-খুদা, খুলনা জেলা সম্পাদক, সুজন</cite>পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই খুলনায় দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। যেখানে অনিয়ম, সেখানে পুলিশও আছে</aside><p>এ বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঘটনা তাঁর যোগদানের আগে ঘটেছে। তিনি কোনো ঘটনা শুনলেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন।</p><p>একের পর এক ঘটনার পরও জড়িতরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে কেন-জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, মামলা হলে তাঁরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে দখল ও চাঁদাবাজির যেসব ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর অনেক অভিযোগ পুলিশের কাছে আসেনি। আবার মামলাও হয়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/pgj0h5b9am">খুলনায় পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু, ‘গ্রেনেড বাবু’র দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার ৫৯</a></aside><p><strong>রাজনৈতিক পরিচয়ে দখল</strong></p><p>বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আটকাদেশ পাওয়া তিনজনের একজন খুলনা সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, যিনি ফরিদ মোল্লা নামে পরিচিত। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে খুলনায় দখলবাজির অভিযোগে তাঁর নাম বেশি আলোচিত হয়েছে। রেলওয়ের জমি দখল, নদীবন্দর ঘাট ও বড় বাজার, রেলওয়ে মার্কেটের ভেতরে রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবন-এমন অনেক জায়গায় দখলের অভিযোগে উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।</p><p>গত ১০, ১১ ও ১২ মে খুলনার রূপসা নদীর তীরবর্তী ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট, বড় বাজার ও রেলওয়ে মার্কেট ঘুরে বিভিন্ন স্থানে ফরিদ মোল্লার পোস্টার ও ফেস্টুন দেখা গেছে। স্থানীয় কেউ প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানিয়েছেন, সেখানে ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে কথা বললে ‘খবর আছে’।</p><p>রেলওয়ে মার্কেটের ভেতরে রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবনকে স্থানীয় লোকজন ‘ডাক্তারবাড়ি’নামে চেনেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েক দফায় ভবনটির ছাদসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়। গত ৯ মার্চ ভবনের বাকি অংশ ভেঙে রাতারাতি সেখানে ১৪টির বেশি দোকান নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দোকান তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় ফরিদ মোল্লার ভূমিকা ছিল।</p><p>এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মোল্লা ফরিদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের। তিনি দাবি করেন, রেলওয়ের কোনো জমি দখল করেননি। বিএনপির অভ্যন্তরীণ তদন্তেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/lkejteb9/KHULNADH063020260605KHULNA-DR-BARI-4.JPG" /><figcaption>রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবন ‘ডাক্তারবাড়ি’ ভেঙে রেলের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকান। গতকাল খুলনার রেলওয়ে মার্কেট এলাকায়</figcaption></figure><p>ডাক্তারবাড়ির জায়গা দখল এবং সেখানে দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদ মোল্লা বলেন, ‘ডাক্তারবাড়ির জায়গার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ কারও কাছে নেই। ২০১৩ বা ২০১৪ সালের দিকে আওয়ামী লীগের এক কাউন্সিলর ওই জায়গা ভাঙতে গিয়েছিল। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’</p><p>গত ৯ মার্চ ভবনের অংশ ভেঙে রাতারাতি দোকান নির্মাণের বিষয়ে ফরিদ মোল্লা বলেন, ‘ওখানে নতুন করে কোনো দোকান হয়নি। স্কুলের বাউন্ডারিও কেউ ভাঙেনি। হকাররা শীতের সময় অস্থায়ীভাবে দোকান বসিয়েছে।’</p><p>অথচ খুলনা রেলওয়ে থানায় রেলওয়ের ১৮ নম্বর কাছারির ফিল্ড কানুনগোর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সেখানে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি গত ১১ মে সরেজমিনে এই প্রতিবেদকও সেখানে দোকান দেখতে পেয়েছেন।</p><blockquote>এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মোল্লা ফরিদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের। তিনি দাবি করেন, রেলওয়ের কোনো জমি দখল করেননি। বিএনপির অভ্যন্তরীণ তদন্তেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।</blockquote><p>আটকাদেশ পাওয়া আরেকজন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইস্তিয়াক আহমেদ ওরফে ইসতি। তাঁর মামাতো ভাই হলেন খুলনার বর্তমানে আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ বি-কোম্পানির গ্রেনেড বাবু। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসতির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধমূলক তৎপরতার অভিযোগ এসেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/q5jraq0k/05062026-dh-1.jpg" /></figure><p>অভিযোগের বিষয়ে ইস্তিয়াক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী গ্রুপের কাউকে চিনি না। পত্রপত্রিকা ও ফেসবুকে যা দেখি, সেটাই জানি। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেই আমাদের জীবন কেটে গেছে। এসব দেখার সময় আমাদের ছিল না। বাবুর সঙ্গে ১৫ বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই।’</p><p>স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা ঢুকে পড়ছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে ইস্তিয়াক বলেন, প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে।</p><p>নিজের বিরুদ্ধে আটকাদেশের বিষয়ে ইস্তিয়াক বলেন, ‘সেটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ছিল। নতুন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন তাঁদের বলা হয়েছে, বিষয়টি ঠিক হয়নি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল (জাতীয় সংসদের হুইপ) ভাইয়ের নির্দেশনা আছে, ক্লিন ইমেজের রাজনীতি করতে হবে।’</p><p>এই ইস্তিয়াকের ভাই হলেন মোংলা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন) মাহামুদুন চৌধুরী (জনি)। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনিসহ বিএনপির সমর্থক ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অ্যাসোসিয়েশনের ভবন দখলে নিয়ে ১৩ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটির ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সেখানে সাবেক যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেনকে আহ্বায়ক ও মাহামুদুন চৌধুরীকে সদস্যসচিব করা হয়।</p><blockquote>স্থানীয় লোকজন জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর খুলনায় বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করছেন দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত অথবা যোগসাজশ রয়েছে বিএনপির এমন যে কজনের নাম এসেছে, তাঁদের বেশির ভাগই ওই নেতার অনুসারী বলে এলাকায় প্রচার আছে। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় এসব নেতার ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনেও বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতার ছবি দেখা গেছে।</blockquote><p>এ বিষয়ে মাহামুদুন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ৫ আগস্টের পর অস্থির পরিস্থিতিতে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ছাত্রসমাজের মাধ্যমে একটি কমিটি করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন হয়েছে এবং এখন তিনি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। ভবন দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এটি দখলের বিষয় নয়; পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম সচল রাখতেই তখন কমিটি করা হয়েছিল।’</p><p>গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বাস্তুহারা এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ভুট্টোকে গ্রেপ্তার করেছিল কেএমপি। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা ছিল। পুলিশের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর তিনি এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন।</p><p>জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে খুলনায় সম্পদ দখলের পাশাপাশি নানা ধরনের চাঁদাবাজির তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও মামলায় মিথ্যা আসামি করে, কোথাও আবার ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’তকমা দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ এসেছে। বিএনপির একশ্রেণির নেতা-কর্মীর পাশাপাশি শুরুর দিকে ‘ছাত্র-জনতা’পরিচয় দিয়েও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। ভুয়া মামলা দিয়ে প্রতিষ্ঠান দখল ও দখলচেষ্টার অভিযোগও আছে। প্রথম আলো এমন অন্তত ১৩টি ঘটনার খোঁজ পেয়েছে।</p><p>খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম (মনা) দাবি করেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নেই।</p><p>দখল, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কারও কারও নাম আসার বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, তাঁদের দল ইতিমধ্যে ৩৫৫ জনকে বহিষ্কার করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।</p><p>স্থানীয় লোকজন জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর খুলনায় বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করছেন দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত অথবা যোগসাজশ রয়েছে বিএনপির এমন যে কজনের নাম এসেছে, তাঁদের বেশির ভাগই ওই নেতার অনুসারী বলে এলাকায় প্রচার আছে। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় এসব নেতার ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনেও বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতার ছবি দেখা গেছে।</p><p><strong>রেলের জমি দখল</strong></p><p>খুলনা নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে রেলের জমি দখলের স্পষ্ট চিত্র দেখা যায়। পুরোনো রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইনসংলগ্ন জায়গায় সারি সারি দোকানঘর। জোড়াগেট এলাকায় রেলের জমির ওপর স্থাপনা। হাসপাতাল রোডে সেমিপাকা দোকান। দৌলতপুর, বিশেষ করে কলেজ স্টেশন এলাকায় রেলের জায়গা ঘেঁষে পাকা ও টিনশেড স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কোথাও দোকান চালু হয়েছে, কোথাও নতুন স্থাপনা তোলার প্রস্তুতি দেখা গেছে।</p><p>অনেক জায়গায় রেললাইনের পাশের খোলা অংশ আর আলাদা করে চেনার উপায় নেই। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এসব এলাকায় দখলের প্রবণতা বেড়েছে। অনেকে আবার দখলের কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছেন মামলা। এ ক্ষেত্রে শুরুতে তাঁরা জায়গা দখল করছেন। পরে রেল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে গেলে ক্ষতিপূরণের মামলা করছেন।</p><p>রেলওয়ের ২০২৫ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের ২১টি নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাতে খুলনার বিভিন্ন এলাকায় রেলের জমিতে দোকানঘর, সেমিপাকা স্থাপনা, পাকা ও টিনশেড ঘর নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।</p><p>পুরোনো রেলস্টেশন এলাকা ঘিরে সবচেয়ে বেশি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেলওয়ের ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের এক নথিতে স্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ে ইয়ার্ড, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট, লোডিং গেটসংলগ্ন এলাকা, হাসপাতাল রোড, বিআইডব্লিউটিএর সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন এলাকা এবং পুরোনো বাজার রেললাইন এলাকায় অবৈধ স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়। সরেজমিনে ঘুরেও সেখানে রেলওয়ের জমির পাশে দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা দেখা যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/pbdzi2e6/WHATSAPP-IMAGE-2026-06-05-AT-62146-PM082949.JPG" /><figcaption>রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবন ‘ডাক্তারবাড়ি’ দখলের আগের চিত্র</figcaption></figure><p>জোড়াগেট ও মন্টু কলোনি এলাকায় রেলের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ আছে। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানান, মো. আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি রেলের জমিতে থাকা পুকুর ভরাট করে ঘর নির্মাণ করছেন। বাধা দিলেও তিনি থামেননি।</p><p>একইভাবে রেলওয়ে ইয়ার্ডে, খুলনা অফিসার্স রেস্টহাউসের পাশে এবং হাসপাতাল রোডে, মানিক মিয়া শিপিং কোম্পানির পেছনে রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর ও স্থাপনা করা হয়। এসব ঘটনার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী অথবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নাম এসেছে।</p><p>সরেজমিনে পুরোনো রেলস্টেশনে গেলে সেখানকার রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, এই স্টেশনের ছোট দুই কক্ষের একটি ঘর ছাড়া আশপাশের প্রায় সব জমি দখল করা হয়েছে। মূল সড়ক থেকে স্টেশনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দিকে যাওয়ার পথে শুধু সরু একটি পথ রাখা হয়েছে। এখন সেটিও ধীরে ধীরে দখল হচ্ছে। স্টেশন থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকার প্রায় পুরোটাই এভাবে দখল হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল দখলের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন খুলনা জংশন স্টেশনমাস্টার মাসুদ রানা।</p><p>গতকাল শুক্রবার মুঠোফোনে জানতে চাইলে মাসুদ রানা প্রথম আলোকে বলেন, স্টেশন ভবনের আশপাশের রেলের বেশির ভাগ জমি দখল হয়ে গেছে। দক্ষিণ পাশে রেলওয়ে কোয়ার্টার-সংলগ্ন জমিতেও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সেখানে দোকানপাট, মিষ্টি-দই তৈরির কারখানা ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চলছে। এসব স্থাপনার কারণে স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।</p><p>স্থানীয় লোকজন জানান, কিছুদিন আগে আসাদুজ্জামান ওরফে মিঠুর নেতৃত্বে সাত-আটজন এসে রেলের ফাঁকা জমিগুলো সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে গেছেন। তাঁরা নিজেদের বি-কোম্পানির লোক পরিচয় দিয়েছেন। মিঠুর খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইস্তিয়াক আহমেদের অনুসারী।</p><p>রেলের জমির খোঁজখবর নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসাদুজ্জামান মিঠু। তিনি প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি স্টেশনমাস্টারের একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলেন। তখন জংশন স্টেশন এলাকায় রেলের দুটি পুকুর সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সেটি দখল বা ইজারা নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। ‘বি-কোম্পানির সদস্য’পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন তিনি।</p><p>এদিকে রেলওয়ে খুলনার ১৮ নম্বর কাছারির ভূসম্পত্তি বিভাগের ফিল্ড কানুনগো ইকবাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, রেলের অনেক জমি বেদখল হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবসহ নানা কারণে বাধা দিয়েও অনেক সময় এগুলো ঠেকানো যায় না।</p><p><strong>চাঁদার জন্য উন্নয়নকাজে বাধা</strong></p><p>খুলনা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজেও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি, কাজ বন্ধ করে দেওয়া, ঠিকাদারদের হুমকি-মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ মামলা করার সাহস করেননি। পুলিশও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ। অন্তত চারটি ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ১৪ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘বি কোম্পানি’ও ‘আশিক বাহিনী’চাঁদার জন্য এসব কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। ঠিকাদারের লোকজনকে তুলে নিয়ে মারধর করে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও আছে।</p><p>খুলনা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের জিন্নাহপাড়া এলাকায় দুটি প্যাকেজে রাস্তা ও গলির উন্নয়নকাজ চলছিল। গত ১ মার্চ আশিক বাহিনীর সদস্যরা ওই কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে তারা ঠিকাদারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দর-কষাকষির পর ৬ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।</p><p>এই ঘটনার পর সন্ত্রাসী গ্রুপ বি কোম্পানির লোকজন দিনের বেলায় ৮-১০টি মোটরসাইকেলে করে কাজের স্থানে যায়। তারা সেখান থেকে উন্নয়নকাজের সাব-ঠিকাদারকে তুলে নিয়ে মারধর করে এবং তাঁর কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিষয়টি পুলিশ কমিশনারকে জানালে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সাব-ঠিকাদারকে উদ্ধার করা হয়।</p><p>সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাব-ঠিকাদার উদ্ধার ও দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ঠিকাদারের ওপর চাপ আরও বাড়ে। সন্ত্রাসীরা তাঁকে হুমকি দিতে থাকে এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। পরে ঠিকাদার দুই লাখ টাকা দেন। এরপরও সাব-ঠিকাদারকে আবার ভয়ভীতি দেখানো, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।</p><p>চাঁদাবাজি সেখানেই থামেনি। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, প্রথম প্যাকেজের সর্বশেষ ঢালাই কাজ শুরু হয় গত ১৪ মে। এর কিছুক্ষণ পরেই আশিক বাহিনীর লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পর আবার ঢালাই শুরু করা হয়। যদিও খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার দাবি করেছেন, খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরুর ব্যবস্থা করেছেন।</p><p>খুলনা মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন র‍্যাব কার্যালয় থেকে দশগেটের মধ্যে মাথাভাঙ্গা স্যানিটারি ল্যান্ডফিল উন্নয়ন ও বালু ভরাটের কাজ নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুরুতে বি কোম্পানির লোকজন কাজটি তাদের একটি প্রতিষ্ঠানকে লিখে দিতে চাপ দেয়। সেটি না পেরে বহু দেনদরবার ও বিভিন্ন মাধ্যমে তদবিরের পর কাজটি পাওয়া ঠিকাদার সন্ত্রাসী গ্রুপ বি কোম্পানির নির্ধারিত দুই ব্যক্তিকে উচ্চ মূল্যে বালু সরবরাহের কাজ দিয়ে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন।</p><p>এরপর ঠিকাদার কাজ শুরু করলে ৩০ এপ্রিল আশিক বাহিনীর লোকজন গিয়ে একটি খননযন্ত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ভয়ে তাদের সঙ্গে আপস করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। এ বিষয়ে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গেও কথা বলতে রাজি হননি।</p><p>চাঁদার জন্য গত এপ্রিলে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মতিয়াখালী ৬, ৭ ও ৮ নম্বর গলি এবং আজাদ মাস্টার গলির উন্নয়নকাজও বন্ধ করে দিয়েছিল আশিক বাহিনী। কাজটি এখনো বন্ধ আছে।</p><p>স্থানীয় ঠিকাদারেরা এ বিষয়ে মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন। কারণ, চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, শ্রমিকদের ভয় দেখানো, যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। গোলাগুলির ঘটনা ঘটলে বিষয়গুলো সামনে আসে।</p><p>কেবল উন্নয়নকাজই নয়, সাধারণ মানুষের থেকেও চাঁদাবাজির ঘটনা আছে। যেমন গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টায় নগরীর লবণচরা থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মতিয়াখালীতে প্রবাসী মোহাম্মাদ হাসান চানের বাড়িতে ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী এসে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছুদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে এই বাড়ির মানুষের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল খুলনার সন্ত্রাসী আশিক গ্রুপ।</p><p><strong>‘রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে পারছে না’</strong></p><p>সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, খুলনার বর্তমান পরিস্থিতি তিন স্তরে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম স্তরে দৃশ্যমান দখল-রেলের জমি, ঘাট, পুকুর, স্কুলের প্রাচীর, পুরোনো ভবন, বাজারসংলগ্ন খোলা জায়গা। দ্বিতীয় স্তরে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ-চাঁদাবাজি, ঠিকাদারি, বালু সরবরাহ, ঘাটের টোল, দোকান ভাড়া। তৃতীয় স্তরে রাজনৈতিক ছায়া-দলীয় পরিচয়, ওয়ার্ড কমিটি, স্থানীয় নেতার আশ্রয়, অভিযোগ উঠলে অস্বীকার।</p><p>এই তিন স্তর মিলে খুলনায় এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, এতে অপরাধ কেবল বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সীমিত থাকছে না; স্থানীয় ক্ষমতা, অর্থনীতি ও রাজনীতির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। কেউ দখল করছে, কেউ দখল রক্ষা করছে, কেউ রাজনৈতিক পরিচয় দিচ্ছে, কেউ অস্বীকার করছে।</p><p>নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের ডাকবাংলো মোড়ের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখানে এখন সবাই জানে কারা করছে, কিন্তু কেউ বলে না। কারণ, বললে দোকান থাকবে না, কাজ থাকবে না, নিরাপত্তাও থাকবে না।’</p><p>সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা জেলা সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই খুলনায় মাদক, দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। যেখানে অনিয়ম, সেখানে পুলিশও আছে। কোনো না কোনোভাবে তারা জড়িত থাকে। খুলনায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন এস্টেটসহ বড় এস্টেটগুলোর জমিও প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’করে দখল করছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এখনো নিরাপত্তা দিতে পারছে না। পুলিশও দিতে পারছে না। সে কারণে কেউ মামলা করতে চায় না, কথাও বলতে চায় না।</p>]]></content:encoded></item><item><title>নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করে বারবার বিতর্কে, কে এই সিডনি</title><link>https://www.prothomalo.com/entertainment/hollywood/afv3oszgmo</link><comments>https://www.prothomalo.com/entertainment/hollywood/afv3oszgmo#comments</comments><guid isPermaLink="false">e704f3b3-dc3c-471e-a7bc-ef1240ea0c25</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:30:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:30:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>বিনোদন ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1427622</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ চলতি বছর এসেছে এইচবিওর বহুল চর্চিত সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’। এ সিরিজের নগ্ন দৃশ্য নিয়ে হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। কিন্তু সিরিজটি যথারীতি হিট। ]]></description><media:keywords>ঘনিষ্ঠ দৃশ্য,অভিনয় শিল্পী,চলচ্চিত্র বিতর্ক,ওয়েব সিরিজ</media:keywords><media:content height="2154" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-10-28/szvzkwb8/099355-01-02.jpg" width="3829"><media:title type="html"><![CDATA[ সিডনি সুইনি। এএফপি ]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-10-28/szvzkwb8/099355-01-02.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>হলিউড</category><content:encoded><![CDATA[ <p>গত বছর ‘ক্রিস্টি’ সিনেমায় সিডনি সুইনি অভিনয় করেছিলেন বক্সারের চরিত্রে। তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে বটে, কিন্তু সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যর্থ। সিনেমাটিতে সিডনি সুইনিকে গ্ল্যামারাস চরিত্রে দেখা যায়নি, ছিল না ঘনিষ্ঠ দৃশ্যও। এর কিছুদিন পরই মুক্তি পায় ‘দ্য হাউসমেইড’। এ সিনেমায় যথারীতি সিডনির অন্তরঙ্গ ও নগ্ন দৃশ্য আছে; ছবি হিট। এরপর চলতি বছর এসেছে এইচবিওর বহুল চর্চিত সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’। এ সিরিজের নগ্ন দৃশ্য নিয়ে হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। কিন্তু সিরিজটি যথারীতি হিট। গত ৩১ মে মুক্তি পাওয়া শেষ পর্বটি মাত্র সাত দিনে ভিউ হয়েছে ৮.৭ মিলিয়ন! কিন্তু বারবার নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করে আলোচনায় থাকা কে এই সিডনি সুইনি?</p><p><strong>আলোচনায় নগ্ন দৃশ্য<br></strong>পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে সিডনি সুইনির পরিচিতি এইচবিওর দুই আলোচিত সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’ ও ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ দিয়ে। এ দুই সিরিজে, বিশেষ করে ‘ইউফোরিয়া’য় সুইনির নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়েছে।</p><p>তবে ডেডলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক, নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় বন্ধ করবেন না তিনি। ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের স্রষ্টা স্যাম লেভিনসন। সুইনি সাক্ষাৎকারে বলেন, এই নির্মাতার কাজ তাঁর খুবই পছন্দের। তাই তিনি যে চিত্রনাট্যে যা রাখবেন, সে অনুযায়ী অভিনয় করতে তাঁর আপত্তি নেই।</p><blockquote>১৯৯৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্পোকেন শহরে জন্ম সিডনি সুইনির। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। পরিবারের সবাই প্রথমে এটিকে গুরুত্ব দেননি। কিংবদন্তির মতো শোনালেও সত্যি, মাত্র ১২ বছর বয়সে অভিনয় শেখার অনুমতি পাওয়ার জন্য তিনি নিজের পরিবারের সামনে একটি পাঁচ বছরের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন। সেখানে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে অভিনয়কে তিনি পেশা হিসেবে নিতে চান। শেষ পর্যন্ত পরিবার রাজি হয়। এরপর শুরু হয় অডিশনের পর অডিশন। হলিউডে সাফল্য তাঁর কাছে সহজে আসেনি। কিশোর বয়সে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন অসংখ্য টেলিভিশন সিরিজে। বড় সুযোগ আসে ২০১৮ সালে। প্রথমে তিনি অভিনয় করেন ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’-এ। এরপর ‘শার্প অবজেক্ট’-এ অভিনয় করে সমালোচকদের নজরে আসেন। তবে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘ইউফোরিয়া’। এই সিরিজে ক্যাসি হাওয়ার্ড চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন সিডনি সুইনি।</blockquote><p>পর্দায় নগ্ন দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে সিডনি বলেন, ‘এটা তো অদ্ভুত একটা কথা। আমি একজন অভিনয়শিল্পী, যাকে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়।’ ক্রাইম ড্রামা ঘরানার সিনেমা ‘রিয়েলিটি’তে একেবারে গ্ল্যামারহীন চরিত্রে অভিনয় করেন সুইনি। এ ছবিতে কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্যও নেই। তবে সিডনি সুইনি জানেন, তিনি যত ভালোই অভিনয় করেন না কেন, মানুষ কেবল তাঁর শরীর নিয়েই কথা বলে। এ জন্য কৈশোর থেকেই চেষ্টা করেছেন এমন কিছু করতে, যাতে মানুষ তাঁর কাজ নিয়েই কেবল কথা বলে। তিনি বলেন, ‘আমি স্কুলে যত বেশি সম্ভব খেলায় অংশ নিতাম, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতাম, যাতে মানুষ ভাবতে না পারে যে আমি শরীরসর্বস্ব।’<br>সাক্ষাৎকারে সুইনি আরও বলেন, আলোচনা-সমালোচনা যা-ই হোক, চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি পর্দায় নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করা বন্ধ করবেন না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-12-25/bth1r3dr/721435-01-02-1.jpg" /><figcaption>‘দ্য হাউসমেইড’ সিনেমার প্রিমিয়ারে সিডনি সুইনি। এএফপি </figcaption></figure><p><strong>‘ইউফোরিয়া’–বিতর্ক<br></strong>‘ইউফোরিয়া’র নতুন মৌসুমে ক্যাসির (সিডনি সুইনি) চরিত্র নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। অনেক দর্শক মনে করছেন, তার উপস্থাপনাটি অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় ও অবমাননাকর। ক্যাসির চরিত্র শুরু থেকেই একধরনের মানসিক শূন্যতা ও স্বীকৃতির চাহিদার মধ্যে আবদ্ধ। তার শৈশব, বিশেষ করে বাবার অনুপস্থিতি তাকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছে, যেখানে সে সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের মূল্য খুঁজতে চায়।<br>তৃতীয় মৌসুমে সে নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, প্রথম দর্শনে এমনটাই মনে হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে বন্ধু ম্যাডির (অ্যালেক্সা ডেমি) সঙ্গে কথোপকথনে স্পষ্ট হয়, তার এই যাত্রা আসলে আত্মপ্রতিষ্ঠার নয়; বরং স্বীকৃতির জন্য মরিয়া এক প্রচেষ্টা। এ জায়গাতেই সিরিজটি সমালোচিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কারণ, যেখানে এই গল্প যৌনকর্ম বা অনলাইন কনটেন্ট তৈরির ক্ষমতায়নের দিকটি তুলে ধরতে পারত, সেখানে তা বরং একধরনের নির্ভরশীলতা ও আত্ম–অবমূল্যায়নের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-02/34yu656y/0eb8e47c_23fb_44eb_8309_bfd736398526.jpg" /><figcaption>‘ইউফোরিয়া ৩’–তে সিডনি সুইনি</figcaption></figure><p><strong>নগ্ন দৃশ্য বাদ দিতে চেয়েছিলেন নির্মাতা<br></strong>গত ৩১ মে শেষ হয়েছে এইচবিওর আলোচিত সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’। এদিন প্রচারিত হয় সিরিজটির তৃতীয় ও শেষ মৌসুমের শেষ পর্ব। এবারের কিস্তি মুক্তির পর আগেরগুলোর মতোই আলোচিত হয়েছে, নগ্নতা ও যৌনতার উপস্থাপনা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। তবে নির্মাতা স্যাম লেভিনসন জানান, তিনি তৃতীয় মৌসুমে অভিনেত্রী সিডনি সুইনির চরিত্র ক্যাসিকে নিয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, এবার হয়তো চরিত্রটির কোনো নগ্ন দৃশ্য না রাখাই ভালো। কিন্তু সেই প্রস্তাব শুনে অবাক হয়ে যান সুইনি নিজেই। তাঁর সোজাসাপটা জবাব ছিল, ‘মজা করছেন নাকি?’</p><p>সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্মাতা স্যাম লেভিনসন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ক্যাসি চরিত্রটি দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অনেক সময় চরিত্রটির অতিরিক্ত যৌনায়ন নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। তাই নতুন মৌসুমে তিনি ভিন্নভাবে বিষয়টি উপস্থাপনের কথা ভেবেছিলেন।<br>লেভিনসনের ভাষায়, ‘আমি প্রথমে ভাবছিলাম, হয়তো পুরো মৌসুমই এমনভাবে ধারণ করব, যেখানে কোনো নগ্নতা থাকবে না। কিছু দৃশ্য অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।’</p><p>কিন্তু সিডনি সুইনি এ ধারণার সঙ্গে একমত হননি। লেভিনসন বলেন, ‘সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি কি সিরিয়াস? আমি তো একজন অনলিফ্যানসের (প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইট) মডেলের চরিত্রে অভিনয় করছি। আর আপনি বলছেন এসব বিষয় এড়িয়ে যাবেন?” তখন আমি বললাম, ঠিক আছে, তোমার কথায় যুক্তি আছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-10-04/0wjn8jni/2024-03-21t100820z-2144980515-rc2ij6al0x4i-rtrmadp-3-film-immaculate-scaled.webp" /><figcaption>সিডনি সুইনি। রয়টার্স</figcaption></figure><p><strong>সিডনি সম্পর্কে<br></strong>১৯৯৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্পোকেন শহরে জন্ম সিডনি সুইনির। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। পরিবারের সবাই প্রথমে এটিকে গুরুত্ব দেননি। কিংবদন্তির মতো শোনালেও সত্যি, মাত্র ১২ বছর বয়সে অভিনয় শেখার অনুমতি পাওয়ার জন্য তিনি নিজের পরিবারের সামনে একটি পাঁচ বছরের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন। সেখানে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে অভিনয়কে তিনি পেশা হিসেবে নিতে চান। শেষ পর্যন্ত পরিবার রাজি হয়। এরপর শুরু হয় অডিশনের পর অডিশন। হলিউডে সাফল্য তাঁর কাছে সহজে আসেনি। কিশোর বয়সে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন অসংখ্য টেলিভিশন সিরিজে। বড় সুযোগ আসে ২০১৮ সালে। প্রথমে তিনি অভিনয় করেন ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’-এ। এরপর ‘শার্প অবজেক্ট’-এ অভিনয় করে সমালোচকদের নজরে আসেন। তবে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘ইউফোরিয়া’। এই সিরিজে ক্যাসি হাওয়ার্ড চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন সিডনি সুইনি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/ott/iuphoriyyaa-ngn-drshy-niyye-suinir-prshn">ইউফোরিয়া: নগ্ন দৃশ্য নিয়ে সুইনির প্রশ্ন</a></aside><p>কিশোরদের সম্পর্ক, মানসিক সংকট, প্রেম, যৌনতা ও আত্মপরিচয়ের জটিল গল্প নিয়ে নির্মিত সিরিজটি শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। এতে অসংখ্য সাহসী দৃশ্য ছিল, যার মধ্যে সিডনি সুইনির বেশ কয়েকটি নগ্ন দৃশ্যও ছিল। অনেক দর্শক অভিযোগ করেন, সিরিজটিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নগ্নতা দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে সিডনি সুইনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেন, ক্যাসি চরিত্রটির মানসিক ভাঙন ও আত্মসম্মানহীনতার দিক তুলে ধরতে এসব দৃশ্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর মতে, একজন অভিনেত্রীর শরীরকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত আলোচনা হয়, কিন্তু অভিনয় নিয়ে তুলনামূলক কম কথা বলা হয়।</p><p>সিডনি সুইনির ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা হলেই একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে—তিনি কি খুব বেশি নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেন?</p><p>এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুবার বিতর্ক হয়েছে। কেউ বলেন, তিনি সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী। আবার কেউ মনে করেন, হলিউড তাঁকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে যৌন আবেদনময় চরিত্রে ব্যবহার করছে। সিডনি বরাবরই নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি বলেছেন, পুরুষ অভিনেতারা যখন শরীর প্রদর্শন করেন, তখন তা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বড় বিতর্ক হয়ে দাঁড়ায়।<br>সিডনি আরও দাবি করেন, অভিনয়ের সময় তাঁর সীমারেখা স্পষ্ট থাকে এবং কোন দৃশ্যে কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনিই নেন।</p><p><sup>দ্য হলিউড রিপোর্টার, আইএমডিবি ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে</sup></p>]]></content:encoded></item><item><title>ইরানের রাডার স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের</title><link>https://www.prothomalo.com/world/middle-east/trzf11ubxq</link><comments>https://www.prothomalo.com/world/middle-east/trzf11ubxq#comments</comments><guid isPermaLink="false">18c7c8f8-8ce9-4fee-bcd6-afdf7d5b44e3</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:02:35 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:02:35.442Z</atom:updated><atom:author><atom:name>এএফপি </atom:name><atom:uri>/api/author/1427842</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, হরমুজের দিকে ছোড়া ইরানের চারটি ড্রোন  ভূপাতিত করার পর গোরুক ও কাশেম আইল্যান্ডে উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।]]></description><media:keywords>ইরান,হামলা,যুক্তরাষ্ট্র,ডোনাল্ড ট্রাম্প</media:keywords><media:content height="720" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/i4w1hgzl/iran.avif" width="1080"><media:title type="html"><![CDATA[ ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ছবিটি বন্দর আব্বাস সৈকতের কাছে]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/i4w1hgzl/iran.avif?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>মধ্যপ্রাচ্য</category><category>যুক্তরাষ্ট্র</category><content:encoded><![CDATA[ <p>ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে রাডার স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। শুক্রবার এ হামলার কথা জানায় তাঁরা। খবর এএফপির</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের চারটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। ড্রোনগুলো হরমুজের দিকে ছোড়া হয়েছিল। পরে গোরুক ও কাশেম আইল্যান্ডে উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।</p><p>সেন্ট্রাল কমান্ড আরও বলেছে, ইরানের ছোড়া ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক নৌযান চলাচলে হুমকি হয়ে উঠেছিল। আর পরবর্তী হামলা ঠেকাতে রাডার স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে।</p><p>যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সহিংসতার স্থায়ী অবসানের জন্য আলোচনার চেষ্টা সফল হয়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/u9l7p3qtgm">যুদ্ধ নাকি শান্তিচুক্তি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে হাঁটছে</a></aside><p>দুই দেশই শান্তির জন্য দফায় দফায় প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এরপরও দুই পক্ষের নেতারা বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে প্রয়োজন হলে তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও প্রায়ই দুই পক্ষে সংঘাত ঘটেছে।</p>]]></content:encoded></item><item><title>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্র: শঙ্কা না নতুন সম্ভাবনা</title><link>https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/8eto13x0vj</link><comments>https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/8eto13x0vj#comments</comments><guid isPermaLink="false">1d0fdc91-8049-4abe-b4a1-5df14e4bda41</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:01:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:01:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>ফাইজার মো. শাওলীন</atom:name><atom:uri>/api/author/2422403</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রথাগত চাকরি যেমন ডেটা এন্ট্রি ও কাস্টমার সার্ভিসে ঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে ডেটা সায়েন্স ও সাইবার নিরাপত্তার মতো নতুন পেশার সৃষ্টি হচ্ছে।]]></description><media:keywords>দক্ষতা,সাইবার নিরাপত্তা,বিশ্লেষণ,তথ্যপ্রযুক্তি,সম্ভাবনা,সৃজনশীল,কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা</media:keywords><media:content height="768" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-23/pr881dn1/WhatsApp-Image-2026-05-21-at-12.11.26.jpeg" width="1408"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-23/pr881dn1/WhatsApp-Image-2026-05-21-at-12.11.26.jpeg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>খবর</category><content:encoded><![CDATA[ <p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রের চেনা চিত্রকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় গতি কিছুটা ধীর হলেও বাংলাদেশেও এই পরিবর্তনের হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজের গতি বাড়াতে এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে এখন এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ঝুঁকছে। এর ফলে একদিকে যেমন কিছু প্রথাগত চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের পেশা ও দক্ষতার চাহিদা। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, সৃজনশীল খাত, কনটেন্ট রাইটিং, কাস্টমার সার্ভিস ও উৎপাদন খাতে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।</p><p>এমন এক রূপান্তরকালীন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশের কোন খাতগুলো সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে? আর বদলে যাওয়া এই বাজারে টিকে থাকতে পেশাজীবীদেরই–বা কী ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন?</p><a class="cta-anchor" href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/83gsu2n3xh" target="" rel=""><span class="cta-text">আইনি জটিলতায় দ্বিমুখী জট: প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দুই-ই আটকে</span></a><h3>দেশের কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের পরিধি</h3><p>বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যেসব খাতে এআইয়ের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান, তার মধ্যে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, গণমাধ্যম ও কাস্টমার সার্ভিস অন্যতম। মূলত জটিল তথ্য বিশ্লেষণ, নিয়োগপ্রক্রিয়া সংক্ষেপকরণ, জালিয়াতি শনাক্তকরণ, চ্যাটবট পরিচালনা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং কনটেন্ট তৈরির কাজে এই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতেও এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।</p><p>ব্যব্যহৃত টুলগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা ‘চ্যাটজিপিটি’ এ দেশেও সবচেয়ে জনপ্রিয়। কনটেন্ট লেখা, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা, অনুবাদ, কোডিং থেকে শুরু করে নানা কাজে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর পাশাপাশি ডিজাইন ও মার্কেটিং খাতে ক্যানভার এআই ফিচার, অ্যাডোবি ফায়ারফ্লাই এবং মিডজার্নির মতো ভিজ্যুয়াল টুলগুলোর ব্যবহার বাড়ছে।</p><p>তবে অধিকাংশ দেশীয় প্রতিষ্ঠানে এআইয়ের ব্যবহার এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাজার–সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটি ব্যাপক আকার ধারণ করবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় চাকরিবিষয়ক পোর্টাল বিডিজবসের নির্বাহী পরিচালক ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘আমাদের দেশে এআইয়ের প্রভাব মূলত “হোয়াইট কলার” বা দাপ্তরিক চাকরিতে বেশি পড়বে। কারিগরি বা উৎপাদন খাতে এর সরাসরি প্রভাব আপাতত কম। তবে এআইয়ের কারণে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। আমাদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত কারিগরিসহ নতুন নতুন দক্ষতা বৃদ্ধিতে, তাহলে এআই নিয়ে ভীতি কেটে যাবে।’</p><h3>ঝুঁকি বনাম সুযোগ</h3><p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের চাকরি হারানোর শঙ্কা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রথাগত চাকরি কমলেও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে আরও বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেটা এন্ট্রি ও ক্ল্যারিক্যাল কাজ, প্রাথমিক স্তরের কাস্টমার সার্ভিস বা টেলিকলার এবং সাধারণ গ্রাফিক ডিজাইন ও ট্রান্সক্রিপশনের মতো পেশাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অন্যদিকে ডেটা সায়েন্স, এআই ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার নিরাপত্তা, অটোমেশন ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উচ্চতর সৃজনশীল কাজের মতো খাতগুলো তুলনামূলক নিরাপদ এবং উদীয়মান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।</p><p>তবে খোদ চাকরির সংখ্যা কমা-বাড়ার চেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে কাজের ধরনে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে যে কাজ একজন মানুষ একাই করত, এখন সেই কাজের কিছু অংশ করছে এআই, কিছু অংশ মানুষ এবং বাকি অংশ সম্পন্ন হচ্ছে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর টুলসের যৌথ সমন্বয়ে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-23/116u2djp/WhatsApp-Image-2026-05-21-at-12.10.37.jpeg" /></figure><aside><cite>ফাহিম মাশরুর, নির্বাহী পরিচালক, বিডিজবস</cite>আমাদের দেশে এআইয়ের প্রভাব মূলত ‘হোয়াইট কলার’ বা দাপ্তরিক চাকরিতে বেশি পড়বে। কারিগরি বা উৎপাদন খাতে এর সরাসরি প্রভাব আপাতত কম।</aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/90y2qymhup">জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে ৯৬৮ পদে বিশাল নিয়োগ, আবেদন এইচএসসি-এসএসসি পাসেও</a></aside><p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক মনে করেন, পরিবর্তনের এই হাওয়াকে ইতিবাচকভাবে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, এআই এখন এক অনিবার্য বাস্তবতা। একে ভয় না পেয়ে বরং কীভাবে কার্যকর উপায়ে নিজের কাজের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সেই পথ খুঁজতে হবে। পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে এখন একটি সমন্বিত ও জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।</p><aside><cite>মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সদস্য, ইউজিসি  </cite>বাজারমুখী শিক্ষা পরিকল্পনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছুটা পিছিয়ে। তবে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাবিপ্রবি এ বিষয়ে কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।</aside><h3>ভবিষ্যতের বাজারের জন্য যে দক্ষতা জরুরি</h3><p>বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা নির্দিষ্ট কোনো প্রযুক্তিগত জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। প্রায় সব পেশাতেই এখন এআই ব্যবহারের মৌলিক ধারণা ও ডিজিটাল লিটারেসি থাকা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের বাজারে ডেটা বিশ্লেষণ, প্রোগ্রামিং, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি কিছু মানবিক গুণের কদর বাড়বে বহুগুণ। এর মধ্যে বিশেষ করে সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, কার্যকর যোগাযোগ ও দলগত কাজের যোগ্যতা এবং সৃজনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কর্মজীবনের মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে।</p><p>বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে নিয়মিত নতুন দক্ষতা শেখা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হবে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/4tfsmv944w">পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুযোগ, পদ ৩৭</a></aside><h3>দক্ষ জনবল তৈরির চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষাব্যবস্থা</h3><p>চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এখনো স্বতন্ত্রভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক (এআই) পূর্ণাঙ্গ বিভাগ চালু হয়নি। তবে কম্পিউটার সায়েন্স ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনে এআই-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোর্স পড়ানো হচ্ছে। অবশ্য এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে এআই বিভাগ চালু করে সাড়া জাগিয়েছে।</p><p>বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারমুখী শিক্ষা পরিকল্পনায় আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাবিপ্রবি এ বিষয়ে কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিও আমাদের আহ্বান থাকবে, তারা যেন তাদের কারিকুলাম পরিমার্জন করে এআই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।’</p><p>এআই বাংলাদেশের চাকরির বাজারে শুধু ঝুঁকি নয়, বরং বড় ধরনের সুযোগও তৈরি করছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্প খাত ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।</p>]]></content:encoded></item><item><title>প্রাণীদের ভাষা বুঝবে মানুষ, সত্যি না কল্পনা</title><link>https://www.prothomalo.com/technology/artificial-intelligence/668die3stu</link><comments>https://www.prothomalo.com/technology/artificial-intelligence/668die3stu#comments</comments><guid isPermaLink="false">4eb77ce2-06c6-43b2-a9cd-73901c56e923</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>আহসান হাবীব</atom:name><atom:uri>/api/author/1712093</atom:uri></atom:author><description></description><media:keywords>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,ভাষা,গবেষণা,প্রাণি,প্রযুক্তি,এআই,জেমিনি এআই,ওপেন এআই</media:keywords><media:content height="3264" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/m44lmh4h/animal-language.-pexels.jpg" width="3890"><media:title type="html"><![CDATA[ প্রাণীদের ডাকের অর্থ অনুবাদ করে জানাবে এআই]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/m44lmh4h/animal-language.-pexels.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>এআই</category><content:encoded><![CDATA[ <p>মানুষ কি একদিন তিমির সঙ্গে কথোপকথন করতে পারবে? ডলফিনকে জিজ্ঞাসা করতে পারবে, সে কী অনুভব করছে? কিংবা কোনো পাখির ডাকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বার্তা বুঝতে পারবে? দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিষয়টি এখন আর পুরোপুরি কল্পনার জগতে সীমাবদ্ধ নেই। গবেষকেরা বলছেন, এআই প্রাণীদের যোগাযোগব্যবস্থা বিশ্লেষণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, ভবিষ্যতে এআই মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সীমিত পরিসরে হলেও দ্বিমুখী যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।</p><p> বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা দল প্রাণীদের শব্দ, আচরণ ও পারস্পরিক যোগাযোগসংক্রান্ত বিপুল তথ্য বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করছে। এরই মধ্যে কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কভিত্তিক প্রযুক্তি প্রাণীদের এমন সব সংকেত শনাক্ত করতে পারছে, যা মানুষের পক্ষে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে বোঝা প্রায় অসম্ভব।</p><p>সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইঁদুর, ডলফিন, পাখি, তিমি ও কাটলফিশের মতো প্রাণীদের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এআই প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষকেরা প্রাণীদের বিভিন্ন ধরনের ডাক, স্বতন্ত্র কণ্ঠসংকেত ও জটিল যোগাযোগের ধরন বিশ্লেষণ করছেন। এসব সংকেতের অনেকগুলো নির্দিষ্ট তথ্য বা বার্তা বহন করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের একটি গবেষণায় আফ্রিকার স্ট্রাইপড ইঁদুরের ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি শব্দ বিশ্লেষণ করে কয়েক ধরনের স্বতন্ত্র ডাক শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকেরা। একই ধরনের গবেষণা বর্তমানে ডলফিন, তিমি, পাখি ও বিভিন্ন প্রাইমেট প্রাণীর ক্ষেত্রেও চলছে। গবেষকদের মতে, এআইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিপুল তথ্যভান্ডারের মধ্যে এমন ধরন ও সম্পর্ক খুঁজে বের করা, যা মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়। ফলে প্রাণীদের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে।</p><p>গবেষকেরা যন্ত্রশিক্ষাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিমির ‘কোডা’ বা ক্লিকধ্বনি নিয়ে কাজ করছেন। এসব ধ্বনির মধ্যে মানুষের ভাষার মতো কোনো কাঠামো রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখার চেষ্টা চলছে। গবেষকেরা জানতে চাইছেন, এসব সংকেতের মধ্যে শব্দ, উপভাষা, পরিচয়সূচক ধ্বনি বা ব্যাকরণগত নিয়মের মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে কি না। সাম্প্রতিক গবেষণার কিছু ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, তিমির যোগাযোগব্যবস্থা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি জটিল হতে পারে।</p><p>গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, প্রাণীদের যোগাযোগব্যবস্থা বিশ্লেষণ করা আর মানুষের ভাষার মতো করে তা অনুবাদ করা এক বিষয় নয়। কোনো সংকেতের সম্ভাব্য অর্থ শনাক্ত করা গেলেও প্রাণীরা পৃথিবীকে মানুষের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপলব্ধি করে। ফলে একটি প্রজাতির অভিজ্ঞতা, অনুভূতি বা বার্তা অন্য প্রজাতির কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া এখনো বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ। এ কারণেই গবেষকেরা প্রাণীদের ভাষা ‘অনুবাদ’ করার দাবি করার পরিবর্তে তাদের যোগাযোগব্যবস্থার গঠন ও অর্থ বোঝার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।</p><p>সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে</p>]]></content:encoded></item><item><title>নারী অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ অভিবাসন</title><link>https://www.prothomalo.com/roundtable/tzmfgiek8l</link><comments>https://www.prothomalo.com/roundtable/tzmfgiek8l#comments</comments><guid isPermaLink="false">20b42a50-8c37-4814-b222-78af15c093e8</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>প্রথম আলো ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1428114</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ বাদাবন সংঘ ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘নারী অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ অভিবাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ৫ মে ২০২৬ ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে।]]></description><media:keywords>শ্রমিক অধিকার,গোলটেবিল বৈঠক,অভিবাসী,শ্রমিক,নারী</media:keywords><media:content height="2602" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/36ziuuq8/Group-Pic.JPG" width="3841"><media:title type="html"><![CDATA[ ‘নারী অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ অভিবাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/36ziuuq8/Group-Pic.JPG?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>গোলটেবিল</category><content:encoded><![CDATA[ <p>বাদাবন সংঘ ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘নারী অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ অভিবাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ৫ মে ২০২৬ ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে।</p><h3>অংশগ্রহণকারী</h3><p>মো. নুরুল হক এমপি, প্রতিমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; ড. এটিএম মাহবুব-উল করিম, যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (অর্থ ও বাজেট), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড; সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, বিলস; রাজেকুজ্জামান রতন, সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট; ফারজানা শাহনাজ, ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার, রি-ইন্ট্রিগেশন, লেবার মোবিলিটি অ্যান্ড সোশ্যাল ইনক্লুশন, আইওএম; নু–এমং মারমা মং, উপব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ), বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড; রাহনুমা সালাম খান, সিনিয়র ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও); শারমিন ইসলাম, জেন্ডার এক্সপার্ট, ইউএনডিপি বাংলাদেশ;  এস কে মজিবুল হক, পরিচালক, বিএনএসকে;  জাছিয়া খাতুন, পরিচালক, ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন; মেরিনা সুলতানা, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, রামরু; লিপি রহমান, নির্বাহী পরিচালক, বাদাবন সংঘ; মো. হারুন–অর–রশীদ, প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটর, মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম, ব্র্যাক; ফারিহা জেসমিন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, বাদাবন সংঘ; শেখ রোমানা, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন; মাহমুদা সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক, অভিবাসী নারী শ্রমিক ফেডারেশন; আসিফ মুনীর, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ; মোছা. মরিয়ম, সভানেত্রী, অভিবাসী নারী শ্রমিক ফেডারেশন; এবিএম ফরহাদ আল করিম, জেলা প্রকল্প সহযোগী, ইউনাইটেড ন্যাশনস ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড; শাহাজাদী বেগম, উন্নয়ন অধিকারকর্মী। সঞ্চালক: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো।</p><h3>আলোচনা</h3><p><strong>মো. নুরুল হক এমপি</strong></p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/yk6nzdv2/01.-Nurul-Houqe.JPG" /></figure><p>প্রতিমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়</p><p>অভিবাসনের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা বেশি ঘটে। আগে আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল, এখন কিছু দেশের সঙ্গে চুক্তির ফলে মামলা, ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়া, কোরিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার, সিন্ডিকেট, পরীক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় নানা সমস্যা আছে। কোথাও কোথাও অনিয়ম ও অতিরিক্ত খরচের অভিযোগও আসে। আমরা চাই এগুলো কমাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে।</p><p>একই ধরনের প্রশিক্ষণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে হচ্ছে—এটা সমন্বয় করা দরকার। যারাই প্রশিক্ষণ দিক, এটাকে একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা জরুরি। যাতে প্রশিক্ষণগুলো কার্যকর হয়।</p><p>কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোও (টিটিসি) আধুনিকরণে মনোযোগ দেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণে অনলাইন সেবা চালু হয়েছে, যাতে ধীরে ধীরে দালাল–নির্ভরতা কমে এবং মানুষ সহজে সেবা পায়।</p><p>নারী শ্রমিকদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠানো, বিদেশে তাঁদের সুরক্ষায় আইনি ফার্ম নিয়োগ, ডিজিটাল ব্যাংকিং–সুবিধা নিশ্চিত ও বিদেশফেরত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।</p><p>বিদেশ গমনে ইচ্ছুক নারীদের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে জেলা পর্যায়ে জনশক্তি অফিস, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং ওয়েলফেয়ার সেন্টারগুলোকে একই ভবনে নিয়ে এসে ওয়ান–স্টপ সার্ভিস চালু, প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, আদর্শ অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ, ভালো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চিহ্নিত করতে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করা হবে।</p><h3>ড. এ টি এম মাহবুব-উল করিম</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/fdqua2rr/02.-Mahbub.JPG" /></figure><p>যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (অর্থ ও বাজেট), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড</p><p>ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর থেকেই একজন নারী বা পুরুষ কর্মীর পুরো কল্যাণের দায়িত্ব ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড গ্রহণ করে। এমনকি দেশে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও আমাদের সহায়তার আওতায় থাকেন। বিদেশে পৌঁছানোর পর সেখানে কেউ অসুস্থ হলে, জেলে গেলে বা বিপদে পড়লে আমাদের লেবার উইংয়ের মাধ্যমে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়।</p><p>নথিভুক্ত বা নথিবিহীন—সবাই ৪০০ টাকা দিয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে পারেন। দেশে ফেরার এক বছরের মধ্যে অসুস্থতার কারণে আবেদন করলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা এককালীন সহায়তা দেওয়া হয়। এক পরিবারে সর্বোচ্চ দুজন পর্যন্ত প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ সাত বছর ভাতা দেওয়া হয়।</p><p>বিদেশে আহত হলে বা অঙ্গহানি হলে ৫০০ টাকা প্রিমিয়ামের বিপরীতে সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। জীবনবিমার আওতায় এক হাজার টাকার পাঁচ বছরের পলিসিও রয়েছে। মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা দিয়ে মেম্বারশিপ থাকলে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে মরদেহ দেশে এনে দাফন ও পরিবহন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত তিন লাখ টাকা ওয়ারিশদের দেওয়া হয়, আর বিমা থাকলে আরও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। বিদেশি পাওনা আদায়ে ১২টি দেশে ২২টি ল ফার্মের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়।</p><p>রিইন্টিগ্রেশন নীতির আওতায় এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নারীদের মধ্যে ৩৩ জন ড্রাইভিংয়ে আরপিএল সম্পন্ন করেছেন। শুধু গার্মেন্টস বা কেয়ারগিভিং নয়, কনস্ট্রাকশন, ইলেকট্রিক ও ওয়েল্ডিং খাতে নারীদের জন্যও বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিন থেকে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিলে দক্ষ হয়ে বিদেশে যাওয়া সম্ভব।</p><h3>সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/88i2d4xp/03.-Sultan.JPG" /></figure><p>নির্বাহী পরিচালক, বিলস</p><p>এখনই সময় অভিবাসন ও অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক নীতিকাঠামো তৈরি করার। সবাই মিলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা নির্ধারণ করা যেতে পারে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে ও জবাবদিহির জায়গা তৈরি করতে হবে।</p><p>সরকারের নিবাচনী ইশতেহারে সংস্কারের একটি বড় জায়গা আছে। ফলে শ্রম সংস্কার কমিশনের অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের টিম যে সুপারিশ দিয়েছে সেটি বিবেচনায় নিয়ে মৌলিক সংস্কারের পথে অগ্রসর হওয়া যায়। এর মাধ্যমে সরকারের জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং জবাবদিহিতার কাঠামোও স্পষ্ট হবে।</p><p>শ্রমিকদের মর্যাদার বিষয়টি আগে ততটা গুরুত্ব পেত না। শুধু নিরাপত্তা, মজুরি বা খরচ কমানোর কথাই বেশি বলা হতো। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে, মর্যাদা হারানোর বিষয়টি মূল সমস্যা। আমরা যদি বাজারে যাওয়ার আগে দর–কষাকষির মাধ্যমে মূল্য কমানোর প্রবণতা বন্ধ না করি, এবং রাষ্ট্র যদি ন্যূনতম মানদণ্ড ঠিক না করে, তাহলে মর্যাদা প্রতিষ্ঠা কঠিন।</p><p>নেপালেও গৃহকর্মীদের জন্য আবাসন, পরিবহন ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে সরকার। এতে শ্রমিকেরা বুঝেছে যে তাদের পাশে রাষ্ট্র আছে, ফলে নির্যাতনও কমেছে। ঢাকায়ও যদি গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু করা যায়, তাহলে পরিবর্তন আসবে।</p><p>সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংগঠিত হওয়ার অধিকার। অভিবাসী শ্রমিকেরা দেশে ফিরে অনেক সময় সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই অভিবাসী শ্রমিকদের আইনেই সংগঠন করার, প্রতিনিধিত্ব করার এবং কমিটিতে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকা দরকার। এতে তারা নিজেদের কথা বলতে পারবে, একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হবে এবং রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতাও বাড়বে।</p><h3>রাজেকুজ্জামান রতন</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/n5lnc496/04.-Rajekuzzman.JPG" /></figure><p>সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট</p><p>প্রবাসী নারী শ্রমিকদের বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হিসেবে সামনে এসেছে। আমরা এত দিন অভিবাসন ব্যয়, হয়রানি বা দক্ষতার ঘাটতি নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু এখন কাজের ধরন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এই কাজের রূপান্তর অনুযায়ী নারী শ্রমিকদের নতুন দক্ষতায় প্রস্তুত করা জরুরি। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কত দিন শুধু গৃহকর্মী সরবরাহকারী দেশ হয়ে থাকব? কেয়ারগিভারসহ স্বাস্থ্যসেবা, হসপিটালিটি ও অন্যান্য নতুন খাতে প্রবেশের জন্য এখনই পরিকল্পনা নিতে হবে।</p><p>একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি শ্রমবাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী এক বছরে কোন ধরনের নারী শ্রমিকের চাহিদা বাড়বে, সেই বিষয়ে আগাম বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি প্রয়োজন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাঝুঁকি ও নিপীড়নের মাত্রা বাড়তে পারে, তাই সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।</p><p>আরেকটি বড় সমস্যা হলো আস্থার সংকট। নারীরা কষ্ট করে আয় করলেও অনেক সময় সেই অর্থ তাঁদের নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, ফলে তাঁরা দেশে ফিরে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়ে যান। তাই উপার্জিত টাকার ওপর নারীর পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি; এ ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা তাঁদের প্রশিক্ষিত করতে হবে।</p><p>অভিবাসন ব্যয় কমাতে রিক্রুটিং এজেন্সি, সাব-এজেন্টের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তা ছাড়া ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের জন্য বিনিয়োগ সুরক্ষা, ছোট ব্যবসায় সহায়তা, কার্যকর ডেটাবেজ, থানাভিত্তিক সহায়তা ডেস্ক এবং হয়রানি থেকে রক্ষা ব্যবস্থা দরকার। কাজের পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে প্রশিক্ষণ, আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।</p><h3>ফারজানা শাহনাজ</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/yeb4byzy/05.Farjana.JPG" /></figure><p>ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার, রি-ইন্ট্রিগেশন, লেবার মোবিলিটি অ্যান্ড সোশ্যাল ইনক্লুশন, আইওএম</p><p>অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা শুধু তাঁদের গন্তব্য দেশে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো প্রক্রিয়ায় তা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা অভিবাসনের পুরো চক্র ধরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজ করে। সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও অভিবাসী কমিউনিটির সঙ্গে আমরা সরাসরি কাজ করি।</p><p>সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে গ্রাম পর্যায়ের মানুষ তথ্য পেতে দালালের ওপর নির্ভর করে। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বিএমইটির জেলা অফিসগুলোকে গ্রাম পর্যায়ে তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।</p><p>ইতালির সরকারের অর্থায়নে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) মাধ্যমে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউডিসি সরকারের প্রান্তিক পর্যায়ের সেবাকেন্দ্র, এর মাধ্যমে অভিবাসনের আগের প্রস্তুতি বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে।</p><p>আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষকে বুঝতে হবে—বিদেশ যেতে কত খরচ হবে, কত আয় হবে, কত দিন থাকবে আর শেষ পর্যন্ত লাভ কী থাকবে। কারণ, অনেক সময় বেশি খরচে ঋণ করে যাওয়া হয় আর আয় প্রায় ঋণ পরিশোধ করতেই শেষ হয়ে যায়। তাই রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা খুব জরুরি। সরকার যে প্রি–ডিপারচার মডিউল চালু করেছে, তা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।</p><p>এ ছাড়া অভিবাসনের শুরু থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত মনিটরিং শক্তিশালী করা; নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।</p><h3>নু-এমং মারমা মং</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/iuxyu2bt/06.-Nu-a-Mong.JPG" /></figure><p>উপব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ)</p><p>বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড</p><p>বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ১৯৮৪ সাল থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। আমাদের মূল কাজ হলো নৈতিক, নিরাপদ ও দক্ষ অভিবাসন নিশ্চিত করা।</p><p>প্রক্রিয়াটি শুরু হয় যখন সরকার টু সরকার চুক্তি হয় বা নিয়োগকর্তা যখন আমাদের মাধ্যমে লোক নিয়োগের দায়িত্ব দেন। নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাহিদা পাওয়া পর বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত লেবার উইংয়ের কর্মকর্তারা সেটি যাচাই করেন। সবকিছু সন্তোষজনক হলে সেই তথ্য বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়, যেখানে নিয়োগকর্তা বা তাঁদের স্থানীয় প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। পরীক্ষার পর বিদেশ যাওয়ার সব আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা সহায়তা করি।</p><p>২০১০ সাল থেকে আমরা জর্ডানের গার্মেন্টস খাতে নারী কর্মী পাঠাচ্ছি সম্পূর্ণ বিনা খরচে। মেডিক্যাল, প্রি–ডিপারচার ট্রেনিং থেকে শুরু করে বিমানবন্দরে যাওয়া পর্যন্ত সব দায়িত্ব আমাদের কর্মকর্তারা পালন করেন।</p><p>বোয়েসেলের মাধ্যমে যাঁরা যান, তাঁদের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রতিটি দেশের নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে জর্ডানের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা হয়। আমরা তাঁদের প্রি-ডিপারচার ট্রেনিং দিই, যেখানে মালিকের সঙ্গে আচরণ, জরুরি যোগাযোগ, এমনকি বিমানযাত্রার নিয়ম পর্যন্ত শেখানো হয়। এতে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে বিদেশ যান এবং অনেকে সফলভাবে দেশে ফিরে আবারও বিদেশে যান।</p><h3>রাহনুমা সালাম খান</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/v25hl51v/07.-Rahnuma.JPG" /></figure><p>সিনিয়র ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)</p><p>আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বিদেশে শ্রমিকদের ন্যায্য নিয়োগ ও মানসম্মত ও নিরাপদ কাজ নিশ্চিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা তৈরিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক মান ও অধিকারভিত্তিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা যায়।</p><p>সরকার ২০২৫ সালের এক নীতিমালায় অভিবাসন ব্যয় কমাতে রিক্রুটিং এজেন্সি, সাব-এজেন্টের দায়িত্ব ও জবাবদিহি কী হবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এখনো এই বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ শুরু হয়নি।</p><p>দেশের ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র (টিটিসি) নিয়ে একটি মূল্যায়নে দেখা গেছে, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীন টিটিসিগুলোর প্রশিক্ষণ অনেক ক্ষেত্রে বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই টিটিসি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার দরকার।</p><p>নারীদের জন্য আলাদা টিটিসি থাকলেও সেগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। ২০১৬ সালের নীতিতে বলা হয়েছিল শ্রম অধিকার সুরক্ষিত হয় এমন নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে হবে, কিন্তু তা বাস্তবায়নের কোনো ধরনের স্পষ্ট রোডম্যাপ নেই। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যেন সব ক্ষেত্রে জেন্ডার সংবেদনশীল মানসিকতার মাধ্যমে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।</p><h3>শারমিন ইসলাম</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/0sw0hnxi/08.-Sharmin.JPG" /></figure><p>জেন্ডার এক্সপার্ট, ইউএনডিপি বাংলাদেশ</p><p>একজন নারী যখন প্রথমবার দেশের বাইরে যান, তখন তাঁর যাত্রাটা শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়, একই সঙ্গে মানসিক ও সামাজিক বড় ট্রমার অভিজ্ঞতা। এই যাত্রার বিভিন্ন ধাপে তাঁকে হয়রানি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়।</p><p>বিমানবন্দরে প্রায়ই দেখা যায়, নারী শ্রমিকেরা বিভ্রান্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের করণীয় সম্পর্কে ধারণা থাকে না। একই সমস্যা পুরুষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও হয়। তিন দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে একজন মানুষকে বিদেশে পাঠানো হয়, এই সময়ের মধ্যে ভাষা শেখা, সংস্কৃতি বোঝা বা কাজের বাস্তব দক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়।</p><p>বিদেশে কাজের ধরনও এখন পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে শুধু গৃহকর্মী বা কেয়ারগিভার নয়, বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের দক্ষতা প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নারী শ্রমিকদের সেই প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে দেওয়া হয় না।</p><p>বিদেশে কাজ শেষে ফিরে আসার পর তাঁদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেতিবাচক হয়, তাঁরা সামাজিক কুসংস্কার ও অবমূল্যায়নের শিকার হন। পরিবারের মধ্যেও তাঁকে ভুলভাবে দেখা হয়, যা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র যদি শ্রমিকদের সম্মান দেয়, তাহলে সমাজও তা অনুসরণ করবে। তাই তাঁদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।</p><h3>এস কে মজিবুল হক</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/avsf2ltg/09.-Mojibul.JPG" /></figure><p>পরিচালক, বিএনএসকে</p><p>অভিবাসনে আগ্রহী নারীরা সঠিকভাবে সহায়তার অভাবে বিদেশে কাজের জায়গা তৈরি করতে পারেন না। অধিকাংশ নারী শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টার বদলে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। ফিলিপাইনের নারীরা হলে নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করতেন না, উপরন্তু প্রতিবাদ করতেন, যা আমরা পারি না। যদি জায়গাগুলোতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব দেশে আমরা কর্মী পাঠাই সেই দেশের প্রবাসী কমিউনিটিকে যুক্ত করতে পারি। তাদের মাধ্যমে মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে ঘরের ভেতরে থাকা নারী কর্মীদেরও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যমে যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে মনিটর না করা হয় তাহলে দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্টদের ভুয়া প্রচারণায় কেউ ফাঁদে পড়বে না। নারী অভিবাসী কর্মীদের সেবাব্যবস্থাকে কমিউনিটি, সরকারি সব পর্যায়েই নারীবান্ধব করা দরকার। বিএমইটির অন্য সেবাকেন্দ্রগুলোতে সেবা থাকলেও তা আরও নারীবান্ধব হতে হবে। ডেমো অফিস, টিটিসি ও প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রে নারীরা এসে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না তাই সেসব জায়গায় নারীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে হবে।</p><h3>জাছিয়া খাতুন</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/0fquzqi4/10.-Jasiya.JPG" /></figure><p>পরিচালক, ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন</p><p>ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ৮ বছরে প্রায় ৭৯৯ থেকে ৮০০ জন নারী অভিবাসী মৃত্যুবরণ করে দেশে ফিরেছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বলা হয় হার্ট অ্যাটাক বা শারীরিক অসুস্থতা, কখনো আত্মহত্যা। কিন্তু সঠিক কারণটি আমরা জানি না। প্রতিটি মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা রাষ্ট্রের অধিকার ও দায়িত্ব।</p><p>জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি নারী বিদেশে কর্মরত থাকলেও গত কয়েক বছরে নারী অভিবাসনের সংখ্যা কমেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা যায়, নতুন শ্রমবাজারের ঘাটতি ও নারীবান্ধব কাজের পরিবেশ অপ্রতুল। পাশাপাশি শারীরিক, মানসিক, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে।</p><p>মধ্যপ্রাচ্যে যেসব কর্মী যাচ্ছেন, সেখানে নিয়োগদাতাদের তালিকা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ নিয়োগদাতাদের কালো তালিকাভুক্ত করে নারীদের সেখানে পাঠানো বন্ধ করতে হবে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতেও এই সুরক্ষা জোরালোভাবে আনতে বর্তমানে মৃত্যু বা স্থায়ী ক্ষতির ক্ষতিপূরণ থাকলেও জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার জন্য ইনস্যুরেন্সর ব্যবস্থা করতে হবে।</p><h3>মেরিনা সুলতানা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/zh7xh66f/11.-Merina.JPG" /></figure><p>প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, রামরু</p><p>বর্তমানে মোট অভিবাসনের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ নারী কর্মী যাচ্ছেন। কিন্তু বারবারই দেখা যাচ্ছে, নারীরা সুরক্ষার বাইরে থাকছেন। আমার দৃষ্টিতে এটি কেবল ব্যক্তিগত বা সামাজিক বিষয় নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও যুক্ত।</p><p>নারীর মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রে তাঁর সম্মান নিশ্চিত না হলে নিরাপদ অভিবাসন সম্ভব নয়। আমরা এখনো নারীকে শুধু শ্রমিক হিসেবে দেখি। এ কারণেই হংকং বা সিঙ্গাপুরের মতো বাজার ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কেয়ারগিভারের মতো নতুন বাজার তৈরি করতেও ব্যর্থ হচ্ছি।</p><p>রামরুর পক্ষ থেকে আমরা সাব–এজেন্ট রেগুলেশন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। আমরা সরকারকে সহায়তা করে নিয়ম প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছি, যা পরে আইনগতভাবে সাব–এজেন্টদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এখনো এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। একইভাবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিব্যবস্থার উন্নয়নেও আমরা কাজ করেছি, যাতে বিএমইটির সালিশি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়। কারণ, নারীরাই এখানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।</p><p>সাব–এজেন্ট ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিব্যবস্থার কার্যকারিতা যেন গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিং, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নারীর সুরক্ষায় আমরা অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগোতে পারব।</p><h3>লিপি রহমান</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/t5gecbcd/12.-Lipi.JPG" /></figure><p>নির্বাহী পরিচালক, বাদাবন সংঘ</p><p>আমাদের সংগঠন ‘বাদাবন সংঘ’ নারী অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করি। আমাদের যাত্রা শুরু ২০১৬ সালে। বাদাবন নামটি সুন্দরবন থেকে নেওয়া, স্থানীয়ভাবে যাকে ‘বাদাবন’ বলা হয়। প্রথমে আমরা নারীদের ভূমি অধিকার নিয়ে কাজ করি, পরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীদের অধিকার কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নিয়ে কাজ করি। ২০১৬ সালে শুরু করলেও আমরা ২০১৮-১৯ সালের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হই। তখন আমরা নারী অভিবাসী শ্রমিকদের পুনঃএকত্রীকরণ নিয়ে একটি গবেষণামূলক কাজ পাই। সেখানে কাজ করতে গিয়ে আমাদের আগ্রহ আরও বাড়ে। শুধু নারী নয়, সব অভিবাসী শ্রমিকই অধিকার থেকে বঞ্চিত।</p><p>আমাদের সংগঠন ছয়টি বিষয়ে কাজ করে, বিশেষত নারীদের অর্থনৈতিক অধিকার। ২০২০ সালে ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় কোভিডের সময় দেশে ফেরা নারী শ্রমিকদের নিয়ে কেরানীগঞ্জে কাজ করি।</p><p>পরবর্তী সময়ে ২০২৪-২৫ সালে ছয় জেলায় নারী নেতৃত্বে ফোরাম গঠন করি—কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও পাবনায়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বড় পরিসরে ফোরাম গঠন করি এবং নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো শুনি। আমরা চাই এই কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি হোক।</p><h3>মো. হারুন–অর–রশীদ</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/jfbebfm2/13.-Harun-or-Rashid.JPG" /></figure><p>প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর, মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম, ব্র্যাক</p><p>বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অভিবাসন বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কথা বলতে চাই আর তা হলো অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার। নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারলে রাষ্ট্রের মর্যাদাও বাড়ে। রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকরা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, তাদের মর্যাদা রক্ষায় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করে, তাহলে রাষ্ট্র আরও শক্তিশালী হয়। শুধু রেমিট্যান্স বা সংখ্যার দিকে তাকালে প্রকৃত সুরক্ষা হারিয়ে যায়।</p><p>আমাদের ৪২টি দেশের কাজের অভিজ্ঞতায় দেখি, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো তাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় অনেক এগিয়ে গেছে। তারা প্রয়োজনে শ্রমিক পাঠানোও বন্ধ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সেই অবস্থায় যেতে পারেনি। অভিবাসনসংক্রান্ত অনেক ধরনের সমস্যা এখনো রয়ে গেছে, বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে।</p><p>আমরা এখনো দুর্বল ডেটাবেজ, কম প্রশিক্ষণ ও অনিয়মপূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে শ্রমিক পাঠাই। ফলে মর্যাদাপূর্ণ মাইগ্রেশন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এখন সময় এসেছে শুধু শ্রমিক পাঠানো নয়, দক্ষতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে নতুন নীতি গড়ার।</p><h3>ফারিহা জেসমিন</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/r6wgdpro/14.-Fariha.JPG" /></figure><p>প্রোগ্রাম ম্যানেজার, বাদাবন সংঘ</p><p>অভিবাসন খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং এই খাতে নারীদের অংশগ্রহণ গত দুই দশকে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। বৈশ্বিক শ্রমবাজারে গৃহভিত্তিক সেবা এবং নিম্ন ও মধ্যদক্ষতার শ্রমচাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশি নারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১০ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি নারী বিদেশে গেছেন এবং এ প্রবণতা এখনো ঊর্ধ্বমুখী।</p><p>বাদাবন সংঘের ২০২৫ সালের গবেষণায় উঠে আসে, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা ও পাবনায় ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী কোনো আয়ের উৎস ছাড়াই অভিবাসনে গেছেন, যা বাধ্যতামূলক অভিবাসন নির্দেশ করে। অনেক নারী উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছেন বা সম্পদ বিক্রি করেছেন, ফলে ঋণনির্ভর চক্র তৈরি হয়েছে। বিদেশে তাঁরা কম বেতন, পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ হারানো, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও নির্যাতনের শিকার হন।</p><p>সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও কাফালা ব্যবস্থা, দালাল সিন্ডিকেট ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে ঝুঁকি রয়ে গেছে। তাই কাফালা সংস্কার, ডিজিটাল মজুরি সুরক্ষা, দ্রুত শ্রম আদালত, নিরাপদ আবাসন ও পুনর্বাসন নীতি জরুরি।</p><h3>শেখ রোমানা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/ru7qo51l/15.-Romana.JPG" /></figure><p>সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন</p><p>অনেক উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রয়োগের সময় নারী অভিবাসী বা পুরুষ অভিবাসী কারও ক্ষেত্রেই কোনো পদক্ষেপ ঠিকভাবে কার্যকর হয় না। তাঁরা দেশে ও বিদেশে নির্যাতনের শিকার হন, এমনকি দেশে ফিরে এসেও সেই নির্যাতনের ছাপ বহন করেন। বিদেশফেরত অভিবাসীদের জন্য পুনর্বাসনসহায়তা থাকলেও কতজন সত্যিকারে পুনর্বাসন পাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রায় ২ হাজার ২০০ এজেন্সির মধ্যে ১ হাজার ১০০টি বৈধ হলেও এথিক্যাল রিক্রুটমেন্ট এখনো বাস্তব হয়নি।</p><p>বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে উঠান বৈঠক করি, প্রি-ডিপারচার ট্রেনিং দিই; যেখানে টাকা রাখা, দুটি অ্যাকাউন্ট খোলা—এসব শেখাই। আমাদের লক্ষ্য, ফিরে আসা কর্মীরা যেন অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।</p><p>আমাদের অনেক বোন বিদেশে নির্যাতিত হয়ে সন্তানসহ দেশে ফেরেন। সেই সন্তানের দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। দূতাবাসে জনবল কম, তাই শক্ত মনিটরিং দরকার। সময় এসেছে এই খাতকে সত্যিকারের নিরাপদ ও মানসম্মত করার।</p><h3>মাহমুদা সুলতানা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/lr75hsas/16.-Mahmuda.JPG" /></figure><p>সাধারণ সম্পাদক, অভিবাসী নারী শ্রমিক ফেডারেশন</p><p>আমরা অনেকেই নিজের ইচ্ছায় বিদেশে যাই না। পারিবারিক চাপ বা পরিস্থিতির কারণে শ্রমিক হিসেবে যেতে বাধ্য হই। ফলে মানসিক প্রস্তুতি কিংবা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ—কিছুই আমাদের থাকে না। বিদেশগমনের আগে জেলা কর্মসংস্থান অফিসে তিন দিনের একটি বেসিক ট্রেনিং দেওয়া হয়। সেখানে মূলত ভাষার কিছু প্রাথমিক ধারণা, সংস্কৃতি ও নিয়মকানুন শেখানো হলেও কাজের বাস্তবতা, ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি নিয়ে গভীর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না।</p><p>যদি আগে থেকেই আমাদের দক্ষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো এবং বিদেশে কোনো ধরনের হয়রানি হলে সাহায্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিংবা আইনি সহায়তার বিষয়ে অজ্ঞতা না থাকত, সে ক্ষেত্রে আমাদের অভিবাসন আরও নিরাপদ ও সফল হতো। বিদেশে গিয়ে হয়রানি ও নির্যাতনের পর দেশে ফিরলেও আমরা তেমন কোনো পুনর্বাসনসহায়তা পাই না। পরিবার ও সমাজে মানিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। বিশেষত ৪৫–৫০ বছর বয়সী যাঁরা দেশে ফিরে আসেন, তাঁদের করুণ অবস্থা হয়। তাই ফেরত আসা নারী শ্রমিকদের জন্য সরকারি কার্ড বা ভাতার মতো একটি কাঠামো থাকা দরকার।</p><h3>সুপারিশ:</h3><ul><li><p>অভিবাসনের পুরো চক্র মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ অভিবাসন নীতি কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।</p></li><li><p> কাজের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও বাজারভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।</p></li><li><p> কেয়ারগিভার ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা, কনস্ট্রাকশন, ইলেকট্রিক, ওয়েল্ডিংসহ নতুন খাতে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।</p></li><li><p>রিক্রুটিং এজেন্সি ও সাব-এজেন্টদের জন্য কঠোর লাইসেন্সিং, গ্রেডিং ও জবাবদিহির ব্যবস্থা চালু করা।</p></li><li><p>নারীদের উপার্জনের ওপর পূর্ণ আর্থিক অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।</p></li><li><p>অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করে নারী–পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণ।</p></li></ul>]]></content:encoded></item><item><title>মেসিরা বিশ্বকাপ জেতার পর গত চার বছরে ফুটবল দুনিয়ায় কী পরিবর্তন ঘটেছে</title><link>https://www.prothomalo.com/sports/football/thilvr8r4q</link><comments>https://www.prothomalo.com/sports/football/thilvr8r4q#comments</comments><guid isPermaLink="false">4b9617e1-2489-43f0-9bf0-b44d2361e4c4</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>খেলা ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1427550</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর যারা ফুটবলে খুব একটা মনোযোগ দেননি, তারা গত চার বছরে কী কী ঘটেছে জানলে চমকে উঠতে পারেন। ]]></description><media:keywords>ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো,মেসি,নেইমার,ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬,কাতার বিশ্বকাপ ২০২২</media:keywords><media:content height="1440" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/xn823bcl/2022-12-18T193626Z1171298463UP1EICI1IGONYRTRMADP3SOCCER-WORLDCUP-ARG-FRA-REPORT.JPG" width="2153"><media:title type="html"><![CDATA[ কাতারের লুসাইলে ট্রফি নিয়ে মেসিদের উৎসব]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/xn823bcl/2022-12-18T193626Z1171298463UP1EICI1IGONYRTRMADP3SOCCER-WORLDCUP-ARG-FRA-REPORT.JPG?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>ফুটবল</category><content:encoded><![CDATA[ <p>২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স মহাকাব্যিক ফাইনালই হয়তো ছিল অনেকের শেষবার চোখ ভরে ফুটবল দেখা। এরপর কেটে গেছে প্রায় চার বছর। দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। আবারও ফুটবলের চেনা উন্মাদনায় ডুব দেওয়ার আগে পেছনে ফিরে তাকালে অনেকেই হয়তো চমকে উঠবেন। কারণ, এই চার বছরে ফুটবলের চেনা মানচিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। কারও ক্যারিয়ার শিখরে উঠেছে, আবার কেউ পড়ে গেছেন গভীর খাদে।</p><p>আরেকটি বিশ্বকাপের রোমাঞ্চে গা ভাসানোর আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক লুসাইল থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই দীর্ঘ যাত্রায় ঠিক কী কী বদলে গেল ফুটবল মানচিত্রে।</p><h3>মেসির মায়ামি অধ্যায়</h3><p>ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ জেতার পর মেসি ২০২২-২৩ মৌসুমের বাকি সময় কাটান পিএসজিতে। এরপর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়। ৩৬ বছর বয়সে সাতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের ছেড়ে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয় এই দলবদল।</p><p>কিন্তু বয়স যেন মেসিকে থামাতে পারেনি। মায়ামির হয়ে ১০৪ ম্যাচে তিনি করেছেন ৯০ গোল। শুধু তা–ই নয়, ক্লাবটির ইতিহাসের প্রথম তিনটি বড় শিরোপাও এসেছে তাঁর নেতৃত্বে—২০২৩ সালের লিগস কাপ, ২০২৪ সালের সাপোর্টার্স শিল্ড এবং ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ।</p><p>এর সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের সুবাদে হাতে তুলেছেন ক্যারিয়ারের অষ্টম ব্যালন ডি’অরও।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-09/dfa636e7-84a1-40d6-8997-064fd1e0f9c0/580419_01_02.jpg" /><figcaption>পিএসজি ছেড়ে মেসি এখন ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন</figcaption></figure><h3>রিয়ালে এমবাপ্পে, ইউরোপের সেরা পিএসজি</h3><p>বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা কিলিয়ান এমবাপ্পে ২০২৪ সালের জুনে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। অর্ধযুগ ধরে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, তাঁকে নিতে চেয়েছিল রিয়ালও। নানা কারণে সেটি বিলম্বিত হলেও শেষমেশ দুই পক্ষেরই আশা পূরণ হয়েছে। তবে কে জানত, এরপর এমবাপ্পে, রিয়ালের হতাশার সময় আসবে। গত দুই মৌসুমে রিয়াল কোনো ট্রফিই জিততে পারেনি। আর যে পিএসজিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারছেন না বলে এমবাপ্পে ক্লাব ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন, সেই দলটিই টানা দুই বছর ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।</p><h3>মেসির উত্তরসূরি হিসেবে আবির্ভাব ইয়ামালের</h3><p>অনেক দিন ধরেই ইউরোপীয় ফুটবল নতুন এক বিস্ময়বালকের অপেক্ষায় ছিল। মনে হচ্ছিল, সেই জায়গা হয়তো এমবাপ্পের দখলেই থাকবে। কিন্তু ২০২৩ সালের এপ্রিলে বার্সেলোনার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর সব হিসাব পাল্টে দেন। নাম লামিনে ইয়ামাল।</p><p>এখন ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গারকে অনেকেই মেসির উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। ইতিমধ্যে বার্সেলোনার হয়ে তিনটি লা লিগা জিতেছেন। স্পেনকে এনে দিয়েছেন ২০২৪ ইউরোর শিরোপা। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরে রানার্সআপ হয়েছেন ইয়ামাল। তাঁর উল্কার গতির উত্থান দেখে অনেকেরই বিশ্বাস, ব্যালন ডি’অর জেতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছে স্পেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-23/9ph7w4cx/2026-04-11T170628Z137715417UP1EM4B1BIQRRRTRMADP3SOCCER-SPAIN-BAR-ESP.JPG" /><figcaption>ইয়ামালকে বিস্ময় বালক হিসেবে খুঁজে পেয়েছে ফুটবল</figcaption></figure><h3>প্রায় শিরোপাহীন রোনালদো</h3><p>২০২২ বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সৌদি আরব যাত্রা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে তিনি যোগ দেন আল নাসরে। সৌদি প্রো লিগে যোগ দেওয়া প্রথম সুপারস্টারও ছিলেন তিনি। পরে তাঁর পথ ধরে নেইমার, করিম বেনজেমা, সাদিও মানেসহ অনেকেই সৌদি আরবে গেছেন।</p><p>তবে ফুটবলের নতুন দিগন্ত প্রসারণে ও প্রচারণায় বড় ভূমিকা রাখলেও রোনালদো প্রায় শিরোপাহীনই থেকে যাচ্ছিলেন। কাতার বিশ্বকাপের পর পুরোটা সময় সৌদির লিগে থেকে শুধু সর্বশেষ মৌসুমেই আল নাসরের হয়ে লিগ মৌসুম জিততে পেরেছেন। এর আগে তাঁর সর্বশেষ বড় ট্রফি ছিল ২০২০-২১ মৌসুমে জুভেন্টাসের হয়ে ইতালিয়ান কাপ। রোনালদোর চোখ এখন ১০০০ ক্যারিয়ার গোলে। বিশ্বকাপের আগে তাঁর গোলসংখ্যা ৯৭৩।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-09-15/ixo2cpef/35937058-D8-B9-D8-A7-D9-85-D8-B1-D8-AD-D8-B3-D9-8A-D9-86-7CAmerHossain20250914180550.webp" /><figcaption>আল নাসরে খেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো</figcaption></figure><h3>নেইমারের পতনের গল্প</h3><p>মেসি ও রোনালদো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের লিগকে দুনিয়ায় পরিচিত করাতে ভূমিকা রেখেছেন, নিয়মিত করেছেন গোলও—তখন নেইমার বলতে গেলে কিছুই করেননি। ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে চোট আর ফর্মহীনতার কারণে মাঠের বাইরেই বেশি ছিলেন। গত সাড়ে তিন বছরে তিনি ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে খেলেছেন মাত্র ৬৩ ম্যাচ। </p><p>২০২৩ সালের আগস্টে যোগ দিয়েছিলেন সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে। কিন্তু চোটের কারণে দেড় বছরে খেলতে পেরেছেন মোটে ৭ ম্যাচ। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ফিরে যান শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। সেখানে কিছুটা নিয়মিত খেলে জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে রাজি করাতে সক্ষম হন যে তিনি এখনো ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-04/87429865-c78e-4bb3-86bd-5d439b6bf625/810209_01_02.jpg" /><figcaption>নেইমার বেশির ভাগ সময় ছিলেন মাঠের বাইরে</figcaption></figure><h3>নতুন দুই ব্যালন ডি’অর জয়ী</h3><p>২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর প্রায় পুরোপুরি মেসি ও রোনালদোর দখলে ছিল। এই সময়ের মধ্যে মাত্র দুবার অন্য কেউ পুরস্কারটি জিততে পেরেছিলেন। কিন্তু দুই মহা তারকার ক্যারিয়ার যখন শেষ অধ্যায়ে, তখন নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটেছে। ২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি ব্যালন ডি’অর জেতেন। আর পরের বছর পুরস্কারটি হাতে তোলেন পিএসজির ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে।</p><h3>হ্যারি কেইনের হাতে ট্রফি উঠেছে</h3><p>টটেনহামের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও ১৩ বছরে কোনো ট্রফি জিততে পারেননি হ্যারি কেইন। ২০২৩ সালে ইংলিশ এই স্ট্রাইকার যোগ দেন বায়ার্ন মিউনিখে। জার্মান ক্লাবটিতে গত তিন মৌসুমে ১৪৭ ম্যাচে করেছেন ১৪৬ গোল। সবচেয়ে বড় কথা, ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপার দেখাও পেয়েছেন। জিতেছেন দুটি বুন্দেসলিগা, একটি জার্মান কাপ এবং একটি জার্মান সুপার কাপ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/q17bp2xs/705627622185949260440049025701734463073372001n.jpg" /><figcaption>জার্মানিতে গিয়ে ট্রফির দেখা পেয়েছেন হ্যারি কেইন</figcaption></figure><h3>বার্সেলোনার অর্থনৈতিক সংকট এখনো শেষ হয়নি</h3><p>মাঠের পারফরম্যান্সে বার্সেলোনা যতটা শক্তিশালী, আর্থিকভাবে ততটাই নড়বড়ে। ২০১৭ সালে নেইমারের বিশ্ব রেকর্ড দলবদলের পর থেকেই বিপুল খরচের বোঝা বইছে কাতালান ক্লাবটি। একসময় তাদের ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ইউরোর বেশি হয়ে যায়। এখন সেটা কিছুটা কমলেও চাপ এখনো কাটেনি।</p><p>আশার আলো হতে পারে সংস্কারকাজ শেষে ক্যাম্প ন্যুতে ফেরা। ২০২৩ সাল থেকে স্টেডিয়ামটি সংস্কারের জন্য বন্ধ ছিল। এখন সীমিত দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে ফিরে এসেছে বার্সা। পুরো ১ লাখ ৫ হাজার আসনের স্টেডিয়াম চালু হলে ক্লাবের আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে অবশ্য টানা দুই লা লিগা জিতে সমর্থকদের আনন্দ দিয়েছে দলটি।</p><h3>কয়েকটি দীর্ঘ শিরোপা–খরার অবসান</h3><p>২০২২ সালের পর ইউরোপীয় ফুটবলে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিরোপাখরা শেষ হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি অবশেষে ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করে। ইন্টার মিলানকে হারিয়ে তারা ট্রেবলও জেতে। </p><p>একসময় ‘নেভারকুসেন’ নামে পরিচিত বায়ার লেভারকুসেন ২০২৩-২৪ মৌসুমে একটি ম্যাচও না হেরে বুন্দেসলিগা জেতে। এর মাধ্যমে বায়ার্ন মিউনিখের টানা ১১ শিরোপার রাজত্ব শেষ হয়। আর মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জিতে ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-25/is3tjrfg/20260525_120930.jpg" /><figcaption>২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল আর্সেনাল</figcaption></figure><h3>বিশ্বকাপে বড় কোচদের ভিড়</h3><p>২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে অনেক জাতীয় দল অভিজ্ঞ ও নামী কোচ নিয়োগ দিয়েছে। ব্রাজিল ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের আশায় দায়িত্ব দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তিকে, যিনি বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের প্রথম বিদেশি কোচ। </p><p>ক্লাব ফুটবলের ডাগআউট মাতানো টমাস টুখেল (ইংল্যান্ড), মরিসিও পচেত্তিনো (যুক্তরাষ্ট্র) ইউলিয়ান নাগলসমানরাও (জার্মানি) যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের সঙ্গে। এই প্রথম তাঁরা বিশ্বকাপের ডাগআউটে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/rduxkb78cj">স্পেনের বিশ্বজয়ের আসরে ভুভুজেলা আর জ্যোতিষ অক্টোপাসের দাপট</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>হাঁড়িভাঙা আমে বদলে যাওয়া জীবন ও জনপদের গল্প</title><link>https://www.prothomalo.com/video/bangladesh/tq9q193jqa</link><comments>https://www.prothomalo.com/video/bangladesh/tq9q193jqa#comments</comments><guid isPermaLink="false">a72d7ce1-2a2f-4e86-981e-6399ac18877e</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>ভিডিও ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1427886</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ রংপুরের মিঠাপুকুরের আম বাগানগুলোতে পাকতে শুরু করেছে হাঁড়িভাঙ্গা আম। স্বাদ ও ঘ্রাণের কারণে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে এই আম।]]></description><media:keywords>আম,আম বাগান,রংপুর,মিঠাপুকুর</media:keywords><media:content height="534" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/ypakffyg/WEB.jpg" width="800"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/ypakffyg/WEB.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>bangladesh</category><content:encoded><![CDATA[ <p>রংপুরের মিঠাপুকুরের আম বাগানগুলোতে পাকতে শুরু করেছে হাঁড়িভাঙ্গা আম। স্বাদ ও ঘ্রাণের কারণে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে এই আম। একসময় একটি গাছ থেকে শুরু হওয়া হাঁড়িভাঙা আজ উত্তরাঞ্চলের লাখো কৃষকের জীবিকা ও সম্ভাবনার প্রতীক। বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে-  </p><figure class="op-interactive"><iframe allowfullscreen="allowfullscreen" frameborder="0" src="https://www.youtube.com/embed/Oc14CytFSbg"></iframe></figure>]]></content:encoded></item><item><title>জীবনের প্রতি আপনার স্বাভাবিক আশাবাদী মনোভাব আবারও জেগে উঠবে  </title><link>https://www.prothomalo.com/lifestyle/horoscope/z4zqhh52xz</link><comments>https://www.prothomalo.com/lifestyle/horoscope/z4zqhh52xz#comments</comments><guid isPermaLink="false">0f542f38-dd86-4f97-a461-c204beebb9c8</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>জীবনযাপন ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1454008</atom:uri></atom:author><description></description><media:keywords>আপনার রাশিফল,ভাগ্য,রাশিফল</media:keywords><media:content height="900" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/ouay8n4w/HoroscopeThumbChinmoy-Barua.jpg" width="1600"><media:title type="html"><![CDATA[ জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়া]]></media:title><media:description type="html"><![CDATA[ এ সপ্তাহের রাশিফল]]></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/ouay8n4w/HoroscopeThumbChinmoy-Barua.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>রাশি</category><content:encoded><![CDATA[ <p>অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্ত্রক। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব জীবনে ভূমিকা রাখলেও আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্মই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে। সাহস, ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রতি শনিবার ‘এ সপ্তাহের রাশিফল’ লিখছেন জ্যোতিষী&nbsp;<strong>চিন্ময় বড়ুয়া</strong></p><ul><li><p>এ সপ্তাহের রাশিফল (৬ জুন–১২ জুন ২০২৬)</p></li></ul><h3>মেষ রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/1lrhk4rs/1Mesh-Rashi.jpg" /><figcaption>মেষ রাশি</figcaption></figure><p>সপ্তাহটি আপনার জন্য অনেকটা নতুন অধ্যায়ের প্রথম পৃষ্ঠা উল্টে দেওয়ার মতো। বেশ কিছুদিন ধরে মনে জমে থাকা পরিকল্পনা, ইচ্ছা কিংবা অপূর্ণ লক্ষ্যগুলো আবার গুরুত্ব পেতে পারে। ভেতরে একধরনের অদম্য শক্তি কাজ করবে, যা আপনাকে স্থির থাকতে দেবে না। মনে হবে, সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই—এবার এগোতে হবে, সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং নিজের জন্য নতুন কিছু গড়ে তুলতে হবে।</p><p>কর্মজীবনের ক্ষেত্রে এটি একটি শক্তিশালী সময়। আপনার আত্মবিশ্বাস, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অন্যদের নজর কাড়বে। কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব, নতুন প্রকল্প বা চ্যালেঞ্জিং কাজ আপনার হাতে আসতে পারে। অনেকেই আপনার কাছে দিকনির্দেশনা চাইতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, নেতৃত্ব আর একগুঁয়েমি এক বিষয় নয়। আপনি যা ভাবছেন, সেটিই একমাত্র সঠিক—এমন ধারণা থেকে দূরে থাকুন। অন্যের মতামতও গুরুত্ব দিয়ে শুনুন।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক। আয় বৃদ্ধির সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ভ্রমণ, প্রযুক্তিপণ্য বা ব্যক্তিগত শখের পেছনে ব্যয়ও বাড়তে পারে। এই সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে—শুধু উপার্জন নয়, অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনাও সমান জরুরি।</p><p>প্রেম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি আগের চেয়ে বেশি খোলামেলা হতে পারেন। মনের কথা চেপে না রেখে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে চাইবেন। এতে পুরোনো ভুল–বোঝাবুঝির অবসান ঘটতে পারে, তবে কথার তীব্রতায় নতুন জটিলতাও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই সত্য বলুন, তবে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে। যাঁরা সম্পর্কে আছেন, তাঁরা সঙ্গীর কাছ থেকে আরও সমর্থন ও বোঝাপড়া আশা করতে পারেন। আর অবিবাহিতদের জীবনে আকর্ষণীয় নতুন কারও আগমনের সম্ভাবনাও রয়েছে।<br>পারিবারিক ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত লক্ষ্য—দুটোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। নতুন সম্পত্তি ক্রয়, বাড়ি সংস্কার কিংবা সম্পদ বণ্টনসংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।</p><p>শারীরিকভাবে শক্তি ও উদ্যম ভালো থাকবে। তবে এই শক্তির সঠিক ব্যবহার না হলে অস্থিরতা, রাগ, মানসিক চাপ বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি কিংবা সৃজনশীল কাজে সময় দেওয়া আপনাকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।</p><h3>বৃষ রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/37la7wit/2Brisho-Rashi.jpg" /><figcaption>বৃষ রাশি </figcaption></figure><p>এই সপ্তাহে জীবন নিস্তরঙ্গ হলেও আপনার জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনতে পারে। যখন চারপাশের মানুষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যস্ত, তখন আপনি বিষয়গুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এগোতে চাইবেন। অনেক দিন ধরে মনে জমে থাকা কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করবেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করার প্রবণতা বাড়বে।<br>কর্মজীবনে আপাতদৃষ্টিতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। এখন যে পরিশ্রম বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তার ফল হয়তো আজই পাবেন না, কিন্তু আগামী কয়েক সপ্তাহে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখতে পারবেন। অফিস রাজনীতি, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক বা অন্যের সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশি মাথা ঘামালে মানসিক শক্তির অপচয় হবে। নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী থাকাই সবচেয়ে ভালো কৌশল।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে সপ্তাহটি মোটামুটি স্থিতিশীল। তবে বাড়ি, পরিবার বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কারণে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয় সামনে আসতে পারে। এই সময়ে বড় বিনিয়োগের আগে একাধিকবার চিন্তা করা উচিত। অর্থের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও পরিকল্পনা আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদে সুবিধা দেবে।</p><p>সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি নিজের অনুভূতি প্রকাশের চেয়ে ভেতরে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন, নীরবতা সব সময় পরিপক্বতার লক্ষণ নয়। কখনো কখনো এটি ভুল–বোঝাবুঝির কারণও হয়। প্রিয়জনের সঙ্গে খোলামেলা কথোপকথন সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।<br>সপ্তাহের শেষে উপলব্ধি করবেন, জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অনেক সময় নীরবে ঘটে। &nbsp;</p><h3>মিথুন রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/dh6xqijg/3Mithun-Rashi.jpg" /><figcaption>মিথুন রাশি</figcaption></figure><p>আপনার জন্য নতুন মানুষের, নতুন ধারণার এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে এসেছে সপ্তাহটি। যেখানে যাবেন, সেখানেই কথোপকথন, যোগাযোগ এবং আইডিয়ার আদান-প্রদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আপনার উপস্থিতি এবং বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য সহজেই মানুষের নজর কাড়তে পারে।</p><p>পেশাগত জীবনে এটি অত্যন্ত সক্রিয় সময়। কোনো মিটিং, উপস্থাপনা, ইন্টারভিউ বা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আপনার পক্ষে যেতে পারে। যারা ব্যবসা, শিক্ষা, মিডিয়া, মার্কেটিং বা প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় আছেন, তাঁরা বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে যে কাজ বা পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছিলেন, সেটি বাস্তবায়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।</p><p>অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত রয়েছে। নতুন আয়ের সুযোগ, পার্ট-টাইম কাজ, কমিশন বা পরিচিত কারও মাধ্যমে লাভজনক তথ্য পেতে পারেন। তবে একটি সমস্যা হতে পারে—একসঙ্গে অনেক সুযোগ সামনে এলে কোনটিকে বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হতে পারে।</p><p>প্রেমের ক্ষেত্রে সপ্তাহটি প্রাণবন্ত। আকর্ষণ, আলাপ এবং মানসিক সংযোগ বাড়তে পারে। যাঁরা অবিবাহিত, তাঁরা নতুন কারও প্রতি আগ্রহ অনুভব করতে পারেন। যাঁরা সম্পর্কে আছেন, তাঁরা ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করতে পারেন।</p><h3>কর্কট রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/4vwk0y43/4Korkot-Rashi.jpg" /><figcaption>কর্কট রাশি</figcaption></figure><p>আপনার মনোযোগ থাকবে অর্জন, দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের বড় লক্ষ্যগুলোর দিকে। অনেক দিন ধরে যে স্বপ্ন বা পেশাগত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন, সেটি এখন বাস্তবতার আরও কাছাকাছি চলে আসতে পারে। আপনি নিজেকে আগের চেয়ে বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং লক্ষ্যকেন্দ্রিক অনুভব করবেন।</p><p>কর্মক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ আসবে। ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি, গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্ট বা প্রভাবশালী কারও সঙ্গে যোগাযোগ আপনার জন্য শুভ ফল বয়ে আনতে পারে। যাঁরা নতুন চাকরি খুঁজছেন বা পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন, তাঁরা ইতিবাচক সংকেত পেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ে।</p><p>আর্থিকভাবে সপ্তাহটি উন্নতির সম্ভাবনা বহন করছে। পূর্বের পরিশ্রমের ফল, বোনাস, অতিরিক্ত আয় বা নতুন সুযোগ সামনে আসতে পারে। বন্ধু বা পরিচিতদের মাধ্যমে লাভজনক তথ্য পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।</p><p>ব্যক্তিগত জীবনে একটি চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে—কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা। আপনি নিজের লক্ষ্য নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন যে প্রিয়জনদের সময় দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই সচেতনভাবে তাদের জন্য সময় বের করার চেষ্টা করুন।</p><p>প্রেমের ক্ষেত্রে সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও বাস্তবভিত্তিক করার চিন্তা মাথায় আসতে পারে। আবেগের চেয়ে দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বেশি গুরুত্ব পাবে।<br>সপ্তাহের শেষে আপনি উপলব্ধি করবেন, সাফল্য কেবল ভাগ্যের বিষয় নয়। এটি ধারাবাহিক পরিশ্রম, ধৈর্য এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/1a83v3wwtb">গুগল কেন ৬৪ মিলিয়ন মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে</a></aside><h3>সিংহ রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/yzqqxo20/5Shingho-Rashi.jpg" /><figcaption>সিংহ রাশি</figcaption></figure><p>আপনার ভেতরে একধরনের বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করবে। দৈনন্দিন ব্যস্ততার গণ্ডি ছাড়িয়ে আপনি ভবিষ্যৎ, সম্ভাবনা এবং জীবনের বড় ছবিটা দেখতে চাইবেন। অনেক দিন ধরে যে স্বপ্ন বা পরিকল্পনা শুধু কল্পনায় ছিল, সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সাহস ও অনুপ্রেরণা পেতে পারেন। মনে হবে আপনি যেখানে আছেন, তার চেয়ে আরও বড় কিছু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।</p><p>পেশাগত জীবনে এটি একটি আশাব্যঞ্জক সময়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ, নতুন সুযোগ বা প্রভাবশালী কারও সমর্থন আপনার পথ সহজ করে দিতে পারে। যাঁরা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, বিদেশ, প্রশিক্ষণ বা জ্ঞানভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা বিশেষ অগ্রগতি দেখতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে ভাগ্য যেন আপনার পরিশ্রমকে একটু বাড়তি সমর্থন দিতে প্রস্তুত।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে বড় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগোলে লাভবান হবেন। ভবিষ্যতের জন্য নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগ দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক ফল দিতে পারে। সামাজিক পরিসরেও আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। মানুষ আপনার আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব এবং ইতিবাচক মনোভাব দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।</p><p>প্রেম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি শুধু আবেগ নয়, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগও খুঁজবেন। যাঁরা অবিবাহিত, তাঁরা এমন কারও সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, যাঁর চিন্তাভাবনা তাঁদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করবে। যাঁরা সম্পর্কে আছেন, তাঁরা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে পারেন।<br>এই সপ্তাহের শেষ দিকে মনে হবে আপনার সামনে নতুন একটি দিগন্ত খুলে গেছে। প্রশ্ন শুধু একটাই—আপনি কি সেই পথে হাঁটার সাহস দেখাবেন?</p><h3>কন্যা রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/0qmnx6m1/6Konya-Rashi.jpg" /><figcaption>কন্যা রাশি</figcaption></figure><p>সপ্তাহটি আপনার জন্য একধরনের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার ও আত্মরূপান্তরের। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে–ভেতরে অনেক কিছু বদলাতে শুরু করবে। এমন কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে, যা এত দিন এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু এখন আর সেগুলোকে উপেক্ষা করার সুযোগ থাকবে না।</p><p>কর্মক্ষেত্রে কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নতুন দায়িত্ব, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা হঠাৎ কোনো পরিবর্তন প্রথমে অস্বস্তিকর মনে হলেও শেষ পর্যন্ত তা আপনার জন্য উপকারী হতে পারে। এই সময়ে ঝুঁকি নেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করা এবং বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে সপ্তাহটি মিশ্র ফল দিতে পারে। একদিকে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে পুরোনো কোনো আর্থিক দায় বা অপ্রত্যাশিত খরচ সামনে আসতে পারে। তাই আবেগের চেয়ে হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দিন।</p><p>সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীরতা বাড়বে। আপনি মানুষের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করবেন এবং উপরিভাগের সম্পর্কের চেয়ে সত্যিকারের সংযোগকে বেশি মূল্য দেবেন। তবে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ বা সন্দেহের কারণে সম্পর্কের সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না।<br>সপ্তাহের শেষে উপলব্ধি করবেন, জীবনের কিছু দরজা বন্ধ হওয়া মানেই ক্ষতি নয়। অনেক সময় নতুন দরজা খোলার জন্যই পুরোনো পথ শেষ হয়ে যায়।</p><h3>তুলা রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/sb0keuhr/7Tula-Rashi.jpg" /><figcaption>তুলা রাশি </figcaption></figure><p>এ সপ্তাহে জীবনের মূল শিক্ষা হতে পারে—সবকিছু একা করা যায় না। মানুষ, সম্পর্ক এবং সহযোগিতা এখন আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় ক্ষেত্রেই অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে চললে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে।</p><p>কর্মক্ষেত্রে কোনো নতুন পার্টনারশিপ, চুক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান প্রমাণিত হতে পারে। যাঁরা ব্যবসা করেন, তাঁরা নতুন ক্লায়েন্ট বা সহযোগী পেতে পারেন। যাঁরা চাকরিজীবী, তাঁরা সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উল্লেখযোগ্য সুবিধা লাভ করতে পারেন।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে সপ্তাহটি স্থিতিশীল হলেও বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্য কারও পরামর্শ শোনা উপকারী হতে পারে। একাধিক মতামত অনেক সময় এমন কিছু বিষয় সামনে আনে, যা একা চিন্তা করলে চোখ এড়িয়ে যায়।</p><p>প্রেমের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক সময়। সম্পর্কের মধ্যে উষ্ণতা, বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পেতে পারে। যাঁরা অবিবাহিত, তাঁদের জন্য নতুন পরিচয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।</p><p>তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখুন—সবার মন জয় করার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের চাওয়া-পাওয়াকে অবহেলা করবেন না। ভারসাম্য বজায় রাখাই আপনার সবচেয়ে বড় দক্ষতা এবং এই সপ্তাহে সেটিই আপনাকে সঠিক পথে রাখবে।<br>সপ্তাহের শেষে বুঝতে পারবেন, সঠিক মানুষের সঙ্গে সঠিক সময়ে হাত মেলানো অনেক সময় একা বহু দূর হাঁটার চেয়েও বেশি ফলপ্রসূ।</p><h3>বৃশ্চিক রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/puiylo95/8Brishchik-Rashi.jpg" /><figcaption>বৃশ্চিক রাশি</figcaption></figure><p>জীবন যেন আপনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চাইছে—যা এড়িয়ে যাচ্ছেন, সেটির মুখোমুখি হওয়ার সময় এসেছে। কাজ, স্বাস্থ্য, দায়িত্ব এবং দৈনন্দিন শৃঙ্খলা এখন আপনার মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে। অনেক দিন ধরে ফেলে রাখা কিছু কাজ হঠাৎ করেই জরুরি হয়ে উঠতে পারে, আর সেগুলো সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত হতে হবে।</p><p>পেশাগত জীবনে এটি একটি শক্তিশালী সময়। আপনার পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা অন্যদের নজরে আসবে। কোনো প্রতিযোগিতা, ইন্টারভিউ বা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে আপনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন। তবে সবকিছু নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমানো দরকার। সাহায্য চাইতে শেখাও একটি দক্ষতা।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা আসতে পারে। বড় লাভের চেয়ে ছোট কিন্তু ধারাবাহিক অগ্রগতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখলে ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারবেন।</p><p>সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি হয়তো কিছুটা বাস্তববাদী হয়ে উঠবেন। আবেগ প্রকাশের চেয়ে দায়িত্ব পালনকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন। এতে প্রিয়জনের কাছে আপনি দূরত্বপূর্ণ বলে মনে হতে পারেন। তাই মাঝেমধ্যে নিজের অনুভূতিও প্রকাশ করুন।<br>এ সপ্তাহে স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিন। শরীরের ছোট সংকেতগুলোকেও এড়িয়ে যাবেন না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত রুটিন আপনার শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।</p><h3>ধনু রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/nkj6osch/9Dhonu-Rashi.jpg" /><figcaption>ধনু রাশি </figcaption></figure><p>দীর্ঘদিনের চাপ, দায়িত্ব বা একঘেয়েমির মধ্যে থেকেও আনন্দ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাবেন এ সপ্তাহে। জীবনের প্রতি আপনার স্বাভাবিক আশাবাদী মনোভাব আবারও জেগে উঠবে এবং অনেক বিষয়কে নতুন চোখে দেখতে শুরু করবেন।</p><p>কর্মক্ষেত্রে আপনার সৃজনশীলতা ও নতুন চিন্তাভাবনা প্রশংসা পেতে পারে। এমন কোনো আইডিয়া বা পরিকল্পনা সামনে আনতে পারেন যা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। যাঁরা শিক্ষা, মিডিয়া, ডিজাইন, কনটেন্ট ক্রিয়েশন বা সৃজনশীল পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য সময়টি বিশেষভাবে অনুকূল।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো থাকবে। তবে আনন্দ, ভ্রমণ বা নিজের পছন্দের কাজে কিছু অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। এই ব্যয়গুলোর বেশির ভাগই আপনাকে মানসিক তৃপ্তি দেবে, তাই অপরাধবোধে ভোগার প্রয়োজন নেই—শুধু সীমা অতিক্রম করবেন না।</p><p>প্রেমের ক্ষেত্রে সপ্তাহটি প্রাণবন্ত। সম্পর্কের মধ্যে উষ্ণতা, হাসি এবং একসঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। যাঁরা অবিবাহিত, তাঁদের জন্য নতুন পরিচয় বা আকর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধু উত্তেজনা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মানুষটিকে সময় দিয়ে জানার চেষ্টা করুন।<br>সপ্তাহের শেষে মনে হবে, জীবন শুধুই দায়িত্বের নাম নয়। আনন্দ, ভালোবাসা এবং নিজের স্বপ্নকে সময় দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।</p><h3>মকর রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/duvl9coe/10Mokor-Rashi.jpg" /><figcaption>মকর রাশি</figcaption></figure><p>এ সপ্তাহে পরিবার, ঘর, মানসিক শান্তি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনা বাড়বে। অনেক দিন ধরে যেসব বিষয়কে ‘পরে দেখব’ বলে সরিয়ে রেখেছিলেন, সেগুলো নিয়ে এখন গুরুত্বসহকারে চিন্তা করতে হতে পারে।</p><p>পেশাগত জীবনে আপনি যথারীতি দায়িত্বশীল থাকবেন, তবে এবার লক্ষ্য থাকবে দ্রুত এগোনোর চেয়ে স্থায়ী কিছু তৈরি করা। কর্মক্ষেত্রে ধীর কিন্তু দৃঢ় অগ্রগতি দেখা যাবে। আপনার অভিজ্ঞতা ও বাস্তববোধ অন্যদের জন্যও সহায়ক হতে পারে।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে সপ্তাহটি মোটামুটি স্থিতিশীল। তবে বাড়ি, পরিবার, সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত আরামের জন্য কিছু ব্যয় হতে পারে। এই ব্যয়গুলোর বেশির ভাগই দীর্ঘ মেয়াদে উপকারী প্রমাণিত হবে।</p><p>সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগের গভীরতা বাড়বে। প্রিয়জনদের কাছ থেকে শুধু উপস্থিতি নয়, আন্তরিকতাও প্রত্যাশা করবেন। যাঁরা সম্পর্কে আছেন, তাঁরা ভবিষ্যৎ, পরিবার বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে পারেন।</p><p>মানসিকভাবে পুরোনো কিছু স্মৃতি বা অসমাপ্ত অনুভূতি ফিরে আসতে পারে। এগুলোকে দুর্বলতা মনে না করে নিজের বিকাশের অংশ হিসেবে দেখুন। কখনো কখনো অতীতকে বোঝাই ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করে।<br>সপ্তাহের শেষে উপলব্ধি করবেন, জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা অর্থ বা সাফল্যে নয়—বরং সেই মানুষগুলোতে, যাদের কাছে আপনি নির্ভয়ে নিজের মতো থাকতে পারেন।</p><h3>কুম্ভ রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/gixkdjtf/11Kumbho-Rashi.jpg" /><figcaption>কুম্ভ রাশি</figcaption></figure><p>আপনার চারপাশের পৃথিবী যেন একটু দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করবে। নতুন মানুষ, নতুন ধারণা, নতুন যোগাযোগ এবং নতুন সম্ভাবনার ভিড়ে নিজেকে খুঁজে পাবেন। এমন অনেক আলোচনা বা ঘটনা ঘটতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় কোনো সুযোগের দরজা খুলে দেবে। তাই এই সপ্তাহে বলা প্রতিটি কথা, করা প্রতিটি পরিচয় এবং নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত গুরুত্ব বহন করতে পারে।</p><p>পেশাগত জীবনে আপনার চিন্তাধারা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হবে। অন্যরা যেখানে প্রচলিত পথে হাঁটতে চাইবে, সেখানে আপনি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনে আসতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে নতুন কোনো প্রকল্প, আলোচনা বা দায়িত্ব আপনার হাতে আসতে পারে। যাঁরা ব্যবসা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, মিডিয়া, লেখালেখি বা যোগাযোগনির্ভর পেশায় আছেন, তাঁরা বিশেষ অগ্রগতি দেখতে পারেন।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে এটি ধীরে ধীরে উন্নতির সময়। হঠাৎ বড় কোনো লাভের চেয়ে ছোট ছোট সুযোগগুলো ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করবে। কোনো বন্ধু, পরিচিত ব্যক্তি বা পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যমে লাভজনক তথ্য বা সুযোগ আসতে পারে। তাই নেটওয়ার্কিংকে অবহেলা করবেন না।</p><p>প্রেম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব এবং বোঝাপড়া বড় ভূমিকা পালন করবে। শুধু আবেগ নয়, মানসিক সংযোগও আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যাঁরা অবিবাহিত, তাঁদের জীবনে বন্ধুত্ব থেকে বিশেষ কোনো সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আর যাঁরা সম্পর্কে আছেন, তাঁরা একে অপরের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে আরও গভীর আলোচনা করতে পারেন।</p><p>তবে একটি বিষয়ে সতর্ক থাকুন—সবকিছু একসঙ্গে করতে যাওয়ার প্রবণতা। আপনার মাথায় এত নতুন আইডিয়া আসতে পারে যে কোনটি আগে করবেন, সেটিই বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অগ্রাধিকার ঠিক করুন এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে যান।</p><h3>মীন রাশি</h3><figure><img alt="মীন রাশি" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/7wmpz9sx/12Meen-Rashi.jpg" /><figcaption>মীন রাশি</figcaption></figure><p>সপ্তাহটি আপনার জন্য আত্মমূল্যবোধ, স্থিতিশীলতা এবং নিজের শক্তিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সময়। অনেক দিন ধরে যে বিষয়গুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, সেগুলোর ওপর ধীরে ধীরে স্বচ্ছতা আসতে শুরু করবে। মনে হবে আপনি আগের চেয়ে অনেক বেশি জানেন, আপনি কী চান এবং কোন পথে এগোতে চান।</p><p>পেশাগত জীবনে আপনার পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের নজরে আসা, কাজের স্বীকৃতি পাওয়া বা নতুন কোনো সুযোগের দরজা খোলার সম্ভাবনা রয়েছে। যাঁরা ব্যবসা করেন, তাঁরা নতুন গ্রাহক, নতুন আয়ের উৎস বা লাভজনক কোনো সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পেতে পারেন। এই সময়ে নিজের দক্ষতার মূল্য কম করে দেখবেন না।</p><p>অর্থনৈতিকভাবে সপ্তাহটি আশাব্যঞ্জক। আয়ের নতুন সুযোগ, পুরোনো পাওনা ফিরে পাওয়া বা আর্থিক অবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত রয়েছে। তবে অর্থ আসার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথাও ভাবুন। সঞ্চয় ও পরিকল্পনা এখন আপনার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।</p><p>সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি নিরাপত্তা, বিশ্বাস এবং আন্তরিকতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন। যাঁরা সম্পর্কে আছেন, তাঁরা ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তব আলোচনা করতে পারেন। পরিবারেও আপনার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং অনেকেই আপনার পরামর্শ বা সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে পারে।</p><p>মানসিকভাবে এটি একটি শক্তিশালী সময়। দীর্ঘদিনের আত্মসন্দেহ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। নিজের ক্ষমতা ও যোগ্যতার ওপর বিশ্বাস বাড়বে। তবে অন্যের স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা না করে নিজের অর্জনকে নিজেই মূল্যায়ন করতে শিখুন।</p><p>সপ্তাহের শেষে আপনি হয়তো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধিতে পৌঁছাবেন—আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ ব্যাংক ব্যালান্স, পদমর্যাদা বা বাইরের প্রশংসা নয়; বরং নিজের ওপর বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাস একবার তৈরি হয়ে গেলে সামনে এগোনোর পথ অনেক সহজ হয়ে যায়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/horoscope/7swl5iec47">ব্যক্তিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়টি অনুকূল কোন রাশির জাতকের</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষ, কাল রোববার খুলছে স্কুল-কলেজ</title><link>https://www.prothomalo.com/education/35zszllumm</link><comments>https://www.prothomalo.com/education/35zszllumm#comments</comments><guid isPermaLink="false">a6c29168-8e7b-4de3-823b-1ddfd4ad165b</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>নিজস্ব প্রতিবেদক</atom:name><atom:uri>/api/author/1258528</atom:uri></atom:author><description></description><media:keywords>শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,সরকারি ছুটি,শিক্ষার্থী,ঈদুল আজহা,পড়াশোনা: নোটিশ বোর্ড,ঈদের ছুটি,পড়াশোনা,উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা,উচ্চশিক্ষা,শিক্ষা অধিদপ্তর,প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর</media:keywords><media:content height="414" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/hb3j1y5x/Untitled-3.jpg" width="622"><media:title type="html"><![CDATA[ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ থেকে বন্ধ]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/hb3j1y5x/Untitled-3.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>শিক্ষা</category><content:encoded><![CDATA[ <p>পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর টানা ছুটি শেষ হচ্ছে। দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে আগামীকাল রোববার (৭ জুন ২০২৬) দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবার পাঠদান শুরু হবে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর শ্রেণিকক্ষে ফিরবে লাখো শিক্ষার্থী।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/4hlcai54kv">বিনা মূল্যে কোরিয়ান ভাষা শেখার সুযোগ, আছে সার্টিফিকেটও</a></aside><p>শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে গত ২৪ মে (২১ মে, বৃহস্পতিবারের ক্লাস শেষে শুরু হয় এ ছুটি, এরপর ২২ ও ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল) থেকে ছুটি শুরু হয় এসব প্রতিষ্ঠানে। নির্ধারিত ছুটি শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬)। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো খুলছে ৭ জুন ২০২৬ অর্থাৎ, রোববার। এতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের ছুটি পেয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/5p04dqrp9h">যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: বিদেশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেয় যে যে বিশ্ববিদ্যালয়</a></aside><p>অপর দিকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরও দীর্ঘ ছুটি পেয়েছে। আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদ্রাসাগুলোয় ২৪ মে শুরু হওয়া এ ছুটি চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। পরে ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন রোববার ক্লাস শুরু হবে। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রায় ২৩ দিনের ছুটি পেয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/scholarship/9y7o5uwhi1">এইচএসসি পাসে বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, ভাতা দিনে ২০০ টাকা</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>চট্টগ্রামে বেহাল সড়ক</title><link>https://www.prothomalo.com/photo/bangladesh/lkvsh7wzb3</link><comments>https://www.prothomalo.com/photo/bangladesh/lkvsh7wzb3#comments</comments><guid isPermaLink="false">67851cdf-4355-4736-8b52-29362a005335</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>সৌরভ দাশ</atom:name><atom:uri>/api/author/1589287</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ বৃষ্টির সময় কাদায় একাকার হয়ে যায় সড়কটি। আর শুষ্ক সময় ছেয়ে থাকে ধুলাবালি। খুব কাছের জিনিসও তখন দেখা যায় না। এতে যেমন যানবাহন চলাচলে থাকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, তেমনই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন যাতায়াতকারীরা।]]></description><media:keywords>চট্টগ্রাম,ছবির গল্প</media:keywords><category>bangladesh</category><content:encoded><![CDATA[ <p>চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম সড়ক স্ট্র্যান্ড রোড। বেহাল এই সড়কটি দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। বৃষ্টির সময় কাদায় একাকার হয়ে যায় সড়কটি। আর শুষ্ক সময় ছেয়ে থাকে ধুলাবালি। খুব কাছের জিনিসও তখন দেখা যায় না। এতে যেমন যানবাহন চলাচলে থাকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, তেমনই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন যাতায়াতকারীরা। গতকাল বিকেলে স্ট্র্যান্ড রোডের সদরঘাট এলাকা থেকে তোলা ছবি নিয়ে এই গল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/btsrg5ce/Chittagongroadsowrav1.JPG" /><figcaption>গাড়ি গেলেই ধুলায় ঢেকে যায় সড়কটি। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/8jbcrl1w/Chittagongroadsowrav2.JPG" /><figcaption>ধুলার মধ্য দিয়ে চলাচল করছে মোটরসাইকেল। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/ajn8el3q/Chittagongroadsowrav3.JPG" /><figcaption>ধুলা থেকে রক্ষা পেতে নাকে গামছা দিয়ে রেখেছেন এক পথচারী। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/tkcc7ol2/Chittagongroadsowrav5.JPG" /><figcaption>ধুলায় সবকিছু ঠিকভাবে দেখা দায়। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/jz6an0dg/Chittagongroadsowrav6.JPG" /><figcaption>সড়কের ধুলায় সৃষ্টি হয় স্বাস্থ্যঝুঁকি। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/od3ywl0g/Chittagongroadsowrav7.JPG" /><figcaption>ধুলার মধ্যে সামনে এগোনোর চেষ্টা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/ys8s9w6u/Chittagongroadsowrav8.JPG" /><figcaption>চালক ও যাত্রী—ধুলার ভোগান্তি সবার। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/32p2welb/Chittagongroadsowrav9.JPG" /><figcaption>সর্বত্র শুধু ধুলা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/9a6oh1g0/Chittagongroadsowrav10.JPG" /><figcaption>ছাতা দিয়ে ঢেকে ধুলা থেকে রক্ষার চেষ্টা। </figcaption></figure>]]></content:encoded></item><item><title>যুদ্ধ থেকে পুতিনের সম্মানজনক বিদায়ের পথ নেই</title><link>https://www.prothomalo.com/opinion/column/s1s04isjfd</link><comments>https://www.prothomalo.com/opinion/column/s1s04isjfd#comments</comments><guid isPermaLink="false">6438e6d2-9165-4b59-8c28-f4e44efb373e</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>লেখা: </atom:name><atom:uri>/api/author/1431141</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ পুতিন রাষ্ট্র ও সমাজকে এমন এক যুদ্ধের ময়দানে এনে দাঁড় করিয়েছেন, যা ধীরে ধীরে রাশিয়ার শক্তি, সম্পদ ও তরুণদের জীবন ক্ষয় করছে।  ]]></description><media:keywords>রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত,যুদ্ধ,ভ্লাদিমির পুতিন</media:keywords><media:content height="800" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/pd9656b6/putinjjj.jpg" width="1200"><media:title type="html"><![CDATA[ প্রায় সিকি শতাব্দী ধরে পুতিন রাশিয়াতে  চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা জারি রেখেছেন]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/pd9656b6/putinjjj.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>কলাম</category><content:encoded><![CDATA[ <p>জঁ–পল সার্ত্রের অন্তহীন নরক নিয়ে অস্তিত্ববাদী নাটক ‘নো এক্সিট’ ১৯৪৪ সালের মে মাসে প্যারিসে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন পঞ্চম বছরে পা দিতে যাচ্ছে। নাটকে দেখা যায়, সদ্য মৃত তিন লোক নরকের এক কক্ষে বন্দী হয়ে আছেন, নিজেদের জীবনের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন। সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ নেই।</p><p> ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে রুশ কর্তৃপক্ষ যদি মস্কোতে সার্ত্রের এই নাটক মঞ্চস্থ করার অনুমতি দিত, তাহলে যে কেউ জিজ্ঞেস করতে পারেন, ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালানোর পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সাধারণ রুশরা নাটকটি দেখে কী ভাবতেন।  </p><p> প্রায় সিকি শতাব্দী ধরে পুতিন রাশিয়াতে যে চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা জারি রেখেছেন, সেটা ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর যেন অদ্ভুত স্থিতিশীলতায় পৌঁছে গেছে। গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, এটা যে সবার জন্যই ফাঁদ। পুতিন রাষ্ট্র ও সমাজকে এমন এক যুদ্ধের ময়দানে এনে দাঁড় করিয়েছেন, যা ধীরে ধীরে রাশিয়ার শক্তি, সম্পদ ও তরুণদের জীবন ক্ষয় করছে।  </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/a3zibpxide">ট্রাম্পের ‘অপ্রত্যাশিত উপহারে’ কাটলো পুতিনের দুশ্চিন্তা</a></aside><blockquote>রাশিয়ায় একটি দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য এখন ‘পুতিনবাদে’র সম্পূর্ণ অবসান প্রয়োজন। বর্তমান ব্যবস্থাটি যতই তার বৈধতা ও কার্যকারিতা হারাবে, পুতিন-পরবর্তী ক্ষমতার দখল নেওয়ার লড়াই ততই তীব্র রূপ ধারণ করবে। যখন সেই সময় আসবে, তখন সেই বছর বিশেক আগে যে স্থিতিশীলতাকে পুতিন চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, সেটাও পুরোপুরি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতে পারে।</blockquote><p>আপাতদৃষ্টিতে সব শান্ত বলে মনে হবে। পুতিন এই ব্যয়বহুল যুদ্ধের অর্থ জোগানোর পথ খুঁজে পেয়েছেন, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকিয়েছেন, এবং নগদ বোনাসের লোভ দেখিয়ে সেনাবাহিনীতে নতুন নিয়োগ দিচ্ছেন। রাশিয়াও সবার সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। যদিও সম্প্রতি কিছু অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে, তবু পুতিন আত্মবিশ্বাসী যে এসব এখনো তাঁর নিয়ন্ত্রণে।</p><p>সেনাবাহিনীতে নতুন নিয়োগ রাশিয়াকে কিছুটা সুবিধা দিলেও, এটা রুশদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। যেকোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার তো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত হবে। এ ধরনের কিছু বিজয় নিশ্চিত তো করবেই না, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পক্ষ থেকে তীব্র সামরিক জবাবের ঝুঁকি থাকবে। এমনকি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে।</p><p>পুতিন ইউক্রেন থেকে চাইলেই সেনা প্রত্যাহার করতে পারছেন না। রাশিয়া যদি বর্তমান যুদ্ধরেখা অনুযায়ী কোনো সমঝোতা মেনে নেয়, তবে কেবল দক্ষিণ ইউক্রেনের সংকীর্ণ এক ফালি ভূখণ্ড ছাড়া পুতিনের ঝুলিতে দেখানোর মতো তেমন কিছুই থাকবে না। কেবল তাঁর আত্মম্ভরিতায় আঘাতই নয়, এত স্বজন হারানোর পর এই ছোট অর্জন রুশ নাগরিকদের সামনে উল্টো এই যুদ্ধের অর্থহীনতাকেই প্রমাণ করবে। তখন তাঁর দুর্বল কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং আত্মম্ভরিতা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বড় সংকট হয়ে দাঁড়াতে পারে।</p><p>পুতিন নিজেকেই কৌশলের ফাঁদে ফেলে দিয়েছেন। কেবল নিজেকেই নয়, পুতিনবাদের পুরো প্রকল্প যদি তাঁর মেয়াদের পরও টিকে থাকে, সেখানেও অন্তহীন যুদ্ধের বোঝা রয়ে যাবে। পুতিনের আদর্শের যেকোনো ভবিষ্যৎ নেতাই যখন দেখবেন একটি ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ইউক্রেন পশ্চিমা নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং পুরো ইউরোপ সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারবেন না।</p><p>যদি পুতিনের যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ না থাকে, তাহলে রাশিয়ার সাধারণ জনগণের পুতিনবাদের বাইরেও যাওয়ার উপায় নেই আর। রাশিয়ার সাম্প্রতিক গণ-অসন্তোষকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এই অসন্তোষ বাস্তব, কিন্তু এর মূল নির্যাস হলো এই হতাশা যে পুতিনবাদ তার সব ব্যর্থতা সত্ত্বেও যেন এক অন্তহীন সত্য বলে মনে হচ্ছে।</p><p>আজ প্রেসিডেন্টকে কোনো যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন সামলাতে হচ্ছে না, কোনো বিরোধী দলও নেই। ইচ্ছামতো রুশ নাগরিকদের দমন করতে পারেন। এমনকি দৈনন্দিন কাজকারবারও এই শাসনব্যবস্থাকে যুদ্ধ এগিয়ে নিতে ও নিপীড়নকে প্রশ্রয় দিতে সহায়তা করে। অধিকাংশ রুশকে কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রের কাজ করতে হয়। বেসরকারি খাতও সরকারের অধীন। তবু রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে তাদের কোনো মতামত নেই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/ls4s9bgv3u">নতুন বিশ্বব্যবস্থা: রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোপন প্রস্তাব’ কি সত্য হতে চলেছে</a></aside><p>সামগ্রিকভাবে এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব। প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নেই। তাঁর শাসনের অবসান বা প্রতিস্থাপন করার কোনো দৃশ্যমান পথ নেই। এই পরিস্থিতিতে মৌখিক প্রতিবাদের ঝলক দেখা দিলেও সেগুলোকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।</p><p>১৮ এবং ১৯ শতকের বিপ্লবের তাত্ত্বিকেরা ‘ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা’র গুরুত্বকে অনুঘটক হিসেবে দেখতেন। মানুষ যখন বুঝতে পারে যে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ সম্ভব, তখন তারা সেই প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়। উদাহরণস্বরূপ ১৯৮৯ সালের পূর্ব ইউরোপীয় বিপ্লবগুলোর কথা বলা যায়। মিখাইল গর্বাচেভের গ্লাসনস্ত এবং পেরেস্ত্রোইকার প্রতিশ্রুতির পরপরই এটা সংগঠিত হয়েছিল।</p><p>রুশ জনগণের প্রত্যাশা যেন সীমিত থাকে, সে ব্যাপারে পুতিন তৎপর। আধুনিক, সমৃদ্ধ ও উন্মুক্ত রাশিয়ার যে ওয়াদা ছিল, সেটা স্বৈরতন্ত্র ও অন্তহীন যুদ্ধের চাপে তলিয়ে গিয়েছে। এই অস্বস্তিকর ভারসাম্য চিরকাল চলতে পারে না। সোভিয়েত পতনের পর পুতিন ও পুতিনবাদের প্রাথমিক ওয়াদা ছিল—প্রকৃত স্বাধীনতা না মিললেও, একটি আরামদায়ক পরিবেশ ও উন্নত জীবনযাত্রা এবং দক্ষ শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু পুতিন নিজেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একদিকে চরম কর্তৃত্ববাদী হিসেবে গড়ে তুলেছেন, মাঝারি মানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। </p><p>অন্যদিকে, দুর্বল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছেন, যা বুমেরাং হয়ে খোদ রাশিয়ার দিকেই আঘাত হানছে। রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের একেকটি আঘাত যেন রুশ নাগরিকদের ভালো থাকাটাকেও ক্রমশ ক্ষয় করে দিচ্ছে।</p><p>রাশিয়ায় একটি দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য এখন ‘পুতিনবাদে’র সম্পূর্ণ অবসান প্রয়োজন। বর্তমান ব্যবস্থাটি যতই তার বৈধতা ও কার্যকারিতা হারাবে, পুতিন-পরবর্তী ক্ষমতার দখল নেওয়ার লড়াই ততই তীব্র রূপ ধারণ করবে। যখন সেই সময় আসবে, তখন সেই বছর বিশেক আগে যে স্থিতিশীলতাকে পুতিন চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, সেটাও পুরোপুরি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতে পারে।</p><p><strong>মাইকেল কিমেজ</strong> কেনান ইনস্টিটিউটের পরিচালক।</p><p>নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত</p>]]></content:encoded></item><item><title>ভাসমান ‘শহর’: এক মাইল দীর্ঘ আর ৩০ তলা ভবনের সমান উঁচু জাহাজে কী কী থাকবে</title><link>https://www.prothomalo.com/world/zoovsb0gud</link><comments>https://www.prothomalo.com/world/zoovsb0gud#comments</comments><guid isPermaLink="false">78a2c228-d5e9-4ee8-b2b9-1118de614324</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 02:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T02:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>দ্য টেলিগ্রাফ</atom:name><atom:uri>/api/author/1772937</atom:uri></atom:author><description></description><media:keywords>জাহাজ শিল্প,জাহাজ,স্থাপত্য</media:keywords><media:content height="429" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/b392wluj/Freedom-Ship-1.jpg" width="761"><media:title type="html"><![CDATA[ ঘণ্টায় প্রায় সাত নটিক্যাল মাইল গতিতে প্রতি দুই বছর একবার পুরো পৃথিবী ঘুরবে]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/b392wluj/Freedom-Ship-1.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>বিশ্ব</category><content:encoded><![CDATA[ <p>বর্তমান সময়ের বিশালাকৃতির প্রমোদতরিগুলোকে ভবিষ্যতে খুবই ছোট বলে মনে হতে পারে। কারণ, এগুলোর চেয়ে ঢের বড় একটি ভাসমান শহর নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাহাজটি ৮০ হাজার মানুষকে নিয়ে সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াবে।</p><p> ফ্রিডম শিপ নামের এই জাহাজের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১ মাইল, প্রস্থ ৮০০ ফুট ও উচ্চতা ৩০ তলা ভবনের সমান। এটি তৈরি করতে খরচ হবে ১ হাজার ২০০ কোটি পাউন্ড। এই জাহাজে একটি গবেষণামূলক হাসপাতাল থাকবে। এ ছাড়া এখানে স্কুল, দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ থাকবে, যা যুক্তরাজ্যের কেন্টে অবস্থিত চ্যাথাম শহরের জনসংখ্যার সমসংখ্যক মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারবে।</p><p> ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি পারমাণবিক জ্বালানিতে চলবে। ২৩ লাখ গ্রস টনের এই বিশাল জাহাজে স্থায়ীভাবে ৫০ হাজার বাসিন্দার থাকার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি আরও ১০ হাজার ভ্রমণকারী যাত্রী ও স্বল্প সময়ের দর্শনার্থীর জন্য জায়গা থাকবে। তাঁদের সেবা দিতে ২০ হাজার কর্মী কাজ করবেন।</p><p> এতে আরও নানা ধরনের সুযোগ–সুবিধা থাকবে। এর মধ্যে আছে—বহুতল হোটেল, ১৫ হাজার আসনের একটি স্টেডিয়াম, একটি কনভেনশন সেন্টার, একটি ওয়াটার পার্ক, দুটি জাদুঘর ও একটি সিম্ফনি হল।</p><p>আগ্রহীরা একটি বিশাল অ্যাকুয়ারিয়ামে সাঁতার কাটতে পারবেন। আর যাঁরা বিনোদন পছন্দ করেন, তাঁরা একটি বিশেষ নৈশক্লাবে রাতভর নাচ-গান উপভোগ করতে পারবেন।</p><p>যেসব বাসিন্দা নির্ধারিত খাবারের জায়গার বাইরে ব্যতিক্রমী কিছু খেতে চাইবেন, তাঁদের জন্য দুই তলাবিশিষ্ট একটি ফুড হল থাকবে।</p><p>জাহাজটিতে শিশুদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া জাহাজের চারটি ডেক বাণিজ্যিক সেবা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও খুচরা ব্যবসার জন্য বরাদ্দ থাকবে। জাহাজের সর্বোচ্চ অংশে থাকবে আটটি হেলিপ্যাড।</p><p>অনেকটা দ্বীপের মতো এই বিশাল জাহাজ, কিন্তু স্থির থাকবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি ঘণ্টায় প্রায় সাত নটিক্যাল মাইল গতিতে প্রতি দুই বছরে একবার পুরো পৃথিবী ঘুরবে। আকারে অনেক বড় হওয়ায় এটি কোনো বন্দরে ভিড়তে পারবে না। তাই জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করবে এবং যাত্রীদের আনা-নেওয়ার জন্য ফেরিবহর ব্যবহার করা হবে। অন্যান্য প্রমোদতরিও এর পাশে নোঙর করতে পারবে।</p><p>দর্শনার্থীদের জাহাজের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য ট্রাম ব্যবস্থার সুবিধা থাকবে। আর যাঁরা পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে চান, তাঁদের জন্য থাকবে ১৫ মাইল হাঁটার পথ এবং তিন একরের পার্ক।</p><p><strong>৩০ বছর ধরে লালিত স্বপ্ন</strong></p><p>ফ্রিডম শিপ এখনো সমুদ্রে যাত্রা শুরু করেনি। এমনকি এর নির্মাণকাজও শুরু হয়নি। তবে এ ধরনের ভাসমান শহর তৈরির ধারণাটি তিন দশক ধরে আলোচনায় আছে।</p><p>১৯৯০-এর দশকে মার্কিন প্রকৌশলী নরম্যান নিক্সন প্রথম এই প্রকল্পের প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি ২০১২ সালে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরের বছর প্রকল্পটির নকশা আবার প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন পর সেটি আবার স্থগিত হয়ে যায়।</p><p>তাহলে এখন কেন প্রকল্পটি আবার সামনে এসেছে?</p><p>ফ্রিডম শিপ নির্মাণের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী রজার গুচের দাবি, এ প্রকল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও চাহিদা যথেষ্ট বেশি।</p><p>গুচ বলেন, ‘আমরা চাইলে প্রায় তিনটি জাহাজ নির্মাণের যৌক্তিকতাও দেখাতে পারি।’</p><p>তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক অর্থ সংগ্রহ করা।</p><p>ফ্লোরিডায় নিজের কার্যালয় থেকে জুমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রজার গুচ বলেন, ‘আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারব। তবে মূল বিষয় হলো, প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করা।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/rir5y2xp/Freedom-Ship-2.jpg" /><figcaption>জাহাজে বহুতল হোটেল, ১৫ হাজার আসনের একটি ক্রীড়া স্টেডিয়াম, একটি কনভেনশন সেন্টার, একটি ওয়াটার পার্ক, দুটি জাদুঘর ও একটি সিম্ফনি হল থাকবে</figcaption></figure><p><strong>নির্মাণ করলেই মানুষ আসবে</strong></p><p>অর্থায়নের ব্যবস্থা হয়ে গেলে পরবর্তী ধাপে ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। প্রথমে এর মূল কাঠামো তৈরি করা হবে। এটি বিভিন্ন অংশে নির্মাণ করে পরে সমুদ্রের বাইরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জোড়া লাগানো হবে।</p><p>রজার গুচের মতে, পুরো জাহাজ নির্মাণ শেষ হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে। তবে নির্মাণকাজ চলাকালেই মানুষ সেখানে বসবাস শুরু করতে পারবে।</p><p>ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘আমাদের জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের কাজগুলো প্রতিদিনই পানিতে ভাসমান অবস্থায় করা হবে। এমনকি যখন এটি উপকূলের বাইরে নোঙর করা থাকবে, তখনো। জাহাজটি সব সময় পৃথিবী ঘুরে বেড়াবে। এর কোনো স্থায়ী বন্দর থাকবে না।’</p><p>প্রকল্পের আয়ের একটি অংশ আসবে বিভিন্ন ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে।</p><p>গুচ বলেন, ‘আমরা চাই উদ্যোক্তারা আমাদের কাছ থেকে জায়গা ইজারা নিন বা কিনুন, ঠিক যেমন তারা স্থলভাগে কোনো শহর বা লোকালয়ে করে থাকেন।’</p><p>গুচ আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিটি সেলুন বা প্রতিটি পিৎজা বিক্রির দোকানের মালিক হতে চাই না। কিছু ব্যবসায়িক উদ্যোগে অবশ্য হোল্ডিং কোম্পানির অংশীদারত্ব থাকবে। এর মধ্যে একটি অবশ্যই ক্যাসিনো হবে।’</p><p>প্রকল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক হাসপাতালও গড়ে তোলা হবে। গুচ বলেন, ‘বিভিন্ন চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কারণ, তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সরাসরি আওতার বাইরে থাকবে। ফলে গবেষণার জন্য ফ্রিডম শিপ একটি আদর্শ স্থান হতে পারে।’</p><p><strong>পরিবেশবান্ধব ও পারমাণবিক শক্তিচালিত ভ্রমণ</strong></p><p>গুচের দাবি, প্রকল্পটির একটি জনকল্যাণমূলক দিকও থাকবে। তাঁর মতে, জাহাজটি সমুদ্রপথে চলাচলের সময় মহাসাগরের বর্জ্য ও দূষণ পরিষ্কারে ভূমিকা রাখবে।</p><p>এ ছাড়া পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করলে কার্বন নিঃসরণও উল্লেখজনকভাবে কমানো সম্ভব হবে।</p><p>রজার গুচ বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করতে চাই, আমরা একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছি এবং বিশ্বসমাজের জন্য ভালো কিছু করছি।’</p><p>ফ্রিডম শিপ ছোট ছোট বন্দরগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে না। কারণ, এটি উপকূলের বাইরে অবস্থান করবে। বরং মানুষ সমুদ্রে গিয়ে এর বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করতে পারবে।</p><p>রজার গুচ বলেন, ‘আমরা চাই এই ভাসমান শহর যে এলাকার কাছে আসবে, সেই এলাকার মানুষ যেন সেখানে গিয়ে এর সুবিধাগুলো উপভোগ করেন। কারণ, এটি আবার একই জায়গায় ফিরতে আড়াই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’</p><p>এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের প্রধান পরিকল্পনাকারী হলেন কেভিন শপফার। তিনি আর্কোলজি নিয়ে কাজ করেন, যা স্থাপত্য ও পরিবেশবিদ্যার সমন্বয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/16nqms3i/Freedom-Ship-3.jpg" /><figcaption>ফ্রিডম শিপ নামের জাহাজটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় এক মাইল, প্রস্থ ৮০০ ফুট এবং উচ্চতা ৩০ তলা ভবনের সমান </figcaption></figure><p>সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলার জন্য শপফার আগেও ভাসমান উপকূলীয় আবাসন প্রকল্পের নকশা করেছেন। এর মধ্যে ছিল ৪০ হাজার মানুষের জন্য পরিকল্পিত নিউ অরলিন্স আর্কোলজি হ্যাবিট্যাট (এনওএএইচ) প্রকল্প।</p><p>শপফার দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই চেয়েছিলাম জাহাজটি যেন একটানা বিশাল ও ভারী কাঠামোর মতো না দেখায়, বরং দেখতে আরামদায়ক লাগে। তাই আমরা এর সব প্রান্তকে নরম ও মসৃণভাবে নকশা করেছি। আমরা এটাও চেয়েছি, এটিতে যেন প্রাণভরে শ্বাস নেওয়া যায়। তাই সেখানে হাঁটার পথ ও সবুজ খোলা জায়গা রাখার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।’</p><p>জাহাজের নকশায় একটি ফুটবল মাঠও রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শপফার। তিনি বলেন, ‘এটি খুব বড় স্টেডিয়াম নয়, তবে সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আয়োজন করা যাবে। একপর্যায়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাবনায় টেইলর সুইফটের নামও উঠে এসেছিল। কিন্তু আমি বলেছিলাম, এত বড় আয়োজন সামলাতে পারব কি না, তা জানি না।’</p><p><strong>আজকের মেগা ক্রুজ শিপের তুলনায় এটি কেমন</strong></p><p>৮০ হাজার যাত্রী ও ক্রুর ধারণক্ষমতার ফ্রিডম শিপ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জাহাজের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ বহন করতে পারবে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জাহাজ হলো স্টার অব দ্য সিজ। ফ্রিডম শিপ তার চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি মানুষ বহন করতে পারবে।</p><p>অনেক বছর ধরে বিভিন্ন ভাসমান আবাসনের ধারণা সামনে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত শুধু ধনীদের জন্য নির্মিত দ্য ওয়ার্ল্ড এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ভিলা ভি ওডিসি সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছে।</p><p>তবে প্রকল্পের পরিসর বিশাল হলেও এর ব্যবস্থাপক শ্রীদেব মুখার্জি তাতে বিচলিত নন। তিনি সিঙ্গাপুরের ব্লসম গ্রুপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক।</p><p>লন্ডনের সেন্ট ক্যাথারিন ডকসে টেলিগ্রাফের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সেই সময় তিনি যাত্রীবাহী ও ক্যাসিনো জাহাজ ব্যবস্থাপনায় তাঁর ৩০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন।</p><p>সেন্ট ক্যাথারিন বলেন, ‘অধ্যবসায় ও দৃঢ় সংকল্প মানুষকে জীবনে কিছু অর্জন করতে সাহায্য করে। আমি বিশ্বাস করি, রজারের প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং এই প্রকল্প সফল করার ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে এটি সফল হবে। এর কোনো সীমা নেই।’</p><p>ক্যাথারিন আরও বলেন, এটি একটি অসাধারণ ধারণা এবং এটি বাস্তবায়নে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।</p>]]></content:encoded></item><item><title>স্বপ্নের টানে ফিরে আসেন ইয়ামিন</title><link>https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/f1yavgyho7</link><comments>https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/f1yavgyho7#comments</comments><guid isPermaLink="false">f530261f-ed60-4c44-9258-ffbdf5a473e7</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 01:30:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T01:30:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>নাজমুল হক</atom:name><atom:uri>/api/author/2175242</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ ঈদের ওয়েব ফিল্ম ‘তাজমহল’–এ অভিনয় করে আলোচনায় তরুণ অভিনেতা ফয়জুল ইয়ামিন। এর আগে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি।]]></description><media:keywords>রায়হান রাফি,ওয়েব ফিল্ম,তরুণ অভিনয়শিল্পী,তরুণ মুখ</media:keywords><media:content height="676" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/83aw94z3/10e86038-c64d-416f-892d-6ec8242dce5a.jpg" width="1202"><media:title type="html"><![CDATA[ ফয়জুল ইয়ামিন। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে ]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/83aw94z3/10e86038-c64d-416f-892d-6ec8242dce5a.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>ঢালিউড</category><content:encoded><![CDATA[ <p>ঈদে মুক্তি পাওয়া ওয়েব ফিল্ম ‘তাজমহল’–এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় তরুণ অভিনেতা <strong>ফয়জুল ইয়ামিন</strong>। এর আগে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। তবে এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, অপেক্ষা ও সংগ্রামের গল্প। ইয়ামিনের পথচলার গল্প শুনেছেন <strong>নাজমুল হক</strong></p><p>বিনোদন–দুনিয়ায় ইয়ামিনের যাত্রার শুরুটা যেন কোনো সিনেমার গল্প। ২০১১ সালে তিনি তখন এ–লেভেলের ছাত্র। একদিন কোচিংয়ে যাওয়ার পথে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার প্রতিনিধিদের নজরে পড়েন তিনি। তাঁরা ইয়ামিনের সঙ্গে কথা বলে মোবাইল অপারেটর কোম্পানির একটি ফটোশুটের প্রস্তাব দেন। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎই পরবর্তী সময়ে তাঁর সামনে নতুন দরজা খুলে দেয়।</p><p>সেই দিনের স্মৃতিচারণা করে ইয়ামিন বলেন, ‘দুজন লোক এসে আমাকে বলেন, “সামনে আমাদের একটা ফটোশুট আছে। তোমার কিছু ছবি তুলে নিয়ে যাই। নম্বরটা দাও। যদি সিলেক্টেড হও, তাহলে তোমাকে ফোন দেব। আর ফটোশুটটা কালকেই।”’<br>পরদিনই ফোনে নির্বাচিত হওয়ার খবর জানতে পারেন। পরদিন ফটোশুট, সংবাদপত্রে বড় করে ছবি প্রকাশ হয় ইয়ামিনের—পরিবার, স্কুল ও বন্ধুমহলে বেশ সাড়া পড়ে যায়। তবে তখনো তিনি বুঝতে পারেননি যে এই পথই একদিন তাঁর পেশাগত পরিচয় হয়ে উঠবে।</p><p><strong>বিলবোর্ডে উঠে আসার গল্প<br></strong>২০১৩ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নির্মাতা পিপলু আর খানের টিম থেকে ডাক পান ইয়ামিন। আরেকটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির বিজ্ঞাপনের অডিশনে অংশ নেন। বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ছবিসংবলিত বিলবোর্ড দেখা যায়, যা তাঁকে নতুন পরিচিতি এনে দেয়।<br>ইয়ামিন বলেন, ‘ফটোশুটে সুযোগ পাওয়া আর নিজেকে বড় বড় বিলবোর্ডে দেখাটা সেই বয়সে খুবই গর্বের একটা মুহূর্ত ছিল। ভার্সিটিতে অনেকেই আমাকে দেখিয়ে বলতেন, “ও তো বিলবোর্ডে আছে।”’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/2mfldyi1/0d0cb2ab_b1db_41cc_8dc8_cc70a0768556.jpg" /><figcaption>ফয়জুল ইয়ামিন। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে </figcaption></figure><p><strong>সংগ্রামের সময়<br></strong>তবে পথটা সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০১৪-১৫ সালের দিকে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের অডিশনে বাদ পড়তে হয় তাঁকে। কিন্তু ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। ২০১৬ সালে আদনান আল রাজীবের পরিচালনায় আরেকটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির বিজ্ঞাপনচিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি আসে পরের বছর, একটি কোমল পানীয় ব্র্যান্ডের বড় ক্যাম্পেইনে যুক্ত হন। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর পোস্টার ও বিলবোর্ড। এরপর একের পর এক ব্র্যান্ড থেকে কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। কিন্তু ঠিক তখনই শুরু হয় আরেক সংগ্রাম—পরিবারের বাধা।</p><p>ইয়ামিন বলেন, ‘বাসা থেকে বলা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বাদ দিয়ে কোনো কাজ করা যাবে না। মিডিয়া নিয়ে মূল আপত্তি ছিল না, পড়াশোনার বাইরে গিয়ে মিডিয়ায় বেশি সময় দেওয়া নিয়ে আপত্তি ছিল। তবে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও লুকিয়ে লুকিয়ে কাজ চালিয়ে গেছি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/bhsl9zq3/ce3f34d3_a6b6_4834_a19d_7f1b0fea7dd2.jpg" /><figcaption>ফয়জুল ইয়ামিন। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে </figcaption></figure><p><strong>প্রবাসজীবন, কিন্তু অভিনয় থেকে দূরে নন<br></strong>২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান ইয়ামিন। তবে মিডিয়ার প্রতি তাঁর টান এতটাই প্রবল ছিল যে প্রতিবছর ছুটিতে দেশে ফিরলে অন্তত দুই-তিন মাস কাজের জন্য সময় বরাদ্দ রাখতেন।</p><p>ইয়ামিন বলেন, ‘তত দিনে আমার ভেতরে একটা তাড়না কাজ করত—আমি মিডিয়াতেই থাকতে চাই। কিন্তু বাসায় সেটা বলার সাহস ছিল না। বিদেশে যাওয়ার পর প্রতিবছর যে ছুটিতে দেশে আসতাম, সেটা মূলত শুটিংয়ের জন্যই। পরিবারের সবাই হয়তো বুঝত না, কিন্তু আমি কাজের পরিকল্পনা করেই দেশে ফিরতাম।’<br>২০২১ সালে ভিকি জাহেদের ‘রেডরাম’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবনের মূল যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০২৩ সালে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর পরিচালনায় ‘কাছে আসার গল্প’ প্রকল্পের টেকঅফ-এ পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/a30cqqel/13f17294_302a_440e_beb2_9ae72b214b98.jpg" /><figcaption>ফয়জুল ইয়ামিন। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে </figcaption></figure><p><strong>অনিশ্চিত পথে<br></strong>এরই মধ্যে পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে স্থায়ী হলেও ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেশে ফিরে আসেন ইয়ামিন। বিদেশের জীবন ছেড়ে যাত্রা করেন এক অনিশ্চিত পথে। বলা যায়, এর পর থেকেই তাঁর অভিনয়জীবনে নতুন গতি আসে। এবার আর পার্শ্বচরিত্রে নয়, ডাক পেতে থাকেন বড় চরিত্রে।</p><p>মঈনুদ্দিন সিয়ামের পরিচালনায় ‘কাছে আসার গল্প’ প্রকল্পের ‘পেজ টার্নার’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি বঙ্গ অরিজিনালের ‘নীলাঞ্জনা এক্সপ্রেস’ এবং ভিকি জাহেদের একটি অপ্রকাশিত প্রকল্পেও কাজ করেন।<br>তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে রায়হান রাফী পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার মাধ্যমে। ছবিতে শাকিল চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইয়ামিন বলেন, ‘“প্রেশার কুকার” আমার ক্যারিয়ারের একটি বড় ব্রেকথ্রু। রাফী ভাইয়ের মতো একজন নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ যেকোনো অভিনেতার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়।’</p><p><strong>গল্পের টানে বদলে গেল পরিকল্পনা<br></strong>‘প্রেশার কুকার”-এর পরই তাঁর কাছে আসে ‘তাজমহল’ ওয়েব ফিল্মের প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব। ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে মা–বাবার কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু গল্প শুনেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/b7czdde671">ঈদের সিনেমা দিয়ে অভিষেকেই আলোচনায়, দুই তরুণকে কতটা চেনেন</a></aside><p>ইয়ামিন বলেন, ‘যখন “তাজমহল”–এ অভিনয়ের প্রস্তাব পেলাম, তার তিন দিন পরই আমার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। গল্প শোনার পর আমি এর প্রেমে পড়ে যাই। পরিচালক ওয়াহিদ আনাম ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার পর মনে হয়েছিল, এই মানুষটার সঙ্গে আমি কাজ করতে চাই। আমার মনে হচ্ছিল, প্রধান চরিত্রে যাত্রা শুরু করার জন্য এটাই আমার সঠিক প্রজেক্ট।’ সিনেমাটির শুটিংয়ের জন্য তিন সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করে মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই দেশে ফিরে আসেন তিনি।</p><p><strong>ভবিষ্যতের স্বপ্ন<br></strong>ইয়ামিন নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করতে চান। তাঁর লক্ষ্য, প্রতিটি কাজেই নতুন ও ভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে আবিষ্কার করা। দর্শকদের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে চমকে দিতে পারাকেই তিনি একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে করেন। ইয়ামিন বলেন, ‘এমন সব চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, যা আমাকে প্রতিবার নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করবে এবং দর্শকদের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরবে।’</p>]]></content:encoded></item><item><title>মহাকাশের লোহা দিয়ে তৈরি হয়েছিল প্রাচীন অলংকার</title><link>https://www.bigganchinta.com/others/kidtmdub66</link><comments>https://www.bigganchinta.com/others/kidtmdub66#comments</comments><guid isPermaLink="false">e62e1f96-5120-4284-bb63-d0fea0b8d34d</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 01:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T01:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>লেখা: </atom:name><atom:uri>/api/author/1431141</atom:uri></atom:author><description></description><media:keywords>অন্যান্য বিজ্ঞানচিন্তা</media:keywords><media:content height="1024" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/lk9s3n3l/hittite-document-peace-treaty-ramesses.jpg.webp" width="1111"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-04/lk9s3n3l/hittite-document-peace-treaty-ramesses.jpg.webp?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>others</category><content:encoded><![CDATA[ <p>স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, আধুনিক আলিকান্তে অঞ্চলে ১৯৬৩ সালে এক অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার ঘটে। নাম ট্রেজার অব ভিলেনা। প্রায় ৬৬টি সোনার অলংকার ও সামগ্রী নিয়ে গঠিত এই ধনভান্ডার ইউরোপের ব্রোঞ্জ যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এত বছর পরও এই ভান্ডারের দুটি বস্তু বিজ্ঞানীদের বিভ্রান্ত করে রেখেছিল। একটি ধাতব ব্রেসলেট এবং একটি ছোট ফাঁপা অর্ধগোলাকার বস্তু, যা সম্ভবত কোনো রাজদণ্ড বা তরবারির অংশ ছিল।</p><p>দেখতে সাধারণ মরিচা ধরা লোহার মতো হলেও এগুলোর প্রকৃত উৎস নিয়ে প্রশ্ন ছিল বহুদিন। কারণ, এই অঞ্চলে স্থলজ লোহা দিয়ে তৈরি অলংকারের যুগ শুরু হয় প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ৮৫০ সালের দিকে। অথচ ভিলেনা ধনভান্ডারের সামগ্রিক সময়কাল ধরা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে। অর্থাৎ লৌহযুগ শুরুরও বহু আগে। তাহলে প্রশ্ন হলো, লোহা এল কোথা থেকে?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/aqjqailow4">লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম শক্ত, কিন্তু ধাতু হয়েও পারদ কেন তরল</a></aside><blockquote>কোটি কোটি বছর আগে মহাকাশে গঠিত কিছু গ্রহাণু বা ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রহের অংশ পৃথিবীতে এসে পড়ে এবং তাদের ভেতরে থাকা ধাতু অনেক সময় বিশুদ্ধ লোহা ও নিকেলের মিশ্রণ হিসেবে পাওয়া যায়।</blockquote><h2><strong>আকাশ থেকে পড়া লোহা: উল্কাপিণ্ডের উপহার</strong></h2><p>আধুনিক গবেষণা বলছে, এই দুটি বস্তু সম্ভবত পৃথিবীর মাটি থেকে আসেনি। বরং এগুলো এসেছে মহাকাশ থেকে, উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে। আমরা সাধারণত লোহাকে খনিতে পাওয়া খনিজ হিসেবে জানি। কিন্তু এর বাইরে আরেকটি বিরল উৎস আছে, উল্কাপিণ্ডে থাকা ধাতব লোহা। কোটি কোটি বছর আগে মহাকাশে গঠিত কিছু গ্রহাণু বা ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রহের অংশ পৃথিবীতে এসে পড়ে এবং তাদের ভেতরে থাকা ধাতু অনেক সময় বিশুদ্ধ লোহা ও নিকেলের মিশ্রণ হিসেবে পাওয়া যায়।</p><p>প্রাচীন মানুষ আকাশ থেকে পড়া এই পাথর বা ধাতুকে খুব মূল্যবান মনে করত। কারণ, এটি খনির লোহার মতো গলিয়ে নিষ্কাশন করতে হতো না, বরং সরাসরি কাজের ধাতু হিসেবে ব্যবহার করা যেত।</p><h2><strong>কীভাবে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হলেন</strong></h2><p>স্পেনের ন্যাশনাল আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়ামের গবেষক সালভাদর রোভিরা-লরেন্স এবং তাঁর দল এই দুটি বস্তুর ধাতব গঠন বিশ্লেষণ করেন। তাঁরা অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেন—ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি, যার মাধ্যমে কোনো ধাতুর ভেতরের মৌলিক উপাদান নির্ভুলভাবে জানা যায়।</p><p>ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। দুটি বস্তুতেই পাওয়া যায় উচ্চ মাত্রার নিকেল। এই নিকেলসমৃদ্ধ গঠন সাধারণ পৃথিবীর লোহার নয়, বরং উল্কাপিণ্ডে থাকা লোহার বৈশিষ্ট্য। কারণটা সহজ, পৃথিবীর খনির লোহার মধ্যে নিকেল খুবই কম থাকে। আর উল্কাজাত লোহার মধ্যে নিকেলের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই পার্থক্যই বিজ্ঞানীদের কাছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হিসেবে কাজ করে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/5s9q15n35o">গ্রহাণু খুড়ে মূল্যবান সম্পদ পাওয়া কল্পগল্প নাকি বাস্তব</a></aside><blockquote>প্রাচীন মানুষ আকাশ থেকে পড়া এই পাথর বা ধাতুকে খুব মূল্যবান মনে করত। কারণ, এটি খনির লোহার মতো গলিয়ে নিষ্কাশন করতে হতো না, বরং সরাসরি কাজের ধাতু হিসেবে ব্যবহার করা যেত।</blockquote><h2><strong>ব্রোঞ্জ যুগে মহাকাশের ধাতু কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল</strong></h2><p>এই আবিষ্কার শুধু একটি প্রত্নবস্তু শনাক্ত করার বিষয় নয়। এটি আমাদের ব্রোঞ্জ যুগের প্রযুক্তি ও চিন্তাভাবনা সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০–১২০০ সালের সময়টা ছিল ব্রোঞ্জ যুগের শেষ পর্যায়। তখন মানুষ প্রধানত তামা ও টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরি করত। কিন্তু লোহা তখনও ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয়নি।</p><p>তাই উল্কাজাত লোহা ছিল অত্যন্ত বিরল এবং তা প্রায় দিব্য ধাতু হিসেবে বিবেচিত হতো। কারণ এটি সহজে পাওয়া যেত না, এটি ছিল শক্ত ও টেকসই এবং এর উৎস ছিল আকাশ। তাই একে রহস্যময় ও পবিত্র মনে করা হতো। মিসরের ফারাও তুতানখামেনের সমাধিতে পাওয়া বিখ্যাত উল্কাজাত লোহার ছুরি এর একটি দারুণ উদাহরণ। সেই ছুরিও প্রমাণ করে, আকাশ থেকে আসা ধাতু ছিল রাজা ও অভিজাতদের জন্য বিশেষ মর্যাদার প্রতীক।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/others/h42ch5zsqn">লোহাকে সোনায় পরিণত করা গেলেও বিজ্ঞানীরা তা করেন না কেন</a></aside><blockquote>উল্কাজাত লোহা ছিল অত্যন্ত বিরল এবং তা প্রায় দিব্য ধাতু হিসেবে বিবেচিত হতো। কারণ এটি সহজে পাওয়া যেত না, এটি ছিল শক্ত ও টেকসই এবং এর উৎস ছিল আকাশ।</blockquote><h2><strong>ভিলেনা ধনভান্ডারের দুটি রহস্যময় বস্তু</strong></h2><p>গবেষণায় যে দুটি বস্তু নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক ছিল, তার একটি হলো ছোট ফাঁপা অর্ধগোলক, যা সম্ভবত রাজদণ্ড বা অস্ত্রের অংশ এবং অপরটি একটি ব্রেসলেট। দুটোই দেখতে জং ধরা লোহার মতো হলেও এগুলো আসলে ব্রোঞ্জ যুগের একই সময়ের অন্যান্য সোনার অলংকারের সঙ্গেই পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এগুলো আলাদা কোনো যুগের নয়। এখন নতুন বিশ্লেষণ বলছে, এই দুটি বস্তুই সম্ভবত একই সময়ের মানুষের তৈরি, এবং সেই সময়েই উল্কাজাত লোহা সংগ্রহ করে ব্যবহার করা হয়েছিল।</p><p>কিন্তু তবুও প্রশ্ন রয়ে যায়। যদিও ফলাফল বেশ শক্তিশালী, তবে গবেষকেরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন। কারণ, বস্তু দুটি বহু বছর ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত; মরিচা ধাতুর মূল গঠন পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও উন্নত নন-ডেস্ট্রাকটিভ প্রযুক্তি প্রয়োজন। তাই ভবিষ্যতে আরও গভীর বিশ্লেষণ করা হলে এই বস্তুগুলোর উৎস সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/ob1no9q3b8">তামা ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে যায় কেন </a></aside><blockquote>গবেষণায় যে দুটি বস্তু নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক ছিল, তার একটি হলো ছোট ফাঁপা অর্ধগোলক, যা সম্ভবত রাজদণ্ড বা অস্ত্রের অংশ এবং অপরটি একটি ব্রেসলেট।</blockquote><h2><strong>ইতিহাসের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি</strong></h2><p>এই আবিষ্কার আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রাচীন মানুষকে আমরা যতটা সরল ভাবি, তাঁরা ততটা সরল ছিলেন না। তাঁরা শুধু পাথরেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাঁরা আকাশের দিকে তাকিয়ে যে ধাতু পড়তে দেখতেন, সেটিকে সংগ্রহ করতেন, ব্যবহার করতেন, এমনকি অলংকারেও পরিণত করতেন। এটি একদিকে যেমন প্রযুক্তির ইতিহাস, অন্যদিকে মানুষের কল্পনা ও বিশ্বাসের ইতিহাসও।</p><p>ভিলেনা ধনভান্ডারের এই রহস্যময় দুটি বস্তু আমাদের শেখায়, ইতিহাস শুধু মাটির নিচে লেখা থাকে না, কখনো কখনো আকাশ থেকেও লেখা হয়। একটি ছোট ব্রেসলেট আর একটি ক্ষয়প্রাপ্ত ধাতব টুকরো হয়তো আমাদের পুরো ব্রোঞ্জ যুগের প্রযুক্তি বোঝার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দিতে পারে। আর সেই কারণেই, এই অদ্ভুত ধাতু আসলে শুধু ধাতু নয়, এটি মহাকাশ থেকে আসা ইতিহাসের একটি টুকরো।</p><h4>লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</h4><h4>সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/ej1iqc2dyg">পৃথিবীতে কত স্বর্ণ আছে</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>আজ টিভিতে যা দেখবেন (৬ জুন ২০২৬)</title><link>https://www.prothomalo.com/sports/rpfoz8aarf</link><comments>https://www.prothomalo.com/sports/rpfoz8aarf#comments</comments><guid isPermaLink="false">31d3246c-164b-4be9-aef2-08a1a69a0e99</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 01:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T01:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>খেলা ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1427550</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ নামবে হ্যাটট্রিক শিরোপার খোঁজে। ফ্রেঞ্চ ওপেনে আছে নারী এককের ফাইনাল।]]></description><media:keywords>আজকের খেলা</media:keywords><media:content height="1067" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-03/zbjuttc1/WhatsApp-Image-2025-09-07-at-18.46.345cffd0da.jpg" width="1600"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-03/zbjuttc1/WhatsApp-Image-2025-09-07-at-18.46.345cffd0da.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>খেলা</category><content:encoded><![CDATA[ <blockquote>সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ নামবে হ্যাটট্রিক শিরোপার খোঁজে। ফ্রেঞ্চ ওপেনে আছে নারী এককের ফাইনাল।</blockquote><h3>নারী সাফ ফাইনাল</h3><p> <strong>বাংলাদেশ-ভারত</strong>	<br> সন্ধ্যা ৭টা, টি-স্পোর্টস</p><h3>লর্ডস টেস্ট-৩য় দিন</h3><p> <strong>ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড</strong>	<br> বিকেল ৪টা, সনি টেন ১</p><h3>চণ্ডীগড় টেস্ট-১ম দিন</h3><p><strong>ভারত-আফগানিস্তান</strong>	<br>সকাল ১০টা, সনি টেন ৫</p><h3>আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল</h3><p><strong>পর্তুগাল-চিলি</strong>	<br> রোমানিয়া-ওয়েলস	রাত ১১-৪৫ মি., সনি টেন ১ ও ২</p><h3>ফ্রেঞ্চ ওপেন টেনিস</h3><p><strong>নারী একক ফাইনাল</strong><br>সন্ধ্যা ৭টা, সনি টেন ২ ও ৩</p>]]></content:encoded></item><item><title>মহাকাশে গুলি ছুড়লে কী ঘটবে</title><link>https://www.kishoralo.com/feature/7khzqk934r</link><comments>https://www.kishoralo.com/feature/7khzqk934r#comments</comments><guid isPermaLink="false">3f9c141a-cf02-4fde-ac75-5eda7068f20e</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 01:00:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T01:00:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>কাজী আকাশ</atom:name><atom:uri>/api/author/1526705</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ মহাকাশযানের বাইরে গেলে, বন্দুকের ট্রিগার চেপে দিলে। পৃথিবীতে এমনটা করলে কান ফাটানো শব্দে একটা গুলি বেরিয়ে যেত। কিন্তু তুমি যেহেতু মহাকাশে আছ, তাই সেখানে শ্বাস নেওয়ার মতো কোনো বাতাস নেই, নেই মহাকর্ষের টান]]></description><media:keywords>মাথায় কত প্রশ্ন আসে কিআ,আরও কিআ,জানা অজানা কিআ</media:keywords><media:content height="720" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-08/9c3523c1-15e2-4dcd-a7fa-90c845aa348b/maxresdefault.jpg" width="1280"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-08/9c3523c1-15e2-4dcd-a7fa-90c845aa348b/maxresdefault.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>feature</category><content:encoded><![CDATA[ <p>একটু কল্পনার মাধ্যমে এই লেখা শুরু করা যাক। যেহেতু তুমিই কল্পনা করছ, তোমাকে আর বাদ দিই কীভাবে! ধরো, মহাকাশের ঘুটঘুটে অন্ধকারে তুমি ভাসছ। হ্যাঁ, অবশ্যই কোনো মহাকাশযানে। তোমার পরনে বিশাল এক স্পেসসুট। কারণ তুমি এখনই মহাকাশযানের বাইরে যাবে। সঙ্গে থাকবে একটি সাধারণ বন্দুক। না, কাউকে ঘায়েল করতে হবে না। শুধু তোমার কৌতূহল মেটানোই উদ্দেশ্য।</p><p>মহাকাশযানের বাইরে গেলে, বন্দুকের ট্রিগার চেপে দিলে। পৃথিবীতে এমনটা করলে কান ফাটানো শব্দে একটা গুলি বেরিয়ে যেত। কিন্তু তুমি যেহেতু মহাকাশে আছ, তাই সেখানে শ্বাস নেওয়ার মতো কোনো বাতাস নেই, নেই মহাকর্ষের টান। এই অবস্থায় সেখানে কী ঘটবে? বন্দুকটা কি আদৌ কাজ করবে? কোনো শব্দ হবে? অন্তত গুলিটা কি বের হবে বন্দুক থেকে?</p><p>এত দিনে তুমি নিশ্চয়ই শিখেছ, আগুন জ্বলার জন্য অক্সিজেন খুব দরকার। পৃথিবীর বাতাসে প্রচুর অক্সিজেন আছে, তাই বন্দুকের ভেতরে বারুদ যখন জ্বলে ওঠে, তখন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু মহাকাশে তো কোনো অক্সিজেন নেই। তাহলে বন্দুকের ভেতরের বারুদে আগুন জ্বলবে কীভাবে?</p><p>চিন্তার কোনো কারণ নেই, তোমার হাতের বন্দুকটি মহাকাশেও ঠিক পৃথিবীর মতোই কাজ করবে! কারণ, আধুনিক বন্দুকের গুলির ভেতরে শুধু বারুদই থাকে না, এর সঙ্গে একধরনের রাসায়নিক পদার্থ মেশানো থাকে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে অক্সিডাইজিং এজেন্ট বা অক্সিডাইজার। এই রাসায়নিক পদার্থটি বারুদে আগুন জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন নিজেই তৈরি করে নিতে পারে। তাই মহাকাশে বাইরের কোনো অক্সিজেন না থাকলেও, বারুদে ঠিকই বিস্ফোরণ ঘটবে এবং বন্দুকের গুলি প্রচণ্ড বেগে ছুটে বের হবে।</p><aside><a href="https://www.kishoralo.com/feature/da16l1n9rq">মহাকাশ স্টেশনে গরিলা স্যুটে মহাকাশচারী স্কট কেলি</a></aside><p>গুলি তো বের হলো, কিন্তু তুমি কি কোনো শব্দ শুনতে পাবে? না। একদম পিনপতন নীরবতা! শব্দ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য বাতাস বা পানির মতো কোনো মাধ্যম দরকার হয়। মহাকাশ তো সম্পূর্ণ শূন্যস্থান। সেখানে বাতাস নেই, তাই শব্দের কোনো তরঙ্গ তোমার কান পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারবে না। তুমি কেবল তোমার হাতে একটা ধাক্কা অনুভব করবে, কিন্তু কানের কাছে কোনো শব্দ হবে না। পুরো ঘটনাটা ঘটবে একটা সাইলেন্ট মুভির মতো!</p><p>কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই গুলিটি যাবে কোথায়? না মানে, পৃথিবীতে বন্দুক থেকে গুলি ছুড়লে তো তা নির্দিষ্ট দূরত্বে গিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। অবশ্য এর পেছনে বাতাসের বাধা এবং পৃথিবীর মহাকর্ষ বল কাজ করে। কিন্তু মহাকাশে এই দুটি জিনিসের কোনোটিই নেই! তাহলে তোমার ছোড়া ওই ছোট্ট গুলির কী হবে? বিজ্ঞান বলছে, ওই গুলিটি হাজার হাজার বছর ধরে এক সরলরেখায় সামনের দিকে ছুটতেই থাকবে। </p><p>এটি হয়তো অসীমকাল ধরে চলতে পারত, কিন্তু মহাকাশ তো আর পুরোপুরি খালি নয়। তথাকথিত এই শূন্যস্থানেও এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে কিছু মহাজাগতিক ধূলিকণা বা গ্যাসীয় পদার্থ। হাজার হাজার বছর ধরে চলতে চলতে এই অতি সামান্য ধূলিকণার ঘর্ষণে গুলিটির গতি একসময় ধীরে ধীরে কমে আসবে। অথবা কোনো গ্রহাণু, উপগ্রহ বা অন্য কোনো বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তবেই এর যাত্রার অবসান হবে।</p><p>কিন্তু গুলিটির নাহয় একটা ব্যবস্থা হলো, তোমার কী হবে? বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রটা মনে আছে? ‘প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে।’</p><aside><a href="https://www.kishoralo.com/other/oxse4ivf20">আইসক্রিম খাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা মহাকাশ</a></aside><p>তুমি যদি চাকার জুতো বা রোলার স্কেটস পরে সামনের দিকে ভারী কিছু ছুড়ে মারো, তাহলে দেখবে তুমি নিজে কিছুটা পেছনের দিকে পিছিয়ে যাবে। মহাকাশে ঠিক এই ঘটনাই ঘটবে তোমার সঙ্গে। তুমি যেহেতু শূন্যে ভাসছ, তাই গুলিটি যখন প্রচণ্ড বেগে সামনের দিকে ছুটে যাবে, তখন সেই গুলিটিও তোমাকে পেছনের দিকে একটা সমান ধাক্কা দেবে।</p><p>তবে গুলির মতো অত জোরে তুমি ছিটকে যাবে না। কারণ, গুলির ওজন খুবই কম, আর তোমার স্পেসসুটসহ ওজন অনেক বেশি। তুমি পেছনের দিকে প্রতি সেকেন্ডে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার বেগে ভাসতে শুরু করবে। কিন্তু সবচেয়ে মজার বা ভয়ের ব্যাপার হলো, তোমাকে থামানোর মতো কোনো বাতাস বা ঘর্ষণ সেখানে নেই। তাই তুমি এই ধীরগতিতেই অনন্তকাল ধরে পেছনের দিকে ভাসতেই থাকবে!</p><p>এই পর্যায়ে এসে একটি অদ্ভুত প্রশ্ন না করলেই নয়। আচ্ছা, তোমার ছোড়া গুলিতে তোমার নিজের ঘায়েল হওয়ার সম্ভাবনা কতটা! মানে তুমি যে গুলিটি কিছুক্ষণ আগে মহাকাশে ছুড়ে দিলে, সেটি কি কোনোভাবে তোমাকে আঘাত করতে পারবে?</p><p>আসলে তুমি যদি পৃথিবীর খুব কাছাকাছি কোনো কক্ষপথে ভাসতে ভাসতে গুলি ছোড়ো, তবে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে পারে। তুমি যেদিকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছ, ঠিক সেদিকেই যদি নিখুঁত নিশানায় গুলি ছোড়ো, তবে সেই গুলিটি পৃথিবীর চারদিকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে শুরু করতে পারে। আর তুমি যদি তোমার জায়গা থেকে একটুও না সরো, তবে পৃথিবী একবার ঘুরে আসার পর ওই গুলিটি পেছন থেকে এসে তোমার পিঠেই আঘাত করতে পারে!</p><h5>সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাস</h5><aside><a href="https://www.kishoralo.com/feature/vrekz3okew">অসুস্থতার কারণে মহাকাশ স্টেশন থেকে আগেই ফিরছেন নভোচারীরা</a></aside>]]></content:encoded></item><item><title>সকালের নাশতায় ওটস খেতে যে ৬ ভুল করলে কোনও স্বাস্থ্য উপকারিতা পাবেন না, উল্টো হবে ক্ষতি </title><link>https://www.haal.fashion/lifestyle/well-being/dv3vsgh8iy</link><comments>https://www.haal.fashion/lifestyle/well-being/dv3vsgh8iy#comments</comments><guid isPermaLink="false">49be4d76-fbfa-44bd-8ab5-fc9eca673dac</guid><pubDate>Sat, 06 Jun 2026 00:50:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T00:50:00.245Z</atom:updated><atom:author><atom:name>হাল ফ্যাশন ডেস্ক</atom:name><atom:uri>/api/author/1645869</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ সঠিকভাবে তৈরি করলে ওটস অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হতে পারে, কিন্তু কিছু সাধারণ ভুলের কারণে এটি স্বাস্থ্য উপকারিতা না দিয়ে উল্টো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।]]></description><media:keywords>ওজন কমানো,স্বাস্থ্য,পুষ্টি</media:keywords><media:content height="1140" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/wav5co2p/poats333.jpg" width="780"><media:title type="html"></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/wav5co2p/poats333.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>কুশল</category><content:encoded><![CDATA[ <p>ওটস নিজে একটি "ফাঁকা ক্যানভাসের" মতো। সঠিকভাবে তৈরি করলে এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হতে পারে, কিন্তু কিছু সাধারণ ভুলের কারণে এটি স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে উল্টো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।</p><p>ওটস বা ওটমিলকে সারা বিশ্বেই অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে দেখা হয়। বলা হয়, এটি কোলেস্টেরল কমায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। কিন্তু অনেকেই প্রতিদিন সকালে এক বাটি ওটস খাওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করেন। এমনকি কারও কারও ওজনও বেড়ে যেতে পারে।</p><p>আসলে ওটস নিজে একটি "ফাঁকা ক্যানভাসের" মতো। সঠিকভাবে তৈরি করলে এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হতে পারে, কিন্তু কিছু সাধারণ ভুলের কারণে এটি স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে উল্টো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/6nboa4w6/pexels-monserratsoldu-2310553.jpg" /><figcaption>ওটস আসলে ফাঁকা ক্যানভাসের মতো </figcaption></figure><h3>১. ওটসকে শুধু কার্বোহাইড্রেট হিসেবে খাওয়া</h3><p>পানিতে রান্না করা সাধারণ এক বাটি ওটসে ফাইবারের সঙ্গে শর্করা থাকে, কিন্তু প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি খুব কম থাকে। ফলে শরীর এটি দ্রুত হজম করে ফেলে। এতে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর আবার নেমে যায়। ফলস্বরূপ অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষুধা লাগে।</p><p><strong>সমাধান</strong></p><p>ওটসের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি যোগ করুন। যেমন—</p><ul><li><p>পানি ঝরানো টকদই</p></li><li><p>দুধ</p></li><li><p>বাদাম বা বীজ</p></li><li><p>চিয়া সিড</p></li><li><p>ফ্ল্যাক্সসিড</p></li><li><p>বাদামের মাখন</p></li></ul><p>এগুলো হজম ধীর করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।</p><h3>২. ইনস্ট্যান্ট ওটসের ওপর নির্ভর করা</h3><p>বাজারের ফ্লেভারযুক্ত বা ইনস্ট্যান্ট ওটস দ্রুত তৈরি করা গেলেও এগুলো অনেক বেশি প্রক্রিয়াজাত। এতে প্রায়ই অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম স্বাদ ও সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/jiugrysg/pexels-maria-cerda-154792741-10883628.jpg" /><figcaption>ইন্সট্যান্টের বদলে রোলড ওটস খান </figcaption></figure><p><strong>সমাধান</strong></p><p>ইনস্ট্যান্ট ওটসের বদলে খান</p><ul><li><p>স্টিল-কাট ওটস</p></li><li><p>ওল্ড-ফ্যাশনড রোলড ওটস</p></li></ul><p>এগুলো ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/ugbwdl7r/pexels-rdne-6529614.jpg" /><figcaption>চিনি বা কৃত্রিম চিনি যোগ করবেন না </figcaption></figure><h3>৩. অতিরিক্ত মিষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর টপিং ব্যবহার</h3><p>অনেকে ওটসের সঙ্গে প্রচুর মধু, ম্যাপল সিরাপ, ব্রাউন সুগার বা প্রক্রিয়াজাত শুকনো ফল যোগ করেন। এতে স্বাস্থ্যকর খাবারটি প্রায় ডেজার্টে পরিণত হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/dp9lrnbr/pexels-betul-nur-53084391-8005369.jpg" /><figcaption>বিভিন্ন চিনিযুক্ত সসও টপিং দিলে তা আর স্বাস্থ্যকরে থাকে না </figcaption></figure><p><strong>সমাধান</strong></p><p>প্রাকৃতিক উপায়ে মিষ্টি করুন এই উপকরণগুলো যোগ করে</p><ul><li><p>কলা</p></li><li><p>তাজা ফল</p></li><li><p>দারুচিনি গুঁড়া</p></li><li><p>ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট</p></li></ul><h3>৪. পরিমাণের দিকে খেয়াল না রাখা</h3><p>ওটসেও ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেটে আছে। মেপে না খেলে সহজেই প্রয়োজনের দ্বিগুণ খাওয়া হয়ে যেতে পারে।</p><p><strong>সমাধান</strong></p><p>সাধারণত ওটসের একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশন হলো—</p><ul><li><p>আধা কাপ শুকনা ওটস<br>অথবা</p></li><li><p>১ কাপ রান্না করা ওটস</p></li></ul><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/qzhygv23/GeminiGeneratedImageu3e5bru3e5bru3e5.png" /><figcaption>মেপে না খেলে সহজেই প্রয়োজনের দ্বিগুণ খাওয়া হয়ে যেতে পারে ওটস</figcaption></figure><h3>৫. খাদ্য সংবেদনশীলতা উপেক্ষা করা</h3><p>ওটস স্বাভাবিকভাবে গ্লুটেনমুক্ত হলেও অনেক সময় এমন কারখানায় প্রক্রিয়াজাত হয় যেখানে গম, বার্লি বা রাইও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এতে গ্লুটেন দূষণ হতে পারে, যা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।</p><p>কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ওটস খাওয়ার পর গ্যাস, পেট ফাঁপা, মাথা ভার লাগা বা অস্বস্তি হতে পারে।</p><p><strong>সমাধান:</strong></p><ul><li><p>সার্টিফায়েড গ্লুটেন ফ্রি লেখা ওটস কিনুন।</p> </li><li><p>ওটস খাওয়ার পর শরীর কেমন প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে তা লক্ষ্য করুন।</p></li></ul><h3>৬. এক চিমটি লবণ দিতে ভুলে যাওয়া</h3><p>শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ওটস রান্নার সময় সামান্য লবণ না দিলে স্বাদ অনেকটাই ফিকে লাগে। এক চিমটি লবণ ওটসের স্বাভাবিক সুগন্ধি স্বাদকে আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-06/obxp1h1b/pexels-cipotesv-13950819.jpg" /><figcaption>ওটসের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কীভাবে এটি প্রস্তুত করছেন তার ওপর</figcaption></figure><p>ওটস সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর একটি খাদ্য। তবে এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কীভাবে এটি প্রস্তুত করছেন তার ওপর। সঠিক পরিমাণে খাওয়া, কম প্রক্রিয়াজাত ওটস বেছে নেওয়া এবং এর সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি যোগ করলেই ওটস সত্যিকার অর্থে একটি আদর্শ সকালের নাশতায় পরিণত হতে পারে।</p><p><strong>সূত্র</strong>: হেলথলাইন </p><p><strong>ছবি</strong>: এ আই ও পেকজেলস</p>]]></content:encoded></item><item><title>বিয়ের ছবি দিয়ে দীপ্তি লিখলেন, ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য চোখের জল ফেলেছেন...’ </title><link>https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/czwa5b1i4i</link><comments>https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/czwa5b1i4i#comments</comments><guid isPermaLink="false">fcbdf489-362a-44bd-86f8-101550ed05b3</guid><pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:15:00 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-06T00:30:00.000Z</atom:updated><atom:author><atom:name>বিনোদন প্রতিবেদক</atom:name><atom:uri>/api/author/1428416</atom:uri></atom:author><description></description><media:keywords>তারকার বিয়ে,বিয়ে,ভাইরাল</media:keywords><media:content height="606" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/e68tb6qy/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87.jpg" width="1080"><media:title type="html"><![CDATA[ বিয়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন দীপ্তি চৌধুরী  ]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/e68tb6qy/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>টেলিভিশন</category><content:encoded><![CDATA[ <p>বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে আবেগঘন একটি বার্তা শেয়ার করেছেন আলোচিত উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী । বিয়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন, তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব!’ তাঁর এ পোস্ট ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।</p><p>চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘স্ট্রেইট কাট’সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পাওয়া দীপ্তি চৌধুরীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আজ শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে দীপ্তি চৌধুরীর আক্দ অনুষ্ঠিত হয়। পারিবারিক আয়োজনে সম্পন্ন হওয়া এ অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।</p><p>দীপ্তি চৌধুরীর স্বামীর নাম মুশতাক ইবনে আইয়ুব। পেশায় তিনি শিক্ষক ও গবেষক। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন তিনি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন একাডেমিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/508v05ig/714716451_1304793035166065_5244037876314694578_n.jpg" /><figcaption>বরের সঙ্গে দীপ্তি চৌধুরী</figcaption></figure><p>বিয়ের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে দীপ্তি চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘আজ আক্দ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বড় আয়োজনে বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হবে। সবার কাছে দীপ্তির নতুন জীবনের জন্য দোয়া চাই।’<br>এরপর সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিয়ের আরও কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন দীপ্তি। ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত মুহূর্তে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে স্বামীকে ‘মাস্টার সাহেব’ সম্বোধন করে লেখা তাঁর আবেগঘন বার্তাটি দ্রুতই নজর কাড়ে নেটিজেনদের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/bftohu2i/713624152_1304793055166063_6769202316042247002_n.jpg" /><figcaption>কনের সাজে দীপ্তি চৌধুরী</figcaption></figure><p>পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বন্যা বইছে। সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।<br>বিয়ের খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপ্তি চৌধুরীকে ঘিরে আলোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। নতুন এ অধ্যায়ে পা রাখা দীপ্তি ও মুশতাক ইবনে আইয়ুবের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তাঁদের ভক্ত-অনুরাগীরাও।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/2p901j2t/714542106_1304793108499391_7294162404329934400_n.jpg" /><figcaption>পারিবারিক আয়োজনে সম্পন্ন হওয়া এ অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন</figcaption></figure><p>প্রসঙ্গত, দীপ্তির ব্যবহৃত বাক্যটি মূলত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাসের সংলাপের অনুকরণে লেখা। মূল লেখায় হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ! তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।’ সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে বহুল পরিচিত এ সংলাপকে নিজের বাস্তব জীবনের আবেগের সঙ্গে মিলিয়ে ‘ডাক্তার সাহেব’-এর জায়গায় ‘মাস্টার সাহেব’ ব্যবহার করেছেন দীপ্তি। ফলে তাঁর বিয়ের ছবির সঙ্গে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বার্তাটি শুধু ভালোবাসার প্রকাশই নয়, হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজগতের প্রতি একধরনের নস্টালজিক ইঙ্গিত বললে বাড়াবাড়ি হবে না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/615mv935/714586327_1304793048499397_6014641843631826516_n.jpg" /><figcaption>ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত মুহূর্তে দেখা যায়</figcaption></figure>]]></content:encoded></item><item><title>যুদ্ধ নাকি শান্তিচুক্তি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে হাঁটছে</title><link>https://www.prothomalo.com/world/middle-east/u9l7p3qtgm</link><comments>https://www.prothomalo.com/world/middle-east/u9l7p3qtgm#comments</comments><guid isPermaLink="false">0f57f8d2-8669-4c60-9ba8-ce2db3637e2f</guid><pubDate>Fri, 05 Jun 2026 21:02:24 +0000</pubDate><atom:updated>2026-06-05T21:02:24.583Z</atom:updated><atom:author><atom:name>আল–জাজিরা</atom:name><atom:uri>/api/author/1772923</atom:uri></atom:author><description><![CDATA[ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ‘ক্রমশ বেশি মাত্রায় যুক্ত’ হচ্ছেন। ]]></description><media:keywords>ইরান,হামলা,পাকিস্তান,মধ্যপ্রাচ্য,যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ,যুদ্ধ,ইসরায়েল,যুক্তরাষ্ট্র,ডোনাল্ড ট্রাম্প</media:keywords><media:content height="348" url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/izuue2lo/Iran-US-1.jpg" width="522"><media:title type="html"><![CDATA[ ছবি: রয়টার্স]]></media:title><media:description type="html"></media:description></media:content><media:thumbnail url="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/izuue2lo/Iran-US-1.jpg?w=280" width="280"></media:thumbnail><category>মধ্যপ্রাচ্য</category><content:encoded><![CDATA[ <p>ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত এপ্রিলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে দুই দেশই শান্তির জন্য দফায় দফায় প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এরপরও দুই পক্ষের নেতারা বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে প্রয়োজন হলে তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও যেসব ছোটখাটো সংঘাত ঘটেছে, তাতে শান্তির বদলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।</p><p>শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য এই অঞ্চলের যেসব মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, সেগুলোকে ইরান নিজেদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরে নেবে। গত কয়েক সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশেরই বিভিন্ন সম্পদ ও অবকাঠামোতে হামলার পর এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/d21zupi5/Iran-US-2.jpg" /><figcaption>যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান</figcaption></figure><p>ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশটির নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যে সাগরপথে চলাচলে বাধা দেওয়া এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার আটকে রাখার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে।</p><p>বর্তমান এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে—এখন কোনটির সম্ভাবনা বেশি—শান্তি নাকি নতুন করে যুদ্ধ?</p><p><strong>সম্প্রতি কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে</strong></p><p>কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, গত বুধবার সকালে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। এ হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ফ্লাইট বন্ধ রাখতে এবং ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়েছিল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।</p><p>তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, কুয়েতের দিকে ছোড়া ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস হয় বা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত হয়। ইরানের বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/oq6xsyj1/Iran-US-3.jpg" /><figcaption>কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর আগুন ও ধোঁয়া। ৩ জুন ২০২৬</figcaption></figure><p>ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘এ অঞ্চলের একটি দেশে’ মার্কিন হেলিকপ্টারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তারা মূলত কুয়েতকেই বুঝিয়েছে। তবে হেলিকপ্টারগুলো বিমানবন্দরে ছিল কি না কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে বিমানবন্দরের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।</p><p>তাসনিম আরও জানিয়েছে, বাহরাইনে একটি বিমানঘাঁটি এবং মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে আইআরজিসি। তবে সেন্টকমের ভাষ্য, বাহরাইনের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েত বা বাহরাইনে কোথাও কোনো মার্কিন সেনা বা সম্পদের ক্ষতি হয়নি।</p><blockquote>৬ মে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং খুব সম্ভবত আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব।’</blockquote><p>এর আগে গোরুক ও কেশম দ্বীপে ইরানের রাডার ও ড্রোনঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি কেশমের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারেও মার্কিন হামলা হয়। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীবাহী জাহাজে হামলার চেষ্টাকারী ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। এর জবাবেই ইরান এসব পাল্টা হামলা চালায়।</p><p>তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি তেলের ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর জবাবে আইআরজিসির নৌবাহিনী ‘পানায়া’ নামে একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/nv5va2f5/Iran-US-4.jpg" /><figcaption>মানচিত্রে হরমুজ প্রণালি</figcaption></figure><p>২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। যুদ্ধবিরতির পর সৃষ্টি হওয়া সংক্ষিপ্ত শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে সাম্প্রতিক এ ঘটনাগুলো উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। উদাহরণ হিসেবে বলতে গেলে, ১৭ মে আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি ড্রোন হামলার কারণে বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের সীমানার ঠিক বাইরে একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন লেগে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও স্বাভাবিক ছিল।</p><p>এর আগে মে মাসের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। তারা জানায়, পূর্ব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে ইরান ‘একঝাঁক’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এতে তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন এবং ফুজাইরাহ পেট্রোলিয়াম শিল্প অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।</p><p><strong>যুক্তরাষ্ট্র কখন চুক্তি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে</strong></p><p>মার্কিন নেতারা বেশ কয়েকবারই বলেছেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি শান্তিচুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে অথবা যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে। গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দেশটির আইনপ্রণেতাদের বলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ছেড়ে দিতে রাজি হয়, তবেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।</p><p>রুবিও কংগ্রেসকে জানান যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ‘ক্রমে বেশি মাত্রায় যুক্ত’ হচ্ছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা ও তাঁর পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছিল। এর পর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/src6kz0p/Iran-US-5.jpg" /><figcaption>ফক্স টিভিতে পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পকে সাক্ষাৎকার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প</figcaption></figure><p>যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ শান্তির প্রস্তাবটি যখন ইরান যাচাই-বাছাই করে দেখছিল, তখন ৬ মে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং খুব সম্ভবত আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব।’</p><blockquote>গত ২০ এপ্রিল পিবিএস নিউজ ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিল, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে কী হবে? জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তখন প্রচুর বোমাবাজি শুরু হবে।’</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/lexc6vzgwi">ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প</a></aside><p><strong>ইরান কি চুক্তি হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিয়েছে</strong></p><p>শুক্রবার সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ও ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি বৈঠক করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘এ অঞ্চলে টেকসই শান্তির জন্য ধারাবাহিকভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’</p><p>গত ২২ মে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যখন ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘আলোচনা ও পরামর্শ’ করতে তেহরান সফরে যান, তখন মনে হয়েছিল যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বেশ এক ধাপ এগিয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের জানান, এ সফরের মানে এই নয় যে ‘আমরা কোনো টার্নিং পয়েন্ট বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছে গেছি’।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/0dd7kv3a/Iran-US-6.jpg" /><figcaption>ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই</figcaption></figure><p>এরপর ২৮ মে খবর আসে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তিতে (এমওইউ) পৌঁছেছে। মার্কিন সরকারি সূত্রগুলো আল-জাজিরাকে জানায়, দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়াতে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। সূত্রগুলো এ-ও জানায় যে এই চুক্তির রূপরেখায় ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন বা তেহরান কেউই এ সমঝোতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/9vsr6bnybv">ট্রাম্পের সঙ্গে ‘প্রতি দুই দিনে একবার’ কথা হয়: সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু</a></aside><p><strong>যুক্তরাষ্ট্র কখন আবার যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে</strong></p><p>বেশ কয়েকবারই এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের বুধবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সেখানে বলা হয়, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের বলেছেন, ইরানের কোনো হামলায় যদি কোনো মার্কিন সেনা নিহত হন, তবে তিনি যুদ্ধবিরতি অবসানের কথা বিবেচনা করবেন। তবে মনে হচ্ছিল, এর বাইরে ইরানের সঙ্গে পুরোদমে যুদ্ধ আবার শুরু করতে তেমন একটা আগ্রহী নন ট্রাম্প।</p><p>এর আগে ১৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এমন কোনো চুক্তি করব না, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর সুযোগ করে দেবে। প্রেসিডেন্ট যেমনটি আমাকে একটু আগেই বলেছেন, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত আছি। আমরা ওই পথে (যুদ্ধ) যেতে চাই না, তবে যদি বাধ্য হতে হয়, তবে প্রেসিডেন্ট তা করতে ইচ্ছুক ও সক্ষম।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/aie06xkh/Iran-US-7.jpg" /><figcaption>মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স</figcaption></figure><p>১৭ মে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন দফার হামলার আগে খুব বেশি সময় আর বাকি নেই। দুই বাক্যের ছোট একটি বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে এবং তাদের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। তা না হলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় খুবই মূল্যবান!’</p><p>গত ২০ এপ্রিল পিবিএস নিউজ ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিল, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে কী হবে? জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তখন প্রচুর বোমাবাজি শুরু হবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/c3ztzbpins">হিজবুল্লাহকে ইরানের সমর্থন, অনিশ্চয়তার মুখে অস্ত্রবিরতি চুক্তি</a></aside><p><strong>ইরান কি যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিয়েছে</strong></p><p>ইরানের বার্তা সংস্থা আইআরআইবির খবর অনুযায়ী, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি শুক্রবার বলেছেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে টানা ৪০ দিন টিকে থাকা কোনো হাসির বিষয় নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছি যে ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত মার্কিন ঘাঁটিগুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-05/o1y14jg7/Iran-US-8.jpg" /><figcaption>তেহরানের একটি ভবনের দেয়ালে বিলবোর্ডে হরমুজ প্রণালির দিকে ইঙ্গিত করে ফারসি ভাষায় লেখা, ‘চিরকাল ইরানের হাতে।’ ২৫ মে ২০২৬</figcaption></figure><p>মঙ্গলবার লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে কথা বলেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এ সময় তিনি বলেন, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের হামলা যদি চলতে থাকে, তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/6f2lb9beg2">ইরান যুদ্ধের সময় আজারবাইজানে গোপনে সেনা মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল</a></aside>]]></content:encoded></item></channel></rss>