সুপারহিট দিয়েই ‘নিখোঁজ’, আজও মেলেনি জেসমিনের খোঁজ

বলিউড অভিনেত্রী জেসমিন। আইএমডিবি

গত বছর হিট হওয়া চারটি হিন্দি সিনেমার সব কটিই ছিল হরর সিনেমা। গত কয়েক বছরে ভারতে হরর বিশেষ করে হরর-কমেডি সিনেমা নিয়ে বিস্তর আলোচনায় আবার সামনে আসছে রামসে ব্রাদার্সের কথা। সেই সত্তরের দশকে বলিউডে হরর সিনেমায় একচেটিয়া রাজত্ব করেছেন তাঁরা। রামসে ভাতৃদ্বয় ৩০টির বেশি হরর সিনেমা বানিয়েছেন। প্রায় সবই বি–গ্রেডের হরর সিনেমা। তাঁদের এই ‘হরর-যাত্রা’র অন্যতম সফল সিনেমার অভিনেত্রী ছিলেন জেসমিন। তবে সুপারহিট সিনেমা উপহার দেওয়ার পরই তিনি লাপাত্তা হয়ে যান।

১৯৭৯ সালে ‘সরকারি মেহমান’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় জেসমিনের। বিনোদ খান্না ছিলেন নায়ক, এন ডি কোথারি পরিচালিত সিনেমাটিতে নায়িকা ছিলেন জেসমিন। ১৯৮৪ সালে ‘ডিভোর্স’ নামে আরও একটি সিনেমা করেন জেসমিন, তবে তাঁর প্রধান সিনেমার মুক্তি তখনো বাকি।

‘বীরানা’ দিয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান জেসমিন। আইএমডিবি

১৯৮৮ সালে রামসে ব্রাদার্সে ‘বীরানা’ দিয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান জেসমিন। ইরোটিক হরর সিনেমায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল আবেদনময়ী চরিত্রে। খুবই অল্প বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্য পায়। আসল অঙ্ক জানা গেলেও ধারণা করা হয়, সিনেমাটির বাজেট ছিল ৬০ লাখ রুপির আশপাশে, সেই সময়ে বক্স অফিসে আড়াই কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করে সিনেমাটি।

এমন হিট সিনেমার পর জেসমিনকে নিয়ে প্রযোজক, পরিচালকদের কাড়াকাড়ি পড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আশ্চর্যভাবে জেসমিন নিজেই লাপাত্তা হয়ে যান।

আরও পড়ুন

সেই সে লাপাত্তা হন, আজ পর্যন্ত তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। বহুল চর্চিত ধারণা, মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত ডন দাউদ ইব্রাহিমের কারণেই বলিউড ছাড়তে বাধ্য হন জেসমিন। নব্বইয়ের দশকে তিনি দেশান্তরি হয়েছেন এমন ধারণাও আছে।

তবে ২০১৭ সালে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রামসে ভ্রাতৃদ্বয়ের একজন শ্যাম রামসে জানান, জেসমিন মুম্বাইতেই থাকেন।

বলিউড অভিনেত্রী জেসমিন। আইএমডিবি

মায়ের মৃত্যুর পর তিনি বলিউড ছাড়েন। সেই সময়ে ‘বীরানা’ সিনেমাটির সিকুয়েল করার কথাও জানিয়েছিলেন শ্যাম। তবে সে সিকুয়েল আর হয়নি, জেসমিনকেও আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
জেসমিন তাই এখনো রহস্য।

তথ্যসূত্র: ডিএনএ, হিন্দুস্তান টাইমস