
‘বাবা বলত, তোমার কণ্ঠ মোটা। গান দরকার নাই। ক্লাস সিক্সে পড়াকালীন মোটা কণ্ঠ নিয়েই ফোক গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিলাম। জাতীয় পর্যায়ে খুলনা বিভাগ থেকে তৃতীয় হলাম। এরপর বাবার একটু আগ্রহ তৈরি হলো।’ নিজের গান শুরুর কাহিনি বলছিলেন ‘পাওয়ার ভয়েজ’ সেরা দশের রেশমি মির্জা। প্রথম আলোর স্টুডিওতে ছবি তুলতে ঢোকার সময় গল্প হলো শুরু। ছবি তোলার ফাঁকে ও শেষ হওয়ার পরও চলতে থাকল তা।
‘শুরুতে দেশের গান গাইতাম। ফোক গানে পুরস্কার পেয়ে মনে হলো এই গান গাওয়াই ভালো। বাবা গোলাম রসুল বিটিভিতে ফোক গানই গাইতেন। তাঁর কণ্ঠেই “পরের জায়গা পরের জমি”, “আমার সোনার ময়না পাখি”, “ও কি গাড়িয়াল ভাই” গানগুলোর সঙ্গে পরিচয়। আমার ভালো লাগত লালনগীতি, পল্লিগীতি। নীনা হামিদ, ফেরদৌসী রহমান, রুনা লায়লার গাওয়া গানও শুনতাম ছোটবেলায়।’
রেশমিকে একটু বাঁয়ে ঘুরে দাঁড়াতে বলেন আলোকচিত্রী। মুখটা সামান্য ওপরে তুলে তাকাতে বললেন ক্যামেরার লেন্সে। এভাবে কয়েকটি ক্লিকের পর পেছনের লাল পর্দা তুলে সাদাটা নামাতে নামাতে রেশমি বললেন, ‘খুলনায় কোনো অনুষ্ঠান হলেই আমার ডাক পড়ে। পদ্মার ওপারের অনেক অনুষ্ঠানে গেয়েছি। ছোট ভাইয়ের জন্য ফরম সংগ্রহ করতে ঢাকায় এসে নিজেই আবেদন করে বসলাম। গানের প্রতিযোগিতা “পাওয়ার ভয়েজ”-এর আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা জিতে সারা দেশ থেকে ঢাকায় ডাক পায় ১৬৭ জন। তাদের ভেতর আমিও ছিলাম।’
ছবি তোলা শেষ হলো।
চা পান করতে করতে এবার বাকি কথা শোনা যাক?
রেশমি হেসে সম্মতি দেন। কম চিনি দেওয়া লাল চায়ের কাপটা দুই হাতে চেপে ধরে কথা বলতে থাকেন তিনি। ‘একটা মজার কথা আছে। টপ টেনে টেকার লড়াই চলছিল তখন। লালন ব্যান্ডের “এক চোখে হাসন, আরেক চোখে লালন” গানটি গাওয়া শেষ হতেই রুনা ম্যাডাম বলেছিলেন, ভোটিং লাগবে না। তুমি সেরা দশে চলে গেছো।’
রেশমি গানের দল গড়লেন ২০১৫ সালে। নাম ‘রেশমি অ্যান্ড মাটি ব্যান্ড’। প্রতিষ্ঠার বছর ওই নামেই প্রকাশিত হয় প্রথম অ্যালবাম।
তারকা হতে হলে যতটা অপেক্ষা করতে হয়, শিল্পী হতে তার থেকেও বেশি অপেক্ষার দরকার আছে। রেশমির কি তাড়া আছে? নাকি অপেক্ষার যথেষ্ট সময় আছে? এ রকম একটি প্রশ্ন করা হলো রেশমিকে।
তিনি বললেন, ‘গাইতেই ভালো লাগে। তারকা হতে চাই না। এখনকার অনেক গান কিছুদিন পরে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু ফোক গানের ক্ষেত্রে সেটা কখনোই হওয়ার নয়। কত পুরোনো সব ফোক গান এখনো ফিউশন করে গাইছে নতুন প্রজন্ম।’
‘রেওয়াজ করেন কখন?’
‘সত্যি কথা বলি, আগে রেওয়াজ করতাম। এখন এত এত শো করি যে ওইটাই রেওয়াজ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায়।’