ডাক বিভাগকে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব দিল নগদ

আজ আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের কাছে সমপরিমাণ অর্থের চেক হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহছবি: নগদের সৌজন্যে

ডাক বিভাগকে রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ হিসেবে ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৮ টাকা দিয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাবে এই টাকা দেওয়া হয়, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশের চেয়ে বেশি।

আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের কাছে এই চেক হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ।

এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামসহ ডাক অধিদপ্তর ও নগদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নগদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নগদ না থাকলে বাজারে একচেটিয়া পরিস্থিতি হবে। এই সুযোগ দেওয়া হবে না। নগদকে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ধরে রাখতে হবে এবং আরও লাভজনক করতে হবে। নগদ নিয়ে কোনো গুজব শুনলে তাতে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান বলেন, ‘নগদের সঙ্গে আরও কীভাবে ডাক বিভাগ কাজ করতে পারে, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করব।’

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে না, সেটিকে আমরা মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছি ডাক বিভাগের নগদের মাধ্যমে।’ তিনি জানান, জন্মলগ্ন থেকে নগদ এখন পর্যন্ত ৯৪৬ কোটি টাকা সরকারকে কর দিয়েছে। ডাক বিভাগকে দিয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। নগদের শুরুর পর সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পেয়েছে।

নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে নগদের অবদান অসামান্য।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নগদের যাত্রার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগকে মোট প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে নগদ লিমিটেড। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নগদের মাধ্যমে ৪ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তার আগের বছর লেনদেনের এই অঙ্ক ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এক বছরেই এখানে ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।