প্রত্যাশা ২০২৫
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে অর্থনীতি ফিরে আসুক
নতুন আরেকটি বছর শুরু হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের আশা, নতুন বছরে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি হবে। সুদের হারের লাগাম টানার ব্যবস্থা হবে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ চান দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে। বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, গৃহিণীসহ ছয়জন তাঁদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পাঁচ মাস কেটে গেছে। এখনো সবকিছুতে একধরনের অস্থিরতা ও অনিরাপদ বোধ জেঁকে বসে আছে। এমনই এক পরিস্থিতিতে আমরা নতুন বছর শুরু করতে যাচ্ছি। নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে, শিগগিরই সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্থিতিশীলতা আসবে।
ঢাকাসহ ছোট-বড় সব শহরের ফুটপাত এখন হকারদের দখলে। অলিগলি, সড়ক এমনকি মহাসড়কে ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য। অন্যদিকে টিসিবির ট্রাকের পেছনের নিম্ন ও নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষের লাইন দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝতে এই তিনটি চিত্রই যথেষ্ট। আশা করছি, দেশের নীতিনির্ধারকেরা অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন, দিকনির্দেশনা দেবেন। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে অর্থনীতি ফিরে আসুক, এটাই প্রত্যাশা।
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে দুটি ভাগ—আমদানিনির্ভর ট্রেডিং ব্যবসা আর বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন খাত। বনিয়াদি অর্থনীতিতে দ্বিতীয়টি যত শক্তশালী হবে, ততই দেশ ও জনগণ সুফল পাবেন। উৎপাদন খাত মজবুত করতে দরকার দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা। তা না হলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগ, কোনোটাই হবে না। তাতে শিক্ষিত বেকার কিংবা কর্মহীনতার সংখ্যা বাড়বে। উচ্ছৃঙ্খল সমাজ গড়ে ওঠার শঙ্কা তৈরি হবে।
মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদহার বাড়ানো হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, এক বছরের কম সময়ের মধ্যে কোনো দেশের ব্যাংকের সুদের হার দেড় গুণ বেড়ে যায়, তা যে আফ্রিকার দুর্বল দেশের বাইরে ঘটতে পারে, তা কল্পনাতীত। এতে উৎপাদনমুখী খাত মুষড়ে পড়বে, এটা বুঝেও নীতিনির্ধারকেরা নির্বিকার থাকবেন না—নতুন বছরে এমন প্রত্যাশা করছি।