গ্যাসের সরবরাহ আবার কমেছে, এবার কী কারণ

দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস–সংকট। এর প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। গ্যাস নেওয়ার অপেক্ষায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি। গতকাল সোমবার বিকেলে মহাখালীর ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনেছবি: মীর হোসেন

চলমান সংকটের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ আবার কমেছে। এর আগে দুই সপ্তাহ পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ গত বৃহস্পতিবার কিছুটা বাড়লেও গতকাল সোমবার আবার কমতে শুরু করেছে। এতে আজ মঙ্গলবার সারা দেশে গ্যাসের সংকট আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার জন্য আমদানি করে আসা জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। এতে ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি সরবরাহ কমে গেছে। সমুদ্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামীকাল বুধবার থেকে সরবরাহ বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথম আলোকে বলেন, এলএনজির কার্গো (জাহাজ) পাশেই আছে। বৈরী আবহাওয়ার জন্য টার্মিনালে নেওয়া যায়নি। গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে বৃহস্পতিবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার জন্য প্রস্তুত হলে তা পরীক্ষা করতে বর্তমানে চালু বয়লারটি বন্ধ করতে হবে। ওই সময় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। অন্তত ১২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তাই ছুটির দিনে গ্যাসের চাহিদা কম থাকার সময় এ কাজ করতে চায় পেট্রোবাংলা।

সূত্র জানায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সরবরাহ চালুর বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জিকে। এরপর জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার মানে এ সপ্তাহে এক্সিলারেট থেকে গ্যাস সরবরাহ আর বাড়বে না। তারা বর্তমানে দিনে গড়ে ২৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করছে।

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর টানা চার দিন সক্ষমতার বেশি এলএনজি সরবরাহ করেছে সামিটের টার্মিনাল। দিনে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করেছে তারা। এর পর থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে দিনে গ্যাসের সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালুর পর সরবরাহ বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট পার হয়।

তবে মাত্র চার দিনের মাথায় আবার গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এলএনজি নিয়ে সোমবার একটি নতুন জাহাজ এসেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজটি থেকে এলএনজি নিতে পারেনি টার্মিনাল। তাই সামিটের টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে ২৫ কোটি ঘনফুট। এতে করে দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। আজ এটি আরও কিছুটা কমতে পারে। চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোকে।