শেয়ারবাজার কারসাজির মামলা: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন ২৩ সেপ্টেম্বর

আদালতপ্রতীকী ছবি

শেয়ারবাজারে কারসাজি, জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। দুদকের জিআর শাখার কর্মকর্তা আক্কাস আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন ২০২৫ সালের ১৭ জুন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের, তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ. মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।

এ মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। পরিকল্পিতভাবে শেয়ারবাজারে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন তাঁরা। শেয়ারবাজারের প্রচলিত আইন (সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬১–এর ১৭ ধারা) লঙ্ঘন করে বাজারে গুজব ছড়িয়ে কারসাজি চালান তাঁরা। এভাবে শেয়ারবাজার থেকে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করে আসামিরা নিজেদের বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তা তোলেন।

দুদক সূত্র জানায়, আসামি আবুল খায়ের তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ক্যাপিটাল গেইনের নামে অর্জিত ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি অর্থ বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎস গোপনের চেষ্টা করেন। তাঁর ১৭টি ব্যাংক হিসাব ও ৫৪২ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাকিবের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য,২০১৮ সালে দুদকের হটলাইন ১০৬ উদ্বোধন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রচারে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হন সাকিব আল হাসান। তবে নানা বিতর্কের কারণে ২০২২ সালে তাঁর সঙ্গে করা সেই চুক্তি আর নবায়ন করেনি দুদক।