ঈদে টোলঘরে যানজটের শঙ্কা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার কম

বিদ্যুৎ বিল দিতে এখন আর মানুষকে ব্যাংকে গিয়ে লাইন ধরতে হয় না। মুঠোফোনেই দেওয়া যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতনও দেওয়া যায় মুঠোফোনে। এমন অনেক সেবাই এখন সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু সেতু ও সড়কের টোল দিতে গিয়ে এখনো টোলঘর বা বুথে যানজট তৈরি হয়।

প্রতিবছর বড় ছুটি ও উৎসবের সময় দেখা যায় টোলঘরকেন্দ্রিক দীর্ঘ যানজট। এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরেও টোলঘরে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু দেশে স্বয়ংক্রিয় টোলব্যবস্থা চালু হয়েছে আরও পাঁচ-ছয় বছর আগে। যদিও তার ব্যবহার নেই বললেই চলে।

দেশে মূলত সড়ক, উড়ালসড়ক ও সেতু থেকে টোল আদায় করা হয়। এসব স্থাপনার বেশির ভাগই সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের এবং সেতু বিভাগের অধীন। চট্টগ্রামের একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। আর ঢাকার মেয়র হানিফ উড়ালসড়কের দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের।

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশেই টোল আদায় করা হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। বাংলাদেশে এ ব্যবস্থা চালুর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ২০১৩ সালে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও আরএফআইডি স্টিকার চালু করে। দেশের সব ধরনের মোটরযানের জন্য তা বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে। যানবাহনের মালিকেরা বাড়তি টাকা দিয়ে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও আরএফআইডি স্টিকার যুক্ত করেছেন। কিন্তু তা কাজে লাগছে না।

সওজ সূত্র জানায়, তাদের অধীনে থাকা দেশের আটটি বড় সেতু ও দুটি সড়কে ২০১৯ সালের এপ্রিলে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) বুথ চালু করা হয়েছে। ইটিসি বুথ ব্যবহার করলে ১০ শতাংশ টোল ছাড় পাওয়া যায়। আর সেতু বিভাগ ইটিসি বুথ চালু করে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে।

সওজ ও সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, ইটিসি ব্যবস্থাটি কার্যকর না হওয়ার পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে—প্রথমত, অনেক ব্যাংক ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় নিশ্চিত করতে যানবাহনে বেতার তরঙ্গ শনাক্ত করার (আরএফআইডি) স্টিকার থাকতে হয়। ইটিসি বুথের হিসাব বলছে, বেশির ভাগ যানবাহনে আরএফআইডি স্টিকার থাকলেও প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে তা কাজ করে না। ইটিসি বুথে থাকা ক্যামেরা এসব স্টিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পড়তে পারে না।

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশেই টোল আদায় করা হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। বাংলাদেশে এ ব্যবস্থা চালুর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ২০১৩ সালে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও আরএফআইডি স্টিকার চালু করে। দেশের সব ধরনের মোটরযানের জন্য তা বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে। যানবাহনের মালিকেরা বাড়তি টাকা দিয়ে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও আরএফআইডি স্টিকার যুক্ত করেছেন। কিন্তু তা কাজে লাগছে না।

কথা ছিল, যানবাহনগুলোতে আরএফআইডি স্টিকার থাকবে। প্রতিটি যানবাহনের বিপরীতে থাকবে মুঠোফোনে আর্থিক সেবা অথবা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক-নম্বর। কোনো যানবাহন যখন সেতু বা সড়কের ইটিসি বুথ দিয়ে যাবে, তখন টোলঘরে থাকা ক্যামেরা যানবাহনের তথ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ টোল কেটে রাখবে। এতে টোলঘরে যানবাহনকে থামাতে হবে না এবং কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে টোল আদায় করতে হবে না। ফলে যানজট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না এবং টোল আদায়ে দুর্নীতি বন্ধ হবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এহসানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আরএফআইডি ট্যাগ কেন যন্ত্রে পড়া যাচ্ছে না, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি বিআরটিএকে নির্দেশনা দিয়েছেন। টোল প্লাজায় ইটিসি বুথ কার্যকর করতে ব্যাংক ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাঁরা শিগগিরই একটি বৈঠক আয়োজন করবেন। তিনি আরও বলেন, টোল প্লাজায় জট কমানো তাঁদের অগ্রাধিকারে রয়েছে।

‘ইটিসিতে টোল দেব, দ্রুত সেতু পার হব’ স্লোগানে সেতু বিভাগ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল আদায়ে প্রতিটি টোল প্লাজায় একটি করে বুথ চালু করে। সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, যমুনা সেতুতে পারাপারের জন্য মাত্র ৫ হাজার ৯৪৯টি যানবাহন নিবন্ধন করেছেন মালিকেরা।

ইটিসিতে নিবন্ধন সামান্যই

টোল নীতিমালা ২০১৪–এ টোল প্লাজায় স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। এতে পর্যায়ক্রমে আরএফআইডি স্টিকার, স্মার্ট কার্ড, টাচ অ্যান্ড গো, জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) নানা আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কথা বলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সওজ ১২টি টোল প্লাজায় ইটিসি ব্যবস্থা স্থাপন করে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে টোল পরিশোধের জন্য যানবাহনগুলোকে আগেই নির্ধারিত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবন্ধন করে নিতে হয়।

দেশে বর্তমানে যানবাহন আছে প্রায় ৫৬ লাখ। সওজ সূত্র বলছে, তাদের আওতায় থাকা টোল প্লাজাগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধের জন্য গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজার ৬৪৬টি যানবাহন নিবন্ধন করেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বাসেক) একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাদের অধীনে যমুনা সেতু ও পদ্মা সেতু রয়েছে। এর বাইরে আছে মুক্তারপুর সেতু ও কর্ণফুলী টানেল। এর মধ্যে যমুনা সেতু দিয়ে দৈনিক গড়ে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজারের বেশি। অন্যদিকে পদ্মা সেতু দিয়ে দৈনিক গড়ে যানবাহন চলাচল করে প্রায় ১৬ হাজার। ঈদে তা দ্বিগুণ হয়ে যায়।

‘ইটিসিতে টোল দেব, দ্রুত সেতু পার হব’ স্লোগানে সেতু বিভাগ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল আদায়ে প্রতিটি টোল প্লাজায় একটি করে বুথ চালু করে। সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, যমুনা সেতুতে পারাপারের জন্য মাত্র ৫ হাজার ৯৪৯টি যানবাহন নিবন্ধন করেছেন মালিকেরা। গড়ে দৈনিক মাত্র আড়াই শ যানবাহন ইটিসি বুথ ব্যবহার করে। ইটিসি বুথে সর্বাধিক ৬২২টি যানবাহন নিবন্ধন করেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। সরকারের পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) নিবন্ধিত যান ৪৯০টি। এর বাইরে হানিফ এন্টারপ্রাইজ ৩৯৬টি বাসের নিবন্ধন নিয়েছে।

পদ্মা সেতুতে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বা কোম্পানির যানবাহন খুব একটা নিবন্ধন করা হয়নি। শুধু সেতু বিভাগের নিজস্ব যানবাহন ও টোল আদায়কারী ঠিকাদারের যানবাহনই নিবন্ধন করা হয়েছে। অন্যদিকে কর্ণফুলী টানেল ও মুক্তারপুর সেতুতে ইটিসি ব্যবস্থা কার্যকর থাকলেও তা কেউ ব্যবহার করে না।

সওজ সূত্র জানায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সওজের বড় আটটি সেতু ও দুটি টোল সড়ক দিয়ে ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার করেছে। এর মধ্যে ইটিসি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করেছে মাত্র ৭ হাজার ৬৮৭টি। বাকি সবই টোল প্লাজার কর্মীরা হাতে টোল আদায় করেছেন। অর্থাৎ ইটিসি বুথ ব্যবহার করেছে মাত্র ৬ শতাংশ যানবাহন।

যমুনা সেতুর টোল আদায়ে যুক্ত সূত্র বলছে, তাদের ইটিসি বুথে মাত্র ১৫ শতাংশের মতো যানবাহনের আরএফআইডি ট্যাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয়। বাকিগুলোর টোল আদায় করেন কর্মীরা। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নিবন্ধন করা থাকলেও পর্যাপ্ত টাকা জমা রাখা হয় না। ফলে যানবাহন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা যায় না।

সওজ তাদের সড়ক ও সেতু থেকে বছরে ভ্যাটসহ (মূল্য সংযোজন কর) প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আয় করে। সেতু বিভাগের অধীনে থাকা চারটি সেতু ও টানেল থেকে বছরে আয় হয় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি।

সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, ইটিসি সেবা আরও কার্যকর করতে হলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বেশি বেশি ব্যাংক ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতাদের যুক্ত করতে হবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, টোল প্লাজার ইটিসি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নিতে ২০২২ সাল থেকে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকারের এটুআই (অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট) প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এটুআইয়ের তৈরি ‘একপে’ (ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম) অ্যাপকে এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে আনতে চেয়েছিল। তবে সওজ, সেতু বিভাগসহ অন্য সংস্থাগুলো মনে করে, এটুআইয়ের সফটওয়্যারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া এটুআইয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনার কোনো দক্ষতা বা আইনি কাঠামো নেই। ফলে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব নয়। বরং তারা চাইছে সব ব্যাংক এবং মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতাদের যুক্ত করতে। এতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত লাগবে।

স্বয়ংক্রিয় টোল পরিশোধের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও গ্রাহকবান্ধব করা সম্ভব। এ ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত হতে সওজ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিকাশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিকাশের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ

অধিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়নি

সওজ সূত্র বলছে, তাদের টোল প্লাজাগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধের ব্যবস্থা যতটা সহজলভ্য করা দরকার, তা হয়নি। কারণ, সওজের টোল প্লাজায় টাকা পরিশোধ করা যায় দুটি ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে (রকেট ও উপায়)। সোনালী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা বিকাশ এবং পেমেন্ট গেটওয়ে অর্গানাইজেশন সফটওয়্যার শপ লিমিটেড এ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

দেশে বিপুল টাকা খরচ করে সেতু বানানো হলো, রাস্তা চওড়া করা হলো। কিন্তু টোল প্লাজায় যানজটে পড়ে থাকতে হয়, যা একেবারেই অযৌক্তিক।
পরিবহনবিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান

সওজ সূত্র জানায়, ব্যাংক ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানিগুলোকে এর আওতায় আনতে হলে সমঝোতা স্মারক সই করতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চেয়ে সওজের প্রধান প্রকৌশলী চিঠিও দিয়েছেন। আর সেতু বিভাগের আওতায় থাকা টোল প্লাজাগুলোতে পরিস্থিতি একই। আরও বেশি ব্যাংক ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতাকে এ ব্যবস্থায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেই।

বিকাশের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, স্বয়ংক্রিয় টোল পরিশোধের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও গ্রাহকবান্ধব করা সম্ভব। এ ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত হতে সওজ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিকাশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

টাকা খরচ হলো, কিন্তু...

টোল প্লাজায় মানুষের ভোগান্তি দেখা যায় উৎসব উপলক্ষে মানুষের বাড়ি ফেরার সময়। টোল দেওয়ার জন্য হাজার হাজার যানবাহন অপেক্ষা করে মাইলের পর মাইল যানজট তৈরি করে। বিপুল ব্যয়ে মানুষের সহজ যাতায়াতের জন্য যে অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, টোল দেওয়ার আধুনিক ব্যবস্থার ব্যবহারের অভাবে সেগুলোর সুফল পাওয়া যায় না।

পরিবহনবিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দেশে বিপুল টাকা খরচ করে সেতু বানানো হলো, রাস্তা চওড়া করা হলো। কিন্তু টোল প্লাজায় যানজটে পড়ে থাকতে হয়, যা একেবারেই অযৌক্তিক। তিনি বলেন, হাত দিয়ে টাকা নিয়ে টোল আদায় করলে ঘণ্টায় বড়জোর ৩০০-৪০০ গাড়ি পারাপার করা যায়। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করলে চার গুণ বেশি যান পারাপার সম্ভব। যানজটের আশঙ্কা থাকে না। পাশাপাশি সেতু ও সড়কের পুরোপুরি সক্ষমতা ব্যবহার সম্ভব।