কেশবপুর প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাংবাদিকদের দুই পক্ষের মারামারি, আহত ৫
যশোরের কেশবপুর প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাংবাদিকদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার দুপুরের এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক পক্ষের অভিযোগ, বিএনপির পদধারী নেতাসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে বহিরাগত ব্যক্তিরা প্রেসক্লাবে ঢুকে ‘মব সৃষ্টি’ করে প্রেসক্লাবের দখল নিয়েছেন। তবে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের ভাষ্য, ‘প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের জায়গা। সাংবাদিকেরাই দখলে নিয়েছেন। বহিরাগত কেউ ছিলেন না।’
এ ঘটনার পর দৈনিক দিনকাল পত্রিকার প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও সাংবাদিক হারুন অর রশিদকে সদস্যসচিব করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন প্রথম আলোর কেশবপুর প্রতিনিধি দিলীপ মোদক।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন কেশবপুর প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, সদস্য জাহিদুর রহমান এবং আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের সভাপতি প্রার্থী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্তী। অপর পক্ষের মাহবুবুর রহমান ও সাদেক হোসেন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা আখিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম দফায় তিনজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন আছে। তিনজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় দুজন জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
কেশবপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৬ সেপ্টেম্বর কেশবপুর প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে জয়দেব চক্রবর্তীকে সভাপতি প্রার্থী এবং আবদুল্লাহ আল ফুয়াদকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী করে একটি প্যানেল প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিল। এর বাইরে বর্তমান সভাপতি আশরাফ উজ জামান খান সভাপতি পদে এবং রুহুল কুদ্দুস সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। মূলত ওই নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আজ দুপুরে কয়েকজন প্রেসক্লাবে ঢুকে প্রথমে ভাঙচুর চালান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, দুপুরে কেশবপুর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং আমার দেশ পত্রিকার সংবাদদাতা ওয়াজেদ আলী খান, মাহবুবুর রহমান, আশরাফুজ্জামান, হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত ব্যক্তি প্রেসক্লাবে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ করেন। এ সময় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্তী, বর্তমান সদস্য জাহিদুর রহমানসহ তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয়। তাঁরা প্রেসক্লাবে ঢুকেই অন্য সদস্যদের বের করে দেন। ঘণ্টাব্যাপী ‘মব’ করে প্রেসক্লাব দখল করে নেন। এ ঘটনায় তাঁরা থানায় অভিযোগ করবেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি ও বিএনপি নেতা ওয়াজেদ আলী খান। তিনি বলেন, ‘প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের জায়গা। সাংবাদিকেরাই দখলে নিয়েছেন। বহিরাগত কেউ ছিলেন না। যাঁরা ছিলেন সবাই সাংবাদিক। এ সময় আমাদের দুজনকে মেরে হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা সাংবাদিকদের নিয়ে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছি। আমি এই প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি।’
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রেসক্লাবে উদ্ভূত পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সাংবাদিকদের মধ্যে একটি অন্তঃকোন্দল চলছে। উভয় পক্ষের মধ্যে গোলযোগ হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত। কোনো পক্ষ এখনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।