ঝিনাইদহে ‘সালিসে ডেকে’ বিএনপির কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা, অভিযোগ জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে
ঝিনাইদহের মহেশপুরে সালিসে ডেকে নিয়ে বিএনপির এক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান।
নিহত জাফর আলী উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও সামন্তা গ্রামের জীবননগরপাড়ার বাসিন্দা।
মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, একটি গাছের মালিকানা নিয়ে জাফর আলীর সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত কর্মী আমির মোড়ল, সজীব হোসেন ও আব্বাস আলীর বিরোধ ছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাফরকে বাড়ি থেকে ডেকে গ্রামের এক মোড়ে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকজন তাঁকে পেটাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি মারা যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে গতকাল রাতেই সামন্তা গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির সমর্থকেরা। খবর পেয়ে মহেশপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এলাকায় বর্তমানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তাঁরা পলাতক। মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ফারুক হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘এটি একটি স্থানীয় বিষয়, কোনো রাজনৈতিক ব্যাপার জড়িত নেই। সেখানে সব দলের লোকজন ছিলেন। জামায়াতের কর্মীরা পিটিয়ে মেরেছেন, এটা ঠিক নয়।’
এর আগে ১২ মার্চ রাতে মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতে এবার বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠল।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন মৃধা জানিয়েছেন, গতকাল রাতেই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মহেশপুর থানায় আনা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।