শিবপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর ডোবা থেকে অটোচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

নিহত অটোরিকশাচালক সোহেল রানা
ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর শিবপুরে নিখোঁজের ছয় দিন পর এক অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা দিকে উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের ভুরভুড়িয়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই অটোরিকশাচালকের নাম সোহেল রানা (২৫)। তিনি নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়ার কুমিল্লা কলোনি এলাকার মো. ছেদু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ, নিহত সোহেল রানার স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে তারাবিহর নামাজ পড়ে অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হন সোহেল রানা। পর দিন শুক্রবার সকালে শিবপুর উপজেলার ভুরভুড়িয়া গ্রামে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া কলেজ-সংলগ্ন সড়কে তাঁর অটোরিকশাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজনকে কাগজপত্র দেখিয়ে ওই অটোরিকশা স্বজনেরা বাড়ি নিয়ে গেলেও সোহেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

আজ সকালে ওই কলেজের পেছনের একটি ডোবার কচুরিপানায় লাশ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনা সোহেলের পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে শিবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসমাইল হোসেন ওই ডোবার কচুরিপানার ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর বেলা ২টার দিকে তাঁর লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান তিনি।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে সোহেল রানার স্বজনেরা। বুধবার বিকেলে
ছবি: প্রথম আলো

এসআই ইসমাইল হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ডাকাত বা ছিনতাইকারীর কাজ নয়। কারণ, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর অটোরিকশাটি নেওয়া হয়নি। পূর্বশত্রুতার জেরে সোহেলকে হত্যার পর লাশ কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এসআই ইসমাইল আরও জানান, সম্ভবত ঘাড় ভেঙে সোহেলকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর শরীরে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

সোহেলের বড় ভাই সেলিম মিয়া বলেন, ‘অটোরিকশাটি পাওয়া গেলেও সোহেলকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা সবাই মিলে তাকে অনেক খুঁজেছি। নিখোঁজের পর দিন শুক্রবার নরসিংদী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। থানায় গেলে পুলিশ বলত, আপনারাও খুঁজতে থাকেন, আমরাও খুঁজছি। অটোরিকশা পাওয়ার পর প্রতিদিনই একবার করে সেখানে গিয়েছি। আজ ওই এলাকাতেই একটি ডোবার কচুরিপানায় ছোট ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেল।’

কাউকে সন্দেহ করছেন কি না জানতে চাইলে সেলিম মিয়া বলেন, ‘কয়েক মাস আগে হাবিব নামের একজন সোহেলের গলায় ছুরি বসিয়ে দিয়েছিল। ওই ঘটনায় সোহেল নিজেই বাদী হয়ে হাবিবসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এত দিন ধরে হাবিব পলাতক থাকলেও সোহেল নিখোঁজের পর থেকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে হাবিবকে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সোহেলকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিয়ে আসছিল হাবিব। তাকেই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে।’

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসাইন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহত অটোরিকশাচালকের লাশ তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশ দাফন শেষে লিখিত অভিযোগ নিয়ে তাঁরা থানায় আসবেন জানিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।