স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেশীদের খবর দিয়ে পালালেন স্বামী

আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি

স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেশীদের খবর দিয়ে স্ত্রীর লাশ রেখে ঘরে তালা দিয়ে স্বামী ও স্বজনেরা পালিয়েছেন। পুলিশ গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে খাটের ওপর শুয়ে থাকা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করেছে। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে আনা হয়। নিহতের স্বজনের দাবি, ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেননি। নির্যাতনের পর স্বামী ও তাঁর স্বজনেরা শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করেছেন। এরপর স্বামী ও তাঁর স্বজনেরা বাইরে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচারণা চালিয়েছেন।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের ভট্টপলাশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। মারা যাওয়া গৃহবধূর নাম আরিফা বেগম (২৭)। তিনি ওই গ্রামের ফজলুর রহমানের স্ত্রী। তাঁদের দেড় বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। আরিফা বেগমের বাবার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ইসলামগাতী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে।

থানা–পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে আরিফা বেগমের সঙ্গে ফজলুর রহমান বাবুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ফজলুর রহমান তাঁর স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিলেন। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আরিফা একাধিকবার বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। সন্তানের কথা ভেবে আবার স্বামীর বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফজলুর রহমান তাঁর বাড়িতে আসেন। তিনি কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে বের হয়ে তাঁর স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেশীদের জানান। এরপর তিনি স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাদশা আলম ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি থানা–পুলিশকে খবর দেন। রাতে থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ইউপি সদস্য বাদশা আলমের উপস্থিতিতে ঘরের তালা ভেঙে খাটের ওপর থেকে আরিফা বেগমের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আজ সকাল সাড়ে ১১টায় আরিফা বেগমের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। এ সময় নিহত আরিফা বেগমের বাবা আবদুর রাজ্জাক ও চাচাতো বোন রাফিয়া নেছাসহ স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের চাচাতো বোন রাফিয়া নেছা বলেন, ‘আরিফা বেগমের স্বামী মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই আরিফাকে বেধড়ক মারধর করতেন। নির্যাতন সইতে না পেরে একাধিকবার বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন আরিফা। বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের আরিফার আত্মহত্যার কথা জানানো হয়। আরিফা আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নয়। ঘটনার পর আরিফার স্বামী, দেবর ও ননদ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।’

নিহত আরিফা বেগমের বাবা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার মেয়েকে জামাই নির্যাতন করত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামাই আমার মেয়েকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে বাইরে প্রচার করে লাশ ঘরে রেখে জামাইসহ তাঁর ভাই ও ভাবি পালিয়ে গেছে।’

আরিফার স্বামী ফজলুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ইউপি সদস্য বাদশা আলম বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতে ঘরের তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফজলুর রহমান আমাকে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। ভয়ে ফজলুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পালিয়েছেন।’

আক্কেলপুর থানার উপপরির্দশক (এসআই) সুফিয়া বেগম বলেন, ‘তালাবদ্ধ ঘরে খাটে শুয়ে থাকা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় ইউডি মামলা হয়েছে। লাশের গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মর্গে আনা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’