ঝড়ের সংকেত পেলেই আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে আসেন ছকিনা
২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে আশপাশের সাত প্রতিবেশীর মৃত্যু দেখেছেন বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা ছকিনা বেগম। সেই থেকে কোনো ঝড়ের সংকেত পেলেই যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে আশ্রয় নেন তিনি। ঘূর্ণিঝড় রিমালের মহাবিপৎসংকেত শোনার পর আজ রোববার সন্ধ্যার আগেই বয়স্ক স্বামীকে নিয়ে বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। ছকিনা বেগম বলেন, ‘সিডরের সময় যে ভয় পেয়েছি, তার পর থেকে ঝড়ের কথা শুনলেই এখানে ছুটে আসি।’
সরেজমিন দেখা গেছে, বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পোটকাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী পশ্চিম গোলবুনিয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন ছকিনাদের মতো আতঙ্কিত মানুষ। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি কেউ কেউ সঙ্গে করে গবাদিপশুও নিয়ে এসেছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিয়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাঁদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছেন।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আশ্রয়কেন্দ্রের একটি কক্ষে মায়ের সঙ্গে বসে থাকা তিন বছরের রুমানার চোখে-মুখে দেখা গেল আতঙ্কের ছাপ। ভয়ে ছল ছল চোখ। এখানে কেন এসেছ জিজ্ঞেস করতেই পাশ থেকে রুমানার মা আফসানা বেগম বলে উঠলেন, ভয় পেয়েছে। এখন কথা বলবে না।
পাশের আরেকটি কক্ষে গিয়ে দেখা গেল, পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সী চার শিশু জানালা দিয়ে বাইরের বৈরী আবহাওয়ার দৃশ্য দেখছে।
পরিবারের ছয়জনকে নিয়ে পোটকাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল আইবে। মোরা আগেভাগেই সবাই আশ্রয়কেন্দ্রে আইছি। তবে মোগো গরু-ছাগল নিয়া আসতে পারিনি।’ ঢলুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মিনারা বেগম বলেন, বিকেলে পরিবারের ১০ সদস্যকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন। খুব ভয়ে আছেন, সিডরের সময় এমন অবস্থা ছিল। ভয় হয় আবার যদি সিডরের মতো অবস্থা হয়!
বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ৩টি মুজিব কিল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেখানে ৩ লাখ ২১ হাজার ২৪৪ জন আশ্রয় নিতে পারবেন।
আজ রোববার রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড় রিমালের কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আরও উত্তর দিকে সরে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।