ফরিদপুরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বাড়িতে হামলার অভিযোগ জামায়াত সমর্থকদের
ফরিদপুরের সালথায় বাজার ইজারাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা নেতার বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও সমর্থক। তাঁদের অভিযোগ, সালথা বাজারের ইজারা জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক জামায়াত নেতা পাওয়ায় বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আছাদ মাতুব্বর ও উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বর এ হামলা চালিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে ‘সালথা দক্ষিণপাড়া ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় অন্তত ২০টি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গতকাল রোববার রাতে ওই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ফরিদপুর পৌর জামায়াতের সহসাধারণ সম্পাদক ও সালথা দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকদের অন্তত ২০টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়; করা হয় লুটপাট।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘গত অক্টোবরে সালথায় ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি প্রোগ্রাম করে জামায়াত। এতে সালথার গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অংশগ্রহণ করে। এতে বিএনপির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সালথায় হাটবাজার ইজারায় বিএনপির লোকজন টেন্ডারবাজি করার চেষ্টা করে। যারা শিডিউল জমা দিতে যায়, সেগুলো নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে আমি ডিসি অফিসে জমা দিই এবং সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পাই। এতে বিএনপি নেতা আছাদ টেন্ডার না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার লোকজনকে হুমকি দেয়। গতকাল তুচ্ছ ঘটনায় আমার চাচাতো ভাই মাওলানা হারুনকে সালথা বাজারে লাঞ্ছিত করে। তখন কথা–কাটাকাটি হয়।’
এ বিষয়ে সালথা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর বলেন, ‘সালথায় কাউকে জামায়াত করতে দেব না, এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিএনপি ও জামায়াত একই অঙ্গ, একসঙ্গে চলাফেরা করি। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।’ আছাদ মাতুব্বর আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামের নেতা জাহাঙ্গীর মোল্লা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এর জন্যই এ সমস্যা। কে হাট ইজারা পেল কিংবা কে পেল না, তা বিষয় না।’
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটির জেরে হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে জানতে পেরেছি। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ঘটনাটি নিয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’