পঞ্চগড়ে বন্ধুসভার দেওয়া নতুন জামা পেয়ে হাসি ফুটল শিশুদের মুখে
সিয়ামের (৫) বয়স যখন দুই বছর, তখন তার বাবা মো. ফরিদ ও মা সেলিনা আক্তারের ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর সিয়ামকে নিয়ে তার মা আশ্রয় নেন সিয়ামের নানি শেফালি বেগমের কাছে। সিয়ামের নানা-নানিরও ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। কিছুদিন পর অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান সেলিনা। অসহায় সিয়ামের একমাত্র আশ্রয় হন তখন নানি শেফালি। সিয়ামের নানি শেফালি ইট ভাঙার কাজ করেন। অভাবের সংসারে এবারের ঈদে সিয়ামকে নতুন কাপড় কিনে দিতে পারেননি তিনি। আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোর পঞ্চগড় বন্ধুসভার বন্ধুরা সিয়ামের হাতে তুলে দিয়েছেন ঈদের নতুন জামা।
এ সময় সিয়ামের চোখেমুখে দেখা গেল খুশির ঝিলিক। নতুন জামা হাতে নিয়ে শিশুটি বলে উঠল, ‘সুন্দর নাগেছে (লাগছে)।’
শুধু শিশু সিয়ামই নয়, আজ দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চগড় সদর ও বোদা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ৩২ শিশুকে নতুন জামা উপহার দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড় সদরের ধাক্কামারা ইউনিয়নের ঘটিয়ারপাড়া গ্রামে রেলওয়ের পড়ে থাকা জমিতে ঝুপড়ি তুলে শেফালি বেগম নাতি সিয়ামকে নিয়ে থাকেন। ওই এলাকা ছাড়াও সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া, মীরগড়, ঢেমশিমারী, মালাদাম, মসজিদপাড়া, রৌশনাবাগ, রামেরডাঙ্গা গোফাপাড়া; বোদা উপজেলার ইসলামপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে ঘুরে সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) শিশুদের হাতে ঈদের নতুন জামা তুলে দেওয়া হয়। এর আগে বন্ধুসভার সদস্যরা খুঁজে খুঁজে এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুর তালিকা তৈরি করেন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) কিশোরী রিংকি আক্তারের (১৫) হাতে নতুন জামা তুলে দেওয়া হয়। তার মা মাহমুদা বেগম বলেন, ‘এইবার ঈদোত বেটিডার (মেয়েটার) তানে (জন্য) জামা কিনিবা পারুনি বাপু। তুমরা জামাডা দিলেন, ভালোয় উপকার হইল।’
এ সময় পঞ্চগড় বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান, প্রথম আলোর পঞ্চগড় প্রতিনিধি রাজিউর রহমান, ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় বন্ধুসভার সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জমান, সাবেক সভাপতি রায়হান শরীফসহ বন্ধুসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড় বন্ধুসভার সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদুল ফিতরে প্রথম আলো বন্ধুসভা সহমর্মিতার ঈদের আয়োজন করে থাকে। এবারও আমরা ৩২টি শিশুকে নতুন জামা উপহার দিলাম। আমাদের এ কাজে আমরা নিজেরা ছাড়াও কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী সহায়তা করেছেন। আমাদের সমাজে যাঁরা বিত্তবান আছেন, তাঁরা যদি এভাবে প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে ঈদের আনন্দ সবাই ভাগাভাগি করে নেওয়া সম্ভব।’