ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মহেশালী এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

দীর্ঘ তিন দশকের আন্দোলনের পর ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে অঙ্গীকার, সেই অঙ্গীকার পূরণ করে আজ এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা সম্ভব হলো। আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানটি শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের কাছ থেকে পেয়েছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি সে জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তাঁরা অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যা করা দরকার, তা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এই কাজগুলো দ্রুত সমাপ্ত করবেন।’

দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হবে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোর নকশা হবে, নির্মাণকাজও দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। আমাদের এই এলাকার মানুষের জন্য এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের দিন। আনন্দ এ জন্য যে আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি এই এলাকাতে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটানোর। আপনাদের সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সুযোগ পাবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবিব, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ইসরাফিল শাহিন প্রমুখ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মহেশালী এলাকায় ৮৬ একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে উঠছে। তবে এখনো এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি প্রথম ওঠে ১৯৯৬ সালের দিকে। এ দাবিতে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন শুরু হয়। ২০১৩ সালে ‘ঠাকুরগাঁও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই ঐক্য পরিষদ’ গঠনের পর আন্দোলন আরও জোরালো হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, শোভাযাত্রা ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।

২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। পরে ২০২২ সালে আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন এবং ২০২৩ সালে ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। একই বছরের নভেম্বরে আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

এ বছরের ৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পূরণ হলো।