গোয়ালঘর, খড়ের মাচায় লুকানো ছিল সার, উদ্ধার করলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

বাড়ির গোয়ালঘর থেকে সার উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সারের সংকটের মধ্যে কুড়িগ্রাম ও বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে মজুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধার করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুই ব্যক্তির বাড়ি থেকে ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সার বাড়ির গোয়ালঘর, ধান রাখার ঘর ও খড়ের মাচায় লুকানো ছিল। একই রাতে বগুড়ার আদমদীঘিতে জব্দ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার। এগুলো কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা চলছিল।

দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভূরুঙ্গামারীতে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বগুড়ার আদমদীঘিতে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সার মজুতের অভিযোগে এক সার ডিলারকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। মো. বেলাল মিয়া ও মো. মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গোয়ালঘর, খড়ের মাচা ও ধান রাখার ঘরে তল্লাশি করে সারগুলো উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক।

উদ্ধার করা সারের মধ্যে ৪২ বস্তায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া ও ৬৫০ কেজি ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বেলাল মিয়া ও মানিক উদ্দিনকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের কৃষক আবদুল মামুন বলেন, চারদিকে সারের জন্য হাহাকার পড়েছে। ডিলারের কাছে গেলে সার পাওয়া যায় না, বাজারের খুচরা দোকানেও সার মিলছে না। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি সার মজুত করছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এলাকায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন বলেন, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যাতে অবৈধভাবে সুবিধা নিতে না পারেন, সে জন্য সার বিতরণব্যবস্থায় নজরদারি করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে দুটি গুদাম থেকে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগমের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

আরও পড়ুন

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে চাঁপাপুর ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স মঙ্গল চন্দ্র সাহা ও মেসার্স সচিব চন্দ্র সাহার নামে বরাদ্দ করা ডিএপি, এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ও ইউরিয়া সার নির্ধারিত গুদামে না রেখে নসরতপুর বাজারের দুটি পৃথক গুদামে মজুত করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব সার অন্যত্র পাচার ও কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুদাম দুটি ঘেরাও করেন। পরে তাঁরা উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ইউএনও মাসুমা বেগমের নেতৃত্বে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ সার মজুতের সত্যতা পাওয়ার পর মেসার্স মঙ্গল চন্দ্র সাহা ও মেসার্স সচিব চন্দ্র সাহার স্বত্বাধিকারী সচিব চন্দ্র সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুটি গুদামে রাখা ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ করে গুদাম দুটি সিলগালা করা হয়। অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সজল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন