চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ এখনো কম, কবে বাড়তে পারে

গ্যাসের জন্য অটোরিকশার সারি। চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর এলাকায়। সম্প্রতি তোলাছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) পেয়েছে সাড়ে ১৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস। গতকাল শুক্রবারও প্রায় একই পরিমাণ গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল। অথচ চট্টগ্রামে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩২ কোটি ঘনফুট।

সে হিসাবে চাহিদার মাত্র ৫৫ শতাংশের মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। দৈনিক ঘাটতি সাড়ে ১৪ কোটি ঘনফুট। এত কম সরবরাহে আবাসিক, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, দৈনিক অন্তত ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও অন্তত এক দিন। তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক মো. শোয়েব প্রথম আলোকে বলেন, আগামীকাল রোববার নতুন এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কার্গো আসার কথা রয়েছে। কার্গোটি এলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তখন পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

কেজিডিসিএলের হিসাবে চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩২ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া গেছে সাড়ে ১৭ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম প্রায় ৪৫ শতাংশ।

ঘাটতি সাড়ে ১৪ কোটি ঘনফুট

চট্টগ্রামে প্রায় এক মাস গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে সরবরাহ কখনো কিছুটা বেড়েছে, আবার কমেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে। কেজিডিসিএলের হিসাবে, চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩২ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া গেছে সাড়ে ১৭ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম প্রায় ৪৫ শতাংশ।

কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে সব খাতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। দৈনিক সরবরাহ ২৫ কোটি ঘনফুটে উঠলে আবাসিকসহ বিভিন্ন খাতের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

গ্যাসের এই ঘাটতির প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানাতেও। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন ধরে রাখতে কোনো কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ডিজেল ও ফার্নেস তেলের ব্যবহার বাড়াতে হয়েছে। এতে তাদের উৎপাদন খরচও বাড়ছে।

এক মাস ধরে সংকট

চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহের বড় অংশই নির্ভর করে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর। স্বাভাবিক সময়ে দুটি টার্মিনাল থেকে মিলিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। এরপর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে চট্টগ্রামে। বাসাবাড়িতে চুলা বন্ধ হয়ে যায়, সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি। শিল্পকারখানাতেও গ্যাসের চাপ কমে যায়।

এরপর প্রায় ২৫ দিন সরবরাহে বড় ঘাটতি ছিল। ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। চট্টগ্রামেও সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছিল।

কিন্তু নতুন এলএনজি কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনালে মজুত কমতে থাকে। এর সঙ্গে কমানো হয় গ্যাস সরবরাহও। একপর্যায়ে গত বুধবার বেলা তিনটার দিকে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় পর্যায়েও গ্যাসের ঘাটতি আবার বেড়েছে। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২২২ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি প্রায় ১৫৮ কোটি ঘনফুট।

এই ঘাটতির প্রভাবই পড়ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে আগামীকাল নতুন এলএনজি কার্গো পৌঁছালে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির দুই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, নতুন কার্গো এলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়বে এবং চট্টগ্রামেও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা। নয়তো আরও কিছুদিন এমন পরিস্থিতি থাকবে।