নোয়াখালীতে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে গুলি, পাঁচ যুবক আহত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া ছররা গুলিতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। গায়েহলুদের একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাঁদের গুলি করা হয়। আহত ব্যক্তিরা সবাই জামায়াত সমর্থক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের মোশাকপুর গ্রামের গাজীটোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে শঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ওরফে শান্ত (২৫), মো. বাবলু (২৫), মারুফ আহাম্মেদ (২৫), জসিম উদ্দিন (২৭) ও সাকিব হোসেন (২৫)। তাঁদের মধ্যে মো. বাবলু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আহত যুবকেরা একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী। তাঁরা জামায়াতের রাজনীতিতেও সক্রিয়। রাতে মোশাকপুর গ্রামে গায়েহলুদের একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে অনুষ্ঠানের আয়োজনকারী পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন।
আহত নজরুল ইসলাম বলেন, তিনটি মোটরসাইকেল, দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁরা গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় তিনিসহ মোটরসাইকেলে থাকা পাঁচজন ছররা গুলিতে আহত হন। মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তাঁরা। তাঁদের মাথা, হাত ও পিঠে গুলি লেগেছে।
নজরুল ইসলাম দাবি করেন, হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। এর মধ্যে একজনের নাম হারুন এবং অন্যজন পিচ্চি রিয়াদ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘পিচ্চি রিয়াদ আমাকে বলেন, তুই জামায়াত-শিবির করিস। এরপর আমার পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে আবারও গুলি করার হুমকি দেন।’
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজিব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাতেই হাসপাতালে ছররা গুলিতে আহত চারজনকে আনা হয়। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে হারুন ও রিয়াদকে ফোন করা হলেও তাঁদের মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। এলাকায় খোঁজ নিয়েও তাঁদের সন্ধান মেলেনি। ঘটনার পর তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল আরোহীদের ওপর পেছন থেকে গুলি করা হয়েছে বলে শুনেছি।’ তিনি বলেন, আহত ব্যক্তিরা জামায়াত-শিবিরের সমর্থক এবং হামলাকারীরা বিএনপির লোক বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।