বিয়ের ৬ দিন পর বাক্‌প্রতিবন্ধী তরুণীকে জখম করে মাঠে ফেলে গেলেন স্বামী

বিয়ের ছয় দিন পর বাক্‌প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে এভাবেই ব্লেডের পোঁচ দিয়ে বুধবার রাতে মাঠে ফেলে যান স্বামী। রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
ছবি: প্রথম আলো

মেয়েটি বাক্‌প্রতিবন্ধী (১৮)। বিয়ে হয়েছে গত শুক্রবার (২১ মার্চ)। এর ছয় দিনের মাথায় গত বুধবার রাতে মাঠের মধ্যে ফেলে গেছেন তাঁর স্বামী। উদ্ধারের পর দেখা গেছে, মেয়েটির হাঁটু থেকে দুই পায়ের পাতা পর্যন্ত ব্লেড দিয়ে অসংখ্য পোঁচ দেওয়া। একজন ভ্যানচালক মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। মেয়েটির কাছে তাঁর ফুফাতো ভাইয়ের একটি ভিজিটিং কার্ড ছিল। ভ্যানচালক ওই কার্ডে থাকা নম্বরে ফোন করে পরিবারকে খবর দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হেজাতিপাড়া বাউসা গ্রামে। মেয়েটিকে ওই রাতেই বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়েটির বাবা বাঘা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির বাবার বাড়ি বাঘা উপজেলার আমোদপুর গ্রামে। তাঁর বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। মেয়েটির স্বামীর নাম মোবারক হোসেন (২১)। বাবার নাম জনাব আলী। বাড়ি উপজেলার হেজাতিপাড়া বাউসা গ্রামে। মোবারক পেশায় একজন সাইকেল মেকানিক। তাঁর আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল। সেই স্ত্রী চলে যাওয়ার পর শুক্রবার তিনি এই বাক্‌প্রতিবন্ধী মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেয়েটি তাঁর শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে উপজেলার তেঁথুলিয়া বাজার থেকে আধা কিলোমিটার উত্তর দিকে মাঠের মধ্যে পাওয়া যায়। একজন ভ্যানচালক মাঠের রাস্তা দিয়ে ভ্যান নিয়ে আসছিলেন। মেয়েটি ইশারায় ভ্যানচালককে তাঁর জখম ও অসহায় অবস্থার কথা বোঝানোর চেষ্টা করেন। ভ্যানচালক মেয়েটিকে তাঁর ভ্যানে তুলে নিয়ে নিকটস্থ তেঁথুলিয়া বাজারে যান।

মেয়েটির কাছে তাঁর ফুফাতো ভাইয়ের একটি ভিজিটিং কার্ড ছিল। সেটি তিনি ভ্যানচালককে দেন। ভ্যানচালক কার্ডে থাকা নম্বরে ফোন করে মেয়েটির পরিবারকে খবর দেন। খবর পেয়ে তাঁর বাবা তেঁথুলিয়া বাজার থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গতকাল বিকেলে তাঁর বাবা বাঘা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

মেয়েটি ইশারায় সাংবাদিকদের বোঝান, তাঁর স্বামীর মাথার ঠিক নেই। ব্লেড দিয়ে তাঁর পা চিরে দিয়েছেন। খবর পেয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসেছিলেন। তাঁর স্বামীর ভাই সূর্য হোসেন মেয়েটিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু মেয়েটি তাঁর পায়ের ক্ষতস্থান দেখিয়ে বোঝান, তাঁর পা কেটে দেওয়া হয়েছে। সে জন্য তিনি আর যাবেন না।

এ ব্যাপারে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আছাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামি ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে।