দোকানে মজুত ছিল ১৩ হাজার কেজি সার, জব্দের পর ব্যবসায়ীকে জরিমানা

যশোরের চৌগাছায় অবৈধভাবে বিভিন্ন সার মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। আজ দুপুরে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

যশোরের চৌগাছায় অনুমোদিত কাগজপত্র ছাড়া সার মজুতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাঁর দোকান থেকে ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি সার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা সার সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার পৌর শহরের পারবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনিব।

ওই ব্যবসায়ীর নাম খাইরুল ইসলাম (৪৫)। তিনি পারবাজার এলাকার ব্যবসায়ী।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, খাইরুল ইসলামের দোকানে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এসব সার মজুত করা হয়েছিল। অভিযানের সময় তিনি সার বিক্রির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে তাঁর গুদাম থেকে ২৮ বস্তা এমওপি, ১৪৭ বস্তা টিএসপি, ৯ বস্তা ডিএপি ও ৮৭ বস্তা ইউরিয়া জব্দ করা হয়। মোট ২৭১ বস্তা সারের খুচরা বাজারমূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০ টাকা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অপরাধ স্বীকার করায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ও ১৮ ধারায় খাইরুলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি ভবিষ্যতে অবৈধভাবে সার মজুত বা ব্যবসা করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনিব বলেন, বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সার মজুত করার অপরাধে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জব্দ করা সার সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে।

অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারী, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ইউনূস আলীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার চৌগাছা থেকে অবৈধভাবে অন্যত্র পাচারের সময় ৩৭ বস্তা টিএসপি, ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি সার জব্দ করেন স্থানীয় লোকজন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত সারগুলো সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন।