খালের জায়গায় বিএনপির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা ঘরটি ভাঙা হয়েছে

মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ হাউজিং এলাকার পাশে রামচন্দ্রপুর খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা দুটি ছাপরা ভেঙে দেওয়া হয়ছবি: ড্রিঞ্জা চাম্বুগং

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রামচন্দ্রপুর খালের জায়গা দখল করে বিএনপির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা টিনের ছাপরাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশে থাকা টিনের ছাউনি ও বেড়া দিয়ে বানানো ঘরটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা-কর্মীরা গিয়ে ওই ঘর দুটি ভাঙেন।

আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ হাউজিং এলাকার পাশে রামচন্দ্রপুর খালের ওই অংশে যান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক। এর আগেই অবশ্য ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, সাতমসজিদ হাউজিং ইউনিট, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড, মোহাম্মদপুর থানা, ঢাকা মহানগর উত্তর’ লেখা সাইনবোর্ডটি ওই ছাপরা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

প্রায় দেড় মাস আগে গত ২৭ জুন রামচন্দ্রপুর খালের বেদখলে থাকা ওই জায়গা উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ। সেদিনের অভিযানে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

খালের জায়গা দখল করে তৈরি করা ছাপরা ঘরের দরজায় ঝোলানো হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির একটি সাইনবোর্ড। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার রামচন্দ্রপুর খালে, ১৩ আগস্ট
ফাইল ছবি

রামচন্দ্রপুর খালের এই উদ্ধারকৃত জায়গা পুনরায় বেদখল নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোর অনলাইনে ‘সাদিক অ্যাগ্রো: উদ্ধার করা সেই খালের জায়গায় টিনের ঘর, ঝুলছে বিএনপির সাইনবোর্ড’ শিরোনামে এবং আজ প্রথম আলোর পত্রিকায় ‘উদ্ধার করা খালের জায়গায় বিএনপির সাইনবোর্ড’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় যে বিএনপির নাম ব্যবহার করে কারা সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন, তা খোঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেন। তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, কিছু দুষ্কৃতকারী, কিছু নব্য বিএনপি এভাবে বিএনপিকে বদনামের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ লোকগুলোই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা করছে।

স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যাঁরা নব্য বিএনপি হিসেবে বিএনপির বদনামের চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে এ ধরনের কাজ কেউ করতে না পারেন। আর কেউ করার চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কাছে তুলে দিতে হবে। দুষ্কৃতকারী বিএনপির লোক হলে তাঁকেও পুলিশে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দখলদারি, লুটতরাজের বিরুদ্ধে বিএনপির জিরো টলারেন্স নীতি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ছাপরা দুটো ভেঙে ফেলার পর আমিনুল হক বলেন, ‘এটা যেহেতু সরকারি জায়গা, সরকারই এর দায়িত্ব নেবে। এখানে কোনো রকম প্রতিষ্ঠান, কোনো স্থাপনা তৈরি করা যাবে না। যেভাবে আছে, সেভাবেই আছে।’