প্রথম আলোর রজতজয়ন্তীর সুধী সমাবেশে গুণীজনদের মিলনমেলা
সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। অগ্রহায়ণের সন্ধ্যাতেই নেমেছিল শীতের আমেজ। নবান্ন উৎসবের এই সময়ে সুহৃদ ও শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম আলোর ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সুধী সমাবেশ। আজ শুক্রবার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
‘হারবে না বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে প্রথম আলোর রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আয়োজিত আজকের সুধী সমাবেশে পরিচিতজনদের সঙ্গে আলাপচারিতা ও গল্প-আড্ডায় উপভোগ্য সময় কাটালেন বিশিষ্ট অতিথিরা।
প্রথম আলোর এ সুধী সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, বিদেশি কূটনীতিক, পদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নারীনেত্রী, চিকিৎসক, আইনজীবী, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
অতিথিদের নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় ও আলাপচারিতার জন্য মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে অনেকটা সময় রাখা হয়েছিল। অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে এলে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু হয় রাত আটটায়। উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে পরিবেশন করা হয় যন্ত্রসংগীত। মানাম আহমেদের সংগীত পরিচালনায় রাগ দেশ ও মালহারের এই ফিউশন পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক মঞ্চে আসেন। তিনি বলেন, প্রথম আলোর ২৫ বছরের পথচলার গল্পটা অনেক বড়। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান পথের গল্প শোনাতে চলে গেছেন প্রথম আলো সড়কে।
পর্দায় দেখানো হয় প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন রেদোয়ান রনি। মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন প্রামাণ্যচিত্রে দেখানো গল্পের চার নায়ক। প্রথম আলোর ঝিনাইদহ প্রতিনিধি আজাদ রহমান, মাসুদা আক্তার, সিনথিয়া খন্দকার ও লিমন হোসেন। মঞ্চে আসেন চারজন। তাঁদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
প্রথম আলো ট্রাস্টের শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে সিনথিয়া খন্দকার পড়েছেন চট্টগ্রামে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে। এখন চাকরি করছেন ফ্রান্সের প্যারিসের একটি বেসরকারি সংস্থায়। অনুষ্ঠানে সিনথিয়া বলেন, জীবন পরাজিত হয় না। জীবন জয়ী হয়।
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বক্তব্যে সবাইকে রজতজয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পৃথিবী কঠিন সময় পার করছে। অর্থনীতিতে সংকট, রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা। তবু আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ এমন সাহসী, এমন হার না-মানা যে তাদের একটাই পাওনা—জয়, বাংলাদেশের জয়। আমরা এই হার না-মানা বাংলাদেশের গল্প বলছি, বলে যাব, স্বপ্ন রচনা করছি, করে যাব। বাধা আসবে, আমরা পেরিয়ে যাব। হারবে না বাংলাদেশ, সঙ্গে পথ চলবে প্রথম আলো।’
প্রথম আলোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মিডিয়াস্টার লিমিটেডের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নামে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সাংবাদিকতায় লতিফুর রহমান পুরস্কার’। প্রথম আলোর একজন সেরা সাংবাদিক এই পুরস্কার পান। এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন মিডিয়াস্টার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান।
সিমিন রহমান বলেন, মিডিয়াস্টার লিমিটেডের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের প্রবল আবেগ ছিল প্রথম আলো নিয়ে। ২৫ বছর পেরিয়ে প্রথম আলো এখন দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম। প্রথম আলো জনগণের কণ্ঠ হয়েই থাকবে। একই শক্তি ও মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাবে প্রথম আলো। পাশে থাকার জন্য পাঠকদের ধন্যবাদ। বাংলাদেশের লড়াকু মানুষদের বিজয় হবেই। হারবে না বাংলাদেশ।
প্রথম আলো বিশ্বাস করে, হারবে না বাংলাদেশ। সেই বিশ্বাসের কথা ধ্বনিত হয় সুরে সুরে। তোফায়েল আহমেদ পদ্মর লেখা ও ইমন চৌধুরীর সংগীতায়োজনে ‘হারবে না বাংলাদেশ’ শিরোনামে গান গেয়ে শোনান শিল্পী সানিয়া সুলতানা লিজা, অবন্তি সিঁথি, আতিয়া আনিসা, মাহাতিম সাকিব, অয়ন চাকলাদার ও তানজিব সারওয়ার।
মঞ্চে আসেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। প্রথম আলোর রজতজয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানান সবাইকে। হারবে না বাংলাদেশ এই আশাবাদের মধ্য দিয়ে মঞ্চের পরিবেশনা শেষে অতিথিদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান আনিসুল হক। আড্ডা-গল্পের ফাঁকে ফাঁকে চলে নৈশভোজ।