রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কিশোরের জামিন

কোটা সংস্কার আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদছবি: সংগৃহীত

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কিশোরকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটার দিকে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোস্তফা কামাল এ আদেশ দেন। কিশোরের আইনজীবী আবদুল মোকছেদ বাহালুল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আইনজীবী আবদুল মোকছেদ বাহালুল প্রথম আলোকে বলেন, ৪ আগস্ট এই কিশোরের জামিন আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ সকালে তার আগাম জামিন শুনানির জন্য আদালতে আবেদন দেওয়া হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।

আদালতে কিশোরের পক্ষে আবদুল মোকছেদ ছাড়াও রংপুর জজকোর্টের আইনজীবী জোবায়দুল ইসলাম, আবু তাহের আলী, রায়হান কবীর, রোকনুজ্জামান রোকন ও পলাশ কান্তি নাগ শুনানি করেন। এই আইনজীবীরা ওই কিশোরের জন্মসনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শারমিন আফরোজ। তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এই কিশোর রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির (বিজ্ঞান বিভাগ) ছাত্র। জন্মসনদ অনুযায়ী তার বয়স ১৬ বছর ১০ মাস। তবে পুলিশ মামলায় তার বয়স উল্লেখ করে ১৯ বছর।

আজ প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় এ নিয়ে ‘রংপুরে কোটা আন্দোলন: আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার, ১২ দিন ধরে কারাগারে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

এই কিশোরের বাবা রংপুরের পার্কের মোড়ে স্টুডিও ব্যবসা করেন। তিনি গতকাল বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, আবু সাঈদ নিহত হন ১৬ জুলাই। আর তাঁর ছেলে বাড়ি থেকে বের হয় ১৮ জুলাই দুপুরে। এরপর সে মডার্ন মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে। তিনি শুনেছেন, তাঁর ছেলের পায়ে পুলিশ গুলি করেছে। এ কারণে সে পালাতে পারেনি। ওই দিন রাতে তাঁকে ফোন করে বলা হয়, তাঁর ছেলে পুলিশি হেফাজতে আছে। পরদিন ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ছেলেটিকে ছেড়ে না দিয়ে জেলে বন্দী করে রাখা হয়।

রংপুরের আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরকে ১৯ জুলাই আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটনের তাজহাট আমলি আদালতে হাজির করা হয়ছিল। তখন আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। আর আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

সাঈদের মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক রাজিবুল ইসলাম। তিনি গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, আবু সাঈদের বুক ও পেট ছররা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল।

আবু সাঈদ যে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন, তা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট বোঝা যায়। তাহলে অল্প বয়সী এই শিক্ষার্থীকে কীভাবে এই হত্যা মামলার আসামি করা হলো? তার বয়স কীভাবে ১৯ উল্লেখ করা হলো? পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে এ প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুরের তাজহাট থানার উপপরিদর্শক জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তারের সময় বয়স যাচাই করার সুযোগ হয়নি। পরে জেনেছেন, ছেলেটির বয়স ১৭ বছরের মতো হবে।

আরও পড়ুন