করোনার নতুন স্বাভাবিকে শুরু হয়ে গেল কনসার্ট। অবশ্য খোলা মাঠের বদলে কনসার্ট হচ্ছে ঘরোয়া আয়োজনে, ইনডোরে। গাইছেন একক শিল্পী ও ব্যান্ডশিল্পীরা। চলতি মাসে চারটি কনসার্টে গাইছে চিরকুট। অন্যদিকে, নেমেসিসও গেয়েছে একটি বাণিজ্যিক কনসার্টে। নতুন স্বাভাবিকে দীর্ঘ আট মাস পর স্টেজ শোতে পারফর্ম করতে গিয়ে শিল্পীদের কাছে চিরচেনা মঞ্চ হয়ে ওঠে অনেকটাই অচেনা। শুরুতে মানিয়ে নিতেও লেগে যায় কিছুটা সময়।
কেউ হয়েছেন আবেগপ্রবণ, কেউবা নার্ভাস। দেশের অন্য সব ব্যান্ড আর একক শিল্পীরাও প্রস্তুত চিরচেনা মঞ্চে ফেরার। চলছে প্র্যাকটিস সেশনও।
শীতের শুরুতে কনসার্টের কারণে ব্যস্ত সময় কাটে শিল্পীদের। পুরোদমে শীত পড়লে দম ফেলার সময় থাকে না কারও কারও। সেটা চলতে থাকে কয়েক মাস। চলতি বছরের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে শিল্পীরা হয়ে পড়েন ঘরবন্দী। করোনার প্রথম ধাক্কা পেরিয়ে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শিল্পীরা।
তবে খোলা মাঠের কনসার্ট শুরু হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি এখনো। ইনডোর কনসার্টের জন্য ব্যান্ড ও একক শিল্পীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মাইলসের অন্যতম সদস্য শাফিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্র্যাকটিস শুরু করেছি। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরাও ভাবছি, কীভাবে আবার কনসার্টে ফেরা যায়।’ তিনি মনে করেন, মার্কেট, অফিস, গার্মেন্টসসহ সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। ওপেন এয়ার কনসার্ট করার পরিবেশ না থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরোয়া কনসার্ট করা যেতে পারে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে প্রথম স্টেজ শোতে অংশ নিয়েছে গানের দল চিরকুট। কয়েক মাস পর কনসার্টে অংশ নিতে পেরে চিরকুটের সদস্যরা ভীষণ উচ্ছ্বসিত, এমনকি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন বলে জানালেন দলের অন্যতম সদস্য শারমীন সুলতানা সুমী। তিনি বলেন, ‘স্টেজ শো একজন শিল্পী বা ব্যান্ডের আসল জায়গা। শ্রোতার সঙ্গে যোগাযোগের এর চেয়ে সুন্দর মাধ্যম আর হতে পারে না। আমরা খুব ভাগ্যবান, শ্রোতাদের ভালোবাসার টানে আবার কনসার্টে ফিরতে পেরেছি।’ কক্সবাজারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে সুমী বলেন, ‘আমরা বাসে চড়ে কক্সবাজারে এসেছি। যাত্রাপথে খেতে নেমেছি। কত দিন পর এমন ঘটছে, ভেবে সবাই খুব ইমোশনাল হয়ে গেছি। একই সঙ্গে সবার কী যে আনন্দ হচ্ছিল, বলে বোঝাতে পারব না।’
দীর্ঘ আট মাস পর মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেছে নেমেসিস। একই দিনে গান করেছেন রাগা ব্যান্ডের ভোকাল এলিটা করিম। এত দিন পর কনসার্টে ফেরায় নিজেদের মধ্যে মৃদু ভীতি কাজ করেছে বলে জানালেন নেমেসিস ব্যান্ডের সদস্য জোহাদ। শুক্রবারের কনসার্টে ১১টি গান গেয়েছে দলটি। জোহাদ বলেন, ‘আট মাস কোনো স্টেজ শো নেই। শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হচ্ছিল না। কেমন যেন দমবন্ধ পরিস্থিতি। হঠাৎ মঞ্চে উঠে শুরুতে নার্ভাস লাগছিল। কয়েকটা গান গাওয়ার পর স্টেজের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিলাম। শ্রোতাদের সঙ্গে একাত্ম হলাম। তখন যেন প্রাণ ফিরে পেলাম।’ তিনি জানান, দলের সবাইকে নিয়ে তাঁরা অনুশীলন করছেন। চলতি মাসে আপাতত কোনো অনুষ্ঠানে সময় দেননি, তবে বেশ কয়েকটি করপোরেট শোর ব্যাপারে আলাপ চলছে। কনসার্টের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে তাঁদের।
সরকারের পক্ষ থেকে ইনডোর কনসার্টের ব্যাপারে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অনুষ্ঠান আয়োজক প্রতিষ্ঠান ব্লুজ কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরহাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ছোট পরিসরে কনসার্টের আয়োজন চলমান। তবে অনেক দর্শক নিয়ে কনসার্ট করা যাচ্ছে, তা কিন্তু নয়। সরকারের কিছু ইভেন্টও আমরা করেছি। সবকিছু মিলে ছোট পরিসরেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, এটা ইতিবাচক একটি ব্যাপার।’
বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সভাপতি হামিন আহমেদ বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন আমরা কনসার্ট করছি না। অথচ অন্য সব ক্ষেত্র কিন্তু নিয়ম মেনেই চলছে। শুনেছি কিছু ব্যান্ড আর শিল্পী ছোট পরিসরে ইনডোর কনসার্টে গাইছে। এই মৌসুমে ওপেন এয়ার কনসার্ট করা না গেলে নিয়ম মেনে ইনডোর কনসার্টের আয়োজন করা উচিত।’