শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদের অপসারণ চেয়ে সমাবেশ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের অপসারণ দাবিতে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা–কর্মীদের সমাবেশ
ছবি: প্রথম আলো

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সাম্প্রতিক আলোচিত-সমালোচিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর অপসারণ দাবি করেছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পরও আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অধ্যাপক ফরিদের উপাচার্য পদ আগলে রেখে স্বেচ্ছাচারী কায়দায় ক্যাম্পাস পরিচালনা ও শেষমেশ ‘তালেবানি কালচারের’ প্রতি গৌরব প্রকাশ করার ঘটনা ন্যক্কারজনক৷

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে সভাপতির বক্তব্য দেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে

রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের নেতারা এসব কথা বলেন। ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ‘তালেবানি ভিসি’ আখ্যা দিয়ে তাঁর অপসারণ দাবি করে এই সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্র ইউনিয়ন।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হলে যদি দেশকে তালেবানি দেশ বানাতে হয়, তাহলে সেই প্রকল্প নিতে আওয়ামী লীগ ৫ মিনিট সময়ও নেবে না। এর প্রমাণ পাওয়া যায় আওয়ামী লীগের নেতা, বুদ্ধিজীবীসহ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় টিকে থাকা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বক্তব্যে।

ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি মাঈন আহমেদ বলেন, ‘এসব উপাচার্যের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতাসহ সব অপকর্মের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আওয়ামী লীগ সরকার। এই সরকারের সব কুকর্মে সমাজে সম্মতি উৎপাদনের কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ আওয়ামীপন্থী এই শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীরা।’

সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি বিল্লাল হোসেন বলেন, একদিকে দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সরকারের অত্যাচার-নিপীড়ন, আরেক দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপাচার্যদের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। কিছু বললে নিপীড়নের খড়্গ নেমে আসে। কিন্তু প্রতিবাদের যে ছোট ছোট স্ফুলিঙ্গ, তা এক হওয়ার মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই দুঃশাসনের অবসান ঘটবে।

ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক তামজীদ হায়দার সমাবেশ সঞ্চালনা করেন। সংগঠনের সহসভাপতি শিমুল কুম্ভকারের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি নাজিফা জান্নাত।