হামলায় আহত আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা
হামলায় আহত আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা

কলমাকান্দায় দোকান ভাঙচুরের জেরে আ.লীগের সভায় হামলা, আহত ২০

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যবসায়ীর দোকানে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভাঙচুর করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কিছুক্ষণ পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে আওয়ামী লীগের একটি সভায় হামলা চালান। এতে দলটির অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির দুজন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা পরস্পরকে দায়ী করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও দুই পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত আটটার দিকে গোবিন্দপুর বাজারের ব্যবসায়ী বিএনপিকর্মী ইব্রাহিম মিয়া ও লতিফ মিয়ার দোকানে স্থানীয় যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুদ আলী, বিএনপিকর্মী ইব্রাহিম মিয়া ও ইসমাইল মিয়া আহত হন। হামলার কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা গোবিন্দপুর বাজারে বসে সভা করছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতা–কর্মীরা একত্র হয়ে আওয়ামী লীগের সভায় ওপর হামলা চালান। এতে খারনৈ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম হোসেন, হাবিবুল্লাহ হক, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সদস্য রবি মিয়া, শফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা শরিফ মিয়া, ওয়াসিম উদ্দিন, খারনৈ কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক মিয়া, যুবলীগ নেতা নাজিম উদ্দিনসহ অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শফিকুল ইসলাম, রবি মিয়া ও শরিফ মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

খারনৈ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমীন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভায় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল হক এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কলি আক্তারের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এতে তাঁদের দলের ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কোনো নেতা-কর্মী বিএনপির কারও দোকানপাটে ভাঙচুর করেনি। বরং তারাই নিজেদের দোকানে ভাঙচুর করে উল্টো আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে।’

কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কলি আক্তার বলেন, ‘গোবিন্দপুর বাজারে আমার ভাইয়ের ছেলে ইব্রাহিম মিয়া ও স্থানীয় বিএনপি নেতা লতিফ মিয়ার দোকানে খারনৈ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁরা আবার বাউশাম বাজারে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হকের চেম্বার ভাঙচুর করেন। এ সময় আমাদের চারজন নেতা-কর্মী আহত হন।’

তবে খারনৈ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের কোনো নেতা-কর্মী বিএনপির কারও দোকানে ভাঙচুর বা কাউকে মারধর করেনি। বিএনপির নেতা–কর্মীরাই অহেতুক আমাদের শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের ২০ নেতা-কর্মীকে আহত করেছে।’

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান জুয়েল ঘটনাস্থলে এসেছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জড়িত অভিযোগে বিএনপিকর্মী ইব্রাহিম আলী ও সৈকত মিয়াকে আটক করা হয়েছে।

পাঁচ দিন আগে গত শনিবার খারনৈ ইউনিয়নের বামনগাঁও এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। ঘটনার পরদিন রোববার খারনৈ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বিএনপির ৩০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। সোমবার আসামিরা নেত্রকোনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩–এ হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।