৫০ স্থানে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধনাগোদা নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। মতলব ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে ২৬ জানুয়ারি তোলা ছবি l প্রথম আলো
চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধনাগোদা নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। মতলব ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে ২৬ জানুয়ারি তোলা ছবি l প্রথম আলো

মৎস্য আইন লঙ্ঘন করে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার মধ্যবর্তী ধনাগোদা নদীর ৫০ স্থানে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে পানির প্রবাহ ও নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নিধন করা হচ্ছে ডিমওয়ালাসহ ছোট-বড় মাছ।
মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের কুমিল্লা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক শামীম উদ্দিন বলেন, ‘১৯৫০ সালের মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নদীতে বা প্রবাহমান স্রোতধারায় বেড়া বা বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।’
মতলব দক্ষিণের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলাম বলেন, ধনাগোদায় বাঁশের বেড়া উচ্ছেদে শিগগির ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হবে।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, মতলব দক্ষিণের কাজিরবাজার থেকে নায়েরগাঁও পর্যন্ত আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ধনাগোদা নদীর দুই পাশ ও মাঝে ৫০টি স্থানে বাঁশের তৈরি বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজিরবাজার এলাকায় ১টি, চরমুকুন্দিতে ২টি, বাইশপুরে ৫টি, পশ্চিম বাইশপুরে ১০টি, লক্ষ্মীপুরে ১৫টি, সিপাইকান্দিতে ২টি ও ফেরিঘাট এলাকায় ১৫টি বাঁশের বেড়া রয়েছে। বেড়ার সঙ্গে আটকানো ছোট ফাঁসওয়ালা মশারি জাল। এসব জাল পানির উপরিভাগ থেকে নদীর তলদেশ পর্যন্ত আটকিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। পুঁটি, টেংরা, বেলে, রুই, আইড়সহ দেশি জাতের ছোট-বড় ডিমওয়ালা মাছ ধরছেন জেলেরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কাজিরবাজার এলাকার মো. ওয়াজউদ্দিন, চরমুকুন্দি এলাকার মো. ফরিদ, মো. জয়নাল, মো. আবুল ও মো. রমজান, বাইশপুরের অভিনয় দাস ও রামেশ্বর দাস, ফেরিঘাট এলাকার আবুল প্রধান এবং বালুচর এলাকার মো. ফয়েজ ও মো. মেজুসহ ১৫-১৬ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি দুই বছর ধরে বেড়া দিয়ে মাছ ধরছেন। তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনও ব্যবস্থা নেয় না।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার বলেন, এসব স্থাপনা সরানোর জন্য মালিকদের বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা আমলে নিচ্ছেন না। প্রতিবছর ওই ৫০টি স্থান থেকে জেলেরা ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকার মাছ ধরেন।
কাজিরবাজার এলাকার বাসিন্দা ও মতলব পৌরসভার কাউন্সিলর মো. ওয়াজউদ্দিন বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের লোক। নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ ধরছি। প্রয়োজনে আরও ধরব। পারলে কেউ আমার কিছু করুক।’
চরমুকুন্দি এলাকার আওয়ামী লীগের কর্মী মো. ফরিদ বলেন, তিনি দুই বছর ধরে নিজের জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরছেন। বাঁশের বেড়া দিয়েছেন তাঁর গ্রামের মো. জয়নাল, মো. আবুল ও মো. রমজান।
মো. জয়নাল, মো. আবুল ও মো. রমজানের মুঠোফোনে গত রোববার একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
বাইশপুর এলাকার রামেশ্বর দাস বলেন, তিনি শুধু জালের মালিক। বেড়ার মালিক বালুচর গ্রামের মো. ফয়েজ ও মো. মেজু। তাঁদের পেছনে রয়েছে সরকারদলীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাঁর নাম বলতে বারণ আছে। প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই মাছ ধরছেন।
মো. ফয়েজ ও মো. মেজুর মুঠোফোনে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তাঁরা সংযোগ কেটে দেন।
ধনাগোদা পাড়ের বাসিন্দা মো. কাশেম বলেন, জালে ছোট-বড় সব মাছ ধরা পড়ছে। শেষ হয়ে যাচ্ছে দেশি জাতের ডিমওয়ালা মাছ ও জাটকা।
মতলব-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী গ্রিন ওয়াটার নামের যাত্রীবাহী লঞ্চের চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ধনাগোদায় মাছ ধরার অনেক বেড়া। এতে লঞ্চ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এসব বেড়ায় প্রায়ই লঞ্চ আটকে যায়।