
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পতাকা মিছিলে হামলা চালিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সোমবার বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল চারটার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পতাকা মিছিল বের করেন ২০-৩০ জন শিক্ষার্থী। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকা বিনোদপুর থেকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দিকে আসছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে সামনে পুলিশ অবস্থান নেয়। বন্ধ ফটকের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মী অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটকের দিকে আসতেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ফটকের ভেতর থেকে বের হয়ে এসে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান।

এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীদের মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। মহাসড়কে কোটা সংস্কার আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তারেক পড়ে গেলে তাঁর ওপর চড়াও হন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। লাঠি, হাতুড়ি ও জিআই পাইপ দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান সিনহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, সহসম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, কর্মী লতিফুল কবির মানিকসহ কয়েকজন। পরে পুলিশ এসে তারেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আন্দোলনকারীরা জানান, তরিকুল ইসলাম ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তাঁর পা ও মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশের সামনেই মারধর করে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ মারধরের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ‘তারা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছিল। তাই তাদের প্রতিহত করেছি।’
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে আসছিল। এ সময় ছাত্রলীগ ও তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে জেনেছি। এতে একজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি।’